
স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকা:
আজ ১লা জুলাই ২০২৬ (বুধবার) থেকে ইউনিয়ন পর্যায়ে সরকারি খাতে গবাদিপশুর জাত উন্নয়ন সংক্রান্ত কৃত্রিম প্রজনন সেবা পুরোপুরি বন্ধ হতে যাচ্ছে। বকেয়া ভাতা না পাওয়া এবং দীর্ঘদিনের অবহেলার প্রতিবাদে এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছে 'বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ এ আই টেকনিশিয়ান কল্যাণ সমিতি'।
গতকাল মঙ্গলবার (৩০ জুন) এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দেশের গবাদিপশুর জাত উন্নয়নে নিয়োজিত কৃত্রিম প্রজননকারীরা (এআই) দীর্ঘ ২৫ থেকে ৩০ বছর যাবৎ কোনো বেতন ছাড়াই ইউনিয়ন পর্যায়ে নিরবচ্ছিন্ন সেবা দিয়ে আসছিলেন। দীর্ঘ আন্দোলনের পর ২০১৬ সালে তাদের মাত্র ৫০০ টাকা এবং ২০১৯ সালে তা বাড়িয়ে ২,০০০ টাকা ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু দুঃখের বিষয়, ২০২৪ সালের জুন মাস থেকে গত ৯ মাসের বকেয়া ভাতা না দিয়েই সেই নামমাত্র ভাতাও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
হুমকিতে এআই টেকনিশিয়ানদের জীবন-জীবিকা:-
বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "১৯৯৭ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত দেশের গবাদিপশুর জাত উন্নয়নের যে ধারাবাহিকতা, তার সিংহভাগ কৃতিত্ব আমাদের। আজ একটি গাভী ২০ থেকে ৩০ লিটার পর্যন্ত দুধ দিচ্ছে এবং দেশ মাংসে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছে। অথচ আজ আমাদের জীবন-জীবিকা চরম বিপন্ন।"
কর্মবিরতি ও চূড়ান্ত আন্দোলনের ডাক
সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে:
বর্তমানে কর্মরত ৫,২৭২ জন টেকনিশিয়ানকে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও তা আইনি জটিলতায় আটকে রয়েছে।
সুনির্দিষ্ট পদ্ধতিতে মজুরি নির্ধারণ এবং তা বাস্তবায়নের দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত তারা সরকারি কাজে আর ফিরবেন না।
দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের জন্য এই চূড়ান্ত কর্মবিরতি কর্মসূচি চলবে।
সংবাদ সম্মেলনের শেষে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. আজাদ হোসেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং দেশবাসীর কাছে তাদের এই যৌক্তিক দাবির প্রতি সমর্থন ও সহযোগিতা কামনা করেন। গবাদিপশু ও গো-সম্পদ উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে সংশ্লিষ্ট মহলকে দ্রুত এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।
উপদেষ্টা: এম ফখরুল ইসলাম ফয়েজ। সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুল হাই। বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়: উপজেলা পরিষদ রোড, জগন্নাথপুর, সুনামগঞ্জ। যোগাযোগ: মোবাইল: ০১৭১৫-১৭৩০০১ ই-মেইল: abdulhye.jp@gmail.com
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬