এস এম রকিবুল হাসান
নিয়ামতপুর (নওগাঁ) প্রতিনিধি:
পুরো ট্রাকটাই যেন আস্ত একটা খড়ের গাদা হয়ে গেছে। এই 'চলমান' খড়ের গাদা চলে যাবে সিরাজগঞ্জে। সেখানকার ব্যবসায়ীরা কিনে নেবেন এই খড়। সেখানে গোখাদ্য হিসেবে এই বোরো ধানের ঝুরা (আঁটি বিহীন) খড়ের বেশ চাহিদা রয়েছে।
ধানের জেলা হিসেবে খ্যাত নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার কৃষকেরা এবার বোরো ধানের ঝুরা খড় বিক্রি করতে পেরে বেশ খুশি। দামও মোটামুটি ভালো পাচ্ছেন।
কৃষকেরা জানিয়েছেন, সাধারণত আমন ধানের খড় জমিতেই শুকিয়ে আঁটি করে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। কিন্তু বোরো ধানের ক্ষেত্রে কাঁচা ধানই মাড়াই করে নিতে হয়। তখন সেই ঝুরা খড় রোদে শুকিয়ে নিলে বিক্রি করা যায়।
গত কয়েকদিন আগে উপজেলার ভাবিচা গ্রামে একটি ট্রাকে তুলছিলেন খড় বোঝাই (লোড) করছিলেন খড় ব্যবসায়ী মাহাবুর রহমান। তিনি জানালেন, ভাবিচা ও শালবাড়ী গ্রামের কয়েকজন কৃষকের কাছ থেকে এই খড় কিনে নিয়েছেন। ট্রাকে লোড করে সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর ও পাবনা জেলার বেড়া উপজেলায় নিয়ে গিয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করবেন। একটি ট্রাকে ১২০-১৫০ মণ খড় বহন করা যায় বলে জানালেন।
তিনি আরও জানালেন, এখানে কৃষকদের কাছ থেকে ঝুরা খড় 'ঠিকা' ভাবে কিনে নেন। আর সিরাজগঞ্জ, পাবনা নিয়ে গিয়ে মণ হিসাবে বিক্রি করেন।
আরেক খড় ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলাম বলেন, সময়ভেদে খড়ের দাম উঠানামা করে। এখন খড়ের দাম তুলনামূলক
কম। এখন এক বিঘার খড় মান ভেদে ৫০০-৮০০ টাকায় কেনা হচ্ছে। তিনিও সিরাজগঞ্জ ও পাবনাতে নিয়ে গিয়ে খড় বিক্রি করেন বলে জানালেন।
ভাবিচা গ্রামের কৃষক বাবুল প্রামানিক বলেন, আমার কয়েক বিঘার বোরো ধানের খড় শুকাতে পেরেছিলাম। সেগুলো গাদা করে রেখেছিলাম। বিক্রি করে ভালোই দাম পেলাম।
নিয়ামতপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন,
উপজেলার ৮ টি ইউনিয়নে গত বোরো মৌসুমে ২৩ হাজার ৩৬০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। আবহাওয়া ভালো থাকায় অনেক কৃষকই কাঁচা খড় রোদে শুকিয়ে গাদা করে রেখেছিলেন। এখন সেই খড় বিক্রি করে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন।
উপদেষ্টা: এম ফখরুল ইসলাম ফয়েজ। সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুল হাই। বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়: উপজেলা পরিষদ রোড, জগন্নাথপুর, সুনামগঞ্জ। যোগাযোগ: মোবাইল: ০১৭১৫-১৭৩০০১ ই-মেইল: abdulhye.jp@gmail.com
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬