১২:৫৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সমতলের চা চাষ অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির অনন্য দৃষ্টান্ত—মার্কিন রাষ্ট্রদূত

  • Update Time : ০৬:০০:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬
  • / 17

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:
​উত্তরবঙ্গে তিন দিনের সরকারি সফরের অংশ হিসেবে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন ঠাকুরগাঁও জেলার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মসূচি ও ঐতিহ্যবাহী স্থান পরিদর্শন করেছেন।
​আজ (৩১ আগস্ট) সকালে তিনি বালিয়াডাঙী উপজেলার হরিণমারী সীমান্তে অবস্থিত ঐতিহাসিক শতাব্দী প্রাচীন সূর্যপুরী আমগাছ ঘুরে দেখেন। এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ এই গাছের বিস্তৃতি ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধতা প্রকাশ করে রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন বলেন, “বাংলাদেশের প্রান্তিক অঞ্চলের ইতিহাস ও প্রকৃতির এমন অভাবনীয় রূপ সত্যিই অসাধারণ। এই বিশাল সূর্যপুরী আমগাছ শুধু পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করছে না, বরং স্থানীয় পর্যটনের একটি বড় সম্পদ। ঠাকুরগাঁওয়ের সমৃদ্ধ ঐতিহ্যকে বৈশ্বিক দরবারে তুলে ধরতে এই অঞ্চল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।”
​এরপর তিনি নিটোল ডোবা এলাকায় অবস্থিত সফল উদ্যোক্তা হিরু ভাইয়ের অর্গানিক চা বাগান পরিদর্শন করেন এবং সেখানে কর্মরত চা শ্রমিক ও স্থানীয় চাষীদের সাথে কুশল বিনিময় করেন। সমতল ভূমিতে চা চাষের সাফল্য পর্যবেক্ষণ করে তিনি আরও বলেন, “উত্তরবঙ্গের সমতল ভূমিতে যেভাবে মানসম্মত অর্গানিক চা চাষ হচ্ছে, তা অর্থনৈতিক আত্মনির্ভরশীলতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। বৈচিত্র্যময় ও উদ্ভাবনী এই উদ্যোগ স্থানীয় তরুণদের নতুন উদ্যোক্তা হতে প্রেরণা জোগাবে।”
​রাষ্ট্রদূতের এই সফর প্রসঙ্গে জেলার সার্বিক প্রস্তুতি ও গুরুত্ব তুলে ধরে ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক বলেন, “মান্যবর মার্কিন রাষ্ট্রদূতের এ সফর আমাদের জেলার পর্যটন খাত ও সমতলের কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন পরিচিতি দেবে। জেলা প্রশাসন স্থানীয় কৃষি, চা শিল্প ও পর্যটনের প্রসারসহ অবকাঠামোগত উন্নয়নে সব ধরনের সহায়তা বজায় রাখবে।”
​পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিনিধি এবং সুশীল সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ রাষ্ট্রদূতের সাথে উপস্থিত ছিলেন। ৩০ আগস্ট থেকে ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রংপুর বিভাগের পাঁচ জেলা সফরের অংশ হিসেবে রাষ্ট্রদূতের এ পদচারণা ঠাকুরগাঁওয়ের পর্যটন, কৃষি ও বাণিজ্য খাতে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার উন্মোচন করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন স্থানীয়রা।

Please Share This Post in Your Social Media

সমতলের চা চাষ অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির অনন্য দৃষ্টান্ত—মার্কিন রাষ্ট্রদূত

Update Time : ০৬:০০:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:
​উত্তরবঙ্গে তিন দিনের সরকারি সফরের অংশ হিসেবে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন ঠাকুরগাঁও জেলার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মসূচি ও ঐতিহ্যবাহী স্থান পরিদর্শন করেছেন।
​আজ (৩১ আগস্ট) সকালে তিনি বালিয়াডাঙী উপজেলার হরিণমারী সীমান্তে অবস্থিত ঐতিহাসিক শতাব্দী প্রাচীন সূর্যপুরী আমগাছ ঘুরে দেখেন। এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ এই গাছের বিস্তৃতি ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধতা প্রকাশ করে রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন বলেন, “বাংলাদেশের প্রান্তিক অঞ্চলের ইতিহাস ও প্রকৃতির এমন অভাবনীয় রূপ সত্যিই অসাধারণ। এই বিশাল সূর্যপুরী আমগাছ শুধু পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করছে না, বরং স্থানীয় পর্যটনের একটি বড় সম্পদ। ঠাকুরগাঁওয়ের সমৃদ্ধ ঐতিহ্যকে বৈশ্বিক দরবারে তুলে ধরতে এই অঞ্চল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।”
​এরপর তিনি নিটোল ডোবা এলাকায় অবস্থিত সফল উদ্যোক্তা হিরু ভাইয়ের অর্গানিক চা বাগান পরিদর্শন করেন এবং সেখানে কর্মরত চা শ্রমিক ও স্থানীয় চাষীদের সাথে কুশল বিনিময় করেন। সমতল ভূমিতে চা চাষের সাফল্য পর্যবেক্ষণ করে তিনি আরও বলেন, “উত্তরবঙ্গের সমতল ভূমিতে যেভাবে মানসম্মত অর্গানিক চা চাষ হচ্ছে, তা অর্থনৈতিক আত্মনির্ভরশীলতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। বৈচিত্র্যময় ও উদ্ভাবনী এই উদ্যোগ স্থানীয় তরুণদের নতুন উদ্যোক্তা হতে প্রেরণা জোগাবে।”
​রাষ্ট্রদূতের এই সফর প্রসঙ্গে জেলার সার্বিক প্রস্তুতি ও গুরুত্ব তুলে ধরে ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক বলেন, “মান্যবর মার্কিন রাষ্ট্রদূতের এ সফর আমাদের জেলার পর্যটন খাত ও সমতলের কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন পরিচিতি দেবে। জেলা প্রশাসন স্থানীয় কৃষি, চা শিল্প ও পর্যটনের প্রসারসহ অবকাঠামোগত উন্নয়নে সব ধরনের সহায়তা বজায় রাখবে।”
​পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিনিধি এবং সুশীল সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ রাষ্ট্রদূতের সাথে উপস্থিত ছিলেন। ৩০ আগস্ট থেকে ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রংপুর বিভাগের পাঁচ জেলা সফরের অংশ হিসেবে রাষ্ট্রদূতের এ পদচারণা ঠাকুরগাঁওয়ের পর্যটন, কৃষি ও বাণিজ্য খাতে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার উন্মোচন করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন স্থানীয়রা।