স্টাফ রিপোর্টার:
বড়দি ওরা আমাকে মেরে ফেলবে ,আমাকে ওদের কবল থেকে বাচাঁও বড়দি। ওরা পাষন্ডের মত আমাকে নির্যাতন করছে। বাবা , মা কোথায় ,আমি তাদের সাথে কথা বলতে চাই। এমন কথা বলে অঝর ধারার কান্না যেন থামছিলনা। এমন কথা বলেই মোবাইল ফোনটির লাইন কেটে যায় । পহেলা এপ্রিল সময় তখন সকাল ৮টা ২০ মিনিট। মা. বাবা ,ভাই,বোন ও স্বজনরা যখন প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন আদরের দুলালীকে দেখতে যাবেন ঠিক সেই মূহুর্তে ৯:২৫ মিনিটে আরেকটি কল আসে লাকী আর নেই ।
এক ঘন্টার ব্যবধানে রহস্যজনক মৃত্যুর সংবাদ শুনে বিমূর্ষ হয়ে পড়েন বাবা,মা,ভাই বোন ও স্বজনরা । কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারছিলেননা তাদের আদরের মনি লাকী চিরদিনের জন্য চোখের আড়াল হয়ে যাবে। তখন বাবা,মা,ভাই বোন ও স্বজনদের হাউ মাউ করে কান্না জগন্নাথপুরের মন্দির বাড়ি এলাকার আকাশ বাতাস ভারী হয়ে উঠে।
:: দীর্ঘ দিনের প্রেম অথচ প্রেমিকাকে ফাকিঁ দিয়ে বিয়ে । সুন্দরী স্ত্রীকে ঘরে রেখে প্রেমিকার মন জয় করে পরকিয়া । অবশেষে পরকিয়ার অনৈতিক সম্পর্কে বাধাঁ দেয়ায় বিবাহিত স্ত্রীকে সইতে হয় অমানবিক ও শারিরীক নির্যাতন।
পাষন্ড স্বামী ও তার পরিবারের সদস্য এবং প্রেমিকার অত্যাচার শারিরীক ও মানষিক নির্যাতনে রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে জগন্নাথপুরের মেয়ে দক্ষিণ সুরমার গৃহবধু এক সন্তানের জননী লাকী রাণী নাথ কেয়ার।
পৈষাচিক হৃদয় র্স্পশী চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি সংঘটিত হয়েছে সিলেট জেলার দক্ষিণ সুরমা উপজেলার লালাবাজারের শাহসিকন্দর গ্রামে।
এ ঘটনায় নিহত লাকী রাণী নাথ কেয়ার বড় ভাই সাংবাদিক বিপ্লব দেব নাথ বাদী হয়ে ৯ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার ) দক্ষিণ সুরমা থানায় নিহত লাকীর পাষন্ড স্বামী অমরেশ দেবনাথ অমরকে প্রধান আসামী করে ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন।
মামলার অন্যান্য আসামীরা হচ্ছে: শাহসিকন্দর গ্রামের ধীরেন্দ্র দেবনাথ ধীরু ও তার স্ত্রীশেফালী রাণী নাথ, নিতাই দেবনাথ ও তার স্ত্রী শিল্পী রাণী নাথ, বালাগঞ্জ উপজেলার চানঁপুর গ্রামের বাসিন্দা মুন্টু দেবনাথ ও তার স্ত্রী মনষা রাণী নাথ, অমরেশ দেবনাথের প্রেমিকা জকিগঞ্জ উপজেলার কালিগঞ্জ গ্রামের মৃত: নিখিল দেবনাথের মেয়ে লিপি রাণী নাথ।
সেদিনের ঘটনা: দক্ষিণ সুরমা উপজেলার শাহ সিকন্দর গ্রামের ধীরেন্দ্র দেবনাথের ছেলে অমরেশ দেবনাথ অমরের স্ত্রী লাকী রাণী নাথ কেয়ার রহস্যজনক মৃত্যুর খবর পেয়ে নিহত লাকীর পিতা সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর পৌর শহরের ৬নং ওয়ার্ডের মন্দির বাড়ির বাসিন্দা নবেশ দেবনাথ তার ছেলে সাংবাদিক বিপ্লব দেবনাথ সহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা এবং জগন্নাথপুর পৌরসভার সংরক্ষিত ওয়ার্ডের মহিলা কাউন্সিলার মীনা রাণী পাল সহ স্বজনরা শাহসিকন্দর গ্রামে নিহত লাকীর স্বামীর বাড়ি শাহসিকন্দর গ্রামে পৌছেন।
ঘাতক অমরেশ দেবনাথের দোতলা বাড়ির আঙ্গিনায় পুলিশ সহ স্থানীয়রা উপস্থিত ছিলেন। দুুপুরের দিকে ঘাতক অমরেশ দেবনাথের ঘরের দোতলার শয়নকক্ষের উত্তর পাশের একটি কক্ষ থেকে সিলিং ফ্যানের একটির পাখার সাথে পুরনো শাড়ি কাপড় দ্বারা গলায় ফাস লাগানো অবস্থায় নিহত গৃহবধু লাকী রাণী নাথ কেয়ার লাশ পুলিশ উদ্ধার করেন। পরে সুরতহাল রিপোর্ট শেষে লাশ ময়না তদন্তের জন্য সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।
এদিকে প্রত্যক্ষদর্শী এবং উপস্থিত তিনজন গনমাধ্যমকর্মী নিহত গৃহবধু লাকীর ঝুলন্ত দেহ এবং কক্ষের পারিপার্শিক অবস্থান মূভি ক্যামেরা এবং মোবাইল ফোনে ধারণ করেন। লাশের পা দুটি হাটু মোড়ানো অবস্থায় বিছানার সাথে লাগানো ছিল। এছাড়াও কক্ষটির উত্তর পাশের দেয়ালে ছোট পর্দা লাগানো অনুমান দুই ফুট পরিমাপের খোলা জানালা রয়েছে । গৃহবধুর ঝুলন্ত লাশ এবং কক্ষটির পারিপার্শিক অবস্থানে ধারণা করা হয় গৃহবধু লাকী রাণী নাথ কেয়াকে নিষ্টুর ও নির্মম কায়দায় হত্যা করে ঘটনাটিকে আত্মহত্যায় চালিয়ে নিতে ঘাতকরা গৃহবধুর দেহ ঝুলিয়ে রেখেছে। ঘটনাটির সুষ্টু তদন্তে চাঞ্চল্যকর এ ঘটনার রহস্য উদঘাটন হওয়ার আশা রাখছেন লাকীর স্বজনরা ।
নিহত গৃহবধু লাকীর স্বজনরা জানান : ২০১৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারী ধর্মীয় রীতি অনুয়ায়ী দক্ষিণ সুরমা উপজেলার শাহসিকন্দর গ্রামের ধীরেন্দ্র দেবনাথ ধীরুর ছেলে অমরেশ দেবনাথ অমরের সাথে জগন্নাথপুর উপজেলার জগন্নাথপুর পৌর শহরের ৬নং ওয়ার্ডের নবেশ দেবনাথের মেয়ে লাকী রাণী নাথ কেয়ার বিয়ে হয়। বিয়ের প্রথম দিকে দাম্পত্য জীবন সুখের হলেও চার মাস পর থেকেই শুরু হয় স্বামী স্ত্রীর কলহ। এর পেছনে রয়েছে ঘাতক অমরেশের তালাতো বোন বড় ভাই নিতাই দেবনাথের শ্যালিকা লিপি রাণী নাথের পূর্বের প্রেমের সম্পর্ক ।
লিপি রাণী নাথ দোতলা বাড়ির নীচ তলায় বোন জামাই নিতাই দেবনাথের ঘরে বোনের সাথে থাকার সুবাধে আড়ালে- আবডালে প্রেম করে বসে অমরেশের সাথে । একসময় তা শারীরিক সম্পর্কে পৌছে ।
ঘটনাটি জানাজানি হলে , নিতাই দেবনাথের স্ত্রী শিল্পী রাণী নাথ তার বোন লিপিকে অমরেশের সাথে বিয়ে দিতে নানা কৌশল এবং স্বামীর পরিবারকে চাপ প্রয়োগ করে। বিষয়টি এক পর্যায়ে ধামাচাপা দেয়া হয়।
পরবর্তীতে অমরেশের বোন জামাই বালাগঞ্জের মন্টু দেবনাথ শ্যালক অমরেশ দেবনাথকে বিয়ে করাতে মেয়ে দেখতে থাকেন। অবশেষে লাকী রাণী নাথ কেয়ার সাথে অমরেশের বিয়ে হয়। এদিকে অমরেশ একই বাড়িতে প্রেমিকা সহ স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস করছেন। এ ফাকে প্রেমিকা লিপির সাথে অমরেশের শুরু হয় পরকিয়া । স্ত্রী লাকীর অগোচরে প্রেমিকা লিপির সাথে অমরেশ প্রায় সময় অনৈতিক কাজে লিপ্ত থাকার কথা ফাঁস হয়ে গেলে শুরু হয় স্বামী স্ত্রীর কলহ।
লাকীর স্বজনরা আরো জানান: অমরেশের পরকিয়া সম্পর্কের ঘটনাটি বাধাঁ দেয়ার কারণে অমরেশ ও তার মা শেফালী রাণী নাথ এবং বৌদি শিল্পী রাণী নাথ এর সহযোগিতায় অসংখ্যবার লাকীর রাণী নাথের ওপর অমানবিক অত্যাচার নির্যাতন চালানো হয়েছে।
এসব অত্যাচার সহ্য করে গৃহবধু লাকী রাণী নাথ স্বামীর সংসারে একটু সুখের আশায় ঘর করতে থাকে । শেষ মেষ লাকীর গর্ভে জন্ম নেয় একটি ফুটফুটে ছেলে সন্তান ।
সবকিছুর পর সন্তানের মূখের দিকে চেয়ে স্বামী অমরেশের অত্যাচার সহ্য করে সংসার চালিয়ে যাচ্ছিল লাকী । অবশেষে পরকিয়া প্রেমের বাধাঁ হয়ে দাড়াল লাকীর সূখের সংসার।
দশ মাসের পূত্র অভিজিৎ দেবনাথ অভিমুন্নের মা ডাকার স্বপ্নকে ভেঙ্গে তছনছ করে দিয়েছে ঘাতক পাষন্ড অমরেশ ও তার পরিবারের সহযোগিরা।
গৃহবধু লাকী রাণী নাথ কেয়ার নিহত হওয়ার ঘটনাটি তার স্বজনরা সহ অনেকেই ধারণা করছেন এটি একটি নির্মম এবং নিষ্টুর হত্যাকান্ড ।
এদিকে মামলা দায়েরের পর পুলিশ গত ১০ এপ্রিল রাতে আসামীদের গ্রেফতারে শাহসিকন্দর গ্রামে আসামীদের বাড়িতে অভিযান চালিয়েছে।
তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত আসামীদের গ্রেফতারে পুলিশের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। চলবে…