মো: আব্দুল হাই:-
নিজের সমগ্র জীবন ধরে সমাজ ও মানুষের সেবায় আত্মনিবেদিত, এক দুর্দমনীয় কর্মবীরের নাম আব্দুল আলী রউফ। আব্দুল আলী রউফের জন্ম সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার মিরপুর ইউনিয়নের রতিয়ারপাড়া গ্রামের বিখ্যাত সারেং বাড়িতে। তাঁর পিতা মরহুম তাহির আলী সারেং। তাঁর প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন হয় জগন্নাথপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এবং তিনি মাধ্যমিক শিক্ষা গ্রহন করেন মিরপুর জুনিয়র হাই স্কুলে। আব্দুল আলী রউফের যুক্তরাজ্য গমন এবং কর্ম জীবন বৈচিত্রময়। তিনি ৫৫ বছর আগে লন্ডনে পাড়ি জমান। সেখানে সর্বপ্রথম কাজ শুরু করেন লিডস শহরস্থ জগন্নাথপুরের গর্ব মতিন মিয়া চৌধুরীর তাজ মহল রেষ্টুরেন্টে। তারপর আয়রন ফাওয়ান্ডী ইঞ্জিনিয়ারিং, টেকস্টাইল টেইলারিং এবং বৃটিশ লয়েলন্ডে কাজ করেন। পরে তিনি নিজস্ব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেন।
আশির দশক থেকে শুরু করা ব্যবসা সুদীর্ঘকাল গৌরবের সাথে পরিচালনা করেন তিনি। এরপর অবসর জীবনে চলে যান। গত দুই দশক থেকে তিনি অবসরে আছেন। ছেলেরা সব দায়িত্ব গ্রহনের পর থেকে আল্লাহর অশেষ রহমতে ভালোই কাটছে তাঁর জীবন। সমাজকর্ম এবং রাজনীতিতে আব্দুল আলী রউফ বিশিষ্টতার পরিচায়ক। তিনি আপাদমস্তক একজন সমাজকর্মী ও রাজনীতি সচেতন ব্যক্তি। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় দেশমাতৃকার স্বাধীনতার জন্য তিনি উদগ্রীব হয়ে উঠেন।

স্বাধীনতা সংগ্রামে তিনি অকাতরে মেধা ও শ্রম ব্যয় করেন। দেশে ও প্রবাসে ছাত্র জনতার সমন্বয়ে গঠন করেন লিবারেশন ফ্রন্ট। বিলেতে প্রাচীনতম বাংলা পত্রিকা জনমত এই সংগঠনের পক্ষে নিবিষ্টচিত্তে কাজ করেন। তৎকালীন জনমতের সংবাদদাতা খুরশেদ আলমের সাথে তিনি লিডস শহরে থেকে ইয়র্কশায়ারের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করতেন। তিনি জাষ্টিস আবু সায়িদ চৌধুরীকে নিয়ে সমস্ত ইয়র্কশায়ারবাসীর পক্ষ থেকে ব্রাডফোর্ড শহরে জনসভা করে মুক্তিযোদ্ধাদের আর্থিক সাহায্য করার জন্য চাঁদা সংগ্রহ করেন। এর নেতৃত্বে ছিলেন নুর উদ্দিন খোকা, মনুহর হোসেন চৌধুরী, মতিন মিয়া চৌধুরী, আছকর উদ্দিনসহ আরো অনেকে। এঁদের কেউই আজ বেঁচে নেই।
মহান আল্লাহ তাদেরকে জান্নাত নসিব করুন। তারা সংগ্রহকৃত সব টাকা জাষ্টিস আবু সায়িদ চৌধুরীর কাছে তুলে দেন। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরে বাংলাদেশ ইউনাইটেড এসোসিয়েশন গঠনেও আব্দুল আলী রউফ ফলপ্রসু ভূমিকা পালন করেন। এ সংগঠনটি লিডস সিটি কাউন্সিলের কাছ থেকে সেই সময় ১৭০০০ (সতের হাজার) পাউন্ড গ্রান্ট এনে ডুউজবারী রোডের উপর একটি কমিউনিটি সেন্টার এবং নামাজের জায়গার ব্যবস্থা করে দেয়, যা এখনো দৃশ্যমান। এই সংগঠনের কর্মাধ্যক্ষ তথা সাধারন সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন আব্দুল আলী রউফ। সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন মরহুম মফিজুর রহমান। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও তাকওয়াপূর্ন জীবন গঠনের পাশাপাশি তিনি কমিউনিটির শান্তি শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বিষয়েও সমধিক তৎপর হয়ে ওঠেন। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে তিনি পুলিশ লিয়াজোঁ কমিটির সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
নাগরিক অধিকার ও আইনি বিষয়ে তিনি যথেষ্ট ওয়াকিফহাল ছিলেন। লন্ডনের টাওয়ার হেমলেটস বারার সংখালঘুদের লিগ্যাল সাহায্য-সহযোগিতার লক্ষে তিনি সভাপতি এবং ট্রেজারের দায়িত্ব পালন করেন। বাংলা ভাষা এবং পরিশুদ্ধ বাঙালি সংস্কৃতি চর্চা ও সংরক্ষনে আব্দুল আলী রউফের অবদান অসামান্য। তিনি লন্ডনে বাংলাভাষা সংস্কৃতি চর্চার অন্যতম পাদপীঠ কবি নজরুল সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা ট্রেজারার ও সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। আজ থেকে পঁচিশ বছর আগে বাঙালি ছেলে মেয়েদেরকে বাংলা এবং আরবী শিক্ষা দেয়ার জন্য তিনি নিজের এষ্টেটের সকল বাসিন্দাকে নিয়ে একটি সাপ্লিমেন্টারী স্কুল আরম্ভ করেন। চিকসেন্ড সিটিজেনস ফোরাম নামে একটি সংগঠন এই স্কুল পরিচালনা করে ।

প্রথমে একটি টেম্পারারী জায়গায় এটা শুরু করা হয়। পরে সিটি সাইডের আর্থিক সহায়তায় প্রায় এক পয়েন্ট দুই মিলিয়ন পাউন্ট ব্যয়ে সিকসেন্ড সিটিজেনস ফোরামকে একটি নতুন বিল্ডিং করে দেয়া হয়। এ সংগঠনের দায়িত্বে পরিচালিত প্রজেক্টের নাম মাইক্রো বিজনেস পার্ক ট্রাস্ট। আর এই ট্রাস্টের সভাপতি মনোনীত হন আব্দুল আলী রউফ।
১৯৮৭ সালে আব্দুল আলী রউফ গ্রামের লোকজনের অনুরোধে সম্পূর্ন নিজস্ব অর্থায়নে তিনি একটি প্রাইমারী স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। এতে তৎক্ষালিন ৫০লক্ষ টাকার মতো খরচ হয়েছিল। অনেকদিন এই স্কুলের শিক্ষকদের বেতন ভাতাসহ সব ব্যয়ভার বহন করতে হয়েছিল তাঁকে। বর্তমানে এই স্কুলটি সরকারি করণ হয়েছে। যার নাম রতিয়ারপাড়া বাদশা মিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
১৯৮৯ সালে আব্দুল আলী রউফ দেশে আসার পর গ্রামবাসী তাকে অনুরোধ করেন যে, হাইস্কুলটি আর্থিক সংকটে আছে তিনি যেনো লন্ডনে গিয়ে সেখানে বসবাসরত আমাদের গ্রামবাসীকে স্কুলের এই সংকটাপন্ন পরিস্থিতির সংবাদ তুলে ধরেন। আর আজকেই দশ হাজার টাকার দরকার, না হয় শিক্ষকগন স্কুল ছেড়ে চলে যাবেন। তখন স্কুল লাইব্রেরিতে বসে আব্দুল আলী রউফ স্কুলের সংকট নিরসনের চিন্তা করলেন। তার শ্রদ্ধাভাজন বড় ভাই মরহুম হাজি আইন উদ্দিন তখন বাড়িতে। তিনি তাঁর বড় ভাইকে বললেন, শিক্ষকদের বেতন বাবত দশ হাজার টাকা দিতে। কিন্তু হাতে নগদ টাকা না থাকায় তিনি চেক দিলেন।
এদিকে ততক্ষণে ব্যাংক বন্ধ হয়ে গেছে। অথচ এই সামান্য কয় হাজার টাকা খুবই জরুরী। আব্দুল আলী রউফ তখন ম্যানেজারকে অনুরোধ করে ছোট ভাই ইনু মিয়াকে পাঠিয়ে দশ হাজার টাকা ক্যাশ করে শিক্ষকদের যার যার বেতন দিলেন। আর উপস্থিত সকলকে বলে আসলেন ইনশাআল্লাহ তিনি লন্ডনে গিয়ে গ্রামের সকলকে একত্রিত করে আবেদন করবেন। তিনি লন্ডনে যাওয়ার সাথে সাথেই গ্রামের অনেকের সঙ্গে আলাপ করলেন। সবাই বললেন, আপনার ঘরে জায়গা হবে না একটি হলে সভা ডাকেন। আমাদের নিজের গ্রামের স্কুলের জন্য আমরা অবশ্যই সাহায্য করবো। পরের সপ্তাহে কবি নজরুল সেন্টারে সভা ডাকা হলো। সভায় সিদ্ধান্ত হলো গ্রামের প্রত্যেক লন্ডনী ঘরপ্রতি একশত পাউন্ড দান করবেন।
সেখানে গ্রামের প্রত্যেক গোষ্ঠীর নেতাগন উপস্থিত ছিলেন। সিদ্ধান্ত হলো দুই সপ্তাহের মধ্যে টাকা জমা করতে হবে। ঠিকই দুই সপ্তাহ পরের সভায় সকলের টাকা আব্দুল আলী রউফের কাছে সংগৃহীত হলো। পরের দিন সকালে ব্রিকলেইনের সোনালী ব্যাংকে একাউন্ট করে তার এবং আয়াজ উল্ল্যার নামে টাকা জমা রাখা হয় আর সিদ্ধান্ত হয় যে এফডিআর করে ছয় লক্ষ টাকা আজীবনের জন্য প্রত্যেক গোষ্ঠীর নেতাদের নামে রাখা হবে। তিনি সে অনুযায়ী টাকা গুলো এফডিআর করে রাখলেন। নাম বিশেষভাবে উল্লেখ্য। কারন হাই স্কুলের টাকা সংগ্রহে আব্দুল আলী রউফের ভূমিকা ছিলো প্রশংসনীয়। টানাপোড়ানের সময় হাই স্কুলের জন্য ঋনের টাকা নেয়া হয়েছিল আইন উদ্দিন এর কাছ থেকে।
এর পরিমাণ ছিল ৬৫ হাজার টাকা। আব্দুল আলী রউফ ঋনমুক্ত করতেও উদ্যোগী হলেন। তিনি সেই ষোলগোষ্ঠির ষোলজনের নামে জগন্নাথপুর সোনালী ব্যাংকে এফডিআর করা টাকা অক্ষত রেখে নিজের একাউন্ট এনবিএল লালদিঘীরপাড় শাখার চেক দিয়ে জয়নাল খানের মাধ্যমে সিতাব খানকে দিয়ে সমুদয় টাকা উঠিয়ে স্কুলের ঋন পরিশোধ করেন। আর অতিরিক্ত টাকা স্কুলের ফান্ডে জমা করেন।
শিক্ষামূলক উন্নয়ন কর্মকান্ডের পাশাপাশিই তিনি অপরাপর জরুরী কল্যানমূলক কাজও চালিয়ে যেতেন। গ্রামের লোকজন যাতে সুবিধা মতো চলাচল করতে পারেন সে লক্ষ্যে তিনি দূর্গাপুরবাসী সকলকে নিয়ে লন্ডনে তার নিজ বাসভবনে সভার আয়োজন করেন। গ্রামের মধ্য দিয়ে একটি রাস্তা বড় পরিয়া থেকে চিনাউড়া পর্যন্ত তিনটি ব্রীজসহ যাবতীয় খরচের টাকা চাঁদা করে উত্তোলন করা হয়। প্রবাসীদের পক্ষে আলমগীরের পিতা আব্দুল মতলিবকে সকলের স্বাক্ষরসহ পত্র লিখে টাকা দিয়ে দেশে পাঠানো হয়।
সে সময় দেশে দূর্গাপুরের নেতৃত্বে যারাই ছিলেন তাদের সকলের সহযোগিতায় রাস্তার কাজ সম্পন্ন করা হয়। এই রাস্তা ও ব্রীজ নির্মান সম্পর্কিত প্রথম সভায় যারা উপস্থিত ছিলেন তাদের মধ্যে অনেকেই আজ বেঁচে নেই। যারা ইহলোক ত্যাগ করেছেন তারা হলেন আব্দুল মতলিব, আয়াজ উল্ল্যাহ, আফিজ উল্লাহ, ফিরোজ মিয়া, জমিল মিয়া, সমুজ আলী প্রমুখ। মহান আল্লাহ তাদেরকে জান্নাত নসিব করুন। আর যারা সশরীরে আছেন তারা হলেন জয়নাল খান, সজ্জাদ খান, জিলু মিয়া, কাচা মিয়া, ওয়াফিজ উল্ল্যা প্রমূখ।
আশির দশক থেকে এখন পর্যন্ত গ্রামের রাস্তা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সহ ছোট বড় যত উন্নয়নমূলক কাজ সম্পন্ন হয়েছে তার একজন গর্বিত অংশিদার তথা অগ্রগামী উদ্যোক্তা হিসেবে আব্দুল আলী রউফের নাম চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। এসব উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডের বেশিরভাগ সিদ্ধান্ত তার লন্ডনস্থ বাসভবন থেকেই নেয়া হয়েছে। এসবের প্রত্যেক্ষ্যদর্শী হিসেবে জয়নাল খান, সজ্জাদ আলী, জিলু মিয়া, কাচা মিয়া, খলিল মিয়া, সিতু মিয়া, কবির মিয়া সহ আরো অনেকের নাম বিশেষভাবে উল্লেখ যোগ্য। অপর দিকে হাই স্কুলের ব্যাপারে প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে গ্রামের পক্ষ থেকে আব্দাল হোসেন, আব্দুল বারি, সিরাজুল হক, সুনা মিয়া, গউছ উদ্দিন, জিলু মিয়া, কাচা মিয়া, রোয়াকিব উল্ল্যাহ, রাশিদ উল্ল্যাহ প্রমুখ।
ভবের বাজার মাদরাসাকে আর্থিক দুরবস্থায় সাহায্য করার জন্যও তিনি অগ্রনী ভূমিকা পালন করেন। তার অভূতপূর্ব সাংগঠনিক দক্ষতায় ইসাকপুর লুদরপুর এনায়েতনগর থেকে বাষট্টি লক্ষ টাকা সংগ্রহ করে এফডিআর করে রাখা হয়। বলা হয় সৎ কাজে শতেক বাধা। এই প্রবাদটা সমাজসেবক আব্দুল আলী রউফের জীবনে সর্বাংশে সত্য।
আব্দুল আলী রউফ বলেন, একটি মহল তার অনন্য সাধারন ব্যক্তিত্ব, সাফল্য জনপ্রিয়তায় ঐর্ষান্বিক হয়ে বিরুদ্ধাচরন শুরু করে। তার এত সব ভাল কাজের ফসল হিসেবে নিজ গ্রামের সহজ সরল অথচ নিরীহ জনগনকে অসত্য তথ্য দিয়ে কূটকৌশলে খেপিয়ে তুলে গ্রামের কতিপয় মহল। তাদেরকে সন্ত্রাসী কায়দায় একত্রিত করে আমার গোষ্টিকে বেকায়দায় ফেলার জন্য নিজেরাই একটি দুর্ঘটনা ঘটায়। অত:পর মিথ্যা মামলায় আসামী করে আমি সহ হয়রানী শুরু করে।
আব্দুল আলী রউফ আরো বলেন, সব কিছু বিচারের মালিক আল্লাহ। সত্য মিথ্যা তিনিই জানেন। কষ্ট যারাই দিচ্ছেন তারা একদিন এর জবাব আল্লাহর দরবারে দিতে হবেই ইনশাআল্লাহ। আর জনতার আদালতে শাস্তি পাওয়া শুরু হয়ে গেছে।

বস্তত মহান মুক্তিযুদ্ধের দুর্দান্ত সংগঠক, সমাজসেবক, রাজনীতিজ্ঞ আব্দুল আলী রউফের ন্যায় ব্যক্তিত্ববানদের বিরুদ্ধাচরনকারীরা সব সময় আস্তকুড়ে নিক্ষিপ্ত হয়। রউফের অব্যাহত যাত্রাকে থামাতে পারেনি কষ্মিন কালের জন্য। বর্তমানে তিনি সুনামগঞ্জ জেলা সমিতি ইউকের সভাপতি, লন্ডন মহানগর আওয়ামী লীগের সহ- সভাপতি, মাইক্রো বিজনেস সেন্টার ট্রাস্টের সভাপতি, জগন্নাথপুর ব্রিটিশ বাংলা এডুকেশন ট্রাস্টের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ট্রাষ্টী, জগন্নাথপুর উপজেলা উন্নয়ন সংস্থা ইউকের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার কমিটির প্রতিষ্ঠাতা, বাংলা টাউন রেস্টুরেন্ট সমিতির প্রতিষ্ঠাতা এবং বাংলাদেশ ইয়্যং এ্যাকশন গ্রæপের আশির দশকের সভাপতি।
আজীবন সসম্মানে পথচলা এই ব্যক্তিটি জীবনের পড়ন্ত বিকেলে এসে বলেন আমার সাথে যারা অন্যায়-অত্যাচার, জালিমী কায়দায় জুলুম এবং বেইমানি করেছেন আল্লাহ যেন তাদের বিচার করেন। আমি জানি আমি নিরপরাধ, আমার জানামতে আমার জীবনে কাউকে কোনো কষ্ট দেইনি। ভুলে হয়ে থাকলে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাচ্ছি। আল্লাহ আমাকে ক্ষমা কর মাবুদ। আমি জানি গ্রামের প্রত্যেকটা মানুষ জানেন আমি অপরাধী নই। আমার আল্লাহ জানেন এই ব্যাপারে আমার কোনো অপরাধ নেই। এটাই আমার আত্মপ্রশান্তি।
আমার জন্য গ্রামবাসী সকলে দোয়া করবেন। জেনে না জেনে যদি গ্রামবাসী কারো কাছে কোনো অপরাধ করে থাকি তাহলে আমাকে ক্ষমা করে দিবেন। তিনি আরো বলেন, আমাকে আমার সার্কেলবাসী কত যে সম্মান দেখিয়েছেন তা আমি কোনো দিনই ভূলবো না। আমি সার্কেলবাসীর কাছে কৃতজ্ঞ। ১৯৯০ সালের জানুয়ারি মাসে যুক্তরাজ্যে বাঙ্গালীদের সামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় জীবনের একটি প্রামাণ্যচিত্র বিবিসি টেলিভিশনে “দ্যা ল্যান” নামে প্রচার করে। ঐ প্রোগ্রামে আব্দুর আলী রউফের পরিবারের রাজনৈতিক, সামাজিক, ধর্মীয় ও ব্যবসায়িক জীবনী প্রচার করেছে বিবিসি টিভি। এ থেকেই বৃহত্তর বাঙালী কমিউনিটিতে তার বিশেষত্ব ফুটে উঠে।
একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, সমাজসেবক, রাজনীতিবিদ আব্দুল আলী রউফের সাফল্যময় জীবন ও কর্ম বিলেতে বাঙালী কমিউনিটির নতুন প্রজন্মের জন্য এক অত্যুজ্জ্বল আদর্শ।