১০:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টানা বর্ষণে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার প্লাবিত: পানিবন্দি মানুষের পাশে তরুণ স্বেচ্ছাসেবকরা

  • Update Time : ০৮:২৬:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬
  • / 13

লোহাগাড়া প্রতিনিধি:

দীর্ঘদিনের টানা ও প্রবল বর্ষণের ফলে চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারমুখী বিস্তীর্ণ অঞ্চলের বিভিন্ন নিচু এলাকা ও লোকালয় জলবদ্ধতার শিকার হয়েছে। প্লাবিত হয়েছে ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি। এমন চরম মানবিক বিপর্যয়ের মুখে পানিবন্দি অসহায় মানুষের প্রতি মানবতার হাত বাড়িয়ে এগিয়ে এসেছে স্থানীয় একঝাঁক তরুণ ও বিভিন্ন মানবিক সংগঠন।

বিগত কয়েকদিন ধরে লোহাগাড়া উপজেলার যুব রেড ক্রিসেন্ট টিম, স্কাউট, রোভার স্কাউট এবং ন্যাশনাল ভলান্টিয়ার ফোরামসহ বেশ কয়েকটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে মাঠপর্যায়ে উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, জলবদ্ধতায় আটকে পড়া পরিবারগুলোকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া, শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি এবং জরুরি ওষুধ পৌঁছানোর কাজে দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন এই তরুণ স্বেচ্ছাসেবকেরা।

বিশেষ করে প্রত্যন্ত ও দুর্গম এলাকার যেখানে সাধারণ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে, সেখানেও বুকসমান পানি মাড়িয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিচ্ছেন তারা।

এ বিষয়ে স্বেচ্ছাসেবক টিমের পক্ষ থেকে জানানো হয়, “টানা বৃষ্টির কারণে আমাদের এই অঞ্চলের বহু মানুষ আকস্মিক বিপদে পড়েছেন। মানবতার ডাকে সাড়া দিয়ে আমাদের সদস্যরা প্রথম দিন থেকেই মাঠে আছেন। পানি সম্পূর্ণ নেমে না যাওয়া এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত আমাদের এই উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”

স্থানীয়রা বলেন একইভাবে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন লোহাগাড়া রোভার স্কাউট সহ স্থানীয় স্কাউটস ও ন্যাশনাল ভলান্টিয়ার ফোরামের সদস্যরা। বিপন্ন মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে তরুণদের এই স্বতঃস্ফূর্ত ও যৌথ প্রয়াসকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং সাধারণ মানুষ।

তাদের মতে, প্রশাসনের পাশাপাশি এই মানবিক সংগঠনগুলোর দ্রুত তৎপরতার কারণেই বহু পরিবার বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি ও চরম দুর্ভোগ থেকে রক্ষা পাচ্ছে।

প্রকৃতির এই দুর্যোগে তরুণদের এমন একতাবদ্ধ ও নিঃস্বার্থ সেবা আবারও প্রমাণ করল— “মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য।” জলবদ্ধতা কবলিত এলাকায় মানবিক সেবার এই উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত এখন পুরো অঞ্চলের মানুষের কাছে এক বড় আশার আলো।

Please Share This Post in Your Social Media

টানা বর্ষণে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার প্লাবিত: পানিবন্দি মানুষের পাশে তরুণ স্বেচ্ছাসেবকরা

Update Time : ০৮:২৬:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬

লোহাগাড়া প্রতিনিধি:

দীর্ঘদিনের টানা ও প্রবল বর্ষণের ফলে চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারমুখী বিস্তীর্ণ অঞ্চলের বিভিন্ন নিচু এলাকা ও লোকালয় জলবদ্ধতার শিকার হয়েছে। প্লাবিত হয়েছে ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি। এমন চরম মানবিক বিপর্যয়ের মুখে পানিবন্দি অসহায় মানুষের প্রতি মানবতার হাত বাড়িয়ে এগিয়ে এসেছে স্থানীয় একঝাঁক তরুণ ও বিভিন্ন মানবিক সংগঠন।

বিগত কয়েকদিন ধরে লোহাগাড়া উপজেলার যুব রেড ক্রিসেন্ট টিম, স্কাউট, রোভার স্কাউট এবং ন্যাশনাল ভলান্টিয়ার ফোরামসহ বেশ কয়েকটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে মাঠপর্যায়ে উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, জলবদ্ধতায় আটকে পড়া পরিবারগুলোকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া, শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি এবং জরুরি ওষুধ পৌঁছানোর কাজে দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন এই তরুণ স্বেচ্ছাসেবকেরা।

বিশেষ করে প্রত্যন্ত ও দুর্গম এলাকার যেখানে সাধারণ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে, সেখানেও বুকসমান পানি মাড়িয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিচ্ছেন তারা।

এ বিষয়ে স্বেচ্ছাসেবক টিমের পক্ষ থেকে জানানো হয়, “টানা বৃষ্টির কারণে আমাদের এই অঞ্চলের বহু মানুষ আকস্মিক বিপদে পড়েছেন। মানবতার ডাকে সাড়া দিয়ে আমাদের সদস্যরা প্রথম দিন থেকেই মাঠে আছেন। পানি সম্পূর্ণ নেমে না যাওয়া এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত আমাদের এই উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”

স্থানীয়রা বলেন একইভাবে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন লোহাগাড়া রোভার স্কাউট সহ স্থানীয় স্কাউটস ও ন্যাশনাল ভলান্টিয়ার ফোরামের সদস্যরা। বিপন্ন মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে তরুণদের এই স্বতঃস্ফূর্ত ও যৌথ প্রয়াসকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং সাধারণ মানুষ।

তাদের মতে, প্রশাসনের পাশাপাশি এই মানবিক সংগঠনগুলোর দ্রুত তৎপরতার কারণেই বহু পরিবার বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি ও চরম দুর্ভোগ থেকে রক্ষা পাচ্ছে।

প্রকৃতির এই দুর্যোগে তরুণদের এমন একতাবদ্ধ ও নিঃস্বার্থ সেবা আবারও প্রমাণ করল— “মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য।” জলবদ্ধতা কবলিত এলাকায় মানবিক সেবার এই উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত এখন পুরো অঞ্চলের মানুষের কাছে এক বড় আশার আলো।