আব্দুল হাই :
গত ৩দিনের টানা বর্ষন ও পাহাড়ি ঢলে জগন্নাথপুর উপজেলার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া কুশিয়ারা নদী, নলজুর নদী সহ সব কটি ছোট বড় নদী এবং বৃহৎ নলয়া ও মইয়া এবং পিংলার হাওর সহ সব কটি হাওরের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বন্যার আশংকা দেখা দিয়েছে। উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার অধিকাংশ গ্রাম ও পাড়া মহল্লার লোকজনের যাতায়াতের রাস্তা ডুবে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে এখনও কোন গ্রামের লোকজন পানি বন্ধী না হলেও হাওর এলাকায় নতুন বাড়ি নির্মান করে বসবাসরত পরিবারের লোকজন পানি বন্ধী অবস্থায় রয়েছে। এদিকে ঢানা বর্ষন অব্যাহত থাকলে আগামী ২/১দিনের মধ্যে বন্যা হওয়ার আশংকা রয়েছে। ইতোমধ্যে বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় উপজেলা প্রশাসন সকল প্রস্তুতি গ্রহন করেছেন। আজ শুক্রবার উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেসবুক ওয়েব সাইটে জরুরী বার্তায় বলা হয়েছে সাম্প্রতিক বৃষ্টি পাহাড়ি ঢলে পানি বৃদ্ধির ফলে আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় জরুরী প্রয়োজনে যোগাযোগের জন্য কন্ট্রোলরুম স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়াও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহফুজুল আলম মাসুম সার্বক্ষনিক উপজেলার ১টি পৌরসভা ও ৮টি ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধি ছাড়াও জনসাধারনের যোগাযোগ রাখছেন। পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়র শফিকুল হক শফিক জানান, শহরের অধিকাংশ সড়ক পথ ঢুবে যাওয়ায় জনসাধারন যাতায়াতে ভোগান্তিতে পড়েছেন। বৃষ্টিপাত অব্যাত থাকলে বন্যার আশংকা রয়েছে। ৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলার গিয়াস উদ্দিন জানান, ওয়ার্ডের পিংলার হাওর ও শ্মষানঘাট সড়কটি ডুবে যাওয়ায় লোকজন যাতায়াতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। এছাড়াও আলিয়াবাদ ও হাশিমাবাদ এলাকার লোকজন সড়ক যোগাযোগ না থাকায় যাতায়াতে চরম দূর্ভোগে পড়েছেন। কলকলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল হাশেম জানান, ইউনিয়নের নদী ও হারের পানি বৃদ্ধি পেলেও এখনো কোন ক্ষয়ক্ষতি না হলেও ইউনিয়নের প্রধান সড়কের একটি ব্রীজ ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ায় জনসাধারন যাতায়াতে ভোগান্তি পোহাচ্ছেন। পাটলী ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ওয়াহিদুর রাজা জানান, রত্না নদী, ঘাটিয়ার হাওর সহ আশ পাশের খাল ও নদীর পানি বৃদ্ধি পেলে বাড়ি ঘরে উঠেনি। তবে ঘাটিয়ার হাওরের নতুন কয়েকটি বাড়ির জনসাধারন পানি বন্ধী অবস্থায় রয়েছেন। মীরপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জমির উদ্দিন জানান, টানা বর্ষন অব্যাহত থাকলে ২/১দিনের মধ্যে শ্রীরামসীর হাওর এলাকায় নবী নগর ও গুচ্ছগ্রাম পানি বন্ধী হওয়ার আশংকা রয়েছে। চিলাউড়া হলদিপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সুজাত মিয়া জানান, হাওরের পানি হু হু করে বাড়ছে। উপজেলার ভাটির জনপদ চিলাউড়া, ভূরাখালী, দাসনোয়াগাঁও, বেতাউকা, গাদিয়ালা সহ বেশ কটি গ্রাম এখন শংকামুক্ত রয়েছে। তবে টানা বর্ষন অব্যাহত থাকলে আগামী ২/১দিনের মধ্যে এসব গ্রাম বন্যার পানিতে প্লাবিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়াও সাম্প্রতিক বৃষ্টিপাতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় চিলাউড়া গ্রামের বেশ কটি সড়ক পথ পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় যাতায়াতে ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে। রানীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম রানা জানান, ইউনিয়নের সব কটি গ্রাম এখন ভাল রয়েছে। তবে টানা বর্ষন হলে কুশিয়ারা সহ আশ পাশে নদীর পানি বৃদ্ধি পেলে বন্যা হওয়ার আশংকা রয়েছে। সৈয়দপুর শাহারপাড়া ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান লিলু মিয়া জানান, পুরো ইউনিয়নের অবস্থা ভাল রয়েছে। আশারকান্দি ইউনিয়নের বড়ফেচী গ্রামের বাসিন্দা মসহুদ আহমদ জানান, কুশিয়ারার পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে। টানা বৃষ্টিপাতের জনজীবন বিপর্যস্থ রয়েছে। পাইলগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য শাহার আহমদ জানান, ইউনিয়নের দয়াল নগর, মোজাহিদপুর ও গাজিরকূল গ্রামের ১০/১৫টি পরিবার পানি বন্ধী অবস্থায় রয়েছেন।