স্টাফ রিপোর্টার:
জগন্নাথপুর উপজেলায় সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। বন্যার পানি দ্রুত গতিতে কমলেও জনভোগান্তি চরম আকার ধারন করেছে। সাম্প্রতিক বন্যায় উপজেলার ১টি পৌরসভা ও ৮টি ইউনিয়নের অধিকাংশ গ্রাম এলাকা বন্যা কবলিত হওয়ায় সড়ক এবং বাড়ি ঘরে পানি প্রবেশ করায় ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদপ্তর এলজিইডির আওতায় প্রায় ১শ কিলোমিটার পাকা সড়ক ৬টি সেতু ও কালভার্ট বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এতে প্রায় ১শ কোটি টাকার ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট অফিস সূত্রে জানাগেছে। বিশেষ করে রানীগঞ্জ, পাইলগাঁও ও আশারকান্দি ইউনিয়নে এলজিইডির নির্মাণাধীন পাকা সড়কের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেশী হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। কাতিয়া গ্রামের বাসিন্দা সেলিম খান জানান, এলজিইডির শিবগঞ্জ-কাতিয়া-ফেচী- বেগমপুর সড়কের প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে স্থানে স্থানে খানা খন্দকের পাশাপাশি বিশাল গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বন্যার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় কুশিয়ারা নদীর প্রবল স্রােতে সড়কের বিভিন্ন স্থানে ৮/১০টি ভাঙ্গনের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে সরাসরি যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। ঝুকিপূর্নভাবে সিএনজি অটোরিকসা, মটর সাইকেল চলাচল করলেও জনভোগান্তি চরম আকার ধারন করেছে। একই অবস্থা কুশিয়ারা নদীর তীরবর্তী পাইলগাঁও ইউনিয়নে এলজিইডির জালালপুর সড়কটি। জালালপুর গ্রামের হাফিজুর রহমান জানান, বন্যার পানির প্রবল স্রোতে সড়কের বিভিন্ন স্থানে ভাঙ্গনের সৃষ্টি হওয়ায় যাতায়াতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন জনসাধারন। স্থানীয়ভাবে লোকজন বাঁেশর সাকো নির্মাণ করে যাতায়াত করছেন। এ এলাকার বিভিন্ন স্থানে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এদিকে জগন্নাথপুর পৌর শহরের ৭০ কিলোমিটার পাকা সড়কের মধ্যে প্রায় ৩০ কিলোমিটার সড়ক বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এছাড়াও সৈয়দপুর শাহারপাড়া ও আশারকান্দি ইউনিয়নের সাথে উপজেলা সদরের সরাসরি যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্থ থাকায় জনসাধারন দুর্ভোগে পড়েছেন। এলজিইডির জগন্নাথপুর অফিসের ধীরেন্দ্র সূত্রধর জানান, সাম্প্রতিক বন্যায় ১শ কিলোমিটার পাকা রাস্তা, ৬টি সেতু ও কালভার্ট এবং ১৫টি অন্যান্য স্থাপনা ক্ষতি হয়েছে। এতে প্রায় ১শ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। পৌরসভার প্রকৌশলী সতিশ গোস্মামী জানান, সাম্প্রতিক বন্যার পানিতে পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের প্রায় ৩০ কিলোমিটার পাকা সড়কের ক্ষতি হয়েছে। এতে প্রায় ২১ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি জানান। বন্যার পানিতে যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ন সড়কগুলো ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ায় জনসাধারন চরম দূর্ভোগে রয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্থ এলাকার জনসাধারনের এখন একমাত্র ভরসা নৌকা অথবা পায়ে হেঁটে গন্তব্য স্থানে যাতায়াত করছেন।