স্টাফ রিপোর্টার:
জগন্নাথপুরের বিএনপির ২ কর্মী নিখোঁজ হয়নি। অস্ত্র ও গুলিসহ ঢাকায় কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের হাতে গ্রেফতার হয়েছে। এমন তথ্য জানিয়েছেন জগন্নাথপুর থানার সেকেন্ড অফিসার উপ-পরিদর্শক মো: হাবিবুর রহমান পিপি এম। জগন্নাথপুর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আব্দুশ শহিদ ও উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক আনছার মিয়া মঙ্গলবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে একটি বিয়ের অনুষ্টানে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেননি এমন তথ্যে জানিয়ে পরদিন (৪ সেপ্টেম্বর) নিখোঁজ আনছার মিয়ার ভাগিনা মুহিত মিয়া জগন্নাথপুর থানায় নিঁেখাজ ডায়েরী দায়ের করেন। থানা পুলিশ নিখোঁজ ডায়েরীর সূত্র ধরে তদন্তে নামে। শনিবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জগন্নাথপুর থানার উপ-পরিদর্শক হাবিবুর রহমান পিপি এম জানান, আব্দুশ শহিদ ও আনছার মিয়া নিখোঁজ হননি। তাদেরকে অস্ত্র ও গুলিসহ ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের আর্মস এনফোর্সমেন্ট টিম স্পেশাল এ্যাকশন গ্রুপ, কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট কর্তৃক গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে রিমান্ডে রয়েছে। তিনি আরো জানান, কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের পুলিশ পরিদর্শক শেখ মো: মনিরুজ্জামান বাদি হয়ে যাত্রা বাড়ি থানায় আব্দুশ শহিদ, আনছার মিয়া ও দোলন মিয়া সহ ৫জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা অস্ত্র ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করেছে। গ্রেফতারকৃত আব্দুশ শহিদ (৪০) জগন্নাথপুর উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নের টিয়ারগাঁও গ্রামের মৃত আব্দুল জলিলের ছেলে। আনছার মিয়া (৪০) একই উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নের ঘোষগাঁও কোনাপাড়া গ্রামের মৃত মমতাজ উল্ল্যার ছেলে। দোলন মিয়া (৩৮) বি-বাড়িয়া জেলার সদর উপজেলার পুনিওয়াট (শাহবুদ্দিনের বাড়ির ভাড়াটিয়া) মৃত আশরাফ আলীর ছেলে। কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের পুলিশ পরিদর্শক শেখ মো: মনিরুজ্জামানের দায়েরকৃত মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয় কাউন্টার টেরোরিজমের সাধারন ডায়েরী নং ১২৮ তারখি ০৫-০৯-২০১৯ইং মূলে অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো: জাহাঙ্গীর আলম বিপিএম পিপিএম বার এর নেতৃত্বে পুলিশ পরিদর্শক (শহর ও যানবাহন) মো: মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ বৃহস্পতিবার (৫ সেপ্টেম্বর) পৌনে ৭টায় গোপন তথ্যের ভিত্তিতে এবং তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে যাত্রা বাড়ি থানাধীন ব্রাক্ষনচিবন দরবার শরীফ রোড সায়েদাবাদের সামনে ৬/৭জন ব্যক্তি আগ্নেয়াস্ত্র গুলি নিয়ে অবস্থান করছে। উক্ত তথ্যের সত্যতা যাচাই ও তৎ সংক্রান্ত উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে উপরোক্ত ঘটনাস্থলে ওই দিন ৭টা ২০ মিনিটে পৌছলে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আসামীরা দৌড়ে পালানোর চেষ্টাকালে আব্দুশ শহিদ, আনছার মিয়া ও দোলন মিয়াকে আটক করা হয়। এসময় আব্দুশ শহিদের দেহ তল্লাশী করে ২২ বোরের ৬রাউন্ড গুলিভর্তি ১২ চেম্বারের রিভলবার একটি, ৩২ বোরের ৬ চেম্বার বিশিষ্ট রিভলবার একটি, এবং ৩২ বোরের ৪রাউন্ড গুলিভর্তি একটি রিভলবার সহ ৩টি রিভলবার ও বিভিন্ন বোরের ১৬রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। এজাহারে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র গুলি নিজেদের হেফাজতে রেখে ১৮৭৮ সনের আর্মস এ্যাক্ট (সংশোধন/২০০২)এর ১৯ এ ধারার অপরাধে অজ্ঞাতনামা ২জন সহ জগন্নাথপুর উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নের টিয়ারগাঁও গ্রামের মৃত আব্দুল জলিলের ছেলে আব্দুশ শহিদ (৪০), একই ইউনিয়নের ঘোষগাঁও কোনাপাড়া গ্রামের মৃত মমতাজ উল্ল্যার ছেলে আনছার মিয়া (৪০) ও বি-বাড়িয়া জেলার সদর উপজেলার পুনিওয়াট শাহবুদ্দিনের বাড়ির ভাড়াটিয়া মৃত আশরাফ আলীর ছেলে দোলন মিয়া (৩৮), বি-বাড়িয়া জেলার সদর উপজেলার শিমেল কান্দি গ্রামের মো: জরু মিয়ার ছেলে আমিন মিয়া (৪২) সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামের ওয়াতির আলীর ছেলে আরব আলী (৪০) এর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। যাত্রাবাড়ি থানার মামলা নং ২২, তারিখ ০৫-০৯-২০১৯ইং।