বিশেষ প্রতিনিধি:
জগন্নাথপুর উপজেলার সৈয়দপুর-শাহারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সুনামধন্য চেয়ারম্যান সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য তৈয়ব মিয়া কামালীর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারীদের মিথ্যা অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য সর্বমহলের প্রতি আহবান জানিয়েছেন মিথ্যা হয়রানীর শিকার ঐতিহ্যবাহী শাহারপাড়া গ্রামের কৃতিসন্তান শিক্ষানুরাগী দানশীল ব্যক্তিত্ব তৈয়ব মিয়া কামালী। তিনি জানান, ব্যক্তিগত রেশা রেশীকে কেন্দ্র করে চক তিলক (লালারচক) গ্রামের বাসিন্দা আবুল হোসেন লালন রাজনৈতিক ভাবে মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়ে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। আমি সুশৃংখল রাজনৈতিক সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সুনামগঞ্জ জেলা শাখার কার্য নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে উপজেলা এবং জেলায় দলীয় প্রতিটি কার্যক্রমে আমার সক্রিয় অংশ গ্রহন রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানাযায়, বিগত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তৈয়ব কামালী চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ার পূর্ব থেকেই জগন্নাথপুর উপজেলা যুবলীগের সাধারন সম্পাদক আবুল হোসেন লালনের হৃদ্বতাপূর্ন সম্পর্কের সৃষ্টি হয়। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় প্রতীক বরাদ্দের পর আবুল হোসেন লালন তৈয়ব কামালীর কাছ থেকে দূরে সরে যান। চেয়ারম্যানের ঘনিষ্টজনরা জানান, আর্থিক সুবিদা না পাওয়ায় আবুল হোসেন লালন চেয়ারম্যান তৈয়ব কামালীর সঙ্গ ত্যাগ করে এরপর থেকেই সহজ সরল বিনয়ী প্রকৃতির সামাজিক ন্যায় পরায়ন ব্যক্তি তৈয়ব মিয়া কামালীর বিরুদ্ধে অব্যাহত ভাবে গভীর ষড়যন্ত্র এবং মিথ্যাচারে লিপ্ত রয়েছেন। এদিকে শৈশব কৈশোরের শিক্ষা অর্জনের ফাঁকে যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান চেয়ারম্যান তৈয়ব মিয়া কামালী। সেখানে সুনামের সাথে ব্যবসার পাশাপাশি কমিউনিটি রাজনীতিতে নিজেকে জড়িয়ে রাখেন। তিনি প্রবাসে অবস্থান করলেও মাতৃভূমি ও নিজ এলাকার প্রতি ছিল টান। তিনি মাঝে মধ্যে প্রবাস থেকে দেশে ফিরে নিজ এলাকা সহ বিভিন্ন এলাকার অসহায় দরিদ্র লোকজনদের সহায়তার পাশাপাশি বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্টানের উন্নয়নে কাজ করছেন। বিগত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে এলাকাবাসীর সমর্থন নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী থেকে বিপুল ভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন তৈয়ব মিয়া কামালী। চেয়ারম্যান তৈয়ব মিয়া কামালীর ঘনিষ্টজনরা আরো জানান, আবুল হোসেন লালন বিগত সময়ে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দীতা করে বিপুল ভোটের ব্যবধানে আবুল হাসানের সাথে পরাজিত হয়। বিগত জেলা পরিষদ নির্বাচনে সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দীতা করে আবুল হোসেন লালন পরাজিত হওয়ার পর থেকে চেয়ারম্যান তৈয়ব মিয়া কামালীর সাথে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এর পর থেকেই আবুল হোসেন লালন চেয়ারম্যান তৈয়ব মিয়া কামালীর বিরুদ্ধে আরো বেশী ক্ষুব্দ হয়ে চেয়ারম্যান তৈয়ব মিয়া কামালীর বিরুদ্ধে অব্যাহত ভাবে অপপ্রচার চালিয়ে সুনাম ক্ষুন্ন করার অপচেষ্টায় লিপ্ত হন। সম্প্রতি আবুল হোসেন লালন নিজের ব্যক্তিগত বিরোধকে রাজনৈতিক দলের মধ্যে নিয়ে আসেন এবং নাটক সাজিয়ে চেয়ারম্যান তৈয়ব মিয়া কামালীর বিরুদ্ধে কিছু লোককে বিভ্রান্ত করে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে চেয়ারম্যান তৈয়ব মিয়া কামালীকে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করেন। যা হাস্যকর ঘটনা বলে এলাকার সচেতন মহল মন্তব্য করেছেন। তবে এধরনের সভায় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সৈয়দ লাল মিয়া, ইউনিয়ন যুবলীগের আহ্বায়ক সৈয়দ আকবর আলী সহ ইউনিয়নের শীর্ষ অনেক নেতৃবৃন্দ সভায় ছিলেন না। ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সৈয়দ লাল মিয়া সহ নেতৃবৃন্দরা মন্তব্য করেছেন তাদের ব্যক্তিগত দ্বন্ধকে রাজনীতিতে নিয়ে আসা ঠিক হয়নি। ইউনিয়ন যুবলীগের আহ্বায়ক সৈয়দ আকবর আলী জানান, জেলা আওয়ামী লীগ নেতা চেয়ারম্যান তৈয়ব মিয়া কামালী ও উপজেলা যুবলীগ সেক্রেটারী আবুল হোসেন লালনের আভ্যন্তরীন দ্বন্ধ রাজনৈতিক ভাবে নিয়ে আসা দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থি কাজ। এছাড়াও উপজেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক কুদ্দুস মিয়া কামালী বিগত সময়ে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন করে পরাজিত হন। আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে তৈয়ব মিয়া কামালী যাতে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধীতা করতে না পারেন সে জন্য তারা আগে থেকেই মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়ে জনসাধারনকে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন। ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সৈয়দ লাল মিয়া জানান, সম্প্রতি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কোন সভা হয়নি। আবুল হোসেন লাল তার ব্যক্তিগত আক্রোশে জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য চেয়ারম্যান তৈয়ব মিয়া কামালীকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে যা দলীয় গঠনতন্ত্র বিরোধী। এটা ষড়যন্ত্রের অংশ বিশেষ। এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।