দেশের জন্য আত্মত্যাগ কারীরা আমাদের গর্ব- জেলা প্রশাসক আব্দুল আহাদ

স্টাপ রিপোর্টার:

সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল আহাদ বলেছেন, ৩০ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে আমরা যে স্বাধীনতা লাভ করেছি সে স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব আমরা সবাই মিলে সমুন্নত রাখতে কাজ করে যেতে হবে। দেশের জন্য যারা অত্মত্যাগ করেছেন সে সকল শহীদরা হচ্ছেন আমাদের গর্ব, তাদের এ ত্যাগের মূল্যায়ন আমাদের করতেই হবে,শহীদ পরিবারের প্রতিশ্রদ্ধা জানাতেই আমরা আজ হাওরের অজোঁপাড়াগায়ে এসেছি, হাওরের মানুষের দেশের প্রতি যে অনুরাগ সেটা কখনো ভুলার নয়। মহান বিজয় দিবসের প্রাক্কালে বীর প্রতীক, শহীদ মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী, শহীদ জননী, বীরাঙ্গনা ও শহীদ পরিবারের স্বজনদের সাথে আজ শনিবার(১৪ ডিসেম্বর)দিনব্যাপী শুভেচ্ছা বিনিময়কালে উপরোক্ত কথাগুলো বলেছেন। সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসনের পক্ষে সকালে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে সুনামগঞ্জ শহরে সম্মুখে সমরে সুনামগঞ্জের প্রথম শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন এর স্ত্রী রহিমা বেগমকে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার ইব্রাহিমপুর গ্রামে তাঁর বাড়িতে গিয়ে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান এবং বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা উপহার প্রদান করেন। এসময় পুলিশ সুপার মো: মিজানুর রহমান বিপিএম, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইয়াসমিন নাহার রুমা, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাংবাদিকবৃন্দ এবং এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন। এরপর জেলা প্রশাসকসহ জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাংবাদিকবৃন্দ দিরাই উপজেলার রফিনগর ইউনিয়নের রফিনগর গ্রামের শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম (নুরু) এর মা শহীদ জননী বার্ধক্যজনিত কারণে শয্যাশায়ী (১১৫ বছর) মোছাম্মৎ ফুলজান বিবিকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান এবং তার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন। এসময় তিনি শহীদ জননীকে বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা উপহার প্রদান করেন। বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ নুরুল ইসলাম (নুরু) ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে ৪নং সেক্টরের সাব-সেক্টরে যুদ্ধ করেছেন। দিরাই উপজেলার কুলঞ্জে পাক বাহিনীর সঙ্গে ভয়াবহ সম্মুখ যুদ্ধে তিনি শহীদ হন। সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার লক্ষণশ্রী ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামে বীর প্রতীক শহীদ আব্দুল নুর এর মেয়ে মোছা: হোসনে আরা বেগমকে মোল্লাপাড়া ইউনিয়নের বাদে আব্দুল্লাহপুর গ্রামে তার নিজ বাড়ীতে গিয়ে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো: হারুন অর রশীদ ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সুনামগঞ্জ সদর ইয়াসমিন নাহার রুমা। দিরাই ও শাল্লা উপজেলার বীরাঙ্গনা (১) মোছা: জমিলা, পিতা- মৃত মামুদ আলী, সাং- দৌলতপুর, উপজেলা- শাল্লা; (২) মোছা: কুলছুম বিবি, পিতা- বাতের আলী, সাং- পেরুয়া, উপজেলা- শাল্লা, (৩) মোছা: পেয়ারা বেগম, পিতা- আপ্তর আলী, সাং- দৌলতপুর, উপজেলা- শাল্লা, (৪) মোছা: মুক্তাবানু, পিতা- সুনাফর মিয়া, সাং- দৌলতপুর, উপজেলা- শাল্লা, (৫) আলিফজান বিবি, পিতা- মৃত আজিম উল্লাহ, সাং- পূর্ব চন্দিপুর, উপজেলা- দিরাই, (৬) প্রমিলা দাস, স্বামী- ব্রজেন্দ্র দাস, সাং- পেরুয়া, উপজেলা- দিরাইকে তাঁদের নিজের বাড়িতে গিয়ে বিজয় দিবসের ফুলেল শুভেচ্ছা জানান অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব)মোহাম্মদ মোকলেছুর রহমান। এসময় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁদেরকে বিজয় দিবসের উপহার প্রদান করা হয়। শুভেচ্ছাকালে স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধাসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন। বীর বিক্রম শহীদ মুক্তিযোদ্ধা জগৎজ্যোতি দাস (২৬ এপ্রিল ১৯৪৯ – ১৬ নভেম্বর ১৯৭১) এর বড় বোন ফুলু রানী রায়কে দিরাই উপজেলা টুক দিরাই গ্রামে গিয়ে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ রাশেদ ইকবাল চৌধুরী, বীর মুক্তিযোদ্ধা মালেক হুসেন পীরসহ অন্যান্যরা। এসময় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁকে বিজয় দিবসের উপহার প্রদান করা হয়। মহান বিজয় দিবসের প্রাক্কালে জেলা প্রশাসনের এ ধরনের উদ্যোগ জেলার সকল শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের স্বজনদের প্রতি বিজয় দিবসের সম্মান জানানোর প্রতীক। এছাড়াও শুক্রবার(১৩ ডিসেম্বর)সন্ধ্যায় মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে বীরত্বের সাথে অংশগ্রহণকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ ইদ্রীছ আলী (বীর প্রতীক) এর সাথে তাঁর বাসভবনে গিয়ে সাক্ষাৎ করে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *