মো: আব্দুল হাই:
জগন্নাথপুর উপজেলার এরালিয়া বাজারের পাশে মোহাম্মদপুর গ্রামের ধানী জমির মাঠে ষাড় প্রেমিদের সমন্বয়ে ঐতিহ্যবাহি ষাঁড়ের লড়াই অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) দুপুর থেকে শুরু হয়ে বিকাল ৪টা পর্যন্ত গ্রামীন জনপদের ঐতিহ্যবাহি ষাঁড়ের লড়াই বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনায় আনন্দমূখর পরিবেশে প্রায় ১০হাজারেরও বেশী দর্শকদের সমাগমে শান্তিপূর্নভাবে ষাড়েঁর লড়াই সম্পন্ন হয়েছে।
জগন্নাথপুর উপজেলার মোহাম্মদপুর গ্রামের ষাঁড় প্রেমী আজাদ মিয়ার আয়োজনে ষাঁড়ের লড়াইয়ে অংশ গ্রহনকারী ষাঁড়গুলো হচ্ছে মোহাম্মদপুরের হরতাল বনাম গোলাপগঞ্জের বিদ্যুৎ, চকতিলকের শান্তখুনী বনাম ওসমানি নগরের সূর্য্যলাল(দুলদুল), কেশবপুরের বুলেট বনাম গোলাপগঞ্জের মহারাজ, মোহাম্মদপুরের অবরোধ বনাম বিশ^নাথের বিকট , গোয়ালকুড়ির সাগর বনাম কেশবপুরের লাদেন,
গোলাপগঞ্জের চাচা ভাতিজা বনাম কেশবপুরের জয়রাজ, কামিনিপুরের প্রবেসার বনাম ইনাতগঞ্জের স্টেশন থ্রী, সৈয়দপুরে কালা বিকট (২) বনাম ওসমানী নগরের ছোরাব মতিন , শাহারপাড়ার শান্তবেঙ্গল বনাম গোয়ালকুড়ির কালো ভ্রমড়া, ওসমানি নগরের শেরে বাংলা বনাম গোয়ালকুড়ির ভাগ্যরাজ, সৈয়দপুরের সাত ভাই চম্পা বনাম কুরশীর ভাই ভাই, কেশবপুরের শান্তী বনাম ছাতকের চেলারপাড়ের জংগী ,
বিশ^নাথের বিশ^নাথী মস্তান বনাম ওসমানী নগরের শিয়াব বাদশা সেভেন, কেশবপুরের টাইগার বনাম লাউতলার লিমন পাগলা, কেশবপুরের বাংলার মস্তান বনাম ছাতকের ফায়ার কুড়াকাটি ।এছাড়াও লড়াইয়ে বিশেষ আকর্ষন মোহাম্মদপুরের হরতাল বনাম গোলাপগঞ্জের বিদ্যুৎ , চকতিলকের শান্ত খুনী বনাম ওসমানী নগরের সূর্য্যলাল (দুলদুল) এবং কেশবপুরের বাংলার বুলেট বনাম গোলাপগঞ্জের মহারাজের মধ্যে অনুষ্ঠিত হয় ।
লড়াইয়ে মটর সাইকেল বিজয়ী ষাড়ঁ গুলো হচ্ছে গোলাপগঞ্জের বিদ্যুৎ ,চকতিলকের শান্ত খুনী এবং ফ্রিজ বিজয়ী ষাঁড় হচ্ছে গোলাপগঞ্জের মহারাজ। সকাল ১০ট থেকে শুরু হয়ে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলা ষাঁড়ের লড়াইয়ের উপস্থাপনায় ছিলেন কচুরকান্দি (ছিফতপুর) গ্রামের মামু ভাগনা ষাঁড়ের মালিক মো: রফিক উদ্দিন।

পরে বিজয়ী ষাঁড়গুলোর মালিকসহ অংশ গ্রহনকারী ষাঁড়গুলোর মালিকদের হাতে পুরস্কারের মোটরসাইকেল ফ্রিজ, টেবিল ফ্যান এবং ভেড়াঁ তুলে দেন ষাড়েঁর লড়াইয়ের আয়োজক আজাদ মিয়া । এ সময় জগন্নাথপুর পৌর শহরের ইকড়ছই এলকার বাসিন্দা সাবেক ছাত্র নেতা ফিরোজ আলী সহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন । এদিকে ষাঁড়ের লড়াই উপভোগ করতে আসা শিশু-কিশোরসহ সকল বয়েসী লোকজনদের মাঠের চারপাশে সমবেত হয়ে শান্তিপূর্নভাবে লড়াই উপভোগ করতে দেখা যায়। লড়াই চলাকালে পরাজিত ষাঁড় মাঠ থেকে পালানোর সময় ষাঁেড়র ছুটাছুটির পাশাপাশি ষাঁড়ের কবল থেকে রক্ষা পেতে দর্শকদেরও দিক-বেদিক ছুটাছুটি করা এ যেন এক আনন্দের ঘনঘটা সৃষ্ঠি হয় ।
মাঠে দর্শক সাঁড়িতে শিশুদের আনন্দ উল্লাসে ষাঁড়ের লড়াই উপভোগ করতে দেখা গেছে। উপস্থাপকের মাইকের আওয়াজে ষাঁড়গুলোর এমন ব্যতিক্রমী নাম প্রকাশের ফলে দর্শকদের মনে ব্যাপক আনন্দ উদ্দীপনার সৃষ্ঠি হয় । বিশাল আকৃতির ষাঁড়কে কাছ থেকে দেখতে ছুটে গেলেও ষাঁড়ের ভয়ংকর দৃশ্যে অনেককেই এদিক ওদিক ছুটাছুটি করতে দেখা গেছে। এছাড়াও দর্শক গ্যালারিতে লন্ডন প্রবাসী দর্শকদের উপস্থিতি ছিল লক্ষনীয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জনৈক লন্ডন প্রবাসী জানান, শীত মৌসুমে গ্রামীন জনপদের ঐতিহ্যবাহি ষাঁড়ের লড়াই, মোরগের লড়াই, ঘোড় দৌড় সহ গ্রামীন সংস্কৃতির নানান
আয়োজন উপভোগ করতে সুদূর লন্ডন থেকে শত শত সৌখিন দর্শক ইতোমধ্যে দেশের নিজ এলাকায় আসা শুরু করেছেন। ষাঁড়ের লড়াই অত্যন্ত সুশৃংখলভাবে মাঠে নিয়োজিত লড়াইয়ের কাজে থাকা স্বেচ্ছাসেবক সদস্যদের সহযোগিতায় ষাঁড়ের লড়াইটি সম্পন্ন হয়েছে। এদিকে ষাঁেড়র লড়াইকে ঘীরে ভোর থেকেই মাঠের এক পাশে খাবারের দোকানের পাশাপাশি বিভিন্ন ফল ও খেলনার সামগ্রীর দোকানের ফসরায় ক্রেতাদের উপছে পড়া ভীড় ছিল লক্ষনীয়। এছাড়াও ভোর থেকেই বিভিন্ন যানবাহন যোগে জগন্নাথপুর উপজেলাসহ সিলেট বিভাগের বিভিন্ন উপজেলা থেকে দর্শকরা যানবাহন যোগে ষাঁেড়র লড়াইয়ের মাঠে ছুটে আসেন।