মো: আব্দুল হাই::
জগন্নাথপুর উপজেলার আশারকান্দি, পাইলগাঁও ও রানীগঞ্জ ইউনিয়ন দিয়ে বহমান কুশিয়ারা নদীর কড়াল গ্রাসে শত শত বাড়িঘর, আবাদি জমিসহ বিলীন হয়ে গেছে এলজিইডির জগন্নাথপুর-শিবগঞ্জ-বেগমপুর সড়ক।
ফলে দীর্ঘ ২বছর ধরে সড়ক দিয়ে ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ায় জনসাধারন যাতায়াত সমস্যায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। পাইলগাও ইউনিয়নের কাতিয়া বাজার সংলগ্ন ভাঙ্গা বাড়ি নামক স্থানে সড়কটির প্রায় ১হাজার ফুট সড়ক নদী গর্ভে বিলীন হওয়ার পর ধানী জমির ওপর দিয়ে মাটির সড়ক নির্মাণ করার পর গত কদিনের অব্যাহত ভাঙ্গনে ওই স্থানের প্রায় হাজার ফুট সড়ক নদী গর্ভে বিলীন হতে চলেছে ।
৩/৪ দিনের মধ্যে সড়কটি বিলীন হয়ে যাওয়ার সম্ভবনা রয়েছে । ফলে বিকল্প সড়ক ব্যবস্থা না থাকায় উপজেলা সদরের সাথে আশারকান্দি ইউনিয়নের কুশিয়ারা নদীর তীরবর্তী সহ প্রায় ২০/২৫ গ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে ।
পাশাপাশি বোরো মৌসূমে হাওরের ফসল নিয়ে চরম উৎকন্ঠায় রয়েছেন । রবিবার সরেজমিন জগন্নাথপুর-বেগমপুর সড়কটি দেখতে গিয়ে কুশিয়ারা নদীর তীরবর্তী অধিকাংশ বাসিন্দারা তাদের নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়া বাড়ি-ঘর, আবাদি জমির বর্ননা দিতে গিয়ে অনেককেই অঝর ধারায় দু’চোখ বেয়ে অশ্রæু ঝড়তে দেখা গেছে। আবার অনেক নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোররা অবাক দৃষ্টিতে তাদের কষ্টের কাহিনী বর্ননা করেছেন।
সেই সাথে নদী ভাঙ্গনের কবল থেকে বাড়ি-ঘরসহ সড়ক পথ রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সরকারের প্রতি দাবী জানিয়েছেন। আশারকান্দি ইউনিয়নের বড়ফেচী গ্রামের বাসিন্দা মসহুদ আহমদ জানান, কুশিয়ারা নদীর ভাঙ্গনের চিত্র ভয়াবহ। এটা বর্ননা করার ভাষা নেই। তিনি জানান,
ইতোমধ্যে বিলীন হয়ে গেছে বাপ-দাদার রেখে যাওয়া ভিটে মাটি। এছাড়াও ফেচীর বাজারসহ পাইলগাঁও ও রানীগঞ্জ ইউনিয়নের অসংখ্য হাট-বাজার, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্টান, মসজিদ, ঘর-বাড়িসহ সড়ক পথ। এছাড়াও নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে উপজেলার দক্ষিাঞ্চলের জনসাধারনের যাতায়াতের একমাত্র সড়কটি। জগন্নাথপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রিজু জানান, কুশিয়ারা নদীর ভাঙ্গন এখন ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে ।
সরকার প্রতি বছর নদী ভাঙ্গনরোধে ব্যাবস্থা নিলেও সর্বনাশী কুশিয়ারার ভাঙ্গন যেন থামছেনা । সরজমিন রবিবার কাতিয়া এলাকার ভাঙ্গা বাড়ি নামক স্থানে গিয়ে দেখা গেছে নদী গর্ভে বিলীন হওয়ার পথে এলজিইডির বেগমপুর সড়কের ভাঙ্গাবাড়ি নামক স্থানের অর্ধ কিলোমিটার এলাকা । ভাঙ্গন অব্যাহত থাকার কারণে চলতি সপ্তাহেই সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশংকা রয়েছে ।
নদী ভাঙ্গনের কবল থেকে রক্ষায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দৃষ্টি কামনা করেন । স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডির) জগন্নাথপুর উপজেলা প্রকৌশলী মো: গোলাম সারোয়ার জানান, জগন্নাথপুর পৌরসভার সীমান্ত থেকে শিবগঞ্জ-পাইলগাঁও হয়ে বেগমপুর পর্যন্ত ১৫.৩৯০কিলোমিটার সড়কের মধ্যে ২.২০কিলোমিটার সড়ক কুশিয়ারা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে ।এছাড়াও সড়কের বিভিন্ন স্থানে নদী ভাঙ্গনের হুমকিতে রয়েছে ।