স্টাফ রিপোর্টার ::
জগন্নাথপুর উপজেলার কলকলিয়া ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর গ্রামের ফয়জুল ইসলামের ছেলে মাজহারুল ইসলাম এমরান হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে খুনিদের গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবিতে এলাকাবাসীর আয়োজনে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আর কোনো দাবি নাই, খুনিদের ফাঁসি চাই এলাকাবাসীর ব্যানারে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেল স্থানীয় এরালিয়া বাজারে মানববন্ধন শেষে প্রবীণ মুরব্বি ইছকন্দর আলীর সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন, নিহত মাজহারুল ইসলামের পিতা ফয়জুল ইসলাম, স্থানীয় বাসিন্দা শফিক মিয়া , গিয়াস উদ্দিন, ডাক্টার মনির উদ্দিন, সেলিম মিয়া, ওয়ারিশ আলী, বাচ্চু মিয়া, চান্দ আলী, আদরিছ আলী, আছকির আলী, রইছ খা প্রমূখ।
এসময় আব্দুল হক, ওয়ারিশ আলী ,শাহাব উদ্দিন , মামুন মিয়া, মঈনুল হোসেন, মুকিত মিয়া, জাহাঙ্গির মিয়া, বাহার মিয়া, শানুর মিয়া, পাপ্পু মিয়া, ইলাছ মিয়া, জুনায়েদ মিয়া, আব্দুর রউফ , কামাল মিয়া, জুবায়েল মিয়া, বদর উদ্দিন, মনহর উদ্দিন, লিটন মিয়া সহ এলাকার বিভিন্ন শ্রেণীপেশার বিপুল সংখ্যক ব্যাক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা নিরিহ যুবক মাজহারুল ইসলাম এমরান হত্যার সাথে জড়িত খুনি মোহাম্মদপুর গ্রামের অস্ররবাজ সন্ত্রাসীদের গডফাদার অস্রবাজ ছইল মিয়া, সাহেল মিয়া, কদ্দুছ মিয়া সহ তাদের সহযোগিদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন । এবং খুনের সাথে জড়িতদের ফাঁসির জানান। এসময় নিহত মাজহারুল ইসলামের পিতা ফয়জুল ইসলাম কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।
তিনি কান্না জড়িত কন্ঠে তার আদরের ধন নিহত পূত্র মাজহারুল ইসলামের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বলেন, পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে খুনিরা আমার নিরপরাধ শিক্ষিত ছেলে মাজহারুল ইসলাম এমরানকে পৈশ^াচিক কায়দায় হত্যা করেছে। তারা আমার নিরপরাদ ছেলেকে হত্যা করে শান্ত হয়নি। খুনি সন্ত্রাসীরা আমি সহ আমার পরিবারের সদস্যদের হত্যার পরিকল্পনা চালিয়ে যাচ্ছে। থানার ওসি সহ উর্ধবতন পুলিশ কর্মকর্তাদের আন্তরিক সহযোগিতার কথা উল্লেখ করে তিনি হত্যা মামলার পলাতক আসামীদের গ্রেফতারের দাবী জানান । এবং ছেলের হত্যাকারীদের ফাঁিসর দাবী জানান।
প্রসঙ্গত: মোহাম্মদপুর গ্রামের ফয়জুল ইসলামের আত্মীয় স্বজনদের সাথে গ্রাম্য বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ সহ মামলা মোকদ্দমার জের ধরে মোহাম্মদপুর গ্রামের লাল মিয়ার ছেলে সাহেল মিয়া ও মৃত হাতিম উল্লাহর ছেলে ছইল মিয়ার নেতৃত্বাধীন গ্রেæাপের বিরোধ চলছিল।
এর জের ধরে শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার পর স্থানীয় এরালিয়া বাজারে মোহাম্মদপুর গ্রামের লাল মিয়ার ছেলে সাহেল মিয়া , মৃত হাতিম উল্লাহর ছেলে ছইল মিয়া ও মৃত শিকদার উল্লাহর ছেলে আব্দুল কদ্দুছ সহ তাদের নেতৃত্বাধীন গ্রেæাপের সদস্যরা মোহাম্মদপুর গ্রামের ফয়জুল ইসলামের ছেলে নিরিহ যুবক মাজহারুল ইসলাম এমরানকে (২৪) এলোপাতারি ভাবে কুপিয়ে ও বেধরক পিঠিয়ে গুরুত্বর আহত করে।
৯দিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর ) মধ্য রাতে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মাজহারুল ইসলামের মৃত্যু হয়। হত্যাকান্ডের ঘটনায় নিহত মাজহারুল ইসলামের পিতা ফয়জুল ইসলাম বাদী হয়ে সোমবার ( ১৪ সেপ্টেম্বর) জগন্নাথপুর থানায় মোহাম্মদপুর গ্রামের লাল মিয়ার ছেলে সাহেল মিয়াকে (৩০) প্রধান আসামী করে ২৪ জনের নাম উল্লেখ সহ অজ্ঞাতনামা ১০/১২ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার অন্যান্য আসামীরা হচ্ছে মৃত হাতিম উল্লার ছেলে ছইল মিয়া (৬৫), মৃত শিকদার উল্লার ছেলে আব্দুল কদ্দুছ (৫০), মৃত রজব আলীর ছেলে দবির মিয়া (৪০), মৃত ঠাকুর মিয়ার ছেলে রায়হান মিয়া (৩২) , মৃত রজব আলীর ছেলে আরজু মিয়া (৩৮), মৃত ওয়াহাব আলীর ছেলে লাহিন মিয়া (২৯), মৃত আব্দুল হাসিমের ছেলে রুমেন মিয়া (২৮) , মৃত ওয়াহাব আলীর ছেলে রানা মিয়া (৩৩) ,লাল মিয়ার ছেলে তোফায়েল মিয়া (২৭), মৃত আফিজ উল্লার ছেলে মো: আবু তাহের (৩৮), তারুজ আলীর ছেলে মুহিবুর রহমান (২৩) , দরাছত উল্লাহর ছেলে দুলু মিয়া (৩৯), মখলিছ মিয়ার ছেলে রিমান মিয়া (২৬), ,মৃত রজব আলীর ছেলে হাসান মিয়া (৩৩), মৃত শায়েস্তা মিয়ার ছেলে সানু মিয়া (২৩), শফিক মিয়ার ছেলে বাবর মিয়া (৪০), মৃত আব্দুস শহিদের ছেলে রুকন মিয়া (২৪), মৃত আফিজ উল্লাহর ছেলে আব্দুল হাই (৩৫), ইদ্রিছ মিয়ার ছেলে আলীনুর (২৫) , তারজ আলীর ছেলে তামিনুর (২০), মৃত ওয়াহাব আলীর ছেলে রাজন (৩৪) , জমসর মিয়ার ছেলে হাবিব মিয়া (২৫),লাল মিয়ার ছেলে মুজাম্মিল (২০)।
এদের মধ্যে বাবর মিয়া , রানা মিয়া ও সেবুল মিয়াকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। মোহাম্মদপুর গ্রামের তরুণ প্রজন্মের সু-পরিচিত নম্রভদ্র মাজহারুল ইসলাম এমরান ২০১৮ সালে জগন্নাথপুর ডিগ্রী কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় পাশ করার পর পরিবারের বিভিন্ন প্রতিকূল অবস্থায় আর লেখা পড়া করা সম্ভব হয়নি । অত্যান্ত নিরিহ শান্ত মাজহারুল ইসলাম কিছুদিন এরালিয়া বাজারে ফ্লেক্সিলোড ব্যবসায় জড়িত ছিল।
গ্রামের সহজ সরল ফয়জুল ইসলাম পরিবারের বড় ছেলেকে হারিয়ে এখন অনেকটাই দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। অবিরত চোখের জল মুছতে হচ্ছে ফয়জুল ইসলাম সহ পরিবারের সদস্যদের ।
জগন্নাথপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো: ইখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী জানান, হত্যা মামলায় বাবর মিয়া ও সেবুল মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়াও এজহারভুক্ত আসামী রানা মিয়া অন্য মামলায় জেলা কারাগারে থাকায় বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। এ পর্যন্ত মোট ৩জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যান্য আসামীদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
জগন্নাথপুর টুডে/ এ হাই