উজানের ঢল ও টানা বৃষ্টিপাতের কারণে তিস্তার পানি বিপদসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপরে
- Update Time : ১০:৫১:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬
- / 19

নীলফামারী প্রতিনিধি:
উজানের ঢল ও টানা ভারী বৃষ্টিপাতের প্রভাবে তিস্তা নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে নীলফামারীর ডিমলার ডালিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলার তিস্তা-তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে কয়েক হাজার পরিবার। পরিস্থিতি মোকাবিলায় অতিরিক্ত পানি নিরাপদে প্রবাহিত করতে তিস্তা ব্যারাজের সব ৪৪টি জলকপাট খুলে দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।
সোমবার (১৩ জুলাই) সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানির সমতল রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ২৫ মিটার, যা বিপদসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপরে।
স্থানীয়রা জানান, কয়েক দিন ধরে উজানের ঢল ও ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে তিস্তার পানি ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। সোমবার পানি আরও বাড়ায় ডিমলা উপজেলার পূর্ব ছাতনাই, খগাখড়িবাড়ী, টেপাখড়িবাড়ী, খালিশা চাপানী, ঝুনাগাছ চাপানী ও গয়াবাড়ী ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল এবং জলঢাকা উপজেলার গোলমুন্ডা, ডাউয়াবাড়ী, শৌলমারী ও কৈমারী ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের তথ্য অনুযায়ী, অন্তত পাঁচটি চর ও চরগ্রামের প্রায় তিন হাজার বাড়িতে পানি প্রবেশ করেছে। এতে কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে দুর্ভোগে পড়েছেন। অনেক কৃষক এখনো মাঠের ফসল ঘরে তুলতে পারেননি। পানি আরও বৃদ্ধি পেলে আমনসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
পূর্ব ছাতনাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ খান বলেন, “পানি বাড়তে থাকায় অনেক কৃষক মাছের ঘের জাল দিয়ে রক্ষার চেষ্টা করছেন। অনেকে গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগি নিরাপদ ও উঁচু স্থানে সরিয়ে নিয়েছেন।”
ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন, “উজানে ভারী বর্ষণের কারণে তিস্তার পানি দ্রুত বাড়ছে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। অতিরিক্ত পানি নিরাপদে প্রবাহিত করতে ব্যারাজের সব ৪৪টি জলকপাট খুলে দেওয়া হয়েছে। উজানে বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে আগামী দিনগুলোতে পানি আরও বাড়তে পারে। আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছি এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত নিরাপদ ও উঁচু স্থানে সরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।



















