নিজস্ব প্রতিবেদক::
জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে কুচক্রিমহল লন্ডনে বসে অপপ্রচারে লিপ্ত রয়েছে বলে দাবি করেছেন জগন্নাথপুর উপজেলার চিলাউড়া-হলদিপুর ইউনিয়ন পরিষদের সুনামধন্য চেয়ারম্যান মো: আরশ মিয়া। তার দাবি, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাস্তা সংস্কারের ভুয়া ইস্যু তুলে তারা মিথ্যাচারের আশ্রয় নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াতে চায়, তবে জনগণ তাদের এ মিথ্যাচার প্রত্যাখ্যান করছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।
রবিবার (৪ অক্টোবর) সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। লিখিত বক্তব্যে চিলাউড়া হলদিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আরশ মিয়া বলেন, দ্বিতীয় মেয়াদে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর অত্যন্ত সুনাম-সুখ্যাতির সাথে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি। এর আগের মেয়াদেও আমি নিষ্টার সাথে আমার ওপর অর্পিত জনগণের দায়িত্ব পালন করেছি।
আমি যুক্তরাজ্য প্রবাসী হলেও এরাকাবাসীর ভালোবাসা ও মমতার টানে নির্বাচনে দাঁড়াই এবং বিপুল ভোটে বিজয়ী হই। লাগাতার দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালনে ইউনিয়নবাসী আমাকে সর্বাত্বকভাবে সহযোগিতা করছেন। যুক্তরাজ্যে আমার সুখের জীবন ও ব্যবসা বাণিজ্য ফেলে আমি সব সময় ইউনিয়নবাসীর কাছে ছুটে আসি। সাধারন মানুষের সূখে দূখে আমি জড়িত থাকার চেষ্টা করি।
ইউনিয়রবাসীর নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হলেও আমি তাঁদের একজন হয়েই পরিবারের মতো সাথে রয়েছি। আপনারা জানেন জগন্নাথপুর উপজেলার চিলাউড়া-হলদিপুর ইউনিয়ন একটি হাওর বেষ্টিত জনপদ।তিনি দাবি করেন, সামনের নির্বাচনেও এলাকাবাসী আমাকেই চাইবেন এমন পরিস্থিতিতে আমার আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি মহল আমার বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচারে মেতে উঠেছেন।
সম্প্রতি যুক্তরাজ্যে বসে ওই চক্রটি ‘রাস্তার কাজে বাধা দিচ্ছি’ এমন একটি খোঁড়া অভিযোগ তুলে ধরে নলুয়া প্রবাসী সংঘের ব্যানারে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। যা সম্পূর্ণ মিথ্যা বানোয়াট।’ তিনি সত্যতা তুলে ধরে বলেন, উপজেলার বৃহত নলুয়া ও মইয়ার হাওর বেষ্টিত ‘চিলাউড়া-হলদিপুর ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকায় বছরের বেশির ভাগ সময়েই পানিতে নিমজ্জিত থাকে।
হেমন্তে কিছুদিন স্বাভাবিক হলেও ইউনিয়নবাসীকে বাকি সময় পানির সাথে মিলেমিশে জীবন-যাপন করতে হয়। আমার ইউনিয়নের একটি প্রাচীন ও জনগুরুত্বপূর্ণ রানীগঞ্জ- স্বজনশ্রী-সালদিগা সড়ক। আমি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর সড়কটি বন্যায় একাধিকবার ক্ষতিগ্রস্থ হয়। আমি জগন্নাথপুর- দক্ষিন সুনামগঞ্জ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান মহোদয়ের সহযোগিতায় একাধিকবার সড়কের বিভিন্ন স্থানে ভাঙ্গাচোরা অংশ মেরামত ও সংস্কার কাজ করেছি।
কখনো সরকারি অর্থে আবার কখনো আমার নিজস্ব তহবিল থেকেও বিভিন্ন সময়ে সড়ক সংস্কার করেছি। এই সড়ক বাউধরন গ্রামের মোবারক মিয়ার বাড়ি থেকে পঞ্চগ্রাম গেইট পর্যন্ত দুই বছর পূর্বে সড়কটি আমার ব্যাক্তিগত তহবিল থেকে তের লাখ টাকায় সংস্কার করে দেই। ৬ বছর পূর্বে বাঘময়না বেড়িবাধেঁর ভাঙ্গনে পঞ্চগ্রামে ক্ষতিগ্রস্থ অংশ আমি নিজস্ব অর্থ দিয়ে মেরামত করে দেই।
বেড়িবাধেঁর ভাঙ্গনের সড়কটির এই অংশটির অস্তিত্ব বিলিন হয়ে যায়, আমি সড়কটির নির্মাণ কাজের জন্য পঞ্চগ্রামের কমিটির কাছে টাকা দেই। পরের বছর আবার বন্যার কবলে পাকা করন সড়কটি বন্যার প্রচন্ড পানির আঘাতে সড়কটি ক্ষতিগ্রস্থ হলে সরকারের তহবিল থেকে দশ লাখ টাকা ব্যয়ে সড়কটি পূনরায় মেরামত করা হয়। এর দুই বছর পূর্বে খাগাউড়া গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা জয়নাল মিয়ার বাড়ির নিকট থেকে বাউধরন সজ্জাদ মিয়ার বাড়ির নিকট পর্যন্ত সাড়ে তিন লাখ টাকা ব্যয়ে সড়ক মেরামত করা হয়। এভাবে বন্যা ও প্রাকৃতিক দূর্যোগে ক্ষতিগ্রস্থ এই সড়কটির উন্নয়নে আমি সব সময়ই এলাবাসীর পরামর্শ ও সহযোগিতা নিয়ে সংস্কার কাজে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছি।
রানীগঞ্জ-স্বজনশ্রী-সালদিগা সড়কের ৬ কিলোমিটার জুড়ে বিভিন্ন স্থানে ভাঙ্গাচোরা অংশ প্রতিনিয়তই সংস্কার ও মেরামতের আওতাধীন রয়েছে। এই সড়কটি রানীগঞ্জ কলেজ থেকে স্বজনশ্রী নতুন পাকা রাস্তা পর্যন্ত প্রায় দেড় কোটি টাকার কাজের টেন্ডার হয়েছে গত মার্চ মাসে। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির কারণে ঠিকাদার কর্তৃক কাজ শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না। কিন্তু এর আগেই খাগাউড়া পুরাতন গলির রাস্তার নিকট থেকে সালদিগা ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার রাস্তার কাজ শেষ হয়েছে। মধ্যখানে স্বজনশ্রী গ্রামের হান্নান মিয়ার বাড়ির নিকট থেকে খাগাউড়া গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা জয়নাল মিয়ার বাড়ির নিকট পর্যন্ত তিন কিলোমিটার আরসিসি ঢালাই এর কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
কাজটি শীঘ্রই শুরু করা হবে। এই সড়কটি সংস্কার ও পূননির্মাণে আরো অনেক কাজ করেছি। ২০১৯ সালে ৬৫ লাখ টাকা ব্যয়ে স্বজনশ্রী মুরাকান্দির নিকট থেকে ১ কিলোমিটার আরসিসি ঢালাই কাজ করা হয়। ৪ লাখ ৯০ হাজার টাকা ব্যয়ে স্বজশ্রী গ্রামের হান্নান মিয়ার বাড়ির নিকট থেকে বাউধরন গ্রামের ফিরোজ মিয়ার ফিশারী পর্যন্ত কংক্রিটের কাজ করা হয়। ৩৫ লাখ টাকা ব্যয়ে স্বজনশ্রী গ্রামের খাড়ারপারে একটি বক্স কালভার্ট নির্মাণ করা হয়। এছাড়াও ৩ লাখ টাকা ব্যয়ে খাগাউড়া গ্রামের আলমাছ মিয়ার বাড়ি থেকে পঞ্চগ্রামের গেইটের নিকট পর্যন্ত মেরামত কাজ করা হয়।
২০১২ সালে ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে রানীগঞ্জ ইউনিয়নের সীমান্ত থেকে স্বজনশ্রী হয়ে বাউধরন গ্রামের গনিপাড় পর্যন্ত মাটি ভরাট কাজ করা হয়। ২০১৪ সালে রানীগঞ্জ ইউনিয়নের সীমান্ত হয়ে আরসিসি ঢালাই স্বজনশ্রী মুড়াকান্দি পর্যন্ত ইউনিয়ন পরিষদের টাকায় করা হয়। প্রতি বছরই কুশিয়ারা নদীর বেড়িবাধের পানির তোড়ে বাঘময়না এলাকায় সড়কের ঢালাই বেঙ্গে যায়। ফলে প্রতি বছরই এই অংশ মেরামত করতে হয়। এই সড়কের সমস্যা নিত্যদিনের চলতি বছরের বন্যায় সড়কটি ক্ষতিগ্রস্থ হলে আমার নিজের অর্থ দিয়ে ৩৫ হাজার টাকা ব্যয়ে কিছুদিন আগেও রানীগঞ্জ থেকে পঞ্চগ্রাম পর্যন্ত সড়কটিতে কংক্রিট ফেলে মেরামত করা হয়। বাউধরন গ্রামের নোয়াগাঁওয়ের আনর মিয়ার দায়িত্বে এই কাজটি করানো হয়।
এর কয়েকদিন পর আবার টমটম চলতে সমস্যা দেখা দেয়ায় ফের ১২ হাজার টাকা ব্যয়ে তা সংস্কার করাই, যাতে টমটম সহ ছোট যানবাহন চলাচল অব্যাহত থাকে এবং যাতায়াতে এলাকাবাসীর ভোগান্তি কমে। কিন্তু বর্তমানে খারাপ আবহাওয়ার কারণে এই সড়কটির কাজ করানো সম্ভব হচ্ছে না।
লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, প্রবাসের সূখ সাচ্ছন্দ্যের জীবন ত্যাগ করে আমি দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসী অধ্যুষিত জগন্নাথপুর উপজেলার চিলাউড়া-হলদিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি। পরপর দুই মেয়াদের প্রায় দশ বছর কাল আমি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনে ইউনিয়নবাসীর সাথে আমার অত্যন্ত নিবিড় ও ঘনিষ্ট ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। আমাকে ইউনিয়নবাসী এতটাই ভালোবাসেন যে, আমি যেন সব সময়ই জনগনের পাশে থাকি এমনটাই ইউনিয়নবাসীর চাওয়া। এখন নতুন ইউপি নির্বাচনের তোড়জোড় শুরু হয়েছে।
আগামী নির্বাচনেও ইউনিয়নবাসী আমাকেই চাইবেন এমন পরিস্থিতে আমার আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি মহল আমার বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচারে মেতে উঠেছেন। সম্প্রতি যুক্তরাজ্যে আমার বিরুদ্ধে রাস্তার কাজে বাধাঁ দিচ্ছি এমন একটি খোঁড়া অভিযোগ তুলে ধরে নলুয়া প্রবাসী সংঘের ব্যানারে কতিপয় ব্যক্তি সংবাদ সম্মেলন করেছেন। আমি আগে যে রাস্তার সংস্কার কাজের বর্ণনা দিলাম এই রাস্তার কাজে আমি নাকি বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছি। মায়ের চেয়ে মাসির দরদ বেশি বলে যে একটি কথা আছে এটা যেনো তেমন ব্যাপার। সূখ আর বিলাসের লন্ডনের জীবন ত্যাগ করে আমি আমার ইউনিয়নের নাগরিকবৃন্দের সুখ দূখের সাথী হয়ে গত এক যুগ থেকে ত্যাগ ও পরিশ্রমের জীবন বেছে নিয়েছি।
যারা লন্ডনে বসে আমার সম্পর্কে মিথ্যাচার করেছেন তারা ইউনিয়নের নাগরিকদের জন্য কি করেছেন, তা ইউনিয়নবাসীর কাছে আপনারা জানতে পারবেন। আমি একটি রাজনৈতিক দলের কর্মী হলেও ইউনিয়নের সকল মত ও পথের লোকজনের সাথে মিলেমিশে ইউনিয়নের উন্নয়ন , অগ্রগতি , সম্প্রীতি ও ঐক্যের পরিবেশে কাজ করে যাচ্ছি। আমি অত্যন্ত সহজ-সরল প্রকৃতির মানুষ বলে সবাই জানেন। আমি আগেই রানীগঞ্জ-সালদিঘা সড়কটির সংস্কার ও মেরামত কাজের বর্ণনা দিয়েছি। 
চলতি বছরের মে জুনের দিকে আমার ইউনিয়নের কয়েকজন প্রবাসী ও দেশে অবস্থানরত কয়েকজন ব্যক্তি নিজেরা নলুয়া প্রবাসী সংঘ গঠন করে সড়ক উন্নয়নে স্বজনশ্রী এলাকায় তিন কিলোমিটার মাটি ভরাট কাজ করার উদ্যোগ নিয়েছেন বলে আমাকে জানান, আমি তাতে খুশি হই এবং আমি এই কাজে ১০ লাখ টাকা দিয়ে সহযোগিতা করার প্রস্তাব দেই। কিন্তু তারা আমার টাকা নেবেন না বলে প্রথমে জানান। পরে তারা আমাকে দুই লাখ টাকা দিয়ে সহযোগিতা করতে বললে আমি তাতে রাজি হই। গত ২৪ জুন মাটি ভরাট কাজের উদ্বোধন করতে গেলে ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের শতাধিক জনসাধারণের সামনে চিহ্নিত কয়েকজন আমাকে চরমভাবে লাঞ্ছিত করেন। আমি এলাকাবাসীর সহায়তায় সেখান থেকে মান-সম্মান নিয়ে কোনোমতে সরে আসতে সক্ষম হই। পরে আমি এ বিষয়ে থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করি।
এই ঘটনার পর আমি জানতে পারি নলুয়া প্রবাসী সংঘের বেশিরভাগ সদস্যই এই সংগঠনের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন। কিন্তু সংবাদ সম্মেলনে তারা আমাকে নানাভাবে রাস্তা সংস্কার কাজে বাধা দিচ্ছি বলে অপপ্রচার চালায়। রাস্তা সংস্কার কাজ যথানিয়মেই হচ্ছে এবং হবে। এখানে রাস্তার সংস্কার কাজ বা ইউনিয়নের উন্নয়ন নিয়ে কথা বলা আসলে তাদের উদ্দেশ্য নয়। তাদের উদ্দেশ্য বা মতলব ভিন্ন । রাস্তা সংস্কারের একটি খোঁড়া ইস্যু তুলে তারা ইউনিয়নবাসীকে আমার সর্ম্পকে বিভ্রান্তি ছড়াতে চায়। আমার জনপ্রিয়তায় চরমভাবে ঈর্ষান্বিত এই মহল নিজেরা যেনো জ¦লে পুড়ে মরছে। আমাকে তারা সহ্য করতে না পেরে লন্ডনে বসে ইউনিয়নের নাগরিকবৃন্দের কাছে মিথ্যা বক্তব্য সাজিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার ও মিথ্যাচার করছেন। ইউনিয়নবাসী এধরনের মিথ্যাচার প্রত্যাখ্যান করেছেন।
এসব মিথ্যাচারে বিভ্রান্ত না হতে জনসাধারণের প্রতি আহবান জানাচিছ। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, চিলাউড়া হলদিপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক হাজি মো. আলা উদ্দিন , পঞ্চগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি হাজি মনির উদ্দিন , চিলাউড়া-হলদিপুর ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত ৭,৮ ও ৯ নং ওর্য়াডের নারী সদস্যা শাকিরুন নেছা, বাউধরন গ্রামের ডা: মো. হিরা মিয়া, মো.আশ্বাদ মিয়া, মো. তালেব উদ্দিন (মেম্বার),মো. মিজানুর রহমান, মো. আক্কাস মিয়া, মো. আমির উদ্দিন, মো. বশির মিয়া, রইছ মিয়া, মো. ইলাক উদ্দিন, স্বজনশ্রী গ্রামের মো. আবরুছ মিয়া, মো. আব্দুল কালাম, ইছমাইলচক গ্রামের মো. ছালিক মিয়া, মো. ময়না মিয়া , মো.বাবুল মিয়া, সমাজকর্মী ইমন মিয়া সহ আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
