বিএনপির চেয়ারপার্সন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন

ডেস্ক রিপোর্টঃবাংলাদেশের তিনবারের প্রধানমন্ত্রী, প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়েছে। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে চারটার পর রাজধানীর জিয়া উদ্যানে স্বামী প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।

এর আগে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা ও সংলগ্ন মানিক মিয়া এভিনিউয়ে বেগম খালেদা জিয়ার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

জানাজাকে ঘিরে রাজধানীর আশপাশের সব সড়কজুড়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা বিএনপি নেতা-কর্মী, সমর্থক ও সাধারণ মানুষের ঢল নামে।

বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় শ্রদ্ধা জানাতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরাও বাংলাদেশে উপস্থিত হন। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরাও এই জানাজায় অংশ নেন।

রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় অনুষ্ঠিত জানাজায় উপস্থিত ছিলেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা এবং বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর প্রধানরা।

খালেদা জিয়ার ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা মরদেহ জানাজাস্থলে আনা, জানাজা ও দাফন পর্যন্ত সঙ্গে ছিলেন।

রদবদলের আভাস প্রশাসনে

ডেস্ক রিপোর্টঃ-জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে গত নভেম্বরে একসঙ্গে ৫২ জেলার জেলা প্রশাসক (ডিসি) নিয়োগ দেয় সরকার। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, আগে থেকেই ডিসি পদে ২৫তম ও ২৭তম ব্যাচের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নতুন করে ২৮তম ও ২৯তম ব্যাচের কর্মকর্তাদের ডিসি পদে এসব নিয়োগ দেওয়া হয়।

কিন্তু এরই মধ্যে নিয়োগ দেওয়া বেশ কিছু ডিসির বিরুদ্ধে দলীয় পরিচয়ের লেবাস থাকা, অনেকের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা এবং ‘ফ্যাসিবাদের সঙ্গে সম্পৃক্ততা’র অভিযোগ ওঠে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে ইতোমধ্যে ছয় জেলার ডিসিকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

জানা গেছে, দেশের প্রভাবশালী বড় দলগুলোর পক্ষ থেকেই এমন অভিযোগ ওঠায় অনেকটা বাধ্য হয়েই অভিযুক্তদের তড়িঘড়ি করে প্রত্যাহার করে নেয় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে আরও কয়েকজন ডিসি, এডিসি ও ইউএনওকে বদলি বা প্রত্যাহারের সুপারিশ করতে পারে নির্বাচন কমিশন।

এদিকে গতকাল রবিবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এপিডি উইংয়ে অনেক কর্মকর্তাকেই পদায়নের আদেশ বাতিল করার তদবির করতে দেখা গেছে। সম্প্রতি প্রশাসনের ২৯তম ও ৩০তম ব্যাচের বেশ কিছু কর্মকর্তাকে সারা দেশের জেলা প্রশাসকের দপ্তরে স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতায় উপপরিচালক (ডিডিএলজি) পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তাদের অনেকেই নির্বাচনের আগে এখন আর বদলি করা পদে যেতে চাইছেন না।

ডিডিএলজি (উপপরিচালক) পদের এ কর্মকর্তারা সাধারণত নির্বাচনের সময় ম্যানেজারিয়েল বা ব্যবস্থাপনাসংক্রান্ত বিষয়ে দায়িত্ব পালন করে থাকেন। তাদের কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নির্বাচনে দায়িত্ব পালনের ফলে ভবিষ্যতে আবার কোনো ঝামেলাতে পড়েন বা পদোন্নতি অথবা পরবর্তী নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা হতে পারে, এমন আশঙ্কাতেই বদলি করা পদে নির্বাচনের আগে আর যেতে চাইছেন না। তবে কেউ কেউ পারিবারিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছেন।

এদিকে গত বৃহস্পতিবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন পরিচালনার জন্য ইতোমধ্যে দুজন বিভাগীয় কমিশনার, ৬৪ জন জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং তিনজন আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তাকে রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

এরপরই নির্বাচন কমিশন থেকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক ডিও লেটারে (আধা সরকারি পত্র) বলা হয়েছে, তফসিল ঘোষণার দিন থেকে ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার পরবর্তী ১৫ দিন পর্যন্ত নির্বাচনসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলি, পদায়ন বা ছুটি প্রদানের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের সম্মতি নিতে হবে।

সংবিধানের-১২৬ অনুচ্ছেদ এবং গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) সংশ্লিষ্ট ধারার আলোকে এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ডিও লেটারে নির্বাচনের সময় ইসির পূর্বানুমতি বা পরামর্শ ছাড়া নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো কর্মকর্তা কিংবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো সদস্যকে বদলি না করার নির্দেশ চেয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে ডিও লেটার পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়।

নিয়ম অনুযায়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালন করবেন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে। তফসিল ঘোষণার পরপরই নির্বাচন কমিশনের এই ডিও লেটার প্রশাসনে ব্যাপক আলোচনার বিষয়বস্তুতে পরিণত হয়। কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই চিঠির ফলে এখন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ, মাঠ প্রশাসন এবং পুলিশ সদর দপ্তরে প্রয়োজনীয় পরিপত্র জারি করা হবে। এর মাধ্যমে প্রশাসনের ওপর নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক কর্তৃত্ব দৃশ্যমান হবে।

ডিও লেটারে উল্লেখ করা হয়েছে, নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও আধা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান ছাড়াও কোনো কোনো ক্ষেত্রে বেসরকারি অফিস ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ভোট গ্রহণ কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হবে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য বিপুলসংখ্যক ম্যাজিস্ট্রেট ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হবে।

এই বিপুল প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার মধ্যে হঠাৎ বদলি, ছুটি বা দায়িত্ব পরিবর্তন নির্বাচন কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টি করতে পারে, এই যুক্তিতে কমিশন চাইছে, নির্বাচনের সময়টা পুরোপুরি তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকুক প্রশাসনিক কাঠামো। চিঠিতে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে পূর্বালোচনা ছাড়া কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীকে এমন কাজে নিয়োজিত করা যাবে না, যা নির্বাচনি দায়িত্ব পালনে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।

নির্বাচন কমিশন সূত্র জানিয়েছে, মাঠ প্রশাসনের রদবদল একটি চলমান প্রক্রিয়া। তফসিল ঘোষণার পর ইসি প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে। সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করাই ইসির লক্ষ্য। তফসিল ঘোষণার পর থেকে প্রশাসনের বদলি, প্রত্যাহার, শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণসহ যাবতীয় বিষয়ে নির্বাচন কমিশন সুপারিশ করবে। সেই সুপারিশ বাস্তবায়ন করবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

প্রসঙ্গত, ইতোমধ্যে বৃহস্পতিবারই অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি) ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পর্যায়ে রদবদল করা হয়েছে। গত ৯ ডিসেম্বর ৩১ জনকে নতুন করে এডিসি পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর আগে ৫৯৪টি উপজেলার মধ্যে ২৪৩টি উপজেলায় নতুন ইউএনও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বাকি উপজেলাগুলোতে আগের কর্মকর্তারাই দায়িত্ব পালন করছেন।

সাবেক আমলা ও জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ড. আব্দুস সবুর বলেন, ‘বর্তমান প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও চার কমিশনার সবাই অত্যন্ত সৎ ও যোগ্য কর্মকর্তা। নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করতে পারে এমন কোনো বিষয় তারা হতে দেবেন বলে আমি মনে করি না। তাই যদি কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়, সে ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করতেই পারেন। এটা কমিশনের সাংবিধানিক অধিকার।’

প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, খুব দ্রুতই নির্বাচনে সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ইসি প্রশাসনে বড় ধরনের রদবদলের সুপারিশ করতে পারে।

ইসির সুপারিশ অনুযায়ী নির্বাচনের সময়ে বিভাগীয় কমিশনার, ডিসি ও এডিসিদের বদলি ও পদায়নের আদেশ জারি করবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। ইউএনও ও ম্যাজিস্ট্রেটদের ক্ষেত্রে আদেশ আসবে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে।

সূত্র খবরের কাগজ

খালেদা জিয়ার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্স আসছে আগামীকাল সকালে

 

জটুডে ডেস্কঃ-

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য লন্ডনে নিতে ভাড়া করা এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি আগামীকাল মঙ্গলবার সকালে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের অনুমতি পেয়েছে। সোমবার (৮ ডিসেম্বর) সকালে বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তবে খালেদা জিয়ার লন্ডনে যাওয়া সম্পূর্ণ নির্ভর করছে তার বর্তমান শারীরিক অবস্থার ওপর। তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক এ জে এম জাহিদ হোসেনও শনিবার জানান, খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের অগ্রগতি অনুযায়ীই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে তিনি বিদেশ যেতে পারবেন কি না।

রাগীব সামাদ বলেন, জার্মানভিত্তিক এফএআই এভিয়েশন গ্রুপের এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি আগামীকাল সকাল ৮টা ২০ মিনিটে ঢাকায় নামবে। প্রয়োজন হলে একই দিন রাত ৯টার পর বিমানটি ঢাকায় থেকে লন্ডনের উদ্দেশে উড়াল দিতে পারবে।

বেবিচক সূত্র জানায়, গত শনিবার এফএআই এভিয়েশন গ্রুপ যে আবেদন জমা দিয়েছিল, তাতে মঙ্গলবার ঢাকায় অবতরণ এবং পরদিন বুধবার লন্ডনের উদ্দেশে যাত্রার সময়সূচি প্রস্তাব করা হয়।

দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন খালেদা জিয়া। চিকিৎসা ও বিদেশযাত্রা-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের সঙ্গে যুক্ত একটি সূত্র জানায়, চিকিৎসকেরা তার সর্বশেষ অবস্থা পর্যালোচনা করে বিদেশ পাঠানোর সম্ভাব্য সময় আরও দুদিন পিছিয়েছেন। দীর্ঘ যাত্রার ঝুঁকি বিবেচনায় নেওয়া এ সিদ্ধান্ত এখন পুরোপুরি নির্ভর করছে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় তার শারীরিক অবস্থার পরিবর্তনের ওপর।

সূত্রটি আরও জানায়, গতকাল রাত পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী খালেদা জিয়ার অবস্থায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি বা অবনতি-কোনটিই দেখা যায়নি; পরিস্থিতি বেশ স্থির রয়েছে।

মেডিকেল বোর্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, তার ডায়াবেটিস, কিডনি, হৃদ্‌যন্ত্র ও ফুসফুস-সংক্রান্ত জটিলতাগুলো কখনো নিয়ন্ত্রণে থাকলেও হঠাৎ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। ফলে তাকে স্থিতিশীল বলা যাচ্ছে না। সর্বশেষ পরীক্ষায় কিডনি ও ফুসফুসের কিছুটা উন্নতি দেখা গেলেও তা সামগ্রিক ঝুঁকি কমানোর জন্য যথেষ্ট নয়। চিকিৎসকেরা বলেছেন, তিনি এখনও আশঙ্কামুক্ত নন।

এই অনিশ্চয়তার কারণে বিদেশ যাত্রার সম্ভাব্য তারিখ বারবার বদলাচ্ছে। শুরুতে বিএনপি জানায়, ৫ ডিসেম্বর ভোরে খালেদা জিয়াকে লন্ডনে নেওয়া হবে। পরে সময় পরিবর্তন করে ৭ ডিসেম্বর করা হয়। এরপর নতুন সূচিতে ৯ ডিসেম্বর যাত্রার সম্ভাবনা জানানো হয়, যা আবারও পিছিয়ে যায় তার স্বাস্থ্যগত অনিশ্চয়তার কারণে।

 

আলো মিডিয়া গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক আহমেদ হোসাইন ছানুকে খুলনা আর্ট একাডেমির পক্ষ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা

নিজস্ব প্রতিবেদক:শুক্রবার সকাল ১১টায় খুলনা আর্ট একাডেমিতে অনুষ্ঠিত এক সৌহার্দ্যপূর্ণ অনুষ্ঠানে আলো মিডিয়া গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক, বিশিষ্ট সাংবাদিক ও সংগঠক আহমেদ হোসাইন ছানু ঢাকা থেকে খুলনায় পৌঁছে প্রথমেই খুলনা আর্ট একাডেমি পরিদর্শন করেন। এ সময় তাঁকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান খুলনা আর্ট একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক চিত্রশিল্পী মিলন বিশ্বাস, সহকারী পরিচালক শিলা বিশ্বাস, হ্যান্ডরাইটিং শিক্ষক ধনঞ্জয় রায়, সহকারী শিক্ষিকা তানিয়া সুলতানা এবং একাডেমির শিশুশিল্পীরা।চিত্রশিল্পী মিলন বিশ্বাস শুভেচ্ছা প্রদানকালে বলেন, “আহমেদ হোসাইন ছানু সাংবাদিকতার জগতে সততা, নিষ্ঠা ও মানবতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

তিনি নবীন প্রজন্মকে আলোকিত করার স্বপ্ন নিয়ে কাজ করছেন। ঢাকায় থেকেও তিনি খুলনা আর্ট একাডেমির সুখ-দুঃখে পাশে থাকেন এবং আমাদের ‘সুখ পুষ্প স্মৃতি ঐতিহ্য সংরক্ষণশালা’-এর জন্য একটি ঐতিহ্যবাহী জলনেতি উপহার দিয়েছেন।

আজ তাঁর আগমন আমাদের জন্য গর্ব ও আনন্দের।”শুভেচ্ছা গ্রহণ করে আহমেদ হোসাইন ছানু বলেন, “আমি এক সপ্তাহের সফরে খুলনায় এসেছি। এই সফরের মাধ্যমে খুলনা ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম পরিচালনা করবো।

শিশুদের নিয়ে একটি বিশেষ অনুষ্ঠান করার পরিকল্পনাও রয়েছে, যেখানে চিত্রশিল্পী মিলন বিশ্বাস দাদার সহযোগিতা প্রত্যাশা করছি।”তাঁর এই বক্তব্যে শিশুশিল্পীরা উচ্ছ্বসিত হয়ে হাততালির মাধ্যমে আনন্দ প্রকাশ করে এবং অতিথিকে শুভেচ্ছা জানায়।

অনুষ্ঠানের শেষে চিত্রশিল্পী মিলন বিশ্বাস আহমেদ হোসাইন ছানুর সর্বাঙ্গীণ সাফল্য ও মঙ্গল কামনা করেন এবং উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে অনুষ্ঠান সমাপ্ত ঘোষণা করেন।

আলো মিডিয়া গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক আহমেদ হোসাইন ছানু আজ এক সপ্তাহের সফরে খুলনায় আসছেন

শেখ সাইফুল ইসলাম কবির, খুলনা থেকে:

দেশের বর্তমান রাজনৈতিক, সামাজিক ও প্রযুক্তিগত প্রেক্ষাপটে গণমাধ্যমের ভূমিকা ক্রমেই গুরুত্ব পাচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে আলো মিডিয়া গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক, বিশিষ্ট সাংবাদিক ও সংগঠক আহমেদ হোসাইন ছানু আজ এক সপ্তাহের সফরে খুলনায় আসছেন। তিনি খুলনায় সাংবাদিক, গণমাধ্যম কর্মী ও সহযোদ্ধাদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন, সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক স্থান পরিদর্শন করবেন এবং সংগঠনের কার্যক্রম সম্প্রসারণে দিকনির্দেশনা দেবেন।
সফরের লক্ষ্য ও গুরুত্ব
আহমেদ হোসাইন ছানুর এ সফর মূলত একটি “আলো ছড়ানোর অভিযান” খুলনায় মিডিয়ার ভিত্তি মজবুত করা, সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ ও সহযোগিতা বাড়ানো, এবং স্থানীয় গণমাধ্যমের সঙ্গে কার্যকর সমন্বয় গড়ে তোলাই এর উদ্দেশ্য। আলো মিডিয়া গ্রুপ প্রতিষ্ঠার পর থেকেই দায়বদ্ধ ও মানবকেন্দ্রিক সাংবাদিকতা প্রচারে কাজ করছে। এই সফর সেই ধারাকে আরও গতিশীল করবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
সফরের প্রধান কার্যসূচি
প্রথম দিন: খুলনায় আগমন, সাংবাদিক ও মিডিয়া সহকর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা সভা।
দ্বিতীয় দিন: খুলনা শহর ও সদর এলাকার মিডিয়া অফিস পরিদর্শন, কবি সাহিত্যিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সঙ্গে সংলাপ।
তৃতীয় দিন: সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকায় পরিবেশকর্মী ও সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়।
চতুর্থ দিন: বাগেরহাটে ষাট গম্বুজ মসজিদ ও খাজা খান জাহান আলী মাজার পরিদর্শন, স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনা।
পঞ্চম দিন: গণমাধ্যম সচেতনতামূলক সেমিনার ও সাংবাদিক প্রশিক্ষণ কর্মশালা।
ষষ্ঠ দিন: আলো মিডিয়া গ্রুপ খুলনা শাখার অফিস সভা, সংগঠনের কার্যক্রম মূল্যায়ন ও নতুন পরিকল্পনা ঘোষণা।
সপ্তম দিন: সংবাদ সম্মেলন, সফরের সারসংক্ষেপ ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা প্রকাশ।
সফরের প্রত্যাশিত ফলাফল
১. খুলনায় আলো মিডিয়ার উপস্থিতি ও কার্যক্রম দৃশ্যমানভাবে বৃদ্ধি পাবে।
২. সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ ও পেশাগত সক্ষমতা উন্নত হবে।
৩. স্থানীয় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও পরিবেশ সংবাদে নতুন মাত্রা পাবে।
৪. সাধারণ জনগণের সঙ্গে মিডিয়ার সংযোগ ও সচেতনতা বাড়বে।
৫. স্থানীয় সংগঠন ও স্পন্সরদের সঙ্গে সহযোগিতার সুযোগ সৃষ্টি হবে।

চ্যালেঞ্জ ও প্রস্তুতি
আবহাওয়া ও পরিবহন সমস্যা, স্থানীয় অংশগ্রহণের বৈচিত্র্য এবং সময়সূচি রক্ষা এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আলো মিডিয়া গ্রুপ আগেই বিশেষ প্রস্তুতি নিয়েছে।
সংস্কৃতি, ইতিহাস ও মানুষের গল্প
সফরের একটি বিশেষ দিক হবে খুলনা ও বাগেরহাটের সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক স্থানগুলোকে সংবাদ কাঠামোতে অন্তর্ভুক্ত করা। সুন্দরবন, ষাট গম্বুজ মসজিদ, খাজা খান জাহান আলী মাজারসহ স্থানীয় জীবনধারা ও পরিবেশ-সংক্রান্ত বিষয়গুলো গণমাধ্যমে তুলে ধরা হবে।

সমাপনী ঘোষণা
সফর শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আহমেদ হোসাইন ছানু খুলনায় আলো মিডিয়া গ্রুপ এর একটি উপ-শাখা অফিস স্থাপনের ঘোষণা দেবেন, যেখানে স্থানীয় সাংবাদিকদের জন্য নিয়মিত প্রশিক্ষণ কর্মশালা ও স্টুডিও কার্যক্রম চালু করা হবে।তিনি বলেন, “এই সফর শুধু খবরের যাত্রা নয় এটি মানুষের জীবনের গল্প জানার, সমাজের পরিবর্তনের পথে আলোর ছোঁয়া ছড়ানোর একটি অধ্যায়।”

কুড়ি জন নারী জাতীয় নাগরিক পার্টির আহবায়ক কমিটিতে

ডেস্ক রিপোর্টঃ-  নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আত্মপ্রকাশ ঘটেছে।

শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত হয়েছে দলটির আংশিক অর্গানোগ্রাম।

সেখানে স্থান পেয়েছেন কুড়ি জন নারী।

রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউতে দলটির আত্মপ্রকাশ ঘটে।

সেখানে আংশিক অর্গানোগ্রাম ঘোষণা করেন দলের সদস্য সচিব আখতার হোসেন।

নতুন এই রাজনৈতিক দলে স্থান পাওয়া নারীরা হলেন— সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন, যুগ্ম আহ্বায়ক নুসরাত তাবাসসুম, মনিরা শারমিন, তাসনুভা জাবীন, অর্পিতা শ্যামা দেব, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা, নাহিদা সারোয়ার নিভা, যুগ্ম সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট হুমায়রা নুর, সাগুফতা বুশরা মিশমা, যুগ্ম মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) ডা. মাহমুদা মিতু, সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) অ্যাডভোকেট মনজিলা ঝুমা, যুগ্ম মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সাদিয়া ফারজানা দিনা, সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) অ্যাডভোকেট শিরিন আকতার শেলী, দ্যুতি অরন্য চৌধুরী, যুগ্ম মুখ্য সমন্বায়ক দিলশানা পারুল।

এছাড়া সদস্য হিসেবে আছেন— জারতাজ পারভিন (জুলাই আন্দোলনে শহীদ শাফিক উদ্দিন আহমেদ আহনাফের মা), শ্যামলী সুলতানা জেদনী, তানহা শান্তা, নাহিদা বুশরা এবং নীলা আফরোজ।

উল্লেখ্য, শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউয়ে এক সমাবেশের মধ্য দিয়ে আত্মপ্রকাশ করে জাতীয় নাগরিক পার্টি। আত্মপ্রকাশকালে সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন- বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের হাইকমিশনারসহ আরও অনেক গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

দলটির আহ্বায়ক পদে আছেন জুলাই অভ্যুত্থানে প্রধান সমন্বয়কারী নাহিদ ইসলাম। সদস্য সচিব আখতার হোসেন, মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম, মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চলের) হাসনাত আব্দুল্লাহ এবং প্রধান সমন্বয়কারী নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী।

ডেস্ক রিপোর্ট জটুডে

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা :আসামি অনেকে

জগন্নাথপুর টুডে ডেস্ক ঃ সদ্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক দুই মন্ত্রীসহ সাতজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত অনেককে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৩ আগস্ট) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে রাজধানীর একজন ব্যবসায়ী বাদী হয়ে এই মামলা করেছেন।

মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাজেশ চৌধুরীর আদালতে এই মামলার শুনানি হবে বলে জানা গেছে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী,কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল,পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন, ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, ডিবির সাবেক প্রধান হারুন অর রশিদ ও ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকারকে আসামি করা হয়েছে।

এছাড়া অজ্ঞাত পুলিশ কর্মকর্তা বা পুলিশের সদস্য ও তৎকালীন সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অজ্ঞাতনামা হিসেবে মামলায় আসামি করা হয়েছে।

৫ আগস্ট শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করার পর এই প্রথম তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা দায়ের করা হলো।

মামলার বাদী হয়েছেন, আদাবর এলাকার বাসিন্দা ব্যবসায়ী এস এম আমীর হামজা শাতিল। তিনি একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে একজন নিরীহ নাগরিক হত্যার বিচার চেয়ে এই মামলা করেছেন।

আমীর হামজা শাতিল বলেন, ‘বিবেকের তাড়নায় আমি এই মামলা করেছি।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, সম্প্রতি সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার আন্দোলনে হাজার হাজার ছাত্র-জনতা মিছিল সমাবেশ করে। শান্তিপূর্ণ মিছিলে দেশের বিভিন্ন এলাকায় নির্বিচারে গুলি চালানো হয়। বহু ছাত্র-জনতা নিহত ও আহত হন।

১৯ জুলাই মোহাম্মদপুরে বসিলার ৪০ ফিট এলাকায় ছাত্র-জনতা শান্তপূর্ণ মিছিল সমাবেশ করছিল। সেখানেও পুলিশ নির্বিচারে গুলি চালায়। রাস্তা পার হওয়ার সময় স্থানীয় মুদি দোকানদার আবু সায়েদ মাথায় গুলিবিদ্ধ হন। তিনি ঘটনাস্থলে মৃত্যুবরণ করেন।

মামলার আরজিতে বলা হয়, নিহত সায়েমকে তার গ্রামের বাড়িতে পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার নতুন বস্তি প্রধান হাটে নিয়ে দাফন করা হয়।

তার মা, স্ত্রী, ছেলে সন্তান সেখানেই থাকেন। এ কারণে তারা ঢাকায় এসে মামলা করতে অপারগ। এ জন্য বিবেকের তাড়নায় আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি এই মামলা করেছেন।

মামলার অভিযোগে বাদী আরও বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোটা সংস্কার আন্দোলন কঠোর হস্তে দমন করার জন্য বারবার নির্দেশ দিয়েছেন। ওবায়দুল কাদের ও আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের নির্দেশে পুলিশের আইজিপি ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অধীনস্থ পুলিশদের নির্দেশ দিয়ে মিছিলে গুলি চালায়। পরস্পর যোগসাজশে আসামিরা হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। কাজেই এর বিচার হওয়া প্রয়োজন।

মামলাটি থানায় এজাহার হিসেবে নেওয়ার জন্য আবেদন জানানো হয়েছে বলে বাদীর আইনজীবী মো. মামুন মিয়া জানান।

ডিসিদের দায়িত্ব বেড়েছে পাশাপাশি ক্ষমতা বেড়েছে

ডেস্ক রিপোর্ট ঃ  ঢাকায় চার দিনব্যাপী ডিসি সম্মেলন শেষে প্রশাসন চালানোর আরো অধিক ক্ষমতা নিয়েই নিজ-নিজ কর্মস্থলে ফিরে গেছেন ডিসিরা।

ডিসিদের দায়িত্ব বেড়েছে পাশাপাশি ক্ষমতা বেড়েছে।

সম্মেলনে সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোসহ মাঠপর্যায়ের সমস্যা সমাধানে তারা ৩৫৬টি প্রস্তাব উপস্থাপন করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর ৩৫টি দফাসহ প্রায় ৩৫০ নির্দেশনা সরকারের নীতিনির্ধারকদের কাছ থেকে ডিসিরা পেয়েছেন।

চলতি বছরের গত ৭ জানুয়ারির নির্বাচনে সরকারের নির্দেশানা অনুযায়ী রির্টানিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করায় প্রধানমন্ত্রীর ধন্যবাদ পেয়েছেন। এর আগে অনেক ডিসি সম্মেলন হয়েছে, তখনকার ডিসিরা এতে বেশি ক্ষমতা পাননি বলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানাগেছে।

 

সম্মেলনে যেসব ক্ষমতা পেলেন, পদোন্নতি ছাড়া মাঠ প্রশাসন থেকে ডিসিদের প্রত্যাহার নয়, আদালতের রায়ে নিরঙ্কুশ-ভাবে জমির মালিকা প্রমাণিত হয়েছে কিংবা আবেদনকারীর বৈধ প্রমাণাদি ও দলিলাদি আছে, সেইসব সম্পত্তির রেকর্ড সংশোধন করে মালিকানা হস্তান্তের ক্ষমতা, মোবাইল কোর্ট অ্যাক্টের মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি,অনিয়ম-দুর্নীতি রোধে জেলা প্রশাসকদের মনিটরিং করা,সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব প্রতিরোধ করা, পরীক্ষার সময় প্রশ্নপত্র ফাঁস না হওয়া, ছাত্র-ছাত্রীদের বিরুদ্ধে সাইবার বুলিং ও সাইবার ক্রাইম প্রতিরোধ, মাঠ প্রশাসনের কাজ সঠিকভাবে সম্পন্ন করার ক্ষমতা এবং রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগ ডিসিদের ৪ কৌশলে কাজ করার নির্দেশনা পেয়ে ফিরলেন।

তবে জেলা পরিষদ ও উপজেলা পরিষদ বিদ্যমান আইনের কোনো সমাধন বরাবরের মতো এবারও জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) মিলেছে শুধু আশ্বাস। অথচ নিজেদের ক্ষমতা ও সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোসহ মাঠপর্যায়ের সমস্যা সমাধানে তারা ৩৫৬টি প্রস্তাব উপস্থাপন করেছিলেন। তবে এই প্রথম ডিসিরা অনেক ক্ষমতা নিয়ে ফিরলেন বলে জানা গেছে।

এছাড়া চার দিনব্যাপী ডিসি সম্মেলনে জনগুরুত্বর্পুণ প্রস্তাবে বেশির ভাগই আমলে নেয়া হয়নি। বরং প্রধানমন্ত্রীর ৩৫টি দফাসহ প্রায় ৩৫০ নির্দেশনা সরকারের নীতিনির্ধারকদের কাছ থেকে তারা পেয়েছেন। এতে ডিসিদের দায়িত্বের পাশাপাশি ক্ষমতা বেড়েছে। কিন্তু সুযোগ-সুবিধার বিষয়ে কাঙ্খিত সাড়া না মেলায় অনেকের মধ্যে হতাশার সৃষ্টি হয়েছে।

একাধিক ডিসির সঙ্গে আলাপ করে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। ডিসি সম্মেলনে ৩৫৬টি প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন ডিসিরা। বেশিরভাগই হচ্ছে রাস্তাঘাট সংস্কারের ২২টি। পৌরসভা ও উপজেলার যেসব রাস্তা সংস্কারের প্রস্তাব দিয়েছেন ডিসিরা এসব বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

 

এ অধিবেশনে জেলা প্রশাসকগণ বিভিন্ন বিষয়ে তাঁদের মতামত ব্যক্ত করেন ও প্রশ্ন করেন। নতুন আইনের বিধিমালা, খাসজমি, নামজারি, হাট ও বাজার, ভূমি অফিস নির্মাণ, জলমহাল, পার্বত্য অঞ্চলের ভূমি ব্যবস্থাপনা, কোর্ট অব ওয়ার্ডস, ভূমি সংশ্লিষ্ট জনবল ও প্রশিক্ষণ, ডিজিটালাইজেশন, ভূমি ব্যবস্থাপনায় উদ্ভাবন-সহ ভূমি সংশ্লিষ্ট নানা বিষয় উঠে আসে কার্য অধিবেশনের আলোচনায়।ভূমি রেজিস্ট্রেশন ও ভূমি জরিপ ব্যতীত, ভূমি রাজস্ব ও ভূমি ব্যবস্থাপনা সহ ভূমি সংক্রান্ত অন্যান্য সকল সেবা প্রদানে কালেক্টর হিসেবে জেলা পর্যায়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জেলা প্রশাসক। সমবায় ভিত্তিক কৃষি, সমবায় ভিত্তিক ব্যবসা-বাণিজ্যসহ অনেক কিছু করার সুযোগ আছে। সমবায় ব্যবস্থাপনাকে আরো বেশি গতিশীল ও শক্তিশালী করতে ডিসিদের ক্ষমতা দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী।

চার দিনব্যাপী ডিসি সম্মেলনে এসবের অনেক কিছু আমলে নেয়া হয়নি। বরং প্রধানমন্ত্রীর যেসব নির্দেশনা সরকারের নীতিনির্ধারকদের কাছ থেকে তারা পেয়েছেন। এতে তাদের দায়িত্ব বেড়েছে। কিন্তু সুযোগ-সুবিধার পেলেও ব্যয় করার ক্ষমতার বিষয়ে সাড়া না মেলায় অনেকের মধ্যে হতাশার সৃষ্টি হয়েছে।

একাধিক ডিসির সঙ্গে আলাপ করে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। এদিকে এবার ডিসি সম্মেলনে তথ্য প্রকাশে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে ডিসিদের নিরুশাহীত করা হয়েছে।

ডিসি সম্মেলনের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ভূমি ব্যবস্থাপনা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, স্থানয়ি সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম জোরদার, দুযোর্গ ব্যবস্থাপনা, ত্রাণ ও পুনর্বাসন কাযক্রম, স্থানীয় পযায়ে কর্ম-সৃজন ও দারিদ্র্য বিমোচন কর্মসূচি বাস্তবায়ন, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনি কর্মসূচি, তথ্যও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহার এবং ই-গভেনের্ন্স, শিক্ষার মান উন্নয়ন ও সম্প্রাসারণ, স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবার কল্যাণ, পরিবেশ সংরক্ষণও দুষণ রোধ, ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন এবং উন্নয়নমুলক কার্যক্রমের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও সম্বনয় করা।

এছাড়া সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধিরা (ডিসি ও ইউএনও) মাঠ প্রশাসনে নানা সমস্যার সম্মুখীন হন। এসব সমস্যা ডিসি সম্মেলনের মাধ্যমে সরকারের শীর্ষ মহলে তুলে ধরা হয়েছে। মাঠপর্যায়ের সমস্যাগুলো ডিসিরা সুপারিশ ও প্রস্তাব আকারে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠিয়ে থাকেন। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে প্রস্তাবগুলো সম্মেলনের কার্যপত্রে অন্তর্ভুক্ত হয়। গত ২০২৩ সালের ডিসি সম্মেলনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অগ্রগতি তুলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সচিব মাহবুব হোসেন বলেন, গত বছর ডিসি সম্মেলনে ২১২টি সিদ্ধান্ত ছিল।

এরমধ্যে ১৩০টি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হয়েছে। ৮২টি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নাধীন। এসব সিদ্ধান্ত গুলো বাস্তবায়ন সময়সাপেক্ষ। কোনো ক্ষেত্রে প্রকল্প নিতে হবে। কোনো ক্ষেত্রে আইনি সংশোধন দরকার। এসব বিষয়েও কাজ চলছে।

 

গত বুধবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক সম্মেলনের চতুর্থ দিনের দ্বিতীয় ও শেষ অধিবেশনে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়নও সমবায় মন্ত্রণালয়ের কার্য অধিবেশন শেষে স্থানীয় সরকার,পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেছেন, এডিস মশার প্রকোপ কমাতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের জন্য পাঁচ কোটি ও সারাদেশের জন্য ৪০ কোটি টাকার ওষুধ কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জেলা প্রশাসকদের জনসচেতনতা বাড়াতে ও প্রচারণায় কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য জেলা প্রশাসকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তাজুল ইসলাম বলেন, পুরো পৃথিবী অনুধাবন করছে যে এডিস মশা মোকাবিলা করতে হলে সবচেয়ে বেশি দরকার বা হাতিয়ার ৯০ শতাংশ সচেতনতা। আর বাকি ১০ শতাংশ টেকনিক্যাল বা ওষুধ। তিন দিনে একদিন জমা পানি ফেলে দিন। এটা যদি সম্ভব হয় তাহলে এডিস মশার প্রজননটা আমরা রোধ করতে পারবো। তিনি বলেন, নির্বাচন তো হয় নির্বাচন কমিশনের অধীনে। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশন যেসব সহযোগিতা চায় তা করবো। তবে নির্বাচন সম্পর্কে আমাদের কোনো ইন্টারফেয়ার নাই। নির্বাচনের ব্যাপারটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বের অংশ নয়। এটা নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব। নির্বাচন কমিশনকে এ ব্যাপারে পুরো ক্ষমতা দেওয়ার আছে।

ভূমি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত কার্য অধিবেশনে ভূমিমন্ত্রী নারায়ন চন্দ্র চন্দ বলেছেন, ডিসিরা নিজ নিজ অধিক্ষেত্রে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো-টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছেন। সততা ও স্বচ্ছতার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি জেলা প্রশাসকদের অবহিত করেন যে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে এবং এসব নির্দেশনা মেনে চলা গণকর্মচারীর দায়িত্ব।

চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ইতোমধ্যে বিধিমালা ছাড়াই বিচারিক আদালতের এখতিয়ার অনুযায়ী ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনে মামলা গৃহীত হয়েছে। ভূমিমন্ত্রী বিধিমালা জারির সাথে সাথে এই আইনের মাধ্যমে ভুক্তভোগী ও ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতিকার প্রদানের জন্য সর্বাত্মক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দেন।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. মাহবুব হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ভূমি মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট আজকের কার্য অধিবেশনে ভূমি সচিব মো. খলিলুর রহমান, ভূমি আপীল বোর্ডের চেয়ারম্যান এ কে এম শামিমুল হক, ভূমি সংস্কার বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. আব্দুস সবুর মন্ডল, ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আনিস মাহমুদসহ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এবং ভূমি মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় সরকার বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং বিভাগীয় কমিশনাররা উপস্থিত ছিলেন। জটুডে/ ডেস্ক

দ্বাদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন কাল বসছে

ডেস্ক রিপোর্ট ঃ ইতিহাসের সর্বোচ্চ সংখ্যক স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য নিয়ে আগামীকাল মঙ্গলবার (৩০ জানুয়ারি) বসছে দ্বাদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন।

এদিন বিকেল ৩টায় রাষ্ট্রপতির ভাষণের মধ্য দিয়ে দ্বাদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হবে। গতবারের মতো এবারও ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ স্পিকার হিসেবে শিরীন শারমিন চৌধুরী এবং ডেপুটি স্পিকার পদে শামসুল হক টুকুকে মনোনীত করেছে। অধিবেশনের প্রথম দিনেই রাষ্ট্রপতি স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে শপথবাক্য পাঠ করাবেন বলে জানিয়েছে সংসদ সচিবালয়। এরপর নতুন সংসদ সদস্যদের উদ্দেশ্যে প্রথমবারের মত ভাষণ দেবেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন।

পরে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নেবেন সদস্যরা।

এবারই ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিরোধী দলের থেকে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যের সংখ্যা ছয় গুণ বেশি। সরকার প্রধান বলছেন, জাতীয় পার্টির পাশাপাশি সংসদে বিরোধী ভূমিকায় থেকে সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করার সবচেয়ে বেশি সুযোগ রয়েছে স্বতন্ত্র এমপিদের।

দ্বাদশ সংসদে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ২২৩ জন, স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ৬২ জন, জাতীয় পার্টির ১১ জন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের একজন, ওয়ার্কার্স পার্টির একজন ও কল্যাণ পার্টির একজন সংসদ সদস্য আছেন।

রোববার (২৮ জানুয়ারি) জাতীয় নির্বাচনে জয়ী স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের সরকারি বাসভবন গণভবনে আমন্ত্রণ জানান আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখানে স্বতন্ত্রদের অবস্থান সরকারি দলে, নাকি বিরোধী দলে হবে, বৈঠকে তা নির্ধারণ করা হয়।

ওই বৈঠকে খোদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বতন্ত্রদের ওই নির্দেশনা দেন। অন্যদিকে স্বতন্ত্ররা সংরক্ষিত নারী আসনের সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর ওপর ছেড়ে দেন।

যেভাবে হবে সংসদে আসন বণ্টন

সংসদের স্পিকারের আসনের ডানদিকে থাকে ট্রেজারি বেঞ্চ। ট্রেজারি বেঞ্চের সামনের সারিতে একাদশ জাতীয় সংসদের মতো সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রথম সারির প্রথম আসনে বসবেন। পরের আসনে সংসদ উপনেতা মতিয়া চৌধুরী। তার পরের আসনটি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে শেখ ফজলুল করিম সেলিমকে।

এছাড়া প্রথম সারিতে আসন পেয়েছেন আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, সাবেক অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন ও কৃষিমন্ত্রী উপাধ্যক্ষ আবদুস শহীদ। সংসদ নেতার পেছনের সারির প্রথম আসনে সরকারী দলের চিফ হুইপ নুর-ই- আলম চৌধুরী বসবেন।

অন্যদিকে বিরোধী দলের প্রথম সারিতে বিরোধীদলীয় উপনেতার পাশের আসনটি জাপার রুহুল আমিন হাওলাদার এবং তারপরের তিনটি আসন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে স্বতন্ত্র এমপি আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, কল্যাণ পার্টির মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম ও ওয়ার্কার্স পার্টির রাশেদ খান মেননকে।

এদিকে অধিবেশন চলাকালে সংসদ ভবন ও আশপাশের এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য কিছু নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।

ডিএমপির নিষেধাজ্ঞায় উল্লেখ করা হয়েছে, আজ (২৯ জানুয়ারি) রাত ১২টা থেকে সংশ্লিষ্ট এলাকায় সব ধরনের অস্ত্রশস্ত্র, বিস্ফোরক দ্রব্য, অন্যান্য ক্ষতিকারক ও দূষণীয় দ্রব্য বহন, কোনো প্রকার সমাবেশ, মিছিল, শোভাযাত্রা ও বিক্ষোভ প্রদর্শন ইত্যাদি নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, একাদশ সংসদের যাত্রা শুরু হয় ২০১৯ সালের ৩০ জানুয়ারি। ২০২৩ সালের ২ নভেম্বর অধিবেশন শেষ হয়। সর্বশেষ ২৫তম অধিবেশনের ৯ কার্যদিবসসহ এই সংসদের মোট কার্যদিবস ছিল ২৭২টি। এর আগে দশম সংসদ ৪১০ কার্যদিবস ও নবম সংসদ ৪১৮ কার্যদিবস চলে।

লাইসেন্সধারীরা ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত আগ্নেয়াস্ত্র বহন করলেই কঠোর ব্যবস্হা

ডেস্ক রিপোর্ট ঃআসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে আগামী ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত লাইসেন্সধারী ব্যক্তিদের সব ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র বহন ও প্রদর্শন নিষিদ্ধ করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এসময় কেউ আগ্নেয়াস্ত্র বহন বা প্রদর্শন করলেই নেওয়া হবে কঠোর আইনি ব্যবস্থা। 

শুক্রবার (২২ ডিসেম্বর) এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ। এতে সই করেন জননিরাপত্তা বিভাগের রাজনৈতিক শাখা-৪ এর উপসচিব ইসরাত জাহান।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে ঘোষিত তফসিল অনুসরণে আগামী ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত লাইসেন্সধারী ব্যক্তিদের আগ্নেয়াস্ত্র বহন ও প্রদর্শন সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ থাকবে।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, এ আদেশ লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে দ্য আর্মস অ্যাক্ট-১৮৭৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারার বিধান মোতাবেক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশের বিশেষ শাখার তথ্য অনুযায়ী, দেশে বৈধ অস্ত্রের সংখ্যা ৫০ হাজার ৩১০টি। এসব আগ্নেয়াস্ত্রের মধ্যে ৪৫ হাজার ২২৬টি অস্ত্র ব্যক্তির কাছে এবং ৫ হাজার ৮৪টি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে রয়েছে।

আগামী ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ইতিমধ্যে প্রতীক বরাদ্দের পর নির্বাচনী প্রচার শুরু করেছেন প্রার্থীরা। নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিল করতে গিয়ে কোনো কোনো প্রার্থীর অনুসারীরা আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন করেন, যা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

 জটুডে /এহাই