আলো মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড ২০২৫: গুণীজন সম্মাননায় খুলনায় শিল্প-সাংবাদিকতার মিলনমেলা

স্টাফ রিপোর্টার:খুলনার শান্ত ও সৃজনশীল সাংস্কৃতিক অঙ্গন শুক্রবার বিকেলে হয়ে ওঠে মুখর ও প্রাণবন্ত। শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত খুলনা আর্ট একাডেমি রূপ নেয় এক ব্যতিক্রমী সম্মাননা মঞ্চে, যেখানে সাংবাদিকতা, শিল্প, সাহিত্য ও সমাজসেবার সঙ্গে যুক্ত গুণীজনদের সম্মান জানানো হয় “আলো মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড ২০২৫” অনুষ্ঠানে।

১২ ডিসেম্বর (শুক্রবার) বিকাল ৩টায় অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে সাংস্কৃতিক কর্মী, সাংবাদিক, কবি, শিক্ষক, শিশুশিল্পী ও সমাজসেবীরা একত্রিত হন সম্মান ও স্বীকৃতির এক মানবিক মিলন উৎসবে।

দেশব্যাপী নিরলসভাবে কাজ করে যাওয়া সাংবাদিক ও সংস্কৃতিসেবীদের প্রাপ্য স্বীকৃতি তুলে ধরাই ছিল এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কবি, সাহিত্যিক, মানবাধিকার কর্মী ও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ডক্টর মোঃ বদরুল আলম সোহাগ। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন,“সত্য সংবাদ শুধু কাগজের খবর নয়, এটি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম। সাংবাদিকরা জাতির দর্পণ। তাদের নিরাপত্তা, স্বীকৃতি ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সমাজের দায়িত্ব।”তার বক্তব্যে মানবাধিকার, জবাবদিহিমূলক সংবাদ পরিবেশন ও সংস্কৃতিচর্চার গুরুত্ব গভীরভাবে উঠে আসে।

প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন ইসলামিক ফাউন্ডেশন, দিঘলিয়া উপজেলার ফিল্ড সুপারভাইজার মোঃ এরশাদুল গনি। তিনি বলেন,“বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ শুধু তথ্যের সমষ্টি নয়; এটি জাতি গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধ ছাড়া সাংবাদিকতা পূর্ণতা পায় না। ”অনুষ্ঠানের উদ্বোধক ছিলেন জাতীয় মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান এস. এম. সাইফুল ইসলাম কবির। তিনি বলেন,“মফস্বলের সাংবাদিকরা সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতিতে দেশ ও সমাজের সত্য তুলে ধরেন, অথচ তাদের নিরাপত্তা ও মূল্যায়ন সবচেয়ে কম। এই সম্মাননা তাদের বাস্তব স্বীকৃতির পথ প্রশস্ত করবে।

”অনুষ্ঠানের সুশৃঙ্খল সঞ্চালনায় ছিলেন খুলনা আর্ট একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক চিত্রশিল্পী মিলন বিশ্বাস। তিনি বলেন উপস্থিত সকল গুণীজনরা যে যে বিষয়ে সম্মাননা অর্জন করেছেন এই বিষয় যেন আরো দক্ষ হয়ে উঠতে পারে এমন প্রত্যাশা করেন।

সভাপতিত্ব করেন মানবিক সাংবাদিক ও সংগঠক, আলো মিডিয়া গ্রুপ (ঢাকা)- এর প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক আহমেদ হোসাইন ছানু।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাগেরহাট ভোকেশনাল শিক্ষক সমিতির সভাপতি এম শাহ জাহান আলী খান, কবি ও সাংবাদিক মোঃ রহমত আলী এবং দৈনিক আজকের জনকথার খুলনা বিভাগীয় ব্যুরো প্রধান মোঃ মাহফুজুর রহমান।

তাঁরা তাঁদের বক্তব্যে গুণীজনদের পেশাগত সংগ্রাম, সাফল্য ও সামাজিক অবদানের মূল্যায়ন তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে যেসব গুণীজনকে সম্মাননা প্রদান করা হয় তাঁরা হলেন

কবি ও সাংবাদিক শেখ আবু আসলাম বাবু, দৈনিক আজকের কণ্ঠস্বর (খুলনা)- এর সম্পাদক ও প্রকাশক তাহমিনা আক্তার শিপন, কবি ও শিক্ষক নাসরিন জাহান, সাংবাদিক মোঃ ইদ্রিস শেখ, সাংবাদিক সুদীপ্ত মিস্ত্রী, সাংবাদিক উৎপল রায়, সাংবাদিক আসাদুল হক, সঙ্গীতশিল্পী প্রবীর শীল এবং খুলনা আর্ট একাডেমির মেধাবী শিশু শিল্পী যাহরুন তাসনিম।বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ছিল খুলনা আর্ট একাডেমির খুদে প্রতিভা যাহরুন তাসনিম-এর সম্মাননা, প্রথম শ্রেণীতে পড়া কালীন সময়ে এই সম্মাননা ৬৪ টি পুরস্কার অর্জন করায় তাকে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে। যা ভবিষ্যৎ নতুন শিল্পীর উজ্জ্বল সম্ভাবনাকে এক অনন্য স্বীকৃতি দেয়।অনুষ্ঠানজুড়ে ছিল কবিতা পাঠ, গান ও শিশু শিল্পীদের অভিনব পরিবেশনা। ‘সম্মাননায় গর্ব, স্বীকৃতিতে প্রেরণা’ এই আত্মিক আবেদনে অনুষ্ঠানটির প্রতিটি মুহূর্ত হয়ে ওঠে স্মরণীয় ও উৎসবমুখর।অনুষ্ঠানের সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন কবি ও গীতিকার মোঃ জাবেদুল ইসলাম, যিনি দীর্ঘদিন ধরে সমাজ ও মানবিক বিষয়কে কেন্দ্র করে গান ও কবিতার মাধ্যমে অবদান রেখে চলেছেন। ‘আলো মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড ২০২৫’ শুধু একটি সম্মাননা অনুষ্ঠান নয়; এটি ছিল সত্য সাংবাদিকতার মূল্যায়ন, সাহিত্য-সংস্কৃতির বিকাশ এবং তরুণ ও প্রবীণ প্রতিভাদের স্বীকৃতির এক সৃজনশীল অঙ্গীকার। অনুষ্ঠানের সমাপ্তিতে ভবিষ্যতে জাতীয় পর্যায়ে আরও বৃহৎ পরিসরে এই আয়োজন করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়। খুলনার শিল্প ও সংস্কৃতির মঞ্চে এই আয়োজন এক নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছে যেখানে সম্মান, সাহস ও সৃজনশীলতা একসঙ্গে নতুন পথে আলো ছড়িয়ে দেয়।

খালেদা জিয়ার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্স আসছে আগামীকাল সকালে

 

জটুডে ডেস্কঃ-

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য লন্ডনে নিতে ভাড়া করা এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি আগামীকাল মঙ্গলবার সকালে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের অনুমতি পেয়েছে। সোমবার (৮ ডিসেম্বর) সকালে বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তবে খালেদা জিয়ার লন্ডনে যাওয়া সম্পূর্ণ নির্ভর করছে তার বর্তমান শারীরিক অবস্থার ওপর। তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক এ জে এম জাহিদ হোসেনও শনিবার জানান, খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের অগ্রগতি অনুযায়ীই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে তিনি বিদেশ যেতে পারবেন কি না।

রাগীব সামাদ বলেন, জার্মানভিত্তিক এফএআই এভিয়েশন গ্রুপের এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি আগামীকাল সকাল ৮টা ২০ মিনিটে ঢাকায় নামবে। প্রয়োজন হলে একই দিন রাত ৯টার পর বিমানটি ঢাকায় থেকে লন্ডনের উদ্দেশে উড়াল দিতে পারবে।

বেবিচক সূত্র জানায়, গত শনিবার এফএআই এভিয়েশন গ্রুপ যে আবেদন জমা দিয়েছিল, তাতে মঙ্গলবার ঢাকায় অবতরণ এবং পরদিন বুধবার লন্ডনের উদ্দেশে যাত্রার সময়সূচি প্রস্তাব করা হয়।

দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন খালেদা জিয়া। চিকিৎসা ও বিদেশযাত্রা-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের সঙ্গে যুক্ত একটি সূত্র জানায়, চিকিৎসকেরা তার সর্বশেষ অবস্থা পর্যালোচনা করে বিদেশ পাঠানোর সম্ভাব্য সময় আরও দুদিন পিছিয়েছেন। দীর্ঘ যাত্রার ঝুঁকি বিবেচনায় নেওয়া এ সিদ্ধান্ত এখন পুরোপুরি নির্ভর করছে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় তার শারীরিক অবস্থার পরিবর্তনের ওপর।

সূত্রটি আরও জানায়, গতকাল রাত পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী খালেদা জিয়ার অবস্থায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি বা অবনতি-কোনটিই দেখা যায়নি; পরিস্থিতি বেশ স্থির রয়েছে।

মেডিকেল বোর্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, তার ডায়াবেটিস, কিডনি, হৃদ্‌যন্ত্র ও ফুসফুস-সংক্রান্ত জটিলতাগুলো কখনো নিয়ন্ত্রণে থাকলেও হঠাৎ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। ফলে তাকে স্থিতিশীল বলা যাচ্ছে না। সর্বশেষ পরীক্ষায় কিডনি ও ফুসফুসের কিছুটা উন্নতি দেখা গেলেও তা সামগ্রিক ঝুঁকি কমানোর জন্য যথেষ্ট নয়। চিকিৎসকেরা বলেছেন, তিনি এখনও আশঙ্কামুক্ত নন।

এই অনিশ্চয়তার কারণে বিদেশ যাত্রার সম্ভাব্য তারিখ বারবার বদলাচ্ছে। শুরুতে বিএনপি জানায়, ৫ ডিসেম্বর ভোরে খালেদা জিয়াকে লন্ডনে নেওয়া হবে। পরে সময় পরিবর্তন করে ৭ ডিসেম্বর করা হয়। এরপর নতুন সূচিতে ৯ ডিসেম্বর যাত্রার সম্ভাবনা জানানো হয়, যা আবারও পিছিয়ে যায় তার স্বাস্থ্যগত অনিশ্চয়তার কারণে।

 

আশরাফুলের দাফন সম্পন্ন, মায়ের আহাজারি

টুডে ডেস্ক::

পরকীয়া প্রেমের দ্বন্দ্বে বাল্যবন্ধুর হাতে নৃশংসভাবে খুন হওয়া কাঁচামাল ব্যবসায়ী আশরাফুল হকের (৪২) জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার (১৫ নভেম্বর) সকাল সাড়ে আটটার দিকে বদরগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর নয়াপাড়া আল মাহফুজ মাদ্রাসা মাঠে হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয় তাকে।

এদিকে আশরাফুলের জানাজা ও দাফন ঘিরে এলাকায় গভীর শোক নেমে এসেছে। আজ ভোর থেকে বদরগঞ্জের গোপালপুর ইউনিয়নের নয়পাড়া গ্রামে হাজারো মানুষ ভিড় করেন।

এর আগে, শুক্রবার গভীর রাতে আশরাফুলের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায়। সকালে জানাজায় অংশ নিতে দূরদূরান্ত থেকে মুসল্লিরা ছুটে আসেন। জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন করা হয়। মায়ের আহাজারি, স্বজনদের কান্না আর বিহ্বল মানুষের দীর্ঘশ্বাসে ভারী হয়ে ওঠে আশরাফুলের শেষবিদায়ের মুহূর্ত।

স্থানীয়রা জানান, হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই আশরাফুলের পরিবার শোকে মুহ্যমান। পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেন-বাল্যবন্ধু জরেজ আশরাফুলকে ডেকে নিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করেছেন। এ ঘটনায় নিহত আশরাফুলের বোন আনজিনা বেগম শুক্রবার সকালে ঢাকার শাহবাগ থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় আশরাফুলের বন্ধু জরেজুল ইসলাম জরেজকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে জরেজুল ইসলাম ও শামীমা নামের এক নারীকে।

আহাজারি করতে করতে আশরাফুল হকের স্ত্রী লাকী বেগম বলেন, ‘নিজের ভাই মনে করতো জরেজকে। জাপান যাওয়ার ১০ লাখ টাকা চাইছিল, সেই টাকাও আমরা দিতে চাইছি। আরও টাকা লাগলে নিতো। আমার সব সম্পত্তি নিয়া স্বামীটারে বাঁচাই রাখতো। স্বামীটার জান কেন কাড়ি নিল। আমি উনার (জরেজের) ফাঁসি চাই। যারা আমার স্বামীরে টুকরা টুকরা করছে, সবার ফাঁসি চাই।’

বাবা আবদুর রশিদের বিলাপ, ‘হাসপাতালে ছিলাম। জরেজ খুব তাগদা দিয়া ছেলেটারে ঢাকা নিয়া গেছে। বাবাটাক খুন করবে জানলে নিজের জান দিয়াও ঢাকা যাবার দিতাম না। ছোট নাতি-নাতনি, আমাদের এখন কে দেখবে।’

সরেজমিনে দেখা যায়, মা এছরা খাতুন মূর্ছা যাচ্ছেন। স্বজনেরা জ্ঞান ফেরালে বিলাপ করছেন, ‘আমার বেটা তো কারও ক্ষতি করে নাই। তাহলে কেন এমন করল ওরা? কেন আমার বেটাকে টুকরা টুকরা করল?’

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায় মা-বাবার একমাত্র ছেলে আশরাফুল হক। তার চার বোন আছে। ভাই-বোনের মধ্যে আশরাফুল তৃতীয়। তার বাবা আবদুর রশিদ ছিলেন একজন ক্ষুদ্র কাঁচামাল ব্যবসায়ী। ছোট থাকতেই বাবার হাত ধরে কাঁচামাল ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন আশরাফুল। তিনি কাঁচামাল আমদানিকারক ছিলেন। বিভিন্ন দেশ থেকে কাঁচামাল এনে ঢাকা-চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন আড়তে দিতেন। তার সংসারে ১৩ বছর বয়সী সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক মেয়ে ও ৭ বছর বয়সী এক ছেলে আছে।

এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য আমজাদ হোসেন বলেন, আশরাফুল কাঁচামালের ব্যবসা করতেন। তিনি একজন বড় ব্যবসায়ী ছিলেন। কাঁচামাল ট্রাকে করে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠাতেন। তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। তিনি অত্যন্ত নম্র ও ভদ্র মানুষ ছিলেন। বছরের দুই ঈদে এলাকার গরিব মানুষদের দুই হাত প্রসার করে শাড়ি লুঙ্গিসহ শুকনা খাবার বিতরণ করতেন। গরিব মানুষদের জন্য প্রতিবছর কোরবানির ঈদে একটি গরু কিনে মাংস বিতরণ করতেন। তাকে হত্যাকারী যেই হোক, তার বিচার চান তিনি।

বদরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এ কে এম আতিকুর রহমান বলেন, সকালে আশরাফুল হকের লাশ তার নিজ গ্রামে দাফন হয়েছে। তাকে হত্যার ঘটনায় শাহবাগ থানায় মামলা হয়েছে। তার সঙ্গে থাকা বন্ধু জরেজুল ও শামীমা নামের এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

উলেখ্য, গত ১১ নভেম্বর মালয়েশিয়া-ফেরত বন্ধু জরেজুল ইসলামের সঙ্গে ঢাকায় যান আশরাফুল। এরপর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানী ঢাকার হাইকোর্ট-সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহ মাঠের গেটের পাশে একটি ড্রাম থেকে এক তার খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

সূত্র:- ইত্তেফাক

সারাদেশে লোডশেডিং হতে পারে ২-৩ দিন

জ. টুডে ডেক্সঃ-

কয়েকটি বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রে যান্ত্রিক ত্রুটিজনিত কারণে সারাদেশে আগামী ২-৩দিন লোডশেডিং হতে পারে।

মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, লোড শেডিংয়ের এই পরিস্থিতি আগামী দুই-তিনদিনের মধ্যে উন্নতি হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

সাময়িক এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশবাসীর কাছে সহযোগিতাও কামনা করছে বিপিডিবি।

পিএইচডি ও এম ফিল ডিগ্রিধারী ২৫০জন শিক্ষকের সংবর্ধনা

স্টাফ রিপোর্টারঃ-

বাংলাদেশ জমিয়তুল মোদার্রেসীনের পক্ষ থেকে আলীয়া মাদ্রাসা অঙ্গনে পিএইচডি ও এমফিল ডিগ্রিধারী শিক্ষকগণের বিশেষ সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার (২১ নভেম্বর) ঢাকা মহাখালীর গাউসুল আজম কমপ্লেক্সে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়। দেশের আলীয়া মাদরাসায় শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত এমফিল ও পিএইচডি ডিগ্রিধারীগণের প্রায় ২৫০ জন অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, সহকারী অধ্যাপক, সুপার, প্রভাষক ও শিক্ষকগণকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ শামছুল আলম। বিশেষ অতিথি ছিলেন মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. শাহনওয়াজ দিলরুবা খান, বগুড়া সরকারী কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মাওলানা আহমদ উল্লাহ।

বাংলাদেশ জমিয়তুল মোদর্রেসীন সভাপতি দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকার সম্পাদক আলহাজ্ব এ এম এম বাহাউদ্দীনের সভাপতিত্বে ও জমিয়তুল মোদার্রেসীন’র যুগ্ম মহাসচিব ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আহবায়ক ড. মাওলানা মাহবুবুর রহমান’র সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন  জমিয়তুল মোদার্রেসীন’র মহাসচিব অধ্যক্ষ সাব্বির আহমদ মোমতাজী।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন জমিয়তুল মোদার্রেসীনের সহ সভাপতি মাওলানা মাছাদ্দিক বিল্লাহ, অধ্যক্ষ, চরমুনাই কামিল মাদ্রাসা ও ইসলামিক ফাউণ্ডেশন বাংলাদেরশের নব নির্বাচিত গভর্ণর, ছরছিনা কামিল মাদরাসার সাবেক অধ্যক্ষ ড. সৈয়দ শরাফত আলীসহ পিএইচডি ও এমফিল ডিগ্রিধারী শিক্ষকবৃন্দ।

অনুষ্ঠানে সকল ডিগ্রিধারীগণকে সম্মাননা ক্রেস্ট, ব্যাগ ও একটি স্মারক প্রদান করা হয়। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সুনামগঞ্জ জেলার পিএইচডি ডিগ্রিধারী হাফিজ মাওলানা ড. সৈয়দ রেজওয়ান আহমদ ও মাওলানা ড. মুহাম্মদ মঈনুল ইসলাম পারভেজ’র সংবর্ধিত হওয়ায় আমরা গর্বিত।

শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন মহাখালী কামিল মাদ্রাসার মুহাদ্দিস মাওলানা মাহবুবুর রহমান।

ফেনী ও নোয়াখালী জেলার ৫শতাধিক পরিবারে নগদ অর্থ ও খাদ্য সামগ্রী বিতরণ

মো: হুমায়ুন কবির:-
নোয়াখালী জেলার কবিরহাট উপজেলায় এবং ফেনী জেলার ছাগলনাইয়া, পরশুরাম ও ফুলগাজী উপজেলার আশ্রয় কেন্দ্রসহ বেশ কয়েকটি গ্রামে এবং ৩টি মাদরাসাসহ প্রায় ৫ শতাধিক পরিবারে নগদ অর্থ ও খাদ্য সামগ্রী (চাল, ডাল, তৈল, পিয়াজ, আলু, লবন ও অরস্যালাইন) বিতরণ করা হয়েছে।

গত শনিবার ৭ সেপ্টেম্বর নোয়াখালী জেলার কবিরহাট উপজেলার কবিরহাট ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা আশ্রয়কেন্দ্রে, ফরাইজি বাজার শারমিন ফার্মেসীর সামনে, ভাটিয়া ইউনিয়ন ও যাদবপুর ইউনিয়নের টেকেরহাট বাজার সাইনবোর্ড এবং জাদবপুর এলাকায় নৌকাযোগে নগদ অর্থ ও খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

রবিবার ৮ সেপ্টেম্বর ফেনী জেলার ছাগলনাইয়্যা উপজেলার হরিপুর জামেয়া ইসলামিয়া জমিরীয়া নূরুল উলুম, বাংলাবাজার মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা ফরিদ উদ্দিন আল মোবারক সাহেব’র মাদরাসায় এবং হরিপুর গ্রামের ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারসমূহে, বক্তার হাট এলাকার পশ্চিম দেবপুর মুহীউসসুন্নাহ ইসলামিয়া মাদরাসা ও এতিমখানায় এবং দেবপুর গ্রামের অসহায় মানুষকে এবং ফুলগাজী উপজেলার পরশুরাম সদর এলাকায় ও আনন্দপুরের একটি এতিমখানায় এবং গ্রামের বিভিন্ন বাড়ীর ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারসমূহে নগদ অর্থ ও খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

আমরা সুনামগঞ্জবাসী’র পক্ষ থেকে ও মাদরাসা শিক্ষক সমিতি’র যৌথ বন্টন পরিচালনায় সৈয়দপুরসহ বিভিন্ন এলাকার কৃতি সন্তান যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত এবং কিদিরমিনস্টার শহরে বসবাসরত সৈয়দপুরের দানবীরদের মাধ্যমে প্রাপ্ত অর্থ এবং মাদরাসা শিক্ষক সমিতি, জগন্নাথপুর’র শিক্ষক-কর্মচারী ও সমিতির বরাদ্দকৃত অর্থে প্রায় ৫শতাধিক পরিবারে খাদ্য সামগ্রী (চাল, ডাল, তৈল, পিয়াজ, আলু, লবন ও অরস্যালাইন) এবং নগদ অর্থ প্রদান করা হয়।

বিতরণ কার্যক্রমে মাদ্রাসা শিক্ষক সমিতি’র সভাপতি ও হলিয়াপাড়া জা. কা. সুন্নীয়া ফাজিল মাদ্রাসা অধ্যক্ষ ড. মাওলানা মোহাম্মদ মঈনুল ইসলাম পারভেজ, সহ সভাপতি ও জয়দা আরাবিয়া দাখিল মাদরাসার সুপার মাওলানা মখছুছুল করীম চৌধুরী,
সাধারণ সম্পাদক ও সৈয়দপুর সৈয়দিয়া শামছিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ হাফিজ মাওলানা ড. সৈয়দ রেজওয়ান আহমদ, সুনামগঞ্জের বিভিন্ন এলাকা থেকে মাওলানা মোঃ আব্দুল কাইয়ুম, মোঃ মুমিনুল ইসলাম, হাফিজ মোঃ নাঈম আহমদ, হাফিজ মোঃ শফি আহমদ ও একরামুল ইসলাম প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।

বন্টন কাজে সার্বিক সহযোগিতা করেন, সৈয়দপুর সৈয়দিয়া শামছিয়া ফাজিল মাদ্রাসার সাবেক ছাত্র দি ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালস ইন্ডাস্ট্রি পি এল সি এস আর, ফেনী ডিপো’র কর্মরত মোঃ ফায়সল আহমদ।

এদিকে গত ২৫ আগস্ট আমরা সুনামগঞ্জবাসী’র পক্ষ থেকে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার ১০নং বাতিসা ইউনিয়নের বন্যার পানিতে প্রায় বিলীন হয়ে যাওয়া রিমুভ এলাকার সোনাপুর, দেবিপুর, উল্লাপাড়া, ডলবা, দৈয়ারা ও বশকরা এলাকায় ক্ষতিগ্রস্থদের নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়৷ বিতরণ কার্যক্রমে ড. সৈয়দ রেজওয়ান আহমদ, মাওলানা তৈয়বুর রহমান, মাওলানা ইলিয়াস আহমদ ও মমিনুল ইসলাম প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা :আসামি অনেকে

জগন্নাথপুর টুডে ডেস্ক ঃ সদ্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক দুই মন্ত্রীসহ সাতজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত অনেককে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৩ আগস্ট) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে রাজধানীর একজন ব্যবসায়ী বাদী হয়ে এই মামলা করেছেন।

মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাজেশ চৌধুরীর আদালতে এই মামলার শুনানি হবে বলে জানা গেছে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী,কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল,পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন, ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, ডিবির সাবেক প্রধান হারুন অর রশিদ ও ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকারকে আসামি করা হয়েছে।

এছাড়া অজ্ঞাত পুলিশ কর্মকর্তা বা পুলিশের সদস্য ও তৎকালীন সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অজ্ঞাতনামা হিসেবে মামলায় আসামি করা হয়েছে।

৫ আগস্ট শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করার পর এই প্রথম তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা দায়ের করা হলো।

মামলার বাদী হয়েছেন, আদাবর এলাকার বাসিন্দা ব্যবসায়ী এস এম আমীর হামজা শাতিল। তিনি একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে একজন নিরীহ নাগরিক হত্যার বিচার চেয়ে এই মামলা করেছেন।

আমীর হামজা শাতিল বলেন, ‘বিবেকের তাড়নায় আমি এই মামলা করেছি।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, সম্প্রতি সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার আন্দোলনে হাজার হাজার ছাত্র-জনতা মিছিল সমাবেশ করে। শান্তিপূর্ণ মিছিলে দেশের বিভিন্ন এলাকায় নির্বিচারে গুলি চালানো হয়। বহু ছাত্র-জনতা নিহত ও আহত হন।

১৯ জুলাই মোহাম্মদপুরে বসিলার ৪০ ফিট এলাকায় ছাত্র-জনতা শান্তপূর্ণ মিছিল সমাবেশ করছিল। সেখানেও পুলিশ নির্বিচারে গুলি চালায়। রাস্তা পার হওয়ার সময় স্থানীয় মুদি দোকানদার আবু সায়েদ মাথায় গুলিবিদ্ধ হন। তিনি ঘটনাস্থলে মৃত্যুবরণ করেন।

মামলার আরজিতে বলা হয়, নিহত সায়েমকে তার গ্রামের বাড়িতে পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার নতুন বস্তি প্রধান হাটে নিয়ে দাফন করা হয়।

তার মা, স্ত্রী, ছেলে সন্তান সেখানেই থাকেন। এ কারণে তারা ঢাকায় এসে মামলা করতে অপারগ। এ জন্য বিবেকের তাড়নায় আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি এই মামলা করেছেন।

মামলার অভিযোগে বাদী আরও বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোটা সংস্কার আন্দোলন কঠোর হস্তে দমন করার জন্য বারবার নির্দেশ দিয়েছেন। ওবায়দুল কাদের ও আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের নির্দেশে পুলিশের আইজিপি ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অধীনস্থ পুলিশদের নির্দেশ দিয়ে মিছিলে গুলি চালায়। পরস্পর যোগসাজশে আসামিরা হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। কাজেই এর বিচার হওয়া প্রয়োজন।

মামলাটি থানায় এজাহার হিসেবে নেওয়ার জন্য আবেদন জানানো হয়েছে বলে বাদীর আইনজীবী মো. মামুন মিয়া জানান।

ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাংবাদিক রানার ৬ মাসের জেল

ডেস্ক রিপোর্ট ঃ  শেরপুরের নকলা উপজেলায় এক সাংবাদিককে ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

মঙ্গলবার (৫ মার্চ) উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) কার্যালয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে এ কারাদণ্ড দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শিহাবুল আরিফ।

এ সময় ইউএনও সাদিয়া উম্মুল বানিন উপস্থিত ছিলেন। ওই সাংবাদিক ইউএনও অফিসে তথ্য চাওয়ার জন্য গিয়েছিলেন বলে জানা গেছে।

সাজা পাওয়া শফিউজ্জামান রানা দৈনিক দেশ রূপান্তরের নকলা উপজেলা সংবাদদাতা। ইউএনও সাদিয়া উম্মুল বানিন বলেন, অফিসে ঢুকে গোপন তথ্যের ফাইল নেওয়ার জন্য টানাটানি করেন ওই সাংবাদিক।

বাধা দিলে অফিসের এক নারী কর্মচারীর সঙ্গে অসদাচরণ করেন। এ সময় এক বীর মুক্তিযোদ্ধাকেও ধাক্কা দেন তিনি।

শেরপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মুকতাদিরুল আহমেদও একই তথ্য জানান। তিনি বলেন, ওই সাংবাদিক ইউএনও অফিসে গিয়ে এক নারী কর্মীর সঙ্গে অশ্লীল ভাষায় কথা বলেন। তিনি অফিসের ডকুমেন্ট নিয়ে চলে যাওয়ার জন্য এসেছিলেন। এমন সময় তাকে আটক করা হয়।

তবে ভুক্তভোগী সাংবাদিকের স্ত্রী বন্যা আক্তার ভিন্ন দাবি করছেন। তিনি সাংবাদিকদের কাছে বলেন, তথ্য চেয়ে ইউএনও কার্যালয়ে আবেদন জমা দেন তার স্বামী।

আবেদন করার পর আবেদনের রিসিভ কপি চান তিনি। এ সময় ইউএনওর অনুমতি ছাড়া রিসিভ কপি দেবেন না বলে জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের গোপনীয় সহকারী (সিএ) শিলা আক্তার। এ নিয়ে তর্কের জেরে তাকে সাজা দেওয়া হয়েছে।  জটুডে/এহাই

প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি: প্রধানমন্ত্রী —

সালেহ আহমদ বিশেষ প্রতিনিধি যুক্তরাজ্য ঃ
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, স্বাধীনতা-সংগ্রামে বিশ্ব জনমত সৃষ্টিতে প্রবাসীরা বিরাট অবদান রাখেন, এজন্য কৃতজ্ঞতা জানাই। প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রাম, মুক্তিযুদ্ধে প্রবাসীদের বিরাট অবদান রয়েছে। সেটা ছাড়াও প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি।

মঙ্গলবার (১৬ জানুয়ারি) দুপুরে গণভবনে প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, প্রবাসীদের কাছে সবসময় আমি কৃতজ্ঞতা জানাই যে, তারা সবসময় আমার সঙ্গে ছিলেন। প্রবাসে জনমত তৈরিতে ভূমিকা রাখেন প্রবাসীরা, এজন্য কৃতজ্ঞতা জানাই। সংগ্রাম থেকে অর্জনে প্রবাসীরা পাশে ছিলেন এই অবদান ভুলে যাবার নয়। প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রাম, মুক্তিযুদ্ধে প্রবাসীদের বিরাট অবদান রয়েছে। সেটা ছাড়াও প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি।

তিনি বলেন, কেউ যাতে ভোট না দেয়, সেই জন্য বিএনপি প্রচারপত্র বিলি করেছে। কিন্তু সেটা হিতে বিপরীত হলো। মানুষ ভোট দিতে গেল কেন্দ্রে। ৭ জানুয়ারির নির্বাচনের জন্য দেশের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বিএনপি রাজনৈতিকভাবে বা ভোটের মাঠে আওয়ামী লীগের সমানে সমান নয়। তারা নির্বাচন চায় না, তাদের লক্ষ্য মানুষ হত্যা করা। এসব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্যই মানুষ তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে। বিএনপির ভোট বর্জন লিফলেট প্রত্যাখ্যান করে ৭ জানুয়ারিতে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিয়েছেন দেশের জনগণ। ৭ জানুয়ারির ভোটে, মানুষের ভোট দেয়ার সাংবিধানিক অধিকার সুরক্ষিত হয়েছে। উন্মুক্ত হওয়ায় নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়েছে।

নির্বাচন নষ্ট করে অবৈধভাবে ক্ষমতায় যাওয়ার পথ খুঁজে বেড়ায় বিএনপি। আলোঝলমল নির্বাচন আর নির্বাচনের পথে; বিএনপি পথ হারিয়ে ফেলেছে এ মন্তব্য করে তিনি আরও বলেন, নিজেরা নিজেদের কার্যালয়ে তালা মেরে আবার তারাই সেই তালা খুলতে গেছেন। আসলে তারা এখন পথ হারানো পথিক হয়ে গেছেন। আসলে মানুষ মারার ফাঁদ তৈরির ওস্তাদ হলো বিএনপি।

শেখ হাসিনা বলেন, জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিয়েছেন। মানুষের আস্থা-বিশ্বাসের চেয়ে বড় কোনো প্রাপ্তি আর নেই। এই নির্বাচন গণতন্ত্র ও উন্নয়নের ধারাবাহিকতার বিজয়। এখন নির্বাচন বাতিলের চক্রান্ত করে যাচ্ছে বিরোধীপক্ষ।

শেখ হাসিনা বলেন, এখন আবারও পুরো পৃথিবীতেই একটা যুদ্ধাংদেহী ভাব তৈরি হয়েছে। আমরা কোথাও যুদ্ধ চাই না। মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে যুদ্ধ নয়, কারণ আমরা যুদ্ধ চাই না, আমরা শান্তির পক্ষে। অস্ত্র প্রতিযোগিতা বন্ধ করে ওই অর্থ মানবকল্যাণে ব্যয় করা উচিত। সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব রেখে বাংলাদেশের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছি।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ২৯টি দেশ থেকে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা দেশে আসেন। আজ তারা গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন।
—জটুডে /এহাই

বৌভাতে বর অর্কের মৃত্যুর সংবাদ!

ডেস্ক রিপোর্ট ঃ  বৌভাতের খাওয়াদাওয়ার মধ্যেই এলো বর অর্ক হোসেনের (২৩) মৃত্যুর খবর।

শেরওয়ানি নিতে গিয়ে শনিবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে ঢাকার কেরানীগঞ্জের আব্দুল্লাহপুর বাঘাশুর এলাকায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হন তিনি।

নিহত অর্কের বাবা সাংস্কৃতিক কর্মী ও কেরানীগঞ্জ মডেল থানা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি নাসিম হোসেন অপু। তার বাড়ি কেরানীগঞ্জের রোহিতপুর কাঁচা এলাকায়।

নিহতের ফুফাতো ভাই রাকিব হোসেন জানান, শুক্রবার (১৩ অক্টোবর)  অর্কের বিয়ে হয়। কনে প্রতিবেশী আরেফিনা।

শনিবার ছিল বৌভাতের অনুষ্ঠান। দুপুর ১২টার দিকে অর্ক একাই মোটরসাইকেল নিয়ে রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডের একটি দোকানে যান বিয়ের শেরওয়ানি আনতে।

শেরওয়ানি নিয়ে মোটরসাইকেল নিয়ে কেরানীগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওনা দেন।

দুপুর ২টার দিকে আব্দুল্লাহপুর বাঘাশুর এলাকায় পৌঁছলে একটি মাহেন্দ্র গাড়ির সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।

এতে মোটরসাইকেলটি দুমড়ে মুচড়ে যায়। অর্ক মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়ে মাথায় ও বুকে গুরুতর জখম হয়। তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

রোহিতপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সানজিব হোসেন জানান, বিয়ে উপলক্ষ্যে বাড়িতে চলছিল বৌভাতের অনুষ্ঠান। প্রতিবেশী ও স্বজনরা বৌভাতের অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে খাওয়াদাওয়া শুরু করে।

এমন অবস্থায় অর্কের মৃত্যুর খবর আসে। মুহুর্তেই বিয়ে বাড়ি শোকে পরিণত হয়।

জটুডে / এহাই