দেশে ২৪ ঘণ্টায় করোনায় নতুন আক্রান্ত ১৮২ জন, মৃত্যু ৫

জগন্নাথপুর টুডে ডেস্ক::
করোনায় দেশে ২৪ ঘণ্টায় আরও ১৮২ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮০৩ জনে।

এ ছাড়া করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৫ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। এ নিয়ে দেশে মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ৩৯ জনে। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় ৩ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ৪২ জন।

আজ সোমবার স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত অনলাইন ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. জাহিদ মালেক। তিনি আরও বলেন, লকডাউন মানুষ পুরোপুরি মেনে চলছে না। লকডাউন জোড়াল করতে হবে। বাইরে বাজারে মানুষ ঘোরাফেরা করছে। আমাদের কমিউনিটি ট্রান্সমিশন হয়ে গেছে। এখন কেউ নিয়ম না মানলে বেশি সংক্রমিত হবে।

করোনা কেড়ে নিলো আরো ৩ প্রাণ, নতুন আক্রান্ত ৫৮

জগন্নাথপুর টুডে ডেস্ক::
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত হয়ে আরো ৩ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। একই সময়ে ভাইরাসটিতে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৫৮ জন। এ নিয়ে করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ৩০ এবং আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৮২ জনে।

শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুর আড়াইটায় মহাখালীর ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (এমআইএস) বিভাগের মিলনায়তনে করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত অনলাইন স্বাস্থ্য বুলেটিনে এ তথ্য জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

পরে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, যে ৩জনের মৃত্যু হয়েছে তাদের দুজন ঢাকার বাইরের, একজন ঢাকার। নতুন আক্রান্তদের ৪৮ জন পুরুষ, ১০ নারী। নতুন করে সুস্থ হয়েছেন আরো ৩ জন। এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন ৩৬ জন।

এরআগে গতকাল শুক্রবার সারাদেশে করোনাভাইরাসে ৯৪ জন আক্রান্ত হয়েছিল এবং ৬ জন মৃত্যুবরণ করেন।

গত ৮মার্চ দেশে প্রথম করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সন্ধান পাওয়া যায়। প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে নানা পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে; যার মূলে রয়েছে মানুষে মানুষে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা। মানুষকে ঘরে রাখতে রাজপথের পাশাপাশি পাড়া-মহল্লায় টহল দিচ্ছে সশস্ত্র বাহিনী, র‌্যাব ও পুলিশ।

গত বছরের ডিসেম্বরে চীনের হুবেইপ্রদেশের উহান শহর থেকে প্রথম ছড়ায় প্রাণঘাতী এ ভাইরাস। করোনাভাইরাস মহামারীতে এখন অচল গোটা বিশ্ব। হু হু করে বাড়ছে আক্রান্ত রোগী ও মৃত্যুর সংখ্যা।

সাধারণ ছুটির মেয়াদ বাড়লো ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত

জগন্নাথপুর টুডে ডেস্ক::
করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ এড়াতে সাধারণ ছুটির মেয়াদ আগামী ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত জনসাধারণকে ঘরে থাকারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার এই সম্পর্কিত প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে বলেও জানা গেছে। জানা গেছে, ১৫ এপ্রিল ও ১৬ এপ্রিল সাধারণ ছুটি থাকবে। এরপর ১৭ ও ১৮ এপ্রিল সাপ্তাহিক ছুটি থাকবে। পরে ১৯ থেকে ২৩ এপ্রিল সাধারণ ছুটির থাকবে সঙ্গে ২৪ ও ২৫ এপ্রিল সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হবে। ফলে অফিস খুলবে ২৬ এপ্রিল।

প্রথম দফায় ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত, দ্বিতীয় দফায় ১১ এপ্রিল পর্যন্ত ছুটি ঘোষণা করেছিল সরকার। তৃতীয় দফায় ১২ ও ১৩ এপ্রিল ছুটি সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। আর পরদিন পয়লা বৈশাখের ছুটি। এবার নতুন করে ছুটির মেয়াদ বাড়িয়ে ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত করা হয়েছে।

সন্ধ্যার পর বাইরে বের হলে কঠোর ব্যবস্থা

জগন্নাথপুর টুডে ডেস্ক::
করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ এড়াতে সাধারণ ছুটির মেয়াদ আগামী ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত জনসাধারণকে ঘরে থাকারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সন্ধ্যা ৬টার পর কেউ ঘরের বাইরে বের হতে পারবেন না।

এ নির্দেশ অমান্য করলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। শুক্রবার রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব কাজী মোহম্মদ সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ১৫ এপ্রিল ও ১৬ এপ্রিল সাধারণ ছুটি থাকবে। এরপর ১৭ ও ১৮ এপ্রিল সাপ্তাহিক ছুটি থাকবে। পরে ১৯ থেকে ২৩ এপ্রিল সাধারণ ছুটির থাকবে সঙ্গে ২৪ ও ২৫ এপ্রিল সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হবে। ফলে অফিস খুলবে ২৬ এপ্রিল। প্রজ্ঞাপনে আরো বলা হয়, বর্ণিত ছুটি অন্যান্য সাধারণ ছুটির মতো বিবেচিত হবে না। নিম্নে বর্ণিত নির্দেশাবলি কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে।

(১) করোনা ভাইরাসের সংক্রামণ প্রশমনে জনগণকে অবশ্যই ঘরে অবস্থান করতে হবে। (২) অতীত জরুরি প্রয়োজন ব্যতীত ঘরের বাইরে বের না হওয়ার জন্য সকলকে অনুরোধ করা হলো। (৩) সন্ধ্যা ৬টার পর কেউ ঘরের বাইরে বের হতে পারবেন না। এ নির্দেশ অন্যান্য করলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

(৪) এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় চলাচল কঠোরভাবে সীসিত করা হলো (৫) বিভাগ/জেলা/উপজেলা/ইউনিয়ন পর্যায়ে কমরত সকল কর্মকর্তা/কর্মচারীকে দায়িত্ব পালনের জন্য নিজ নিজ কর্মস্থলে অবস্থান করতে হবে। (৬) জরুরি পরিসেবার (বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস, ফায়ার সার্ভিস, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, টেলিফোন ও ইন্টারনেট ইত্যাদি) ক্ষেত্রে এ ব্যবস্থা প্রয়োজ্য হবে না।

কৃষি পণ্য, সার, কীটনাশক, জ্বালানী, সংবাদপত্র, খাদ্য, শিল্প পণ্য, নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহন, কাঁচামাল, ওষুধের দোকান ও হাসপাতাল এ ছুটির আওতাবহির্ভূত থাকবে। (৭) জনগণের প্রয়োজন বিবেচনায় ছুটিকালীন বাংলাদেশ ব্যাংক সীমিত আকারে ব্যাংকিং ব্যবস্থা চালু রাখার প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করবে।

দেশে করোনায় মৃত্যু বেড়ে ২১, নতুন আক্রান্ত ১১২

জগন্নাথপুর টুডে ডেস্ক::
দেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরো ১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ২১ জনে পৌঁছালো।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে করোনা পরিস্থিতি নিয়ে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা: জাহিদ মালেক। সরকারের রোগত্ত¡ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান- আইইডিসিআর জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে মোট ১০৯৭ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরো ১১২ জনের দেহে করোনার উপস্থিতি শনাক্ত করা গেছে। এর মধ্যে পুরুষ ৭০ জন ও মহিলা ৪২ জন। নতুন আক্রান্তদের মধ্যে ৬২ জন ঢাকার ও ৬০ জন ঢাকার বাইরে।

এ নিয়ে মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ৩৩০ জন। এছাড়াও এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন ৩৩ জন।

বঙ্গবন্ধুর খুনি কে এই আবদুল মাজেদ?

জগন্নাথপুর টুডে ডেস্ক::
বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ফাঁসির দন্ডাপ্রাপ্ত আসামী সাবেক ক্যাপ্টেন আবদুল মাজেদকে গ্রেফতারের পর কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। সোমবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মিরপুর সাড়ে ১১ নম্বর এলাকা থেকে তাকে আটক করেন।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দুপুরে তাকে সিএমএম আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাকে জেলহাজতে প্রেরণের আদেশ দেন। গ্রেপ্তারকৃত আব্দুল মাজেদ চার কন্যা ও এক পুত্র সন্তানের জনক। তার স্ত্রী সালেহা বেগম বর্তমানে ঢাকা সেনানিবাসে বসবাস করছেন। ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার বাটামারা গ্রামের মরহুম আলী মিয়া চৌধুরীর ছেলে ক্যাপ্টেন আবদুল মাজেদ।

১৯৭৫ সালে ধানমন্ডির ৩২ নম্বর রোডে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যাকান্ডের সময় তিনি অন্যান্য আসামিদের সঙ্গে সরাসরি অংশগ্রহণ করেন। হত্যাকান্ড শেষে তিনি বঙ্গবন্ধু হত্যার অপর আসামি মেজর শাহরিয়ারসহ অন্যান্য সেনা সদস্যদের সঙ্গে রেডিও স্টেশনে দায়িত্ব পালন করেন।

এছাড়াও তিনি দেশ ত্যাগের পূর্ব পর্যন্ত বঙ্গভবনে বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি হত্যাকান্ডে অংশগ্রহণকারী অফিসারদের সঙ্গে বাংলাদেশ থেকে ব্যাংকক হয়ে লিবিয়া গমন করেন। তিনি সেখানে অন্যান্য অফিসারদের সঙ্গে তিন মাস অবস্থান করেন। অবস্থানকালীন সময়ে হত্যাকান্ডের পুরস্কার হিসেবে তৎকালীন সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমান তাকে সেনেগাল দূতাবাসে বদলির আদেশ দেন।

পরবর্তীতে ১৯৮০ সালের ২৬ মার্চ জিয়াউর রহমান সরকার ক্যাপ্টেন আবদুল মাজেদকে বিআইডব্লিউটিসিতে চাকরি দেন এবং উপসচিব পদে যোগদানের সুবিধার্থে সেনাবাহিনী চাকরি থেকে তিনি অবসর নেন। পরবর্তীতে তাকে সচিব পদে পদোন্নতি দেয়া হয়। এরপর তিনি মিনিস্ট্রি অফ ইয়ুথ ডেভেলপমেন্টে ডাইরেক্টর ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট পদের জন্য আবেদন করেন এবং উক্ত পদে যোগদান করেন।

সেখান থেকে তিনি ডাইরেক্টর অফ হেড অফ ন্যাশনাল সেভিংস ডিপার্টমেন্টে বদলি হন। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের বিচার কার্য শুরু করলে তিনি আটক হওয়ার ভয়ে আত্মগোপন করেন।

দেশে করোনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৭, নতুন শনাক্ত ৪১

জগন্নাথপুর টুডে ডেস্ক::
দেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরো ৫ জনের মৃত্যুর কথা নিশ্চিত করেছে সরকারের রোগতত্ত¡, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান- আইইডিসিআর। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত মোট ১৭ জনের প্রাণহানি ঘটলো।

মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর মহাখালীর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে করোনা পরিস্থিতি নিয়ে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরো ৪১ জনের দেহে করোনার উপস্থিতি শনাক্ত করা গেছে।

এ নিয়ে মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দাড়ালো ১৬৪ জন। এছাড়াও এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন ৩৩ জন।

করোনায় আক্রান্ত হয়ে দুদক পরিচালকের মৃত্যু

জগন্নাথপুর টুডে ডেস্ক::
এবার করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একজন পরিচালক। ২২তম বিসিএস ক্যাডার এই দুদক পরিচালকের বয়স ৪৫ বছর। দুদক সূত্রে জানা যায়, ২২ মার্চ প্রথম দফায় জ্বর আসে এই দুদক কর্মকর্তার। তখন তাপমাত্রা কম থাকায় তিনি নির্বাহী কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন।

দ্বিতীয় দফায় ২৪-২৫ তারিখ তার আবারো জ্বর আসে। তখনও তাপমাত্র কম ছিল। জ্বরের সঙ্গে হালকা কাশিও ছিল। দু’দিন পর তিনি সুস্থ হয়েছে যান। তবে জ্বর নিয়ে তিনি অফিস করেন। তৃতীয় দফায় ৩০ তারিখ তার পুনরায় জ্বর আসে। এরার তাপমাত্রা বেশি ছিল। সেদিনই তিনি আইইডিসিআরকে জানান। পরে আইইডিসিআর তার নমুনা সংগ্রহ করে এবং রাতেই তাকে করোনা পজিটিভ বলে জানানো হয়।

এরপর তাকে কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছিল। হাসপাতালে চিতিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার সকালে তিনি মারা যান। ২৪-২৫ মার্চ অফিস করার সময় এই দুদক কর্মকর্তার সংস্পর্শে আসা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়েছে। সরকারিভাবে ঘোষণা করা না হলেও এই মৃত্যুর মাধ্যমে দুই অঙ্কে পৌঁছল বাংলাদেশে করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা।

গুজব ঠেকাতে নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকতে হবে : ওবায়দুল কাদের

জগন্নাথপুর টুডে,ডেস্ক ::
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের দেশের সঙ্কটময় মুহূর্তে কেউ যাতে গুজব ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে না পারে সেজন্য দলের নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘দেশের সঙ্কটময় মুহূর্তে একশ্রেণির মতলবাজ গুজব ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। জনগণ যাতে অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হয়, সেজন্য সচেতনতামূলক কর্মসূচি নিতে দলের নেতাকর্মীদের সর্বদা সতর্ক পাহারায় থাকতে হবে।’ ওবায়দুল কাদের শুক্রবার দুপুরে সংসদ ভবনের সরকারি বাসভবনে এক ভিডিও বার্তার মাধ্যমে এ নির্দেশনা প্রদান করেন।

জনগণকে অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘একটি বিষয় না বললেই নয়, এই সঙ্কট সন্ধিক্ষণেও একশ্রেণির মতলববাজ মহল গুজব সৃষ্টির মাধ্যমে চরিত্রহনন- ফেসবুকে অপপ্রচার করে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করার অশুভ পাঁয়তারায় লিপ্ত রয়েছে।

এই মতলববাজ মহলটি দেশের এই সঙ্কটেও অসভ্য খেলায় মেতে উঠেছে।’ তিনি বলেন, ‘এদের ব্যাপারে আমাদের সবাইকে সজাগ থাকতে হবে জনগণকে সতর্ক থাকতে হবে। পার্টির নেতাকর্মীদেরকে সচেতনতা কর্মসূচিতে অংশ নিতে হবে যাতে জনগণ অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হয়। আমাদের নেতাকর্মীদের সর্বদা সতর্ক পাহারায় থাকতে হবে।

’ করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে দলীয় নেতাকর্মীসহ দেশের সবাইকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৩১ দফা অক্ষরে অক্ষরে পালন করার আহ্বান জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী প্রশাসন সেনাবাহিনী আমাদের নেতা কর্মী জনপ্রতিনিধি ও দেশের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ সামর্থ অনুযায়ী সবাই এগিয়ে আসছেন।

চিকিৎসক-নার্সসহ আমাদের স্বাস্থ্যকর্মীরা তাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করে যাচ্ছেন। দায়িত্ব পালনে কেউ কোনো অবহেলা করছেন না। তিনি বলেন, এই সঙ্কট সন্ধিক্ষণে নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষ আজ কষ্ট পাচ্ছে। একদিকে শেখ হাসিনার সরকার এদের জন্য সাহায্য সহযোগিতা নিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে আমাদের পার্টির প্রতিনিধি, জনপ্রতিনিধি সমাজের বিত্তবানরা এগিয়ে এসেছেন- এটা অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক দিক।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, করোনা সঙ্কটের কারণে সারা বিশ্ব এক ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে চলছে। জাতিসংঘের মতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্বে এমন ভয়াবহ সঙ্কট কখনো সৃষ্টি হয়নি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, কবে যে এই সঙ্কটের শেষ হবে তা এখনো পর্যন্ত কেউ সঠিকভাবে বলতে পারছেন না। ওবায়দুল কাদের বলেন, দেশে দেশে সঙ্কট আরো ঘনীভূত হচ্ছে।

বাংলাদেশে আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এই পরিস্থিতি মোকাবেলা করে যাচ্ছি অত্যন্ত ধৈর্য ও সাহসিকতার সাথে। সঙ্কট মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুযায়ী সরকার সময়োচিত যথাযথ দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করে যাচ্ছে। এর আগে ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ উপকমিটির উদ্যোগে বিভিন্ন হাসপাতাল ও সামাজিক সংগঠনের মাঝে করোনা প্রতিরোধে উপকরণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী এসব কার্যক্রম পরিচালনা করেন। এ সময়ে আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক ডা. রোকেয়া সুলতানা, উপ-দপ্তর সম্পাদক সায়েম খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

‘মানুষকে সচেতন করা গেছে বলেই করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে ’

জগন্নাথপুর টুডে ডেস্ক::
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, করোনা সংকট মোকাবেলায় মূল কাজ হলো মানুষকে সচেতন করা। মানুষকে সচেতন করা গেছে বলেই করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আজ মঙ্গলবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন গণভবন থেকে ৬৪ জেলার সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে এ কথা বলেন তিনি।

এ সময় তিনি বলেন, করোনার উপসর্গ দেখা দিলে তা লুকানো যাবে না। উপসর্গ দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে টেস্ট করাতে হবে। লুকাতে যেয়ে নিজের সর্বনাশ করবেন না, পরিবারের সর্বনাশ করবেন না। তিনি আরও বলেন, করোনা প্রতিরোধে দেওয়া নির্দেশনাগুলো যথাযথভাবে মেনে চলবেন। জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন, সরকারি ও বেসরকারি সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের কাছে আমাদের খাদ্য ও চিকিৎসাসহ সব ধরনের সাহায্য পৌঁছে দিতে হবে।

খেয়াল রাখতে হবে, তারা যেন অভুক্ত থেকে না যায়। বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের পর আসন্ন বিশ্বমন্দা কাটিয়ে উঠতে দেশবাসীকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, করোনা পরবর্তী বিশ্ব মন্দা মোকাবেলায় আমাদের প্রস্তুতি নিতে হবে। কারো আবাদি জমি ও জলাশয় যেন পড়ে না থাকে। যার যেখানে যতটুকু জমি আছে সেখানে যে যা পারেন চাষ করুন।

বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেশ ও দেশের বাইরে থেকে অনেকে গুজব ছড়ানোর চেষ্টা করছেন বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর দেশবাসীর কাছে তিনি অনুরোধ করে বলেন, আপনারা গুজব ছড়াবেন না, গুজবে কান দিবেন না, বিচলিত হবেন না। করোনার সংক্রমণ এড়াতে আসন্ন পহেলা বৈশাখে জনসমাগম এড়ানোর আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, অনেক বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে আমরা নববর্ষ পালন করে এসেছি।

তবে এবার জনসমাগম না করে স্বল্প পরিসরে ও ডিজিটাল পদ্ধতিতে দেশব্যাপী এই উৎসব পালনের করার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি এই পরিস্থিতিতে দ্রব্যমূল্য যেন নিয়ন্ত্রণে থাকে সেদিকে নজর রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানান তিনি। উল্লেখ্য, রোগতত্ত¡র, রোগনিয়ন্ত্রণ এবং গবেষণা ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী দেশে এ পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৯ জনে। এর মধ্যে পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে আর ১৯ জন সুস্থ হয়েছেন।