আগামীকাল মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) থেকে দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ৩১ মার্চ পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করছে সরকার

ডেস্ক নিউজ::
আগামীকাল মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) থেকে দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করছে সরকার। আপাতত ৩১ মার্চ পর্যন্ত সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। সোমবার বিকালে এ সংক্রান্ত আদেশ জারি হবে। শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী এ তথ্য জানান।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব আকরাম-আল-হোসেন বলেন, ‘শিক্ষা মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে আমরাও বন্ধ ঘোষণা করবো। বিকালে বৈঠক করে বিষয়টি চূড়ান্ত করা হবে।

৬৭ বছরে ইত্তেফাক, ঐতিহ্যের পথ ধরে তারুণ্যের আলোয়

ডেক্স রিপোর্ট::
আজ দৈনিক ইত্তেফাক ৬৭ বছরে পা দিল। ১৯৫৩ সালের ২৪ ডিসেম্বর ইত্তেফাক দৈনিক হিসেবে যাত্রা শুরু করে। ঐতিহ্যবাহী এই সংবাদপত্রের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শুভলগ্নে বাংলাদেশের জনগণের প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা, প্রীতি ও শুভেচ্ছা। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে দৈনিক ইত্তেফাক হয়ে উঠেছে গণমানুষের মুখপত্র। দেশবাসীর অকুণ্ঠ সমর্থন, পাঠকদের আস্থা ও সীমাহীন ভালোবাসাই ছিল দৈনিক ইত্তেফাকের সুদীর্ঘ পথচলার শক্তি ও সাহস।

সাংবাদিকতার মূল লক্ষ্যই হচ্ছে সময়ের দাবি মেটানো। সেই দিক থেকে দৈনিক ইত্তেফাক তার প্রতিষ্ঠাকাল থেকেই সময়ের দাবি মিটিয়ে এসেছে। সহজ করে বললে, মানুষের অধিকরের কথা বলে এসেছে। আজ এত বছর পরে মহান মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার স্বপ্ন-লালিত যে বাংলাদেশ আমরা পেয়েছি, দৈনিক ইত্তেফাক সেই জাতি-রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য নিজেকে উৎসর্গ করেছিল। সেই পথ ছিল অত্যন্ত কঠিন। কিন্তু সৎ সাংবাদিকতা ছিল সেই কঠিন পথ পাড়ি দেওয়ার মন্ত্র। সৎ সাংবাদিকতার সেই মন্ত্র ইত্তেফাক আজও হৃদয়ে ধারণ করে চলেছে। তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার সময়কাল থেকে যা শুরু হয়েছে, তা প্রজন্মের পর প্রজন্ম পেরিয়ে আসার পর উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া সেই দায়ভার ইত্তেফাক বহন করে চলেছে, ভবিষ্যতেও বহন করে যাবে।

মূলত জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া ও দৈনিক ইত্তেফাক এই ত্রয়ী এক হয়ে বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলন এক সর্বোচ্চ সীমাকে স্পর্শ করেছিল। তারই পথ ধরে মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে।

মহান মুক্তিযুদ্ধ দৈনিক ইত্তেফাকের নিরন্তর প্রেরণার উৎস। আজকের শুভক্ষণে তাই দৈনিক ইত্তেফাক গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছে বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনে নিহত শহিদদের, মহান মুক্তিযুদ্ধে শহিদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের। যাঁদের ত্যাগ, পরামর্শ ও ভালোবাসায় দৈনিক ইত্তেফাক কয়েক প্রজন্ম পেরিয়ে এসেছে, তাদের আজ আমরা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি।

দৈনিক ইত্তেফাক তাই আজ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছে গণতন্ত্রের মানসপুত্র হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও নির্ভীক সাংবাদিক তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়াকে। তাদের সীমাহীন প্রেরণা, ভালোবাসা ও ত্যাগের বিনিময়ে দৈনিক ইত্তেফাক এই দীর্ঘ পথ পেরিয়ে আসার শক্তি পেয়েছে। আমরা স্মরণ করছি ইত্তেফাকের সঙ্গে যুগে যুগে যুক্ত থাকা সব সাংবাদিক, কর্মচারী ও কর্মীদের, যাদের নিরলস পরিশ্রম এই প্রতিষ্ঠানকে সচল রেখেছে।

১৯৭১ সালের ১ মার্চের সামরিক আইনের বিধান অগ্রাহ্য করেই ইত্তেফাক পত্রিকা সেই সময়কার অসহযোগ আন্দোলনের খবর নিয়মিতভাবে গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করে। অথচ সরকার আপত্তিকর সংবাদ পরিবেশনের দায়ে ১০ বছরের কারাদন্ডের বিধান করেছিল। কিন্তু দৈনিক ইত্তেফাক তার কোনো তোয়াক্কা করেনি। মানুষের মুক্তির প্রশ্নে, স্বাধীনতার প্রশ্নে অস্থিত্ব বিলীনের ঝুঁকি অগ্রাহ্য করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতি নিরবচ্ছিন্নভাবে সমর্থন জুগিয়ে যায়। ইত্তেফাকের এই ভূমিকা উপমহাদেশের সংবাদপত্রের ইতিহাসের একটি উজ্জ্বল অধ্যায়।

মহান মুক্তিযুদ্ধে ২৫ মার্চ রাতে দৈনিক ইত্তেফাক ভবন পুড়িয়ে দেওয়া হয়। পাকিস্থানি সামরিক জান্তা অন্যান্য স্থাপনার সঙ্গে দৈনিক ইত্তেফাককেও নিশ্চিহ্ন করতে চেয়েছিল, কিন্তু মানুষের ভালোবাসায় বারবার ধ্বংসস্ত’প থেকে মাথা উঁচু করে উঠে দাঁড়িয়েছে দৈনিক ইত্তেফাক।

মুক্তিযুদ্ধের পরে নতুন বাস্তবতায় দৈনিক ইত্তেফাক নতুন আঙ্গিকে প্রকাশিত হচ্ছে। স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে ইত্তেফাক জনগণের চাওয়া-পাওয়াকে গুরুত্ব দিয়ে সংবাদ পরিবেশন করেছে। মানুষের সুখ-দুঃখের ভাগীদার হয়েছে। দেশ গড়ার নতুন সংগ্রামে নেমেছে। রাজনৈতিক মুখপত্রের বলয় থেকে বেরিয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের অবস্থান নিয়ে তাদের সাংবাদিকতা অগ্রসর হচ্ছে এখন। সময়ের দাবি মেটাতে ইত্তেফাকের বিন্যাসে অনেক পরিবর্তন এসেছে। কিন্তু সত্য, ন্যায়, গণতন্ত্র এবং বাংলাদেশের মানুষের অধিকারের প্রশ্নে ইত্তেফাকের অবস্থান প্রতিষ্ঠার পর থেকে কখনো বদলায়নি।

দৈনিক ইত্তেফাক কখনোই বাণিজ্যের জন্যে কিংবা কাউকে সমাজে হেয় করার জন্য সংবাদ পরিবেশন করেনি। ইত্তেফাক কখনোই রাগ-বিদ্বেষ চরিতার্থ করতে সংবাদ পরিবেশন করেনি। প্রতিষ্ঠাকাল থেকে ইত্তেফাকের সেই পুরনো আদর্শই এখনো একমাত্র সম্পাদকীয় নীতি। আর তা হলো, নিরপেক্ষ এবং নির্ভীক সাংবাদিকতার ধারা অনুসরণ এবং গণমানুষের মনে স্বাধীনতা সংগ্রামের মূল চেতনাকে বাঁচিয়ে রাখা, সাম্প্রদায়িকতা ও মৌলবাদের সঙ্গে আপস না করা এবং গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে অবিচল থাকা। দৈনিক ইত্তেফাক প্রকাশনার প্রথম দিন থেকে এ নীতির পথ থেকে সরে আসেনি।

বাংলাদেশের স্বাধিকার আন্দোলনে দৈনিক ইত্তেফাক এক অসামান্য ভূমিকা পালন করেছিল। সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে সোচ্চার থেকে আপোষহীনভাবে সত্য প্রকাশ করে গেছে। এটাও অনস্বীকার্য যে, দৈনিক ইত্তেফাক আর এই সংবাদপত্রের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া ছিলেন সমার্থক। বস্তুত তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার গণতন্ত্রের প্রতি অনমনীয় অবস্থান, ক্ষুরধার লেখনী দৈনিক ইত্তেফাকের মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়েছে। মানিক মিয়ার মানস দর্পণ ছিল যেন ইত্তেফাকের প্রতিটি পৃষ্ঠা। নীতির প্রশ্নে, বাংলার মানুষের অধিকারের বিষয়ে তিনি কখনো আপস করেননি।

দৈনিক ইত্তেফাক ছিল তার সেই সংগ্রামী জীবনের প্রধান হাতিয়ার। গণমুখী সাংবাদিকতার পথিকৃৎ এ ব্যক্তিত্ব দেশের সাংবাদিকতাকে একটানে বদলে দিয়েছিলেন। মানুষের প্রত্যাশা, বেদনাকে জোরালোভাবে তুলে ধরার এক আশ্চর্য ক্ষমতা ছিল তার। দৈনিক ইত্তেফাক প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সাংবাদিকতাকে অবলম্বন করে জীবনব্যাপী তিনি এদেশের মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন।

একসময়ে তদানীন্তন পাকিস্থান সরকারের সামরিক শাসক দৈনিক ইত্তেফাকের প্রকাশনা বন্ধ করে দেয়। সে সময়ে তৎকালীন পাকিস্থান সরকারের সঙ্গে আপস করলে মানিক মিয়া ইত্তেফাক প্রকাশনা অব্যাহত রাখতে পারতেন। কিন্তু তিনি এবং তার চেতনায় উদ্বুদ্ধ সাংবাদিক শ্রেণি জনমানুষের সংবাদপত্রের প্রতি যে বিশ্বাস তার সঙ্গে আপস করেননি। তিন বছর পত্রিকা প্রকাশ বন্ধ রেখেছিলেন। পত্রিকার সাংবাদিকরাও অবর্ণনীয় কষ্ট সহ্য করেছিলেন কিন্তু কেউই মাথা নোয়ায়নি। মানিক মিয়ার আদর্শের প্রতি প্রত্যেকে সামরিক জান্থা ও স্বৈরাচারী শাসকের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে নির্ভীক সাংবাদিকতার যে উদাহরণ তিনি সৃষ্টি করে গেছেন তা পৃথিবীর ইতিহাসে এক বিরল দৃষ্টান্ত।

১৯৬৬ সালের ৬ নভেম্বর আওয়ামী লীগ ৬ দফা কর্মসূচির ভিত্তিতে পূর্ব পাকিস্তানের পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন দাবি করে। দৈনিক মর্নিং নিউজ, দৈনিক পাকিস্থান ও দৈনিক আজাদ ৬ দফার বিরোধিতা করে। দৈনিক ইত্তেফাক ৬ দফার পক্ষে অবস্থান শুধু নয়, অন্যতম প্রচারকের ভূমিকা পালন করে। ১৬ জুন ১৯৬৬ ইত্তেফাক সম্পাদক তফাজ্জল হোসেন গ্রেফতার হন ও পরদিন পত্রিকাটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। এমনকি নিউ নেশন প্রেসও বন্ধ করে দেয়। প্রায় দশ মাস পর ১৯৬৭ সালের ২৯ মার্চ মানিক মিয়া মুক্তি পান। এ সময় দৈনিক ইত্তেফাক প্রকাশ করার জন্য সম্পাদকের ওপর চাপ প্রয়োগ করা হয়।

কিন্তু সম্পাদক সাফ জানিয়ে দেন—‘ইত্তেফাক যদি তার ঐতিহ্য অনুসরণ করে প্রকাশিত হতে না পারে তবে তিনি সে ইত্তেফাক প্রকাশে আগ্রহী নন।’ অবশেষে প্রেস মুক্ত হয়। ১০ ফেব্রæয়ারি ইত্তেফাক পুনর্জন্ম লাভ করে। ১৯৬৯ সালে তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া আকস্মিক ইন্তেকাল করেন। তার মৃত্যুর পর ইত্তেফাক প্রকাশনা অব্যাহত থাকে এবং বাঙালির অধিকার আদায়ের সংগ্রামে ও স্বাধীনতা আন্দোলনে সরাসরি সমর্থন দেয় ও সম্পাদকীয় সচিত্র প্রতিবেদন, ফিচার প্রকাশপূর্বক নানাভাবে সমর্থন দেয়, গড়ে ওঠে জনমত। বিশেষ করে ১৯৭০ সালের নির্বাচন, আওয়ামী লীগের বিপুল বিজয়, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরে পাকিস্থানিদের অনীহা ও ষড়যন্ত্র এবং চূড়ান্ত পর্যায়ে ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণ ও সর্বাত্মক অসহযোগের আহ্বান থেকে ২৫ মার্চ রাতে আক্রান্ত হবার পূর্ব পর্যন্ত দৈনিক ইত্তেফাক অনন্য সাধারণ ও গৌরবময় ভূমিকা পালন করে।

আওয়ামী লীগের সম্মেলন উদ্বোধন করেছেন শেখ হাসিনা

ডেস্ক রিপোর্ট::
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এই উপমহাদেশের ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় সম্মেলনের উদ্বোধন করেছেন।

আজ শুক্রবার বিকেল ৩ টা ৫মিনিটে প্রধানমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগ সভাপতি বেলুন ও শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এর আগে তিনি জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। এ সময় সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশিত হয়।

দুইদিন ব্যাপী এবারের জাতীয় কাউন্সিলে আওয়ামী লীগের শ্লোগান হচ্ছে, ‘শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন পূরণে গড়তে সোনার দেশ, এগিয়ে চলেছি দুর্বার, আমরাই তো বাংলাদেশ’।

সম্মেলনের কাউন্সিল অধিবেশন ২১ আগামীকাল শনিবার সকাল ১০ টায় রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠিত হবে।

সম্মেলনে সারাদেশ থেকে আগত প্রায় ৭ হাজার কাউন্সিলর এবং ১৫ হাজার ডেলিগেটসহ ৫০ হাজার নেতাকর্মী ও আমন্ত্রিত অতিথি অংশ গ্রহণ করছেন।

১৯৪৯ সালের ২৩ জুন রোজ গার্ডেনে জন্ম আওয়ামী লীগের। এখন ঐতিহ্যবাহী এই দলটির বয়স ৬৭ বছর। এ পর্যন্ত দলটির ২০ টি জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এর আগে দুই দিনব্যাপী বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় সম্মেলন ২০১৬ সালের ২২ ও ২৩ অক্টোবর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে শেখ হাসিনা সভাপতি ও ওবায়দুল কাদের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।
সূত্র ইত্তেফাক::

বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

ডেস্ক রিপোর্ট::
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শনিবার সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে রাজধানীর ধানমন্ডি-৩২ নম্বরের বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধুর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সেখানে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।
শেখ হাসিনা দলীয় প্রধান হিসেবে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে আরেকটি পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর সদস্যরা তাদের স্থানীয় দোসর আলবদর, রাজাকার, আলশামস-এর সহায়তায় জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান শিক্ষক, সাংবাদিক, চিকিৎসক, শিল্পী, প্রকৌশলী ও লেখকসহ দুই শতাধিক বুদ্ধিজীবীকে ধরে নিয়ে যায় এবং মিরপুর, মোহাম্মদপুর, নাখালপাড়া, রাজারবাগসহ বিভিন্নস্থানে নির্যাতন কেন্দ্রে নির্যাতন করে হত্যা করে। এর মধ্যে রায়েরবাজার ও মিরপুর ছিল উল্লেখযোগ্য।এরপর থেকেই দিনটি শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

শিক্ষার্থীদের উস্কানিদাতাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা: প্রধানমন্ত্রী

আন্দোলনের নামে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালগুলোতে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির জন্য দায়ীদের কঠোর সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, উস্কানি দিয়ে শিক্ষার্থীদের ভুল পথে নেওয়াকে কেউ মেনে নিতে পারে না। যারা বিশ্ববিদ্যালয়য়ের শিক্ষার্থীদের উস্কানি দিচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমুলক ব্যবস্থা নেয়া হবে। সবাইকে মনে রাখতে হবে উচ্চ শিক্ষার এসব প্রতিষ্ঠান সরকারি অর্থে পরিচালিত হয়। উস্কানি দিয়ে শিক্ষার্থীদের বিপদগামী করে আবার মিষ্টি মিষ্টি কথা বলা কখনো মেনে নেওয়া যায় না। আর তা যদি করতে হয় তাহলে নিজেদের অর্থ নিজেদের জোগান দিতে হবে।’

শনিবার দুপুরে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় শ্রমিক লীগের ১৩ তম জাতীয় সম্মেলনের উদ্ধোধনকালে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এ সব কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘নিজেদের বেতন নিজেরা দেবে এবং নিজেদের খরচ নিজেরাই চালাবে, সরকার সব টাকা বন্ধ করে দেবে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান। সরকার কেন টাকা খরচ করবে। সেটাও তাদের চিন্তা করতে হবে, তারা কোনটা করবে।’

এর আগে প্রধানমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে এই সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন এবং জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। তাঁর সরকারের লক্ষ্য দেশের মানুষের কল্যাণ এবং উন্নয়ন করা, যে লক্ষ্যে সরকার কাজ করে যাচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে স্বল্প ব্যয়ে উচ্চশিক্ষার যে সুযোগ সরকার দিচ্ছে তার বিস্তারিত তুলে ধরেন।

সরকার প্রধান বলেন, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বায়ত্তশাসন আছে একথা সত্যি। কিন্তু টাকাটা তো সরকার দিচ্ছে। সরকারের দেয়া টাকা ইউজিসিতে (বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন) যায়, সেখান থেকে প্রত্যেক বিশ্ববিদ্যালয়ে দেওয়া হয় এবং সমস্ত শিক্ষকদের বেতন-ভাতা, যা কিছু তারা পাচ্ছেন তা দেওয়া হয়।

বিশ্বের আর কোথাও বাংলাদেশের মত এত স্বল্প খরচে উচ্চ শিক্ষার সুযোগ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, একজন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া শিক্ষার্থীর মাসে শিক্ষা ব্যয় দেড়শ’টাকার বেশি হয় না। যদি বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যান তবে, দেখবেন কত লাখ টাকা লাগে প্রতি সেমিস্টারে। প্রায় দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা খরচ হয় এক একজন শিক্ষার্থীর পেছনে । প্রকৌশল বা কারিগরি শিক্ষায় আরো বেশি টাকা খরচ হচ্ছে । কাজেই সেখানে শৃঙ্খলা থাকতে হবে।

আমাদের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয় শিক্ষা ব্যয়ের জোগান সরকারকেই দিতে হয় উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন,‘ সেখানে ডিসিপ্লিন থাকবে,শিক্ষার্থীরা উপযুক্ত শিক্ষা পাবে এবং নিজেদের জীবনকে সুন্দরভাবে গড়ে তুলবে সেটাই আমরা চাই।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন- পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় কী আমরা তা বুঝি না। যারা পড়াশোনা নষ্ট করে সেখানে ধর্মঘট করে দিনের পর দিন কর্মঘন্টা নষ্ট করবেন। ছেলে-মেয়েদের পড়া-শোনা ব্যহত করবেন ,তারাই সব বুঝবেন । আর আমরা বুঝবো না, এটাতো হয় না। অর্থ সরকার দেবে। সবরকম উন্নয়ন প্রকল্প সরকার বাস্তবায়ন করবে। আর সেখানে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে না, এটাও হতে পারে না।’

দাবি মেনে নেওয়ার পরেও ক্ষেত্র বিশেষে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন অব্যাহত রাখার যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়া এবং শিক্ষার সময় যেন নষ্ট না হয়। উপযুক্ত সময়ে তাঁরা ভাল রেজাল্ট করবে এবং তাঁরা জীবনকে সুন্দরভাবে গড়ে তুলবে, সেটাই আমরা চাই।’

তিনি বলেন,‘ দেশের আইনে আছে কেউ যদি কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলে এবং সেটা যদি প্রমাণিত না হয় অভিযোগকারীর ঐ আইনে বিচার হয়,সাজা হয়। কাজেই যারা কথা বলছেন তারা আইনগুলো ভালভাবে দেখে নেবেন। আমাদের প্রবৃদ্ধি ৮ দশমিক ১৩ ভাগে আমরা উন্নীত করতে সক্ষম হয়েছি ’উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, ‘মাথাপিছু আয় এক হাজার ৯০৯ মার্কিন ডলারে উন্নীত করেছি এবং শতভাগ শিক্ষার্থী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে লেখাপড়া শিখছে।’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, শ্রম এবং কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মুন্নুজান সুফিয়ান এবং আওয়ামী লীগের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ সম্মেলনে বক্তৃতা করেন।

বিএনপি নেতা সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকা আর নেই

টুডে ডেস্ক:

ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যোন সাদেক হোসেন খোকা আর নেই (ইন্নালিল্লাহি… রাজিউন)। সোমবার বাংলাদেশ সময় ২ টা ১৫ মিনিটে নিউইয়ার্কে ম্যানহাটনের স্লোন ক্যাটরিং ক্যানসার সেন্টার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইং সদস্য শায়রুল কবির খান গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।​

এছাড়া মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে সাদেক হোসেন খোকার ছেলে ইশরাক হোসেন ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন। এতে তিনি লেখেন, ‘আমার বাবা অবিভক্ত ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকা নিউইয়র্ক সময় রাত ২:৫০ মিনিটে ও বাংলাদেশ সময় দুপুর ১:৫০ মিনিটে ইন্তেকাল করেছেন। পরিবারবর্গের পক্ষ থেকে পরবর্তী তথ্য জনানো হবে।’

২০১৪ সালের ১৪ মে মাসে সাদেক হোসেন খোকা চিকিৎসার জন্য যুক্তরাষ্ট্র যান। এরপর থেকে সেখানেই চিকিৎসাধীন ছিলেন। এ সময়কালে দেশে তার বিরুদ্ধে কয়েকটি দুর্নীতি মামলা হয়। এর কয়েকটিতে তাকে সাজাও দেয়া হয়েছে।

২০০২ সালের ২৫ এপ্রিল অবিভক্ত ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র নির্বাচিত হন খোকা। ২৯ নভেম্বর ২০১১ সাল পর্যন্ত টানা ১০ বছর বিএনপি ও আওয়ামী লীগের শাসনামলে ঢাকা মহানগরের মেয়র ছিলেন তিনি।

বাংলার মাটিতে রাজাকার, খুনি, তাদের দোসরদের স্থান হবে না: প্রধানমন্ত্রী

টুডে ডেস্ক:

জাতির পিতা এবং জাতীয় চার নেতা হত্যাকাণ্ডের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুনরায় স্বাধীনতা বিরোধীদের অভিযুক্ত করে বলেছেন, বাংলার মাটিতে রাজাকার, খুনি এবং তাদের দোসরদের কোনো স্থান হবে না।প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রাজাকার, খুনি, আলবদর এবং আল শামস এবং ’৭৫’র ১৫ আগস্ট এবং ৩ নভেম্বরের খুনিদের যারা দোসর, খুনিদের মদদদাতা তাদের কারোও স্থান বাংলার মাটিতে ভবিষ্যতে কোনোদিন ইনশাল্লাহ হবে না।’ প্রধানমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা আজ রবিবার বিকেলে রাজধানীর খামারবাড়িস্থ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে জেলহত্যা দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আয়োজিত স্মরণ সভায় সভাপতির ভাষণে একথা বলেন।প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষকে সেভাবেই চিন্তা করতে হবে, এই দেশ যেন আবারো ঐ খুনিদের রাজত্ব না হয়। বাংলাদেশের উন্নয়নের গতিধারা যেন অব্যাহত থাকে। গণতান্ত্রিক ধারা যেন অব্যাহত থাকে।’ সরকার প্রধান বলেন, ‘আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে যারা অংশগ্রহণ করেছে, শহীদ হয়েছে, যাঁদের মহান আত্মত্যাগের বিনিময়ে এই স্বাধীনতা, সেই স্বাধীনতা কখনও ব্যর্থ হতে পারে না। ব্যর্থ হয় নাই এবং ভবিষ্যতেও আর কেউ তা ব্যর্থ করতে পারবে না।’চলমান সন্ত্রাস এবং দুর্নীতি ও মাদক বিরোধী অভিযান অব্যাহত রাখার দৃঢ় প্রত্যয় পূণর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে, জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে, মাদক এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে যে অভিযান সেটা অব্যাহত থাকবে।’ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের স্মরণ সভায় প্রারম্ভিক বক্তব্য প্রদান করেন এবং স্মরণ সভাটি পরিচালনা করেন দলের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এবং উপপ্রচার সম্পাদক মো. আমিনুল ইসলাম। স্মরণ সভায় বক্তৃতা করেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সাবেক শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু এবং সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, সাবেক আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আব্দুল মতিন খসরু এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন এমপি। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রিয় সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, বীর বিক্রম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ এবং অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক ও বক্তৃতা করেন।

চালক-পথচারী উভয়কেই সচেতন থাকতে হবে-প্রধানমন্ত্রী

টুডে ডেস্ক:

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘চলাফেরার সময় পথচারীদের যেমন দায়িত্ব আছে, তেমনি চালকদেরও দায়িত্ব আছে। সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।’ মঙ্গলবার সকালে রাজধানীতে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবসের আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন।

রাস্তা পারাপারে পথচারীদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘চলাফেরায় সচেতন থাকতে হবে সবাইকে। দুর্ঘটনা ঘটলে দেখতে হবে আসলে দোষ কার। পথচারীদের যেমন দায়িত্ব আছে, তেমনি যারা চালান তাদেরও দায়িত্ব আছে। পেছন দেখে চলতে হবে। দায়িত্ব নিজের। এটা সড়কপথের পাশাপাশি রেলপথের ক্ষেত্রেও। রেলপথে আরও সতর্ক হতে হবে ক্রসিংয়ে গেলে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এটাতো একটা যান্ত্রিক বিষয়। ট্রেন চলে আসলো, সামনে ক্রসিং লক্ষ্য রেখে যেতে হবে। না হলে দুর্ঘটনা কমানো সম্ভব নয়। সবার সহযোগিতা দরকার। আবারও বলছি, সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। ধৈর্য ধরতে হবে। শুধু চালককে দুষলে হবে না। আমরাও সড়ক উন্নয়ন করছি। দুর্ঘটনা কমে এসেছে। সচেতন হলে একেবারেই কমে আসবে।’

গাড়ির নকশা পরিবর্তন করে রাস্তায় নামালে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রাস্তা বিবেচনা করে সবাইকে গাড়ি চালাতে হবে। নকশা পরিবর্তন করে গাড়ি বড় করা যাবে না। আরেকটি গাড়ি যাওয়ার সাইট বিবেচনা করতে হবে। এটা না করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘চার-লেনের রাস্তা করার ব্যবস্থা করছি সারাদেশে। ইতোমধ্যে অনেক সড়ক চার-লেন হয়েছে। যাতে দুর্ঘটনা কমে সেভাবে কাজ করা হচ্ছে। প্রথমবার ক্ষমতায় আসার পর অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল ছিলাম কিছুটা। এবার আর সেটা নেই। সব পরিবর্তন হবে যান চলাচলে। এমনকি চালকদের বিশ্রামের ব্যবস্থাও করছি। ইতোমধ্যে চালকদের বিশ্রাম এবং উন্নত ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করব আমরা। উপজেলা পর্যায়েও কেউ লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালাতে পারবে না।’

ওমর ফারুককে যুবলীগ চেয়ারম্যান পদ থেকে অব্যাহতি

টুডে ডেস্ক:

ক্যাসিনোর বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান শুরুর পর আলোচনায় থাকা যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীকে সংগঠনের সব কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। রবিবার গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে যুবলীগের সভাপতিমণ্ডলীর বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়। এছাড়া যুবলীগে নতুনভাবে বয়সসীমা ৫৫ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। ​

বৈঠক শেষে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের জানান, যুবলীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য চয়ন ইসলামকে আহ্বায়ক এবং বর্তমান সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদকে সদস্য সচিব করে সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি করা হয়েছে। আগামী ২৩ নভেম্বর যুবলীগের সপ্তম কংগ্রেসের আগ পর্যন্ত এই কমিটিই সংগঠনের সব কার্যক্রম পরিচালনা করবে বলে জানান তিনি।

ক্যাসিনোর বিরুদ্ধে অভিযানের পর ‘একক সিদ্ধান্তে’ সংগঠন পরিচালনায় সিদ্ধহস্ত ওমর ফারুক হঠাৎ দলের ভেতরে কোণঠাসা হয়ে পড়েন। তাকে বাদ দিয়েই চলে সংগঠনের সবকিছু।

যুবলীগের সম্মেলন উপলক্ষে গণভবনে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সঙ্গে সংগঠনের নেতাদের বৈঠকটিও হয় ওমর ফারুক ছাড়াই হয়। এছাড়া সংগঠনটির প্রভাবশালী প্রেসিডিয়াম সদস্য নুরন্নবী চৌধুরী শাওনকেও বৈঠকে দেখা যায়নি। তবে যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদের নেতৃত্বে জ্যেষ্ঠ নেতারা গণভবনে যান।

৭১ বছর বয়সী ওমর ফারুক চৌধুরী দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুবলীগের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। ক্যাসিনোর বিরুদ্ধে অভিযান শুরুর পর যুবলীগ থেকে বহিষ্কৃত নেতাদের গ্রেফতারের পর ওমর ফারুক চৌধুরীর নামও সামনে চলে আসে।

প্রধানমন্ত্রী ভোলার ঘটনায় ধৈর্য্যের আহবান জানিয়েছেন দেশবাসীর প্রতি

টুডে ডেস্ক:

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গুজব রটনাকারীদের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে ভোলা ইস্যুতে আর কোন অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ধৈর্য্য ধারণ ও গুজবে কান না দিতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘একটি মহল অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির লক্ষ্যে ফেসবুক ব্যবহার করে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তিনি এ ব্যাপারে (ভোলা ইস্যু) ধৈর্য্য ধারণ করতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।’

প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেন, একজন হিন্দুর ফেসবুক আইডি ব্যবহার করে নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) কে অবমাননাকারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। যুবলীগের কাউন্সিলের প্রাক্কালে সংগঠনের ৩৪ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল আজ গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে গেলে তিনি এ কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, পুলিশ ওই হিন্দু ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে। সে সাধারণ ডায়েরি করে বলেছে, তার ফেসবুক আইডি ব্যবহার করে হযরত মুহাম্মদ (সা.) কে অবমাননা করা হয়েছে। তিনি বলেন, যে মুসলিম ছেলেটি এ কাজটি করেছে তাকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্যদেরও গ্রেফতার করা হবে। পাশাপাশি যারা এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের অপচেষ্টা চালাচ্ছে তাদেরও গ্রেফতার করা হবে।

ভোলার ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যখনই দেশ অগ্রগতির দিকে এগিয়ে যেতে থাকে তখনই এক শ্রেণির লোক সব সময় দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির অপচেষ্টা চালায়।তিনি কোন গুজবে কান না দিতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, এতে বিভিন্নভাবে সমাজ বিপদে পড়তে পারে। তাই প্রত্যেককে প্রকৃত ঘটনা জানতে হবে এবং সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নিতে হবে। পাশাপাশি কেউ যাতে ডিজিটাল প্রযুক্তির অপব্যবহার করতে না পারে সেদিকেও লক্ষ্য রাখতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী প্রকৃত অপরাধীকে চিহ্নিত করতে সহায়তার পরিবর্তে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে এমন ধরনের বিষয় প্রচার না করার জন্য গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানান। শেখ হাসিনা বলেন, কোন ধর্মের লোকজনের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করা গ্রহণযোগ্য নয়। কেননা সরকার চায় ধর্ম নিরপেক্ষ দেশ হিসেবে সকল ধর্মের মানুষ এক সঙ্গে বসবাস করবে। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে সব মানুষ লড়াই করেছে।

প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন করেন একজন মুসলমান কিভাবে ফেসবুকে হিন্দুর আইডি ব্যবহার করে হযরত মুহাম্মদ (সা.) কে অবমাননা করতে পারে। তিনি এটাকে খুবই দুঃখজনক বিষয় উল্লেখ করেন। এই নজিরবিহীন ঘটনাকে কেন্দ্র করে তিন ব্যক্তি নিহত এবং আরও অনেকে আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশংকাজনক। তিনি প্রশ্ন তোলেন এ ঘটনার পেছনে উদ্দেশ্য কি? কেন লোকজন সমবেত হয়েছে এবং পুলিশের ওপর আক্রমণ চালিয়েছে।

এ সময় মঞ্চে আওয়ামী লীগ উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু ও তোফায়েল আহমেদ এবং দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের উপস্থিত ছিলেন। যুবলীগ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুসলিম সম্প্রদায়ের এক ব্যক্তি কেবল একজন হিন্দুর ফেসবুক আইডি হ্যাক করেনি, বরং তার (হিন্দু ছেলে) কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা দাবি করেন, অন্যথায় তার ফেসবুক আইডি ব্যবহার করে আরো মিথ্য তথ্য দেয়ার হুমকি দেন।

প্রধানমন্ত্রী আশ্চার্যান্বিত হন এবং প্রশ্ন করেন ‘একজন মুসলিম কি করে একজন হিন্দুর ফেসবুক ব্যবহার করে রাসুল হযরত মুহম্মদ (সা:) কে অসম্মান করতে পারে।’ যুবকদের দেশের উন্নয়নের প্রধান শক্তি আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, ‘তাদের এই শক্তিকে দেশের কল্যাণ এবং দেশ গড়ার কাজে ব্যবহার করতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী পুনরায় সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মাদক এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ‘সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, দুর্নীতি এবং মাদক বিরুদ্ধে আমরা অভিযান অব্যাহত রাখবো এবং এক্ষেত্রে যারাই অপরাধী হবে তাদের কোন ক্ষমা নেই, তাদের বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নেব। কারণ আমরা যখন দেশকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি তখন স্বাভাবিকভাবে কিছু মানুষের মধ্যে একটা লোভের সৃষ্টি হয়, যার ফলাফল আমাদের সমাজটাকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায়। কাজেই এ ধরনের অন্যায়-অবিচার কখনো বরদাশত করা হবে না’।

প্রধানমন্ত্রী যুবলীগের কাউন্সিলের প্রসঙ্গে বলেন, যুবলীগের কাউন্সিল দরজায় কড়া নাড়ছে। কি করে এটাকে আরো শক্তিশালী এবং সফলভাবে সমাপ্ত করতে পারি সেজন্য এর নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আমরা কথা বলছি।

তিনি বলেন, জাতীয় শ্রমিক লীগ, কৃষক লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগের কাউন্সিল নভেম্বরের মধ্যে শেষ করার প্রস্তুতি চলছে এবং আওয়ামী লীগের কাউন্সিল ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত হবে।

আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী সংগঠনগুলোর কাউন্সিল যথাসময়ে অনুষ্ঠানের আশাবাদ ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যথাসময়ে কাউন্সিল আয়োজনে সংগঠন আরো শক্তিশালী এবং সুশৃঙ্খল হয়।’

তিনি বাংলাদেশের প্রকৃত ইতিহাস এবং ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর অবদান সম্পর্কে জানার জন্য বঙ্গবন্ধুর লেখা ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী ও ‘কারাগারের রোজনামচা’ এবং বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে পাকিস্তানী গোয়েন্দা প্রতিবেদন নিয়ে রচিত‘সিক্রেট ডকুমেন্টস অন ফাদার অব দি নেশন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’ পড়ে দেখার জন্য যুবলীগের নেতৃবৃন্দের প্রতি আহবান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২০ সালে জাতির পিতার জন্ম শতবার্ষিকী উদযাপিত হবে এবং ২০২১ সালে উদযাপিত হবে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী। ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে ২০২১ সালের ২৬ মার্চ পর্যন্ত সময়কে সরকার ‘মুজিব বর্ষ’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনগুলোকে এই অনুষ্ঠানটি তিনি ব্যাপকভাবে উদযাপনেরও আহবান জানান।-বাসস