স্টাফ রিপোর্টার:-
জগন্নাথপুর উপজেলার মিরপুর ইউনিয়নের বড়কাপন গ্রামে ধর্ষনের শিকার কিশোরীর পরিবার থানায় মামলা দায়ের করেছেন। ৬মার্চ কিশোরীর ভাই জমির আলী বাদী হয়ে একই গ্রামের আব্দুল খালিকের ছেলে আব্দুল হক (২২), আব্দুস ছুবানের ছেলে আব্দুল হামিদ (৩৫), আব্দুল বারীর ছেলে আজিজুল (৪০) কে আসামী করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ ( সংশোধিত/৩) এর ৯(১)/৩০ বিবাহের প্রলোভন দেখাইয়া ধর্ষণ ও সহায়তার অপরাধে জগন্নাথপুর থানায় এ মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলা নং ৫।
মামলা দায়েরের পর পর পুলিশ মামলার মূল আসামী ধর্ষণকারী আব্দুল হককে গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরন করলেও অপর আসামী আব্দুল হামিদ ও আজিজুলকে পুলিশ এখনো গ্রেফতার করতে পারেনি।
এদিকে সন্তানের পিতৃ পরিচয়ের দাবীতে পরিবারের লোকজন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, মেম্বার সহ এলাকার সমাজপতিদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে অবশেষে থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর গত ২এপ্রিল সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ধর্ষীতা কিশোরীর গর্ভে একটি কন্যা সন্তান জন্ম নেয়।
মামলার অভিযোগে বাদী জমির আলী উল্লেখ করেন, লম্পট আব্দুল হক তাদের বাড়িতে প্রায় আসা যাওয়া করতো। এক পর্যায়ে তার কিশোরী বোনের সাথে আব্দুল হকের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। লম্পট আব্দুল হক কিশোরীর বসত ঘরে ঢুকে নানান প্রলোভন দেখিয়ে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করে। এভাবে লম্পট আব্দুল হক কিশোরীকে ৪/৫দিন ধর্ষণ করে। সন্তান গর্ভে আসার পর কিশোরী তার পরিবারকে ধর্ষণের ঘটনাটি জানায়।
পরিবারের লোকজন বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে লম্পট আব্দুল হকের বাড়িতে গেলে তার পরিবারের লোকজন প্রস্তাবটি প্রত্যাখান করেন এবং তাদের সাথে খারাপ আচরণ করে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়।
ঘটনার বিষয়ে মিরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহবুবুল হক শেরীন জানান, তিনি লন্ডনে থাকাকালীন সময়ে ঐ ঘটনাটি ঘটেছে। দেশে ফেরার পর বিষয়টি আপোষে নিস্পত্তির চেষ্টা করে ব্যর্থ হন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই মির্জা সাফায়েত জানান, আব্দুল হককে গ্রেফতার করে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। অন্যান্য আসামীদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।