০৬:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিল্পের টানে খুলনা আর্ট একাডেমিতে গোলাম মনোয়ার ও দেবব্রত কুমার

  • Update Time : ০৭:৪৩:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 18

স্টাফ রিপোর্টার:
ঢাকা থেকে আগত বিশিষ্ট শিল্পমনা ব্যক্তিত্ব গোলাম মনোয়ার এবং তাঁর সঙ্গে থাকা দেবব্রত কুমার ১৬ই সেপ্টেম্বর পরিদর্শন করেছেন শিল্প, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যচর্চার প্রতিষ্ঠান খুলনা আর্ট একাডেমি। তাঁদের এই আগমন যেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে তৈরি হওয়া একটি পরিচয়ের সুন্দর বাস্তব রূপ। প্রায় দুই বছর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সূত্র ধরে ‘ডিজাইন বিডি’ কোম্পানির পরিচয় দিয়ে গোলাম মনোয়ার ভাই চিত্রশিল্পী মিলন বিশ্বাসের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করেন। কথোপকথনের একপর্যায়ে মিলন বিশ্বাস জানতে চান, তাঁর মোবাইল নম্বরটি তিনি কোথা থেকে পেয়েছেন। উত্তরে গোলাম মনোয়ার জানান, গুগলের মাধ্যমে নম্বরটি পেয়েছেন। সেই সূত্রেই তাঁদের মধ্যে পরিচয় তৈরি হয় এবং নিজ নিজ কর্মক্ষেত্র ও শিল্প-সংশ্লিষ্ট নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
এরপর দীর্ঘ প্রায় দুই বছর পর হঠাৎ আবারও গোলাম মনোয়ারের ফোন আসে চিত্রশিল্পী মিলন বিশ্বাসের কাছে। কুশল বিনিময়ের পর মিলন বিশ্বাস জানতে পারেন, তিনি খুলনায় বেড়াতে এসেছেন এবং নগরীর হোটেল সিটিইন এ অবস্থান করছেন। তখনই তিনি আন্তরিকভাবে তাঁকে খুলনা আর্ট একাডেমিতে আসার আমন্ত্রণ জানান। সেই আমন্ত্রণে ১৬ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টার দিকে গোলাম মনোয়ার ও দেবব্রত কুমার খুলনা আর্ট একাডেমিতে উপস্থিত হন। তাঁরা একাডেমির ঐতিহ্য সংগ্রহশালা ঘুরে দেখেন এবং এর বিভিন্ন সংগ্রহ ও আয়োজনের প্রশংসা করেন। ঘুরে ঘুরে একাডেমির বিভিন্ন বিষয় দেখার পাশাপাশি তাঁরা ছবি তোলেন এবং শিল্পচর্চার পরিবেশ সম্পর্কে আগ্রহ নিয়ে জানতে চান।
এ সময় তাঁরা একাডেমিতে উপস্থিত শিশু শিল্পীদের সঙ্গে আন্তরিকভাবে কথা বলেন, তাদের আঁকা ছবি দেখেন এবং শিশুদের শিল্পচর্চার বিভিন্ন মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি করেন। শিশুদের স্বতঃস্ফূর্ত শিল্পচর্চা ও সৃজনশীল পরিবেশ তাঁদের ভালো লাগে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন খুলনা আর্ট একাডেমির ছবি আঁকার শিশু শিল্পী ও হাতের লেখা প্রশিক্ষণ বিভাগের শিক্ষার্থীরা। আরও উপস্থিত ছিলেন হাতের লেখা প্রশিক্ষক বর্ণ শিল্পী ধনঞ্জয় রায়, সহকারী পরিচালক শিলা বিশ্বাস, সহকারী শিক্ষিকা শর্মি দেবনাথ এবং একাডেমির শিক্ষার্থীদের অভিভাবকবৃন্দ। তাঁদের উপস্থিতিতে পুরো আয়োজনটি হয়ে ওঠে আরও প্রাণবন্ত ও আন্তরিক। সবশেষে চা-পানের সময়
গোলাম মনোয়ার বলেন খুলনাতে তার কম্পানির কাজের জন্য কয়েকজন কমার্শিয়াল আর্টিস্ট দরকার। তখন চিত্রশিল্পী মিলন বিশ্বাস দুইজন আর্টিস্টের নাম্বার দিয়ে সহযোগিতা করেন। এবং সুন্দর শিল্প-আলোচনা ও মতবিনিময়ের মধ্য দিয়ে সাক্ষাতের পরিসমাপ্তি ঘটে। শিল্প, সংস্কৃতি, শিশুদের সৃজনশীলতা এবং ভবিষ্যৎ শিল্পচর্চা নিয়ে চলে প্রাণবন্ত আলোচনা। বিদায় নেওয়ার সময় গোলাম মনোয়ার ও দেবব্রত কুমার ভবিষ্যতে আবারও খুলনা আর্ট একাডেমিতে আসার আগ্রহ প্রকাশ করেন। চিত্রশিল্পী মিলন বিশ্বাস মনে করেন, মানুষের সঙ্গে মানুষের পরিচয় কখনো কখনো সময়ের ব্যবধান পেরিয়ে আরও সুন্দরভাবে ফিরে আসে। প্রায় দুই বছর পর এই সাক্ষাৎ, শিল্প নিয়ে আলোচনা, শিশু শিল্পীদের সঙ্গে তাঁদের আন্তরিক সময় কাটানো এবং একসঙ্গে ধারণ করা ছবিগুলো সুন্দর একটি স্মৃতি হয়ে থাকবে। শিল্পের প্রতি ভালোবাসা, মানুষের প্রতি আন্তরিকতা এবং সৃজনশীলতার প্রতি সম্মান এই তিনের মিলনেই তৈরি হয় সুন্দর সম্পর্ক ও স্মরণীয় মুহূর্ত। খুলনা আর্ট একাডেমির পক্ষ থেকে গোলাম মনোয়ার ও দেবব্রত কুমারকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও কৃতজ্ঞতা জানানো হয়। পাশাপাশি ভবিষ্যতে আবারও তাঁদের খুলনা আর্ট একাডেমিতে আসার আমন্ত্রণ জানান।

Please Share This Post in Your Social Media

শিল্পের টানে খুলনা আর্ট একাডেমিতে গোলাম মনোয়ার ও দেবব্রত কুমার

Update Time : ০৭:৪৩:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার:
ঢাকা থেকে আগত বিশিষ্ট শিল্পমনা ব্যক্তিত্ব গোলাম মনোয়ার এবং তাঁর সঙ্গে থাকা দেবব্রত কুমার ১৬ই সেপ্টেম্বর পরিদর্শন করেছেন শিল্প, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যচর্চার প্রতিষ্ঠান খুলনা আর্ট একাডেমি। তাঁদের এই আগমন যেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে তৈরি হওয়া একটি পরিচয়ের সুন্দর বাস্তব রূপ। প্রায় দুই বছর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সূত্র ধরে ‘ডিজাইন বিডি’ কোম্পানির পরিচয় দিয়ে গোলাম মনোয়ার ভাই চিত্রশিল্পী মিলন বিশ্বাসের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করেন। কথোপকথনের একপর্যায়ে মিলন বিশ্বাস জানতে চান, তাঁর মোবাইল নম্বরটি তিনি কোথা থেকে পেয়েছেন। উত্তরে গোলাম মনোয়ার জানান, গুগলের মাধ্যমে নম্বরটি পেয়েছেন। সেই সূত্রেই তাঁদের মধ্যে পরিচয় তৈরি হয় এবং নিজ নিজ কর্মক্ষেত্র ও শিল্প-সংশ্লিষ্ট নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
এরপর দীর্ঘ প্রায় দুই বছর পর হঠাৎ আবারও গোলাম মনোয়ারের ফোন আসে চিত্রশিল্পী মিলন বিশ্বাসের কাছে। কুশল বিনিময়ের পর মিলন বিশ্বাস জানতে পারেন, তিনি খুলনায় বেড়াতে এসেছেন এবং নগরীর হোটেল সিটিইন এ অবস্থান করছেন। তখনই তিনি আন্তরিকভাবে তাঁকে খুলনা আর্ট একাডেমিতে আসার আমন্ত্রণ জানান। সেই আমন্ত্রণে ১৬ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টার দিকে গোলাম মনোয়ার ও দেবব্রত কুমার খুলনা আর্ট একাডেমিতে উপস্থিত হন। তাঁরা একাডেমির ঐতিহ্য সংগ্রহশালা ঘুরে দেখেন এবং এর বিভিন্ন সংগ্রহ ও আয়োজনের প্রশংসা করেন। ঘুরে ঘুরে একাডেমির বিভিন্ন বিষয় দেখার পাশাপাশি তাঁরা ছবি তোলেন এবং শিল্পচর্চার পরিবেশ সম্পর্কে আগ্রহ নিয়ে জানতে চান।
এ সময় তাঁরা একাডেমিতে উপস্থিত শিশু শিল্পীদের সঙ্গে আন্তরিকভাবে কথা বলেন, তাদের আঁকা ছবি দেখেন এবং শিশুদের শিল্পচর্চার বিভিন্ন মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি করেন। শিশুদের স্বতঃস্ফূর্ত শিল্পচর্চা ও সৃজনশীল পরিবেশ তাঁদের ভালো লাগে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন খুলনা আর্ট একাডেমির ছবি আঁকার শিশু শিল্পী ও হাতের লেখা প্রশিক্ষণ বিভাগের শিক্ষার্থীরা। আরও উপস্থিত ছিলেন হাতের লেখা প্রশিক্ষক বর্ণ শিল্পী ধনঞ্জয় রায়, সহকারী পরিচালক শিলা বিশ্বাস, সহকারী শিক্ষিকা শর্মি দেবনাথ এবং একাডেমির শিক্ষার্থীদের অভিভাবকবৃন্দ। তাঁদের উপস্থিতিতে পুরো আয়োজনটি হয়ে ওঠে আরও প্রাণবন্ত ও আন্তরিক। সবশেষে চা-পানের সময়
গোলাম মনোয়ার বলেন খুলনাতে তার কম্পানির কাজের জন্য কয়েকজন কমার্শিয়াল আর্টিস্ট দরকার। তখন চিত্রশিল্পী মিলন বিশ্বাস দুইজন আর্টিস্টের নাম্বার দিয়ে সহযোগিতা করেন। এবং সুন্দর শিল্প-আলোচনা ও মতবিনিময়ের মধ্য দিয়ে সাক্ষাতের পরিসমাপ্তি ঘটে। শিল্প, সংস্কৃতি, শিশুদের সৃজনশীলতা এবং ভবিষ্যৎ শিল্পচর্চা নিয়ে চলে প্রাণবন্ত আলোচনা। বিদায় নেওয়ার সময় গোলাম মনোয়ার ও দেবব্রত কুমার ভবিষ্যতে আবারও খুলনা আর্ট একাডেমিতে আসার আগ্রহ প্রকাশ করেন। চিত্রশিল্পী মিলন বিশ্বাস মনে করেন, মানুষের সঙ্গে মানুষের পরিচয় কখনো কখনো সময়ের ব্যবধান পেরিয়ে আরও সুন্দরভাবে ফিরে আসে। প্রায় দুই বছর পর এই সাক্ষাৎ, শিল্প নিয়ে আলোচনা, শিশু শিল্পীদের সঙ্গে তাঁদের আন্তরিক সময় কাটানো এবং একসঙ্গে ধারণ করা ছবিগুলো সুন্দর একটি স্মৃতি হয়ে থাকবে। শিল্পের প্রতি ভালোবাসা, মানুষের প্রতি আন্তরিকতা এবং সৃজনশীলতার প্রতি সম্মান এই তিনের মিলনেই তৈরি হয় সুন্দর সম্পর্ক ও স্মরণীয় মুহূর্ত। খুলনা আর্ট একাডেমির পক্ষ থেকে গোলাম মনোয়ার ও দেবব্রত কুমারকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও কৃতজ্ঞতা জানানো হয়। পাশাপাশি ভবিষ্যতে আবারও তাঁদের খুলনা আর্ট একাডেমিতে আসার আমন্ত্রণ জানান।