জগন্নাথপুরে লন্ডন প্রবাসীকে টাকার লোভে জৈন্তাপুরে নিয়ে হত্যা ১৮ মাস পর হত্যাকান্ডের রহস্য উৎঘাটন ৩ হত্যা কারী গ্রেফতার

স্টাফ রিপোর্ট:
জগন্নাথপুরে নিখোজ হওয়ার ১৮ মাস পর লন্ডন প্রবাসীর মাটিচাপা দেয়া লাশের খুজ পেয়েছে পুলিশ। এ হত্যাকান্ডের ঘটনায় প্রধান খুনী সহ ৩ জন কে জৈন্তাপুর উপজেলা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছে সিলেট জেলার জৈন্তাপুর উপজেলার কৃষি গবেষনা ইনিষ্টিটিউটের অফিস সহায়ক সুনামগঞ্জ জেলার সদর উপজেলার দক্ষিণগাঁও উত্তরপাড়া এবং বর্তমনে জৈন্তাপুর উপজেলার নিজপাট কমলা বাড়ী গ্রামের বাসিন্দা মরতুজ আলীর ছেলে আবুল কালাম আজাদ(৫২),

জৈন্তাপুর উপজেলার ডিএস মাদ্রাসার শিক্ষক কুমিল্লা জেলার হোমনা উপজেলার দত্তেরকান্দি গনিয়ারচর গ্রামের বাসিন্দা বর্তমানে জৈন্তাপুর উপজেলার নিজপাট তোয়াশি হাটি গ্রামের মৃত আব্দুল কুদ্দুছের ছেলে আনোয়ার হোসেন (৩৯), জৈন্তাপুর উপজেলার নিজপাট কমলা বাড়ী গ্রামের ইদ্রিছ আলীর ছেলে জুনাব আলী জুনাই(৪২)।

সোমবার ২৬ নভেম্বর গ্রেফতারকৃতদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ জানায় গ্রেফতারকৃতরা লন্ডন প্রবাসীকে হত্যা এবং পরে মাটিচাপা দিয়ে রাখার ঘটনা স্বীকার করেছে। জগন্নাথপুর উপজেলার পৌর শহরের ৬নং ওয়ার্ডের জগন্নাথপুর বড়দিঘীর পাড় এলাকার বাসিন্দা মৃত মদরিছ আলীর ছেলে আব্দুল গফুর (৫৫) সপরিবারে লন্ডনে বসবাস করেন। ২০১৭ সালের ৮মে আব্দুল গফুর লন্ডন থেকে বাংলাদেশে নিজ বাড়ীতে আসেন।

ঐদিন সকাল ১১টায় তার নিজ বাড়ীতে অবস্থান করার পর ঐদিন থেকেই আব্দুল গফুর নিখুজ হন। বাড়ীর আত্মীয় স্বজনরা তাকে খুজ করে পায়নি। বিষয়টি লন্ডনে যোগাযোগ করা হলে সেখানেও না যাওয়ায় চলতি বছরের ২৬ অক্টোবর নিখুজ প্রবাসী আব্দুল গফুরের বোনের ছেলে জগন্নাথপুর গ্রামের তাজু উল্লার ছেলে মো: লালা মিয়া জগন্নাথপুর থানায় নিখুজ ডায়েরী করেন।

জগন্নাথপুর থানার সেকেন্ড অফিসার হাবিবুর রহমান বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করে লন্ডন প্রবাসী আব্দুল গফুরের নিখুজ হওয়ার ঘটনা উদঘাটন করেন। রবিবার ২৫ নভেম্বর জৈন্তাপুর থানা পুলিশের সহযোগিতায় জৈন্তাপুর উপজেলা কৃষি গবেষনা ইনিষ্টিটিউটের অফিস সহয়ায়ক আবুল কালাম আজাদকে গ্রেফতার করা হলে সে লন্ডন প্রবাসী আব্দুল গফুর হত্যা কান্ডের সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে।

তদন্তকারী কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান জানান আটককৃত আবুল কালাম আজাদকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সে আরো জানায় ২০১৭ সালের ৮মে প্রবাসী আব্দুল গফুরকে প্রলোভন দেখিয়ে সিলেট শহরে নিয়ে যায়। এবং সিলেট শহরস্থ দরগা গেইট এলাকায় আবাসিক হোটেল রাজরানীর ২১২ নং কক্ষে অবস্থান করে। পর দিন ৯মে আব্দুল গফুর দরগা গেইটস্থ ডার্চ বাংলা ব্যাংক হতে ১০ লাখ টাকা উত্তোলন করেন।

টাকার জন্য আবুল কালাম আজাদ ও তার সহযোগিরা আব্দুল গফুরকে শ্বাসরোধ করে খুন করার পর জৈন্তাপুর উপজেলার নিজপাট মোকাম টিলায় মাটিচাপা দেয়া হয়। তদন্তকারি কর্মকর্তা জানান গ্রেফতারকৃত খুনী আনোয়ার হোসেনের বাড়ী থেকে আব্দুল গফুরের ২টি পাসপোর্ট, বিমান টিকেট ও হোটেল রাজরানীর ২১২নং কক্ষের চাবি সহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। এঘটনায় থানায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

জ.টুডে- বি ডি নাথ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *