মো: আব্দুল হাই :
জগন্নাথপুর উপজেলার সবকটি হাওরে বোরো ফঁসল পাঁকা শুরু হয়েছে । হাওরপাড়ের কৃষকসহ সব এলাকার কৃষকরা ধান উত্তোলনের অপেক্ষায় এখন প্রহর গুনছেন। হাওর গুলোতে সবুজ চারায় সোনালী শীষ দুলছে। আগামী সপ্তাহ খানেক পরেই পুরোদমে ধানকাটা শুরু হবে । ইতো মধ্যে কৃষকদের মধ্যে আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে । একটি পৌরসভা ও আটটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত জগন্নাথপুর উপজেলার লোকসংখ্যা প্রায় তিন লাখ। তারমধ্যে অধিকাংশ মানুষ কৃষির উপর নির্ভরশীল। উপজেলাবাসী একমাত্র বোরো ফসলের উপর নির্ভরশীল। বোরো ফসল ঘরে তুলতে পারলেই কৃষকরা সারা বছর ভালভাবে জীবনযাপন করতে পারেন। আর ফসল তুলতে না পারলেই সারা বছর দুঃখ কষ্টের সীমা থাকে না।উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা যায় উপজেলার বৃহৎ নলুয়া ও মইয়ার হাওর সহ ছোট বড় ৯টি হাওরে ২০ হাজার ৭শ ২৫হেক্টর জমিতে বোরো ফসল চাষাবাদ করা হয়েছে । আজ শনিবার উপজেলার বৃহৎ নলুয়া ও মইয়ার হাওর ঘুরে দেখা যায় ক দিন আগে হাওরজুড়ে সবুজের সমারোহ এখন সেই চিত্র আর নেই। সবুজ চারা গুলো সোনলী রং ধারন করেছে। কিছু জমিতে সোনালী শীষ বাতাসে দুলছে। কৃষকরা মনের আনন্দে তাদের নিজের ফলানো ধানের জমির খোঁজ খবর নিচ্ছেন। এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ড পাউবো জগন্নাথপুর উপজেলা কার্যালয় সূত্রে জানা যায় জগন্নাথপুর উপজেলায় এবার ৫০টি প্রকল্প বাস্তাবায়ন কমিটি (পিআইসির) মাধ্যমে প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩২ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ নির্মাণ, মেরামত ও সংস্কার কাজ বাস্তবায়ন করা হয়েছে।নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফসল রক্ষা বাধ নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হলেও প্রতিদিন ফসল রক্ষা বাধেঁর খোজ রাখতে প্রতিদিন রুটিন ওর্য়াক চালিয়ে যাচ্ছেন ইউএনও মাহফুজুল আলম মাসুম । একটু বৃষ্টি হলেই তিনি দলবল নিয়ে ছুটে যাচ্ছেন হাওরের ফসল রক্ষা বাধেঁ। জগন্নাথপুর পৌরশহরের ছিক্কা এলাকার বাসিন্দা মো: এনামুল হক এনাম জানান পিংলার হাওরে আমার প্রচুর পরিমানের জমি চাষাবাদ করা হয়েছে । ইতো মধ্যে জমিগুলোতে ভাল ফসল হয়েছে, এ ছাড়াও প্রতিটি হাওরজুড়ে সবুজ আর সোনালী ধানের ঝিলিকে কৃষকদের মন খুশিতে ভরে উঠেছে। এক সপ্তাহের মধ্যে ধান কাটার ধূম পড়বে বলে আশা করছি। প্রকৃতি একটু বৈরী হলেই কৃষকরা উদ্বিঘœ হয়ে পড়েন । চলতি বোরো মৌসূমে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহফুজুল আলম মাসুমের সঠিক তদারকিতে পাউবোর ফসল রক্ষা বাধঁ ইতো মধ্যে সন্তোশ জনক ভাবে সম্পন্ন হয়েছে । জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহফুজুল আলম মাসুম জানান প্রকৃতি একটু বৈরী ভাব দেখা দিলেই বুকটা কেপে উঠে । তিনি জানান ইতো মধ্যে হাওর গুলোতে আধাঁ পাঁকা সোনালী ধানের শীষ দেখে মনে আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে । কৃষকরা তাদের কষ্টার্জিত ফসল ঘরে তুলতে পারেন সে লক্ষ্যে সার্বক্ষনিক তদারকিতে আছি । উপজেলার নলুয়া ও মইয়ার হাওর ঘুওে দেখা গেছে সবুজ চারায় সোনালী শীষ বাতাসে দুলছে এ যেন এক অন্যরকম ভাললাগা। গ্রামীণ মেঠো পথে কৃষকদের সোনালী ফসল ঘরে তোলার প্রস্তুতি যেন মনকে আন্দোলিত করছে । তিনি জানান প্রকৃতি অনকূলে থাকলে চলতি বোরো মৌসূমে উপজেলার কৃষকরা বাম্পার ফসল গোলায় তুলতে পারবেন।