যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের আয়োজনে ব্রিটিশ রাজনীতিকদের নিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস উদযাপন

লন্ডন অফিস: বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রার প্রশাংসা করেছেন সর্বদলীয় ব্রিটিশ রাজনীতিকরা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গত এক দশকে বাংলাদেশ তাক লাগানো সফলতা অর্জন করেছে উল্লেখ করে ব্রিটিশ এমপিরা বলেছেন বাংলাদেশের সাথে আরও ঘনিষ্ঠ বাণিজ্য সম্পর্ক গড়ে তুলতে আগ্রহী যুক্তরাজ্য। তাঁরা বলেন, বিশাল রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ বিশ্বে মানবিকতার অনন্য নজির সৃষ্টি করেছে।গত ২৭ মার্চ বুধবার লন্ডনে স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের আয়োজনে উপস্থিত হওয়া ব্রিটিশ রাজনীতিকদের সকলেই বাংলাদেশের এগিয়ে চলার প্রশংসা করেছেন। এদিন ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ব্রেক্সিট নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভোটাভুটি থাকা স্বত্বেও ৬৫ জন এমপি অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন। এদের মধ্যে ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ বিরোধী দল লেবার, লিবারেল ডেমোক্রেটস দলের এমপিসহ প্রভাবশালী ব্রিটিশ আইন প্রণেতারা উপস্থিত ছিলেন। ৩৪ জন এমপি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ ব্রিটিশ পার্লামেন্টের ট্যারেজ প্যাভিলিয়নে বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের এ আয়োজন করে। যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরাও বিশেষ এই আয়োজনে যোগ দেন। যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাজিদুর রহমান ফারুক এবং কাউন্সিলর সায়মা আহমদ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন।অনুষ্ঠানের সভাপতি যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সভাপতি সুলতান মাহমুদ শরীফ মুক্তিযুদ্ধে ব্রিটিশ রাজনীতিকদের ভূমিকার কথা স্মরণ করেন। আর পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বাংলাদেশের নানা উন্নয়ন-অগ্রযাত্রার পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। যুক্তরাজ্যকে আরও বেশি করে বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহবান জানান। গত কয়েক বছর ধরে ব্রিটিশ রাজনীতিকদের নিয়ে স্বাধীনতা দিবস উদযাপনে এমন আয়োজন করছে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ। অতীতের আয়োজনগুলোর চাইতে এবার আয়োজন ছিল আরও বেশি চমকপ্রদ। কেননা বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা এবং মানবাধিকতা নিয়ে ব্রিটিশ এমপিদের এমন উদার প্রশংসা আগে কখনো দেখা যায়নি।

অনেক এমপি জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে বাংলার মানুষকে স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা জানান। গণতান্ত্রিক এবং ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের পথচলা অব্যাহত থাকার প্রশংসা করে ব্রিটিশ এমপিরা বলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালির মুক্তির জন্য স্বাধীনতা যুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছেন। স্বাধীন জাতি হিসেবে বাংলাদেশ অভূতপূর্ব অগ্রগতি সাধন করে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দিয়ে মানবিকতার অনন্য নজির স্থাপন করেছে। তাঁরা বাংলাদেশের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন। ব্রিটিশ পার্লামেন্টে বাংলাদেশ বিষয়ক সর্বদলীয় কমিটির প্রধান অ্যান মেইন বাংলাদেশকে যুক্তরাজ্যের বেশ গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ব্রেক্সিট কার্যকর হওয়ার পর বাংলাদেশের সঙ্গে আরও ঘণিষ্ঠ বাণিজ্য সম্পর্ক গড়ে তোলার কথা ভাবছে ব্রিটিশ সরকার। ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ দলের এই আইন প্রণেতা বলেন, কিছুদিন আগেই তিনি বাংলাদেশ সফর করেছেন। চলতি বছরের মধ্যেই আবার যাবেন। বিরোধী দল লেবার পার্টির আইন প্রণেতা জেস ফিলিপস বলেন বাংলাদেশ অর্থনৈতিক দিক দিয়ে অভূতপূর্ণ উন্নয়ন সাধন করেছে। বাংলাদেশের পোশাক শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে তিনি কাজ করছেন বলে জানান। শিঘ্রই তাঁর বাংলাদেশ সফরের পরিকল্পনা আছে। অন্যান্যদের মধ্যে ভ্যালেরি ভাজ, মাইক গেইফস, টেরি লয়েড, পল স্কালি, জনাথন অ্যাশওয়ার্থ সহ বিভিন্ন ব্রিটিশ রাজনীতিক বাংলাদেশ দ্রুত উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে বলে প্রশংসা করেন। কিছু সংখ্যক বাংলাদেশকে গণতান্ত্রিক এবং ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র বলে প্রশংসা করেন। লেবার দলের আইন প্রণেতা টবি লয়েড বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময়কার স্মৃতিচারণ করেন। যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার সাইদা মুনা তাসনীম বলেন, পাকিস্তানের জন্ম হয়েছিল ইসলামিক প্রজাতন্ত্র হিসেবে। বাঙালিরা মুসলিম হলেও ধর্মনিরপেক্ষতায় বিশ্বাসী। মৌলিক সেই পার্থক্য মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম কারণ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন ব্রিটিশ রাজনীতিকদের এখন নতুন করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে তাঁরা বর্তমানের ধর্মনিরপেক্ষ বাংলাদেশের পক্ষে থাকবে; নাকি ইসলামিক প্রজাতন্ত্রে ফিরে যাওয়া সমর্থন করবে। হাইকমিশনার ব্রিটিশ রাজনীতিকদের উদ্দেশে বলেন রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আশ্রয়ের প্রশংসা করলে চলবে না। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারকে বাধ্য করতে হবে- সেটিই হবে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রতি ঘটে যাওয়া অন্যায়ের উপযুক্ত জবাব। অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। উপস্থিত সকলে সমস্বরে গেয়েছেন জাতীয় সঙ্গীত। ছিল দেশাত্ববোধন গানের সঙ্গে নৃত্য পরিবেশনা।ব্রিটিশ আইন প্রণেতাদের হাতে বাংলাদেশের উন্নয়ন-অগ্রযাত্রার পরিসংখ্যান সহ ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার তথ্য সম্বলিত প্রকাশণা সহ উপহার তুলে দেয়া হয়

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *