জগন্নাথপুরে প্রশাসনের উদ্যোগে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে ত্রান সামগ্রী বিতরন অব্যাহত

মো: আব্দুল হাই:
টানা বর্ষন ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে জগন্নাথপুর উপজেলার ১টি পৌরসভা ও ৮টি ইউনিয়নের শত শত পরিবার বন্যা কবলিত হয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্টান জলমগ্ন হয়ে পড়ায় শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে এবং অধিকাংশ এলাকায় সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় লোকজন কলার বোড়া এবং নৌকা দিয়ে যাতায়াত করছেন। পৌরসভা সহ সব কয়টি ইউনিয়নে বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। তবে এখনো বন্যা দুর্গত কোন পরিবার আশ্রয় কেন্দ্রে যাওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থরা জানান, তাদের গৃহস্থালীর সামগ্রী হাঁস, মোরগ, গবাদি পশু রেখে বন্যা আশ্রয় কেন্দ্রে যেতে চাইনা। এদিকে সোমবার দুপুর থেকে মধ্য রাত পর্যন্ত বৃষ্টিপাত না হলেও হু হু করে পানি বাড়ছে। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল অব্যাহত থাকলে ২/১দিনের মধ্যে পুরো উপজেলা বন্যা কবলিত হওয়ার আশংকা রয়েছে। উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক রেজাউল করিম রিজু জানান, পৌরসভা, কলকলিয়া, চিলাউড়া হলদিপুর, রানীগঞ্জ, পাইলগাঁও ও আশারকান্দি ইউনিয়নের অধিকাংশ গ্রাম ও এলাকা বন্যায় সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থদের সহায়তায় সরকারীভাবে প্রচুর ত্রান সামগ্রী মজুদ রয়েছে। ইতোমধ্যে ক্ষতিগস্থদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাগন ত্রান সামগ্রী বিতরন অব্যাহতভাবে চালিয়ে যাচ্ছেন।

পাইলগাঁও ইউনিয়নের পূর্ব কাতিয়া গ্রামের বাসিন্দা যুবলীগ নেতা সেলিম খান জানান, কুশিয়ারা নদীর পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় পাইলগাঁও ইউনিয়নের পূর্ব কাতিয়া, কাতিয়া, অলইতলী গ্রামের শতাধিক পরিবার বন্যা কবলিত হয়ে দূর্ভোগে রয়েছেন। এছাড়াও কুশিয়ারা নদীর পানির প্রবল স্রােতে নদীর তীরবর্তী সড়কের পূর্ব কাতিয়ার আলাল খালী ব্রিজ থেকে বড়ফেচীর পূর্ব বাজার পর্যন্ত সড়কটি ডুবে গিয়ে প্রবল স্রােতে পানি প্রবেশ করছে। সড়কের ব্রিজ ও বাজার এলাকায় বড় ২টি ভাঙ্গনের সৃষ্টি হওয়ায় সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। বড়ফেচী গ্রামের বাসিন্দা মুজিবুর রহমান মুরাদ জানান, বন্যায় আশারকান্দি ইউনিয়নের বড়ফেচী, মিলিকম মিটাভরাং, কালাম্ভরপুর, ঐয়াকোনা, নতুন কসবা, দাওরাই সহ কুশিয়ারা নদীর তীরবর্তী অধিকাংশ পরিবার পানিবন্ধী হয়ে চরম দুর্ভোগে রয়েছেন। সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। এদিকে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থদের ত্রান সামগ্রী বিতরন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। সোমবার (১৫ জুলাই) দিনব্যাপীর রানীগঞ্জ ও পাইলগাঁও ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের বন্যা দুর্গত পরিবারের মধ্যে ত্রান সামগ্রীর ১০ কেজি চাল, ১লিটার সোয়াবিন তৈল, ১ কেজি চিনি, ২ কেজি চিড়া, ১ কেজি লবন ও ৫শ গ্রাম নুডুস ভর্তি প্যাকেট প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের মধ্যে বিতরন করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ভারপ্রাপ্ত ইয়াসির আরাফাত ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক রেজাউল করিম রিজু।

এসময় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন পিআইও অফিসের উপ-সহকারী প্রকৌশলী সাইফুদ্দিন খান, পাইলগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মখলুছ মিয়া, সাংবাদিক আলী আহমদ, ইউপি সদস্য আবু বকর মধু উপস্থিত ছিলেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ভারপ্রাপ্ত ইয়াসির আরাফাত জানান, বন্যায়ক্ষতিগ্রস্থ লোকজনদের সার্বক্ষনিক খোজ রাখা হচ্ছে। সরকারিভাবে ত্রান সামগ্রী পর্যাপ্ত রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *