স্টাফ রিপোর্টার:
সাম্প্রতিক বন্যায় জগন্নাথপুর উপজেলার নদী হাওর জলাশয়ের পানি বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রবল স্রোতের সৃষ্টি হয়। গত ১২ জুলাই থেকে টানা বর্ষন ও পাহাড়ি ঢল অব্যাহত রয়েছে। বন্যার প্রবল স্রােতে বিভিন্ন নদী হাওর থেকে কচুরিপানা ভেঁসে উপজেলা সদরের নলজুর নদীতে বিশাল স্তুপের সৃষ্টি হয়। দীর্ঘ ২ সপ্তাহ ধরে উপজেলার পৌর শহরের স্লুইচ গেইচ এলাকা থেকে নলজুর নদীর প্রায় ১কিলোমিটার এলাকা জুড়ে কচুরিপানার স্তুপ জমে আছে। ফলে নদী তীরবর্তী জেলে পরিবার সহ খেঁটে খাওয়া শতাধিক পরিবারের নৌ চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ায় মাছ ধরা এবং নৌকা দিয়ে মাটি কাটা সহ বিভিন্ন শ্রমিকরা বেকার হয়ে পড়েছেন। এতে পরিবার পরিজন নিয়ে তারা মানবেতর জীবন যাপন করছেন। সরেজমিন নলজুর নদীতে গিয়ে দেখা গেছে প্রায় ১ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে কচুরিপানার বিশাল স্তুপের ওপর দিয়ে শিশুরা খেলাধূলা করছে। এছাড়াও কচুরিপানার স্তুপে মাঝে মধ্যে বিষাক্ত সাপের উপদ্রব দেখতে পেয়েছেন স্থানীয়রা। বন্যার পানিতে সড়ক ডুবে যাওয়ায় এবং নলজুর নদীতে কচুরিপানার স্তুপের কারনে শহরের ৫ ও ৬নং ওয়ার্ডের উত্তর জগন্নাথপুর এলাকার প্রায় ৩শতাধিক পরিবার যাতায়াত সমস্যায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। কচুরিপানার স্তুপের কারণে ওই এলাকার শিক্ষার্থীরা স্কুল কলেজে যাতায়াত করতে পারছেননা। স্থানীয়রা জানিয়েছেন নলজুর নদী থেকে কচুরিপানার স্তুপ অপসারন করতে হলে বিপুল সংখ্যাক শ্রমিকের প্রয়োজন। উপজেলা প্রশাসন ও পৌরসভাকে বার বার জানানো হলেও কার্যকর কোন পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছেনা। নদীর পাড়ের বাসিন্দা অবনতি দাশ জানান, নদীতে কচুরিপানার স্তুপের কারনে নৌ চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ায় দীর্ঘ ২ সপ্তাহ ধরে ১০ সদস্যের পরিবার নিয়ে অভাব অনটনে মানবেতর জীবন যাপন করছি। একেই ভাবে নৌকা দিয়ে মাটি কাটা শ্রমিক নুর মিয়া জানান, কচুরিপানার স্তুপের কারনে নৌ চলাচল বন্ধ থাকায় নৌকা দিয়ে মাটি কাঁটা যাচ্ছেনা। ফলে ৭ সদস্যের পরিবার নিয়ে দুর্ভোগে দিনাতিপাত করছি। এদিকে নলজুর নদীতে নৌ চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ায় মালামাল বহনকারী সকল প্রকার নৌ চলাচল বন্ধ রয়েছে। ৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলার গিয়াস উদ্দিন মুন্না জানান, কচুরিপানার স্তুপ অপসারন করার বিষয়টি পৌরসভার মেয়রকে জানানো হয়েছে। জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহ্ফুজুল আলম মাসুম জানান, নলজুর নদীতে কচুরিপানার স্তুপ সৃষ্টি হওয়ার বিষয়টি খোজ নিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।