০৯:৫০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বেধনা বিধূর স্মৃতি নিয়ে জগন্নাথপুরে রানীগঞ্জ গণহত্যা দিবস পালন

  • Update Time : ০৭:৪২:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০১৯
  • / 1334

মো: আব্দুল হাই:
বেধনা বিধুর স্মৃতি নিয়ে জগন্নাথপুর উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নের রানীগঞ্জ গনহত্যা দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করা হয়েছে। গতকাল রবিবার উপজেলা প্রশাসন ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা এবং এলাকাবাসীর আয়োজনে দিন ব্যাপী নানান কর্মসূচী পালন করা হয়। দিনের শুরুতে শহীদদের স্মৃতি বিজড়িত রানীগঞ্জ বাজারে স্থাপিত শহীদ মিনারে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পন করেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তর জগন্নাথপুর উপজেলা সহকারী প্রোগ্রামার আশীষ চক্রবর্তী। এসময় উপস্থিত ছিলেন ত্রান ও দুর্যোগ অধিদপ্তর জগন্নাথপুর উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের উপ-সহকারী প্রকৌশলী সাইফ উদ্দিন খান, রানীগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুস সামাদ, রানীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ইছরাক আলী, সচিব আব্দুল গফুর, উপজেলা টেকনিশিয়ান অরুপ সরকার প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন। এদিকে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা মজমিল মিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে শহিদ স্মৃতিস্তম্ভে পুস্পস্তবক অর্পন করা হয়। এ সময় রানীগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক নিশি কান্ত রায়, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল্লাহ খাঁন, রানীগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলাম আকন্দ, রানীগঞ্জ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক ডা: ছদরুল ইসলাম, আওয়ামী লীগ নেতা শাহিন তালুকদার, সাংবাদিক গোলাম সারোয়ার, কবি জামাল শহিদ প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও সকাল ১১ টায় শহিদ গাজী ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্টিত হয়। রানীগঞ্জ দারুচ্ছুন্না হাফিজিয়া আলিম মাদ্রাসার সিনিয়র শিক্ষক কাজী নজরুল ইসলাম নিজামীর সভাপতিত্বে ও শহিদ গাজী ফাউন্ডেশন সাধারন সম্পাদক আবুল কাসেম আকমলের পরিচালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জগন্নাথপুর উপজেলা জামে মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা নিজাম উদ্দিন জালালী। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন রানীগঞ্জ দারুচ্ছুন্না হাফিজিয়া আলিম মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক আব্দুল মালিক, বাচ্ছু মিয়া, সাংবাদিক গোলাম সারোয়ার, আকরাম হোসেন প্রমূখ। বিকেলে রানীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের আয়োজনে শহীদদের স্মরনে আলোচনা সভা অনুষ্টিত হয়। রানীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম রানার সভাপতিত্বে ও সচিব আব্দুল গফুরের পরিচালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল্লাহ খাঁন। অন্যন্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন রানীগঞ্জ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম আহবায়ক হাজী এখলাছুর রহমান আখলই, সাংবাদিক গোলাম সারোয়ার, ইউপি সদস্য আবুল কালাম, ইউপি সদস্যা এলাচি বিবি প্রমুখ। ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য তেরা মিয়া তেরাব, ইউনিয়ন গ্রাম আদালতের সহকারী শরিফুল ইসলাম সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। ১৯৭১ সালের এই দিনে জগন্নাথপুর উপজেলার রানীগঁঞ্জ ইউনিয়নের কুশিয়রা নদী তীরবর্তী রানীগঞ্জ বাজারে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী রাজাকারদের সহায়তায় গণহত্যা চালিয়ে শতাধিক মানুষকে হত্যা করে। এসময় পেট্রোল দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়া হয় পুরো রানীগঞ্জ বাজার। ইতিহাসের বর্বর এই নারকীয় তান্ডবে দেড় শতাধিক লোক নিহত হন। হত্যাযজ্ঞের পর ৩৪ জনের নাম পরিচয় পাওয়া যায়। অন্যদের পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি। রানীগঞ্জ বাজারের এই ধ্বংস যজ্ঞের খবর তৎকালীন সময় বিবিসিতে প্রচারিত হয়। বর্বরোচিত এ হত্যাকান্ড এখনো কাঁদায় রানীগঞ্জবাসীকে।

Please Share This Post in Your Social Media

বেধনা বিধূর স্মৃতি নিয়ে জগন্নাথপুরে রানীগঞ্জ গণহত্যা দিবস পালন

Update Time : ০৭:৪২:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০১৯

মো: আব্দুল হাই:
বেধনা বিধুর স্মৃতি নিয়ে জগন্নাথপুর উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নের রানীগঞ্জ গনহত্যা দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করা হয়েছে। গতকাল রবিবার উপজেলা প্রশাসন ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা এবং এলাকাবাসীর আয়োজনে দিন ব্যাপী নানান কর্মসূচী পালন করা হয়। দিনের শুরুতে শহীদদের স্মৃতি বিজড়িত রানীগঞ্জ বাজারে স্থাপিত শহীদ মিনারে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পন করেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তর জগন্নাথপুর উপজেলা সহকারী প্রোগ্রামার আশীষ চক্রবর্তী। এসময় উপস্থিত ছিলেন ত্রান ও দুর্যোগ অধিদপ্তর জগন্নাথপুর উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের উপ-সহকারী প্রকৌশলী সাইফ উদ্দিন খান, রানীগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুস সামাদ, রানীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ইছরাক আলী, সচিব আব্দুল গফুর, উপজেলা টেকনিশিয়ান অরুপ সরকার প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন। এদিকে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা মজমিল মিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে শহিদ স্মৃতিস্তম্ভে পুস্পস্তবক অর্পন করা হয়। এ সময় রানীগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক নিশি কান্ত রায়, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল্লাহ খাঁন, রানীগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলাম আকন্দ, রানীগঞ্জ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক ডা: ছদরুল ইসলাম, আওয়ামী লীগ নেতা শাহিন তালুকদার, সাংবাদিক গোলাম সারোয়ার, কবি জামাল শহিদ প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও সকাল ১১ টায় শহিদ গাজী ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্টিত হয়। রানীগঞ্জ দারুচ্ছুন্না হাফিজিয়া আলিম মাদ্রাসার সিনিয়র শিক্ষক কাজী নজরুল ইসলাম নিজামীর সভাপতিত্বে ও শহিদ গাজী ফাউন্ডেশন সাধারন সম্পাদক আবুল কাসেম আকমলের পরিচালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জগন্নাথপুর উপজেলা জামে মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা নিজাম উদ্দিন জালালী। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন রানীগঞ্জ দারুচ্ছুন্না হাফিজিয়া আলিম মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক আব্দুল মালিক, বাচ্ছু মিয়া, সাংবাদিক গোলাম সারোয়ার, আকরাম হোসেন প্রমূখ। বিকেলে রানীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের আয়োজনে শহীদদের স্মরনে আলোচনা সভা অনুষ্টিত হয়। রানীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম রানার সভাপতিত্বে ও সচিব আব্দুল গফুরের পরিচালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল্লাহ খাঁন। অন্যন্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন রানীগঞ্জ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম আহবায়ক হাজী এখলাছুর রহমান আখলই, সাংবাদিক গোলাম সারোয়ার, ইউপি সদস্য আবুল কালাম, ইউপি সদস্যা এলাচি বিবি প্রমুখ। ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য তেরা মিয়া তেরাব, ইউনিয়ন গ্রাম আদালতের সহকারী শরিফুল ইসলাম সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। ১৯৭১ সালের এই দিনে জগন্নাথপুর উপজেলার রানীগঁঞ্জ ইউনিয়নের কুশিয়রা নদী তীরবর্তী রানীগঞ্জ বাজারে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী রাজাকারদের সহায়তায় গণহত্যা চালিয়ে শতাধিক মানুষকে হত্যা করে। এসময় পেট্রোল দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়া হয় পুরো রানীগঞ্জ বাজার। ইতিহাসের বর্বর এই নারকীয় তান্ডবে দেড় শতাধিক লোক নিহত হন। হত্যাযজ্ঞের পর ৩৪ জনের নাম পরিচয় পাওয়া যায়। অন্যদের পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি। রানীগঞ্জ বাজারের এই ধ্বংস যজ্ঞের খবর তৎকালীন সময় বিবিসিতে প্রচারিত হয়। বর্বরোচিত এ হত্যাকান্ড এখনো কাঁদায় রানীগঞ্জবাসীকে।