মো: আব্দুল হাই:
জগন্নাথপুর-বিশ্বানাথ সড়কের জগন্নাথপুর পৌর শহরের হাসপাতাল সংলগ্ন ছিক্কা এলাকায় এলজিইডির সড়কের বিশাল গর্তে সোমবার সকাল ৮টায় পাথর বোঝাই ট্রাকটি যখন ৪টি চাকা গর্তে সম্পূর্ন ধেবে যায় তখন কোন উপায় না পেয়ে ট্রাকের বেরশিক হেলপার গাড়িটি গর্তে রেখে মনের বেদনায় গানের স্বর দিচ্ছিলেন “ও সাথীরে একবার এসে দেখে যাও কত সূখে আছি”। এনিয়ে এক মাসে ৪ থেকে ৫ বার একই স্থানে বিশাল গর্তে মাল বোঝাই ট্রাকটি আটকে যাওয়ার কারনে মনের দু:খে গান গাওয়া ছাড়া আর কোন উপায় ছিলনা এমন কথা বলছিলেন গর্তে ধেবে যাওয়া ট্রাকের হেলপার। বেলা বাড়ার সাথে সাথে তীব্র যানজট যেন যাতায়াতকারী শিক্ষার্থী সহ সকল মানুষকে বিষিয়ে তুলে। গর্তে আটকে যাওয়া ট্রাকটির পেছনে একে একে ৩টি মালবাহী ট্রাক সারিবদ্ধভাবে গর্তে আটকা পড়ে। এসময় সড়কটি দিয়ে রিক্্রা টমটমসহ ছোট গাড়ি গুলো জীবনের ঝুকিঁ নিয়ে সড়কটির গর্ত এলাকা ছেড়ে যেতে দেখা যায়। সকাল সাড়ে ১১টায় ভারী বর্ষন শুরু হলে বৃষ্টির পানি আর কাদায় একাকার হয়ে যায় হামজা কমিউনিটি সেন্টারের সামন থেকে সানলাইফ কিন্ডার গার্ডেন স্কুলের মোড় পর্যন্ত প্রায় ১শ ফুট এলাকা। বিশেষ করে হামজা কমিউনিটি সেন্টারের সামনে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এসময় ছোট ছোট গাড়িতে থাকা যাত্রীরা কালিমা পড়ে মৃত্যুর ঝুঁিক নিয়ে গর্ত এলাকা পাড়ি দিয়েছেন বলে অধিকাংশ যাত্রীরা জানিয়েছেন। দুপুর পৌনে ১টায় প্রবল বর্ষন আর তীব্র যানজট এবং গর্তে আটকা পড়া দীর্ঘ লাইনের গাড়ির কারনে পুরো সড়কটি বন্ধ হয়ে যায়। কাদাযুক্ত সড়ক দিয়ে লোকজন পাঁয়ে হেটে যাতায়াতও কষ্টকর হয়ে উঠে। বেলা ৩টায় বৃষ্টি থামলে গর্তগুলোতে আটকে পড়া মালবাহী ট্রাক থেকে মালামাল আনলোড করে গর্ত থেকে ট্রাকগুলো উঠানোর পর যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর এলজিইডি কর্তৃক পূন: সংস্কার কাজের ৩মাসের মধ্যে আবারো জগন্নাথপুর-বিশ্বনাথ সড়কের উপজেলা সদরের হাসপাতাল এলাকায় বিশাল গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী গোলাম সারোয়ার জানান, সড়কটির হাসপাতাল এলাকায় মালবাহি ট্রাক ধেবে যাওয়ার সংবাদ পেয়েছি। সড়কটির ওই স্থানে গর্ত হওয়া অংশে সংস্কার কাজের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।