স্টাফ রিপোর্টার:
জগন্নাথপুর উপজেলার কলকলিয়া ইউনিয়নের নাদামপুর গ্রামে এক মহিলাকে জোর পূর্বক ধর্ষনের চেষ্টার অভিযোগে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে দায়েরকৃত মামলা তুলে নেয়ার হুমকি দিয়েছেন ইউপি সদস্য ইকবাল হোসেন সাজাদ সহ তার সহযোগীরা। তাদের অব্যাহত হুমকিতে চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিনযাপন করছেন নির্যাতিত জহুরুল ইসলাম সহ তার পরিবারের সদস্যরা। বুধবার কান্না জড়িত কন্ঠে এ প্রতিনিধির কাছে ঘটনার বর্ণণা দিয়েছেন নারী ও শিশু নির্যাতন মামলার বাদী ও তার স্বামী জহুরুল ইসলাম। ইউপি সদস্য ইকবাল হোসেন সাজাদ ও তার সহযোগী গ্রাম্য মাতব্বর নজর আলী সহ কতিপয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনের আশ্রয় নেয়ার কথা জানিয়েছেন নির্যাতিতা ওই মহিলা এবং তার স্বামী জহুরুল ইসলাম। এছাড়াও নাদামপুর গ্রামের অসংখ্য সচেতন নাগরিকরা নির্যাতিত পরিবারের ওপর একের পর এক অত্যাচারের ঘটনায় ইউপি সদস্য ইকবাল হোসেন সাজাদ সহ জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানান। নাদামপুর গ্রামের লম্পট লিয়াকত আলী কর্তৃক চলতি বছরের ২৮ আগষ্ট রাত ৮টায় বসতঘরের দরজা ভেঙ্গে ঘরে প্রবেশ করে জহুরুল ইসলামের স্ত্রীকে জোরপূর্বক ধর্ষনের চেষ্টা চালায়। লম্পট লিয়াকত আলী ওই মহিলার শরীরের কাপড় ছিড়ে বিবস্ত্র করে দেয়। এসময় ওই মহিলার চিৎকারে স্থানীয় লোকজন ছুটে এলে লিয়াকত আলী পালিয়ে যায়। দিন মজুরের কাজে থাকা স্বামী জহুরুল ইসলাম বাড়িতে ফিরলে জগন্য এ ঘটনা শুনতে পান। বিষয়টি স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিদের অবগত করেন জহুরুল ইসলাম। বিষয়টি গ্রামের সচেতন মহল কর্তৃক সুবিচার না পাওয়ার আশংকায় পরদিন জহুরুল ইসলাম তার স্ত্রীর ওপর নির্যাতনের ঘটনাটি থানায় জানান। এবং তার নির্যাতিতা স্ত্রী নাদামপুর গ্রামের হুছন আলীর ছেলে লম্পট লিয়াকত আলীর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে গত ৩ সেপ্টেম্বর পুলিশ লিয়াকত আলীকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে পাঠায়। এদিকে লিয়াকত আলী গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে তার সাঙ্গপাঙ্গ এবং ইউপি সদস্য ইকবাল হোসেন সাজাদ ধর্ষনের চেষ্টার ঘটনাটি ধামা চাপা দিতে মরিয়া হয়ে উঠে। এ ব্যাপারে নির্যাতিতা ওই মহিলা জানান, ঘটনার পর এবং মামলা দায়েরের পর ইউপি সদস্য ইকবাল হোসেন সাজাদ আমার বাড়িতে গিয়ে ৫০হাজার টাকার বিনিময়ে ঘটনাটি নিম্পত্তি করার প্রস্তাব দেয়। অন্যতায় আমি এবং আমার স্বামী ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের যে কোন প্রকার ঘটনায় জড়িয়ে ক্ষতিগ্রস্থ করার হুমকি দেয়। নির্যাতিতা ওই মহিলার স্বামী জহুরুল ইসলাম অনুরূপভাবে ইউপি সদস্য ইকবাল হোসেন সাজাদ ও নজর আলী সহ তাদের সাঙ্গপাঙ্গদের অব্যাহত হুমকিতে নিরুপায় হয়ে আইনের আশ্রয় নেয়ার কথা উল্লেখ করে জহুরুল ইসলাম জানান, আপনাদের দোহাই লাগে পত্রিকায় লিখবেন না। কারন পত্রিকায় নিউজ ছাপা হলে ইউপি সদস্য ইকবাল হোসেন সাজাদ ও তার সহযোগীরা আমাকে গ্রামছাড়া করবে। জহুরুল ইসলামের গাঁয়ে তর তর করে কাপা শুরে আর অপরাধীদের অব্যাহত হুমকির ভয়ে গড়িয়ে পড়া দু-চোখের অশ্রুু যেন থামছিলনা। দিন মজুর এক সন্তানের জনক জহুরুল ইসলাম একদিকে লম্পট লিয়াকত আলীর অত্যাচারে এলাকায় লোকমূখে কাতর অন্য দিকে ওই লম্পটের কাজের সহযোগী ইউপি সদস্য সহ কতিপয় ব্যক্তিদের মামলা তুলে নেয়ার হুমকিতে চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিনাতিপাত করছেন জহুরুল ইসলাম সহ তার স্বজনরা। নারী নির্যাতন মামলার বাদি কর্তৃক আনিত অভিযোগ অস্বীকার করে ইউপি সদস্য ইকবাল হোসেন সাজাদ জানান, ষড়যন্ত্রমূলকভাবে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার করা হয়েছে। আগামী সংখ্যায় চোখ রাখুন———————————