বিশেষ প্রতিনিধি:
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে জগন্নাথপুর উপজেলার কুশিয়ারা নদীর ওপর প্রায় দেড়শ কোটি টাকা ব্যয়ে সিলেট বিভাগের বৃহৎ রানীগঞ্জ সেতুর নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। আগামী বছর সেতুটির নির্মাণ কাজ শেষ হলে সুনামগঞ্জ জেলার সাথে রাজধানী ঢাকার যাতায়াতে ৩ থেকে ৪ঘন্টা সময় কমে আসবে। জগন্নাথপুর-দক্ষিন সুনামগঞ্জ আসনের সংসদ সদস্য পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানের নির্দেশনায় নির্মাণকারী প্রতিষ্টান সেতুটির নির্মান কাজ দ্রুত গতিতে চালিয়ে যাচ্ছেন। সেতুটির নির্মান কাজ সম্পন্ন হলে সুনামগঞ্জ জেলা সদর ও জগন্নাথপুর উপজেলা সদরের নাগরিকদের জীবন মানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এছাড়া স্থানীয় জনসাধারনের উন্নতির লক্ষ্যে সেতুটির দু-পাশে ‘বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চল (ইকোনমিক জোন)’ করার দাবি তুলেছেন উপজেলাবাসী। পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় কুশিয়ারা নদীর ওপর সিলেট বিভাগের বৃহৎ সেতু নির্মাণ জেলাব্যাপী উন্নয়নের মাইল ফলক সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি পিছিয়ে পড়া হাওর বেষ্টিত সুনামগঞ্জ জেলা অনেক ক্ষেত্রে এগিয়ে যাবে। এছাড়াও পার্শ্ববর্তী নবীগঞ্জ উপজেলার ইনাতগঞ্জ এলাকায় ‘বিবিয়ানা গ্যাস কুপ’ রয়েছে। ফলে এখানে একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে। জগন্নাথপুর-পাগলা-রানীগঞ্জ-আউশকান্দি ভায়া ঢাকা আঞ্চলিক মহা-সড়কটি ঢাকা-সিলেটের একটি লিংক রোড হিসেবে সিলেট সুনামগঞ্জের সড়কের সাথে সংযুক্ত হওয়ায় ভারতের মেঘালয় অঞ্চলের সাথে বাংলাদেশের পন্য সামগ্রী ও মানুষের ব্যবসায়ীক যাতায়াত অতি দ্রুত ও সহজ লব্য হয়ে উঠবে। রাণীগঞ্জ এলাকাটি নবীগঞ্জ ও জগন্নাথপুর উপজেলার সংযোগস্থল হওয়ায় এই সেতুর অঞ্চলটিকে ঘিরে একটি উন্নয়ন ও উৎপাদন সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। বেকার জনগোষ্ঠী ও অধীকতর কৃষি নির্ভর এবং দরিদ্রগ্রস্থ এলাকা হওয়ায় এখানে অর্থনৈতিক অঞ্চল গঠিত হলে জনসম্পদকে কাজে লাগানোর সম্ভাবনা দেখা দেবে এবং জনগণ সমৃদ্ধির আলো দেখবে। উপজেলার সর্বস্তরের জনসাধারনের পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশীরা রানীগঞ্জ সেতু এলাকায় ‘বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চল (ইকোনমিক জোন)’ প্রতিষ্টায় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানের সু-দৃষ্টি কামনা করা হয়। সৈয়দপুর গ্রামের কৃতিসন্তান যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক কবি ও সাংবাদিক মাশূক ইবনে আনিস দৈনিক সবুজ সিলেটকে জানান, যেহেতু জগন্নাথপুর উপজেলা এবং নবীগঞ্জ উপজেলার এই অঞ্চলটি ধান ও মাছ উৎপাদন ও হাওর বেষ্টিত এলাকা। ফলে এই এলাকায় একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল হলে কর্মতৎপরতা বাড়বে এবং দারিদ্র্য বিমোচন হবে। তিনি আরো জানান, পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান চাইলেই এ দাবীটি পুরন হওয়া অসম্ভব কিছু নয়। এলাকার উন্নয়নে রাণীগঞ্জ সেতুর উভয় পাশে একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল এখন সময়ের দাবী উল্লেখ করে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান সহ প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সুশিল সমাজের নেতৃবৃন্দের প্রতি জোর দাবী জানান।