লন্ডন ব্রিজের হামলাকারীর পরিচয় প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ পুলিশ

মুহাম্মদ শাহেদ রাহমান, (লন্ডন) যুক্তরাজ্য থেকে :

পুলিশের গুলিতে নিহত লন্ডন ব্রিজের হামলাকারীর পরিচয় প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ মেট্রোপলিট্রন পুলিশ। মেট্রোপলিট্রন পুলিশ দাবি করেছে, শুক্রবার (২৯ নবেম্ভর ২০১৯) দুপুরে যুক্তরাজ্যের লন্ডন ব্রিজে হামলাকারী ব্যক্তির নাম উসমান খান। সে পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক। ঐ দিনের ছুরি হামলায় হামলাকারীসহ ৩ জন নিহত হয়। একে সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে আখ্যায়িত করেছে পুলিশ। হামলাকারী ২৮ বছরের উসমান খান একটি ভুয়া সুইসাইড ভেস্ট বা বিস্ফোরকযুক্ত পোশাক পরে এ হামলা চালায়। বেশ কয়েকজনকে ছুরিকাঘাতের পর এক পর্যায়ে সে পুলিশের গুলিতে নিহত হয়। পুলিশ আরো জানিয়েছে, হামলাকারী উসমান খান স্ট্যাফোর্ডশায়ার এলাকার বাসিন্দা। বছরখানেক আগে শর্তসাপেক্ষে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছিল সে। মুক্তির জন্য একটি ইলেক্ট্রনিক ট্যাগ পরিধান করা এবং নিজের চলাফেরায় কর্তৃপক্ষের নজরদারির বিষয়ে সম্মত হয়েছিল সে। পুলিশের তথ্যমতে বলা হয়েছে, ব্রিটেনে জন্মগ্রহণ করা উসমানের কৈশোর কেটেছে পাকিস্তানে। কোনও প্রাতিষ্ঠানিক সনদ নেই তার। মা অসুস্থ হওয়ায় ওই সময় সে পাকিস্তানে অবস্থান করেন। পরে ব্রিটেন ফিরে ইন্টারনেটে উগ্রবাদ প্রচারে নামে। ২০১০ সালে লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জের হামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় ১৬ বছরের জেল হয় তার। গত বছরই সে প্যারোলে মুক্তি পায়। তবে ২০১২ সালে সাজা ঘোষণার সময় উসমান খানকে একনিষ্ঠ জিহাদি বলে মন্তব্য করেন বিচারক। সে সাধারণ মানুষের জন্য বিপজ্জনক বলেও জানান তিনি। শর্তসাপেক্ষে ২০১৮ সালে জেল থেকে ছাড়া পায় উসমান। ডিসেম্বর মাসে ছাড় পাওয়ার পর থেকেই সে স্ট্যাফোর্ড এলাকায় বসবাস করছিল। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে এক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শুক্রবার (২৯ নবেম্ভর ২০১৯) সকালে লন্ডন ব্রিজের কাছে ঐতিহাসিক ফিসমোঙ্গার হলে লার্নিং টুগেদার নামের একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন উসমান। লন্ডন ব্রিজে দুইজনকে হত্যা করার পর স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের পুলিশ উসমানকে গুলি করে হত্যা করে। সে বিস্ফোরকবোঝাই পোশাক পরে ছিল। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন টুইটারে দেওয়া এক পোস্টে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় পুলিশ ও জরুরি বিভাগের কর্মীদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন । লন্ডনের পুলিশ কমিশনার ক্রেসিডা ডিক বলেছেন, আমাদের শহরটি আবারও সন্ত্রাসবাদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। এ ঘটনায় আমি খুবই মর্মাহত ও ক্ষুব্ধ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *