স্টাফ রিপোর্টার::
সৌদি আবর থেকে জগন্নাথপুরের কিশোরী মেয়েকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। জগন্নাথপুর দক্ষিণ সুনামগঞ্জ আসনের সংসদ সদস্য পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান নির্যাতিতা মেয়েটিকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনতে ইতো মধ্যে ডিও লেটার দিয়েছেন। জগন্নাথপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো: ইখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী জানান, সৌদি আরবে জগন্নাধপুরের এক কিশোরী মেয়েকে আটকে রেখে নির্যাতনের সংবাদ গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় থেকে ওই মেয়ের বিষয়ে খোঁজ নেয়া হয়েছে।নির্যাতিতা কিশোরীকে দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। প্রসঙ্গত, শুক্রবার (৬ ডিসেম্বর) বিকেলে জগন্নাথপুর থানায় মেয়ের মা রাজিয়া বেগম একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয় ,জগন্নাথপুর পৌরসভার বাড়ি জগন্নাথপুর এলাকার বাসিন্দা জগলু মিয়ার কিশোরী মেয়ে ফারহানা বেগম (১৫)কে একই এলাকার তারিফ উল্লার ছেলে স্থানীয় দালাল লিলু মিয়ার প্ররোচণায় চলতি বছরের ১০ মার্চ সৌদি আরবে পাঠানো হয়। সেখানে সৌদির রিয়াদ এরিয়ার সেমি এলাকায় কিশোরীকে একটি কক্ষে আটককে রেখে খারাপ কাজসহ অমানবিক নির্যাতন করা হচ্ছে। তাকে তার দেশে থাকা পরিবারের সাথে যোগাযোগ করতে দেয়া হচ্ছে না। সৌদি থেকে নির্যাতনের শিকার মেয়েটি মোবাইল ফোনে তার মাকে জানায়, সে খুবই বিপদে আছে, তাকে কোন ধরনের বেতন ভাতা দেওয়া হয় না। তাকে যেন দালালের মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হয়, বলে মেয়েটি কান্নায় ভেঙে পড়ে। এসময় তার ফোনের লাইন কেটে যায়। এঘটনার পর মেয়ের মা গত ২ ডিসেম্বর লিলু মিয়াকে বিষয়টি জানিয়ে মেয়েকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য বলেন। তখন দালাল লিলু মিয়া উত্তেজিত হয়ে মেয়ের মাকে বলে, তোমার মেয়েকে বিদেশ পাঠাতে আমার ২৫ হাজার টাকা খরছ হয়েছে, এই টাকা আমাকে না দিলে মেয়েকে আর তুমি পাবে না। বিদেশে তাকে আরো বেশি নির্যাতন করা হবে। মেয়ে মা রাজিয়া জানান, আমার মেয়ের ওপর অমানবিক নির্যাতন করা হচ্ছে। তাকে যেন দ্রæত দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করি , বলেই সে কাঁদতে কাঁদতে ফোন কেটে দেয়। তিনি কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার মেয়ের জীবন এখন বিপন্ন।