স্টাফ রিপোর্টার::
উপজেলার জগন্নাথপুর পৌর শহরের কামাল কমিউনিটি সেন্টারের মার্কেটে থাকা তালাবদ্ধ স্টুডিও দোকান ঘর থেকে ৫ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার স্টুডিও মালিক ফটোগ্রাফার আনন্দ সরকারের গলাকাটা লাশ উদ্ধারের পর দীর্ঘ ১৫দিন পেরিয়ে গেলেও হত্যাকান্ডের রহস্য এবং খুনিরা গ্রেফতার না হওয়ায় হতাশায় পড়েছেন নিহত আনন্দ সরকারের পরিবার । ছেলের বর্বোরচিত হত্যাকান্ডের পর থেকে অসহায় দরিদ্র পরিবারের সুনিল সরকার এবং জ্যোছনা সরকার এখনো বাকরুদ্ধ রয়েছেন । এদিকে দূর্বৃত্তের হাতে নৃশংস কায়দায় খুন হওয়া আনন্দ সরকারের বড় ভাই মামলার বাদী জীবন সরকার কান্নাজড়িত কন্ঠে জানান, ১৫ দিন অতিবাহিত হলেও আমার নিরপরাধ ভাই আনন্দ সরকারের হত্যাকারী গ্রেফতার না হওয়ায় শংকিত রয়েছি । তবে হত্যার রহস্য উদঘাটনে পুলিশ মাঠে জোড়ালো ভাবে কাজ করছেন স্বীকার করে জানান, পুলিশের তৎপরতা আরো বেশি বৃদ্ধি পেলে আমার ভাইয়ের হত্যার রহস্য উদঘাটন সম্ভব হতে পারে । খুনিদের দ্রুত গ্রেফতার করে শাস্তি প্রদানে পুলিশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রতি জোর দাবী জানান। থানার অফিসার ইনচার্জ মো: ইখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী জানান, আনন্দ সরকার হত্যা কান্ডের ঘটনায় রহস্য উদঘাটন এবং খুনিদের গ্রেফতার করতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মাঠে কাজ করছেন । শীঘ্রই হত্যাকান্ডের মুটিভ উদঘাটনের আশা প্রকাশ করেছেন। এদিকে আইন শৃংখলা পরিস্থিতিতে অন্যান্য এলাকার তুলনায় পৌর শহর অনেকটা ভালোই ছিল দাবী শহরবাসীর । হঠাৎ করে দূর্বৃত্তরা নৃশংস ভাবে গলাকেটে একজন তরুন ব্যবসায়ীকে হত্যা করার ঘটনায় এবং দীর্ঘ ১৫ ডিন অতিবাহিত হলেহ হত্যার মুটিভ উদঘাটন না হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শহরবাসী । তবে হত্যাকান্ডের পর থেকে খুনিদের খুজে বের করতে পুলিশের তৎপরতায় শীঘ্রই খুনিরা ধরা পরবে এমন আশাই রাখছেন অনেকেই ।
প্রসঙ্গত: খুন হওয়া ফটোগ্রাফার আনন্দ সরকার(২৩) নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জ উপজেলার বাইনারী ইউনিয়নের বটতলী গ্রামের সুণীল চন্দ সকারের ছেলে। চলতি মাসের ৫ ডিসেম্বর জগন্নাথপুর উপজেলার পৌর শহরের সিএ মার্কেটের বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন কামাল কমিউনিটি সেন্টারের মার্কেটে আনন্দ সরকারের নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আনন্দ স্টুডিওর তালা ভেঙে দোকানের ভেতরে থেকে লেপ দিয়ে মুড়ানো এবং গলায় মাফলার দিয়ে ঢেকে রাখা আনন্দ সরকারের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করেন পুলিশ ও সিআইডির সদস্যরা । দীর্ঘ ২/৩ বছর আগে জগন্নাথপুর উপজেলায় এসে আনন্দ সরকার প্রথমে একটি স্টুডিওতে চাকুরি নেয়। পরে চলতি বছরের শুরুতেই চাকুরী ছেড়ে দিয়ে নিজ নামে আনন্দ স্টুডিও দোকান খুলে অভাব অনটনের সংসারের হাল ধরেছিলেন আনন্দ সরকার। দোকানের জন্য একটি ফটোকপি মেশিন ক্রয় করতে আনন্দ সরকার ২ ডিসেম্বর এনজিও সংস্থা আশা থেকে ৩০ হাজার টাকা ঋৃন উত্তোলন করেছিলেন । আর সেদিন রাত ৮টায় মায়ের সাথে মোবাইল ফোনে শেষ কথা হয় আনন্দ সরকারের।