নিজস্ব প্রতিবেদক::
সারা বিশ্ব যখন করোনা আতঙ্কে গৃহবন্ধী ঠিক তখন সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে সরকারি জলমহল থেকে ভাড়াটে সন্ত্রাসী দিয়ে মাছ লুটপাটের মহাৎসবে প্রশাসন নিরব ভূমিকা পালন করছে।
সোমবার বিকালে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার চিলাউড়া-হলদিপুর ইউনিয়নের বাউধরন গ্রামের সরকারি খতিয়ানের অন্তর্ভুক্ত ভৈসা ও চাতল বিল জলমহল নিয়ে আদালতে মামলা থাকায় এ বছর উপজেলা প্রশাসন জলমহল ইজারা দেয়নি।
সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে বাউধরন গ্রামের ছমরু মিয়া’র ছেলে মাসুক মিয়া’র ভাড়াটে সন্ত্রাসী দিরাই উপজেলার সুরিয়ারপাড় গ্রামের কুখ্যাত ডাকাত মালেক মিয়া’র নেতৃত্বে ভৈসা ও চাতল বিল জলমহলের মাছ লুটের জন্য পানির সেচের কাজ করছে।
এসময় এ প্রতিনিধিকে ছবি তুলতে বাধা প্রদানসহ অশলীল ভাষায় গালিগালাজ করেন কুখ্যাত ডাকাত মালেক মিয়া ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা।
স্থানীয়রা জানান, ভৈসা ও চাতল বিল জলমহল প্রতি বছর উপজেলা প্রশাসনের কর্তৃক সরকারি ইজারার মাধ্যমে মাছ ধরা হয়। কিন্তু এ বছর আদালতে মামলা থাকায় প্রশাসন জলমহলটি কাউকে ইজারা দেয়নি। অথচ মাসুক মিয়া সরকারি জলমহল থেকে মাছ লুটপাট করছেন। এছাড়া সাংবাদিকদের সাথে এমন আচরন মেনে নিতে পারছেন না স্থানীয়রা। এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
এব্যাপারে মাসুক মিয়ার সাথে মুঠোফোন যোগাযোগ করা হলে, তিনি অশালীন ভাষায় গালাগালি শুরু করেন।
এদিকে সোমবার দুপুরে সরকারি জলমহল থেকে মাছ লুটপাটের খবর পেয়ে জগন্নাথপুর থানার এস আই আফসার আহমদ পরির্দশন করেন। তিনি জানান, এটা সরকারি জলমহল নয়, এটা মালিকানা জলমহল। সরকারের সাথে জনগনের মামলা চলছে। তবে জনগন জলমহলে মাছ ধরতে পারবেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যাক্তিসহ একাধিক সূত্রে জানা যায়, বর্তমান খতিয়ানেও ভৈসা ও চাতল বিল জলমহল সরকারি সম্পত্তি। প্রতি বছর ইজারা দেয়া হলেও এবছর মামলার কারণে ইজারা দেয়া হয়নি।
সরকারি জলমহল লুটের ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহফুজুল আলম মাসুমের সাথে একাধিক বার মুঠোফোনে যোগাযোগ করেও পাওয়া যায়নি।