নিজস্ব প্রতিবেদক::
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার চিলাউড়া-হলদিপুর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের খাগাউড়া ও মহিষাকোনা গ্রামের অসহায়-দরিদ্র একাধিক কৃষক চলতি মৌসুমের বোরো ধান চাষ না করেও সরকার কর্তৃক গুদামে ধান ক্রয়ের তালিকায় তাদের নাম পাওয়া যায়।
এতে গ্রামবাসী চলতি মৌসুমের ভূয়া কৃষকদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেয়ার দাবী জানিয়ে রবিবার (১৭মে) উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বরাবর আবেদন করেন।
আবেদনের প্রেক্ষিতে আজ সোমবার চিলাউড়া-হলদিপুর ইউনিয়নের দায়িত্বে থাকা উপজেলা কৃষি কার্যালয়ের উপসহকারি মো. নাজির উদ্দিন খাগাউড়া ও মহিষাকোনা গ্রামে সরজমিনে কৃষকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে যাচাই-বাচাই করে এবং গ্রামবাসী সহযোগিতায় ১৪৪জন কৃষকের তালিকার মধ্যে থেকে ৩১জন ভূয়া কৃষকের নাম পাওয়া যায়।
এমনকি সরজমিনে এসব ভূয়া কৃষকদের মধ্যে কেউ চলতি মৌসুমে বোরো ধান চাষ করেছেন বলে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এদের মধ্যে অনেকে জানিয়েছেন খাগাউড়া গ্রামের কনাই উল্লার ছেলে বজলুর রহমান বকুল সহ দালাল চক্রের সদস্যরা ৪০০-৫০০টাকা বিনিময়ে তাদের কাছ থেকে কৃষক কার্ড নিয়ে তালিকায় নাম দিয়েছেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছেন গ্রামবাসীরা।
খাগাউড়া স্টুডেন্ট ওয়েলফেয়ার সোসাইটির সাবেক সভাপতি আরজান আহমদ, সাইদুর রহমান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক এনাম, ইতালী প্রবাসী আজির উদ্দিন সহ গ্রামের একাধিক ব্যাক্তি ভূয়া কৃষকদের কার্ড দিয়ে দালালির প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, দালাল বজলুর রহমান বকুল এলাকার অনেক অসহায় ও দরিদ্র মানুষদের টাকার লোভ দেখিয়ে কৃষি কার্ড সহ বিভিন্ন মাধ্যমে দীর্ঘদিন যাবৎ বাণিজ্য করে আসছে। কৃষি কার্ড নিয়ে বকুলের এধরনের দালালির ফলে প্রকৃত কৃষকরা সরকারের সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
তারা আরো বলেন, সোমবার সরজমিনে উপজেলা কৃষি কার্যালয়ের উপসহকারি মো. নাজির উদ্দিন কাছে ভোক্ত ভোগীরা বকুলের নাম প্রকাশ করেছে। তাই আমরা জগন্নাথপুর উপজেলা নিবাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) এবং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কাছে বকুল দালালকে আইনের আউতায় এনে তার সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য জোড় দাবি জানাচ্ছি।
এব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শওকত ওসমান মজুমদার জানান, গ্রামবাসীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে সরজমিনে লোক পাঠানো হয়েছে। অভিযোগের পর ওই এলাকার ধান ক্রয় স্থগিত করা হয়েছে। সরজমিন প্রতিবেদন হাতে আসলে ভূয়া কৃষকদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে এবং এর সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।