মো: আব্দুল হাই::
জগন্নাথপুর উপজেলার মীরপুর ইউনিয়নের শ্রীরামসী গ্রামে বেধনা বিধূর স্মৃতি নিয়ে শ্রীরামসী গনহত্যা দিবস আজ সোমবার ।
১৯৭১ সালের ৩১আগষ্ট পাক হানাদার বাহিনী শান্তি কমিটি গঠনের লক্ষ্যে এলাকার বিভিন্ন শ্রেনী পেশার লোকজনদের শ্রীরামসী বাজারে জড়ো করে। এদের মধ্যে বেশীর ভাগ লোক ছিলেন সাধারন শান্তি প্রিয়। পাক- হানাদাররা এ সময় শান্তি কমিটি না করে সকলকে অস্রের মুখে জিম্মি করে পিছ মোড়া দিয়ে বেঁধে ফেলে এবং একজনকে অন্য জনের সাথে কঠিন বাঁধনে আবদ্ধ করে ,তার পর নি:সীম নিরবতায় দীর্ঘক্ষন যাবৎ চলতে থাকে মেশিন গানের গুলি।
সারি বদ্ধ লাইনের প্রথম ব্যক্তি শ্রীরামসী হাই স্কুলের মৌলভী শিক্ষক আব্দুল হাই এর শুতীব্র আল্লাহ আকবর ধ্বনি, যেন সকল অসহায় আত্মার করুন বিদায়ের বারতা ঘোষনা করে। পাক-হানাদাররা জনমানবহীন শ্রীরামসী বাজার ও গ্রামের অধিকাংশ ঘর-বাড়ি পেট্রোল ঢেলে জ্বালিয়ে দেয়। মুক্তিযুদ্ধের কাল পরে শ্রীরামসীর মানুষেরা শহীদদের স্মৃতিকে গনমানুষের হৃদয়ে চির অনির্বান রাখার দৃপ্ত শপথে শ্রীরামসীতে প্রতিষ্ঠিত করা হয় শহীদ মিনার ও স্মৃতি সৌধ। যার বুক চিরে উৎকীর্ন আছে পরিচয় জানা শহীদদের ৩৮টি নাম
গন হত্যার বেদনা বিধুর এ দিনটিকে স্মরন করতে প্রতিষ্ঠিত হয় শ্রীরামসী স্মৃতি সংসদ ও বধ্যভ‚মি সংরক্ষন কমিটি। শহীদদের স্মরনে আজ সোমবার গনহত্যা দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপনের লক্ষে উপজেলা প্রশাসন ছাড়াও শহীদ স্মৃতি সংসদ ও বধ্যভূমি সংরক্ষন কমিটির উদ্যোগে বৈশি^ক মহামারী করোনা ভাইরাস সংক্রমণের কারণে সংক্ষিপ্তভাবে কর্মসূচী গ্রহন করা হয়েছে।
জগন্নাথপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি, শহীদ স্মৃতি সংসদের সাবেক সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম মশাহিদ জানান, গনহত্যা দিবস উপলক্ষ্যে শ্রীরামসী হাই স্কুল এন্ড কলেজ ক্যাম্পাসে শহীদ মিনারে পুস্পস্তবক অর্পন, কালো ব্যাজ ধারন ও মিলাদ মাহফিল এর আয়োজন করা হয়েছে। স্মৃতি সংসদের সাধারণ সম্পাদক ইউপি সদস্য মাহবুব হোসেন জানান, মীরপুর ইউনিয়ন পরিষদের আয়োজনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।
শ্রীরামসী শহীদ স্মৃতি সংসদের সভাপতি প্রভাষক নূর মোহাম্মদ জুয়েল বলেন,আজ ৩১ আগস্ট ‘শ্রীরামসী গণহত্যা দিবস’। শ্রীরামসীবাসির সবচেয়ে কষ্টের ও একই সাথে গর্বের একটি দিন। যদিও এটি আমাদের আঞ্চলিক শোক দিবস, তবুও এ দিবসে দূর দূরান্তের মানুষও তাঁদের আপনজনের জন্য বিলাপ করেন। কেননা এ দিনে শ্রীরামসীর অনেকের সাথে আশপাশের অঞ্চলের কিছু শান্তিকামী মানুষ প্রাণ বিসর্জন দেন।
শ্রীরামসীবাসির এ আত্মবিসর্জন আমাদের জন্য এনে দিয়েছে এক মহান গৌরব। এ গৌরব আমাদেরকে ঋণীও করেছে বটে। এ ঋণ স্বপ্ন পূরনের ঋণ। শহীদদের স্মৃতি আর অপূর্ণ স্বপ্ন পূরনের তাগিদ থেকেই গড়ে তোলা হয় ‘শহীদ স্মৃতি সংসদ, শ্রীরামসী’। এ সংগঠনটি সেই স্বপ্ন পূরনের পথেই হাঁটছে। জানিনা শহীদদের উত্তরসূরি হিসাবে কতটুকু সফল হচ্ছি। তবে আমাদের পথচলা আরো অনেক বাকি।
পরিশেষে যাঁরা ৩১ আগস্ট ১৯৭১ এ শ্রীরামসীতে শহীদ হয়েছিলেন তাঁদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি এবং সেইসাথে শহীদ পরিবারগুলোর প্রতি জানাচ্ছি ভালবাসা ও শ্রদ্ধা। এই বছর করোনা ভাইরাস সংক্রমণের প্রভাবে বড় আকারে জনসমাবেশ নিষিদ্ধ থাকায় আমরা ‘শহীদ স্মৃতি সংসদ, শ্রীরামসী’র সদস্যবৃন্দ ছোট পরিসরে কার্যালয়ের মধ্যেই দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছি। এলাকাবাসীকে দাওয়াত না করতে পারার জন্য সংগঠনের পক্ষ হতে দুঃখ প্রকাশ করছি। এবং শহীদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও আত্মার শান্তি কামনা করছি।