সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রয়াত জাতীয় নেতা আব্দুস সামাদ আজাদের ১৬তম মৃত্যু বার্ষিকী আজ

মো: আব্দুল হাই :-
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য ভাষাসৈনিক ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম পররাষ্ট্রমন্ত্রী জগন্নাথপুর-দক্ষিন সুনামগঞ্জ আসনের একাধিক বারের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আব্দুস সামাদ আজাদের ১৬তম মৃত্যু বার্ষিকী আজ মঙ্গলবার। মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে মরহুমের বনানীস্থ কবরস্থানে কবর জিয়ারত ও পুষ্পস্তবক অর্পন এবং দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।

এদিকে জগন্নাথপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক রেজাউল করিম রিজু জানান, মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে মরহুম সামাদ আজাদের জন্ম মাটি সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ অঁঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের আয়োজনে জোহরের নামাজের পর দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।

প্রয়াত সামাদ আজাদের জৈষ্ঠ্যপুত্র বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য মেরিন ইঞ্জিনিয়ার আজিজুস সামাদ আজাদ ডন তিনি তার মরহুম পিতার স্মৃতির প্রতি বিনম্্র শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন এবং রুহের মাগফেরাত কামনায় দেশ ও প্রবাসে অবস্থানরত সর্বস্তরের নাগরিকবৃন্দের দোয়া চেয়েছেন।

ইতিহাসের পাতা থেকে সামাদ আজাদ:- তৎকালীন সিলেট জেলার জগন্নাথপুর থানার চিলাউড়া হলদিপুর ইউনিয়নের ভূরাখালী গ্রামের শরিয়ত উল্ল্যাহ ও সুরযান বেগমের গর্বিত সন্তান আলহাজ্ব আব্দুস সামাদ আজাদ ১৯২২সালের ১৫ জানুয়ারি জন্ম গ্রহন করেন। মরহুম আব্দুস সামাদ আজাদ ১৯৪০ সালে ৭ম শ্রেনীর ছাত্র থাকা অবস্থায় সুনামগঞ্জ মহকুমা মুসলিম ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি হিসেবে রাজনীতিতে পদার্পন করেন।

তিনি ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন ও আসাম অঞ্চলের বিভিন্ন আঞ্চলিক বিষয়কে কেন্দ্র করে গড়ে উঠা বিভিন্ন সংগ্রামের অগ্রনায়ক ছিলেন। এ কারনে ইংরেজ শাষক কর্তৃক কয়েকবার গ্রেফতার হন তিনি। সংগ্রামের সিঁড়ি পথ বেয়ে গ্রাম থেকে উঠে আসা আব্দুস সামাদ আজাদ ভাষা আন্দোলনেও গুরুত্বপূর্ন ভুমিকা পালন করেন। ১৯৫২সালে ভাষা আন্দোলনের সময় সক্রীয়ভাবে অংশ গ্রহন করতে গিয়ে তিনি কারা বরন করেন।

১৯৫৪সালে যুক্তফ্রন্টের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে তৎকালীন প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়ে রাজনীতিতে সামনের কাতারে চলে আসেন। ১৯৫৮সালে আইয়ুব বিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ভুমিকা রাখেন এবং সর্বদলীয় রাজনৈতিক জোট এন.ডি.এফ এর দপ্তর সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৬২’র শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৬’র ছয় দফা, ১৯৬৯’র গণঅভূত্থান সহ সকল আন্দোলনে জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর হিসেবে গুরুত্বপূর্ন দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭০’র নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগ থেকে এম এন এ নির্বাচিত হন। ১৯৭১সালে মুজিব নগর সরকার প্রতিষ্ঠার পেছনে গুরুত্বপূর্ন অবদান রাখেন এবং প্রবাসী বিপ্লবী সরকারের রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও ভ্রাম্যমান রাষ্ট্রদ্রুতের দায়িত্ব পালন করেন আব্দুস সামাদ আজাদ।

১৯৭১সালের ডিসেম্বর মাসে সামাদ আজাদ স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। এবং ১৯৭৩সালে সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সুনামগঞ্জ-২ ( দিরাই-শাল্লা) ও সুনামগঞ্জ-৩ ( জগন্নাথপুর-দক্ষিন সুনামগঞ্জ) আসনে নির্বাচন করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭৫ পরবর্তী আওয়ামী লীগকে পুনর্গঠনে বিশেষ ভুমিকা পালন করেন তিনি।

এবং জীবনের শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত আওয়ামী লীগের অন্যতম প্রেসিডিয়াম সদস্য ছিলেন। ১৯৯০ এর গণঅভূত্থানের এবং ১৯৯৬এর জনতার মঞ্চের অন্যতম রূপকার ছিলেন তিনি। ১৯৯১সালে সুনামগঞ্জ-৩ (জগন্নাথপুর-দক্ষিন সুনামগঞ্জ) আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে সংসদে বিরোধী দলীয় উপনেতা এবং ১৯৯৬সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন তিনি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে আব্দুস সামাদ আজাদ অত্যান্ত দক্ষতার সাথে বর্হিবিশ্বের সাথে সৌহার্দ্যপূর্ন সম্পর্ক তৈরী করেন।

২০০১সালের শেষ নির্বাচনে দল হারলেও আব্দুস সামাদ আজাদ সুনামগঞ্জ-৩ (জগন্নাথপুর-দক্ষিন সুনামগঞ্জ) আসনে বিজয়ী হন। তিনি আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং সংসদ সদস্য থাকা অবস্থায় ২০০৫ সালের ২৭ এপ্রিল মৃত্যু বরণ করেন। আব্দুস সামাদ আজাদের বর্ণাঢ্য জীবনে তিনি একজন কিংবদন্তি ও একটি ইতিহাস হিসেবে জাতী আজীবন স্মরণ রাখবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *