জগন্নাথপুরে সরকারি ভুমি নিয়ে সংঘর্ষে আহত যুবকের মৃত্যু, আটক-৩, এলাকায় পুলিশ মোতায়েন

স্টাফ রিপোর্টার :-
জগন্নাথপুর উপজেলার মিরপুর ইউনিয়নের মোহাম্মদগঞ্জ বাজারে সরকারি ভুমি দখল সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে গত ১৭ মে বিকেলে দু-পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় আহত যুবক উজ্জল মিয়া চৌধুরী (২৮) পরদিন ১৮ মে ঢাকার একটি প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়। সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশ কচুরকান্দি গ্রামের লন্ডন প্রবাসী রফিকুল ইসলাম হাশিম, আশিক আলী ও ইয়াতিবুল রহমানকে আটক করেন।

থানার অফিসার ইনচার্জ মো: ইখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী ইত্তেফাককে জানান, এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। আইন শৃঙখলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনায় ৩জনকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে ১জনকে বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং অপর ২জন হাসাপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। অন্যান্য অপরাধীদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে নিহত উজ্জল মিয়া চৌধুরীর ময়না তদন্ত শেষে বুধবার রাত ৮টায় মরদেহ ঢাকা থেকে নিজ গ্রাম কচুরকান্দি মক্রমপুরী বাড়িতে এসে পৌছলে মা, ভাই-বোন আত্মীয় স্বজন প্রতিবেশী বন্ধু মহল সহ সকলের হাউ মাউ কান্নায় হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারনা হয়। এসময় বৃদ্ধা মা রাহেনা বেগমের বুকফাটা করুন আহাজীতে শোক বিহবল হয়ে পড়েন পুরো গ্রামের লোকজন। চোখের সামনে আদরের সন্তানের মৃত দেহ দেখে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন মা।

নিহত যুবকের মা রাহেনা বেগম কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন আমার নিরপরাধ ছেলেকে যারা হত্যা করেছে আমি তাদের ফাঁসির দাবী জানাচ্ছি। একটি টগবগে যুবককে দিন-দুপুরে প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাত করে হত্যার ঘটনায় নিস্তব্দ এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র অসন্তোষের সৃষ্ঠি হয়েছে। ঐদিন রাত সাড়ে ৯টায় গ্রামের ঈদগাহ মাঠে সহস্্রাধিক মুসল্লীদের অংশ গ্রহনে জানাযার নামাজ শেষে দাফন সম্পন্ন করা হয়। জানাযার নামাজ পূর্ব বক্তব্য রাখেন পাটলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজুল হক, নিহতের বড় ভাই আজাদ মিয়া চৌধুরী, পাটলী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ইসলাম উদ্দিন জসিম।

এসময় জগন্নাথপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো: ইখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী এবং ছাতক থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ নাজিম উদ্দিন তাদের বক্তব্যে বলেন দ্রুত হত্যাকারীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে। এলাকার আইন শৃঙখলা পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে উল্লেখ করে এলাকাবাসীর প্রতি অভিনন্দন জানান এবং নিহত উজ্জল মিয়া চৌধুরীর রুহের মাগফেরাত কামনা করেন। এসময় অনেকের ধুকরে ধুকরে কান্নার দৃশ্যটিতে শোক বিহবল লোকজন তাদের প্রিয়জনকে শেষ বিদায় জানান।

প্রসঙ্গত:- জগন্নাথপুর উপজেলার মিরপুর ইউনিয়নের মোহাম্মদগঞ্জ বাজারটি পাশ^বর্তী ছাতক উপজেলার সীমান্তে। বাজারের সরকারি একটি ভুমি নিয়ে কচুরকান্দি গ্রামের ফয়জুল ইসলাম ও ছাতক উপজেলার বসন্তপুর গ্রামের ইউপি সদস্য ছালিক মিয়ার মধ্যে ঐ ভুমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। সোমবার সরকারি ঐ ভুমিতে ইউপি সদস্য ছালিক মিয়া দোকান কোটা নির্মাণ করলে অপর পক্ষ ফয়জুল ইসলাম দোকান ঘরটি ভাংচুরের চেষ্ঠা করলে দু-পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের সৃষ্ঠি হয়। এতে উভয় পক্ষের ১৮জন আহত হন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *