স্টাফ রিপোর্টার:-
জগন্নাথপুর উপজেলার পাইলগাঁও ইউনিয়নের খানপুর গ্রামের শ্মশানঘাট ভূমি নিয়ে দু-পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ সৃষ্ঠি হওয়ায় শ্মশানঘাট রকম ভূমি রক্ষায় প্রশাসনের সু-দৃষ্ঠি কামনা করেছেন খানপুর গ্রামের হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন। এদিকে শ্মশানঘাট রকম ভূমি নিয়ে আদালতে মামলা মোকাদ্দমা চলমান থাকায় সম্প্রতি জগন্নাথপুর থানা পুলিশ বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশে ১৪৪ধারা নোটিশ উভয় পক্ষকে প্রদান করেছেন।
সরেজমিন গিয়ে জানাযায়, জগন্নাথপুর উপজেলার খানপুর মৌজায় স্কুল ও শ্মশান রকম এক একর পচাত্তর শতাংশ ভূমি রয়েছে। যা খানপুর এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন ৭৫শতাংশ ভূমিতে শ্মশানঘাট হিসেবে ব্যবহার করে আসছেন। তাদের আধিপুরুষ থেকে শুরু করে পর্যায়ক্রমে এই শ্মশানরকম ভূমিটি শ্মশানঘাট হিসেবে ব্যবহার করে আসছেন।
বর্তমান আর এস রেকর্ডে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে জেলা প্রশাসক মালিকানায় ১নং খতিয়ানে ৪১০৮ দাগে শ্মশান রকম ভূমিতে হিন্দু সাধারনের ব্যবহারযোগ্য ভূমি হিসেবে রেকর্ডভুক্ত হয়। উক্ত ভূমি নিয়ে খানপুর গ্রামের হিন্দু সম্প্রদায় এবং একই গ্রামের মৃত ইছবর আলীর মেয়ে লাভলী বেগমের সাথে বিরোধের সৃষ্ঠি হয়। শ্মশান রকম ভূমিটি লাভলী বেগম তার সহযোগিদের নিয়ে দখলের চেষ্ঠা করলে এনিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধটি সংঘাতে রূপ নেয়।
এতে গ্রামের হিন্দু সম্প্রদায়ের ন্যায় সঙ্গত কার্যক্রমে কথা বলায় অনেক নিরীহ লোক নানান ভাবে হয়রানীর শিকার হয়েছেন। এর জের ধরে জালালপুর গ্রামের সাজিদ আলীর ছেলে আতাউর রহমান বাদি হয়ে খানপুর গ্রামের মৃত বাহাদুর খানের ছেলে আলমাছ খানকে প্রধান আসামী করে ২০০৫সালে থানায় মামলা দায়ের করা হয়। পরবর্তীতে জালালপুর গ্রামের মৃত নুরুল ইসলামের ছেলে রোকন মিয়া বাদি হয়ে খানপুর গ্রামের মৃত মনফর আলীর ছেলে মোহাম্মদ ইছরাইল আলীকে প্রধান আসামী করে ২০১৪ সালে আরো একটি মামলা দায়ের করা হয়।
খানপুর গ্রামের মৃত ইছফর আলীর স্ত্রী হামিদা বেগম বাদি হয়ে একই গ্রামের মৃত মনফর আলীর ছেলে ইছরাইর আলী, ইছরাইল আলীর ছেলে মিজান, করুনা দাসের ছেলে চন্দন দাস, মৃত ক্ষিতিশ দাসের ছেলে নারায়ন দাস, ধীগিন্দ্র দ্রাসর ছেলে দিবা দাস, ইছরাইল আলীর ছেলে মিলাদ, মৃত রাকেশ দাসের ছেলে রাদেশ দাস, প্রনব দাস, অধর দাশের ছেলে বাপল দাস, করুনা দাসের ছেলে অঞ্জন দাসের বিরুদ্ধে দাঙ্গার অভিযোগ মামলা দায়ের করা হয়।
এছাড়াও ২০১৫সালে সুনামগঞ্জ আমল গ্রহনকারী জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে খানপুর গ্রামের মৃত ক্ষিতিশ দাসের ছেলে নারায়ন দাস বাদি হয়ে জালালপুর গ্রামের মৃত ফজর আলীর ছেলে তদরিছ আলীকে প্রধান আসামী করে মামলা দায়ের করা হয়। অপর দিকে ২০১৫সালে সুনামগঞ্জ আমলগ্রহনকারী জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জালালপুর গ্রামের মৃত ছুরুক মিয়ার ছেলে লুবন আহমদ উরফে রোকন বাদি হয়ে ইছরাইল আলীর ছেলে মিজানকে প্রধান আসামী করে আরো একটি মামলা দায়ের করা হয়।
এছাড়াও সুনামগঞ্জ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে খানপুর গ্রামের মৃত সতীশ দাসের ছেলে সেনা দাশ বাদি হয়ে লাভলী বেগম, আতাফুল মিয়া, লুবন মিয়া, দিনুর মিয়া, মজই মিয়াকে আসামী করে ফৌজদারী কার্যবিধির ১৪৪ধারা অভিযোগ উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেন। এর প্রেক্ষিতে বিবিধ মোকাদ্দমা নং ২৩৬/২১ (জগ:) স্মারক নং ৫৫৭ তারিখ ০১-০৬-২০২১ইং।
পক্ষদ্বয় দ্বারা নালিশা ভূমির শান্তি শৃঙখলার সৃষ্ঠি হলে সেই পক্ষের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে মর্মে জগন্নাথপুর থানা পুলিশ কর্তৃক ফৌজদারী কার্যবিধি আইনের ১৪৪ধারা নোটিশ জারী করা হয়। খানপুর গ্রামের নারায়ন দাশ, বিরেন দাশ, সেনা দাশ ও চন্দন দাশ জানান, আমাদের বাপ-দাদার আমল থেকে উক্ত শ্মশানে আমরা আমাদের মৃত ব্যক্তিদের সৎকার করে আসছি। বর্তমানে মৃত ইছবর আলীর মেয়ে লাভলী বেগম তার সহযোগিদের নিয়ে আমাদের শ্মশানঘাট রকম ভূমি দখল করে নেয়ার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে।
এছাড়া আমরা হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন ছাড়াও গ্রামের নিরীহ লোকজনদের মিথ্যা মামলা মোকাদ্দমা দিয়ে হয়রানি করে আসছে। শ্মশান রকম ভূমিটি রক্ষায় প্রশাসনের প্রতি দাবী জানানো হয়। ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে লাভলী বেগমের বাড়িতে খোজ করা হলে তিনিকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। তবে এবিষয়ে তার পক্ষের লোকজন কথা বলতে রাজি হননি।