০৭:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ছয় মাস পর বনে ফেরা: মুক্ত আকাশে ফিরে গেল আহত বাঘিনী” ফাঁদের ক্ষত পেরিয়ে আবারও সুন্দরবনে স্বাধীন বাঘিনী

  • Update Time : ০৬:১০:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬
  • / 11

এস. এম. সাইফুল ইসলাম কবির, সুন্দরবন থেকে ফিরে:
হরিণ শিকারিদের পাতা ফাঁদে আটকা পড়ে গুরুতর আহত হওয়া একটি বাঘিনী দীর্ঘ ছয় মাস চিকিৎসা ও নিবিড় পরিচর্যার পর সুস্থ হয়ে আবারও তার প্রাকৃতিক আবাস সুন্দরবনে ফিরে গেছে। রোববার (১২ জুলাই) সুন্দরবন পূর্ব বনবিভাগের আন্ধারমানিক ইকো ট্যুরিজম কেন্দ্রসংলগ্ন বনাঞ্চলে বাঘিনীটিকে অবমুক্ত করা হয়।

বাঘিনীটিকে অবমুক্ত করার মুহূর্তটি দেখতে সকাল থেকেই আন্ধারমানিকের শ্যালা নদীর তীরে উৎসুক মানুষের ভিড় জমে। একটি বিশেষ খাঁচায় করে আনা বাঘিনীকে যখন অবমুক্ত করার প্রস্তুতি চলছিল, তখন উপস্থিত সবার দৃষ্টি ছিল খাঁচাটির দিকে।

প্রায় ১০ ফুট দীর্ঘ ও ৬ ফুট চওড়া সবুজ রঙের খাঁচার স্লাইডিং দরজা ওপরে তোলার পর প্রথমে কিছুক্ষণ ভেতরেই অবস্থান করে বাঘিনীটি। এরপর ধীরে ধীরে মাথা বের করে চারপাশ পর্যবেক্ষণ করে। আগের রাতে চেতনানাশক প্রয়োগ এবং কয়েক ঘণ্টা আগে জ্ঞান ফেরার কারণে তাকে কিছুটা ক্লান্ত দেখাচ্ছিল। শুরুতে বাইরে আসতে অনীহা প্রকাশ করলেও প্রায় এক ঘণ্টা পর খাঁচা থেকে বের হয়ে আসে। পরে পরিচিত ম্যানগ্রোভ বনের দিকে তাকিয়ে দ্রুত বনের ভেতরে মিলিয়ে যায় সে।

বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ জানুয়ারি পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের বৈদ্যমারী ফরেস্ট টহল ফাঁড়ির আওতাধীন শরকি খাল এলাকায় হরিণ শিকারিদের পাতা ফাঁদে আটকা পড়ে গুরুতর আহত হয় বাঘিনীটি। খবর পেয়ে বন বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে চেতনানাশক প্রয়োগের মাধ্যমে বাঘিনীটিকে উদ্ধার করেন। পরে ফাঁদ কেটে মুক্ত করে লোহার খাঁচায় করে খুলনার বন্যপ্রাণী পুনর্বাসন কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়।

সেখানে বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে দীর্ঘ ছয় মাস চিকিৎসা ও নিবিড় পরিচর্যার মাধ্যমে বাঘিনীটি সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠে। শারীরিক অবস্থা সন্তোষজনক হওয়ায় তাকে আবার সুন্দরবনে অবমুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয় বন বিভাগ।

সুন্দরবন পূর্ব বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) শেখ ফরিদুল ইসলাম এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে জানিয়েছিলেন, ছয় মাসের চিকিৎসা শেষে ১২ জুলাই বাঘিনীটিকে তার প্রাকৃতিক আবাসে ফিরিয়ে দেওয়া হবে।

রোববার অবমুক্তকরণ শেষে বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, বাঘিনীটি এখন সম্পূর্ণ সুস্থ। তারা আশা করছেন, এটি সুন্দরবনের স্বাভাবিক পরিবেশে স্বাধীনভাবে বিচরণ, শিকার এবং প্রজনন কার্যক্রমে অংশ নিতে সক্ষম হবে।

বন বিভাগের মতে, সফল চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের পর একটি রয়েল বেঙ্গল টাইগারকে আবারও প্রাকৃতিক পরিবেশে ফিরিয়ে দেওয়া দেশের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কার্যক্রমের একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য।

Please Share This Post in Your Social Media

ছয় মাস পর বনে ফেরা: মুক্ত আকাশে ফিরে গেল আহত বাঘিনী” ফাঁদের ক্ষত পেরিয়ে আবারও সুন্দরবনে স্বাধীন বাঘিনী

Update Time : ০৬:১০:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬

এস. এম. সাইফুল ইসলাম কবির, সুন্দরবন থেকে ফিরে:
হরিণ শিকারিদের পাতা ফাঁদে আটকা পড়ে গুরুতর আহত হওয়া একটি বাঘিনী দীর্ঘ ছয় মাস চিকিৎসা ও নিবিড় পরিচর্যার পর সুস্থ হয়ে আবারও তার প্রাকৃতিক আবাস সুন্দরবনে ফিরে গেছে। রোববার (১২ জুলাই) সুন্দরবন পূর্ব বনবিভাগের আন্ধারমানিক ইকো ট্যুরিজম কেন্দ্রসংলগ্ন বনাঞ্চলে বাঘিনীটিকে অবমুক্ত করা হয়।

বাঘিনীটিকে অবমুক্ত করার মুহূর্তটি দেখতে সকাল থেকেই আন্ধারমানিকের শ্যালা নদীর তীরে উৎসুক মানুষের ভিড় জমে। একটি বিশেষ খাঁচায় করে আনা বাঘিনীকে যখন অবমুক্ত করার প্রস্তুতি চলছিল, তখন উপস্থিত সবার দৃষ্টি ছিল খাঁচাটির দিকে।

প্রায় ১০ ফুট দীর্ঘ ও ৬ ফুট চওড়া সবুজ রঙের খাঁচার স্লাইডিং দরজা ওপরে তোলার পর প্রথমে কিছুক্ষণ ভেতরেই অবস্থান করে বাঘিনীটি। এরপর ধীরে ধীরে মাথা বের করে চারপাশ পর্যবেক্ষণ করে। আগের রাতে চেতনানাশক প্রয়োগ এবং কয়েক ঘণ্টা আগে জ্ঞান ফেরার কারণে তাকে কিছুটা ক্লান্ত দেখাচ্ছিল। শুরুতে বাইরে আসতে অনীহা প্রকাশ করলেও প্রায় এক ঘণ্টা পর খাঁচা থেকে বের হয়ে আসে। পরে পরিচিত ম্যানগ্রোভ বনের দিকে তাকিয়ে দ্রুত বনের ভেতরে মিলিয়ে যায় সে।

বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ জানুয়ারি পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের বৈদ্যমারী ফরেস্ট টহল ফাঁড়ির আওতাধীন শরকি খাল এলাকায় হরিণ শিকারিদের পাতা ফাঁদে আটকা পড়ে গুরুতর আহত হয় বাঘিনীটি। খবর পেয়ে বন বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে চেতনানাশক প্রয়োগের মাধ্যমে বাঘিনীটিকে উদ্ধার করেন। পরে ফাঁদ কেটে মুক্ত করে লোহার খাঁচায় করে খুলনার বন্যপ্রাণী পুনর্বাসন কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়।

সেখানে বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে দীর্ঘ ছয় মাস চিকিৎসা ও নিবিড় পরিচর্যার মাধ্যমে বাঘিনীটি সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠে। শারীরিক অবস্থা সন্তোষজনক হওয়ায় তাকে আবার সুন্দরবনে অবমুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয় বন বিভাগ।

সুন্দরবন পূর্ব বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) শেখ ফরিদুল ইসলাম এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে জানিয়েছিলেন, ছয় মাসের চিকিৎসা শেষে ১২ জুলাই বাঘিনীটিকে তার প্রাকৃতিক আবাসে ফিরিয়ে দেওয়া হবে।

রোববার অবমুক্তকরণ শেষে বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, বাঘিনীটি এখন সম্পূর্ণ সুস্থ। তারা আশা করছেন, এটি সুন্দরবনের স্বাভাবিক পরিবেশে স্বাধীনভাবে বিচরণ, শিকার এবং প্রজনন কার্যক্রমে অংশ নিতে সক্ষম হবে।

বন বিভাগের মতে, সফল চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের পর একটি রয়েল বেঙ্গল টাইগারকে আবারও প্রাকৃতিক পরিবেশে ফিরিয়ে দেওয়া দেশের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কার্যক্রমের একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য।