মাদক ও চুরি বিরোধী সুনামগঞ্জের তিন ইউনিয়নবাসীর আয়োজনে প্রতিরোধমূলক সভা অনুষ্ঠিত
- Update Time : ০৩:২০:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬
- / 14
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার রঙ্গারচর, জাহাঙ্গীরনগর ও সুরমা এই তিনটি ইউনিয়নের আহ্বায়ক কমিটির যৌথ উদ্যোগে সমাজে মাদক ও চুরি বিরোধী প্রতিরোধমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার দুপুরে মাদক ও চুরি বিরোধী আহ্বায়ক কমিটির আয়োজনে জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের মঙ্গলকাটা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এই প্রতিরোধমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়।
মাদক ও চুরি বিরোধী তিন ইউনিয়ন কমিটির আহ্বায়ক ও রঙ্গারচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল হাই এর সভাপতিত্বে ও সংগঠনের সদস্য সচিব ও জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. আব্দুল লতিফের সঞ্চালনায় প্রতিরোধমূলক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, সুনামগঞ্জ-৪ (সদর ও বিশ্বম্ভরপুর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নূরুল ইসলাম নূরুল।
সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. রেজাউল হক, সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রতন শেখ পিপিএম, জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রশিদ, জেলা যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি সোহেল আহমেদ, সুরমা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. খোরশেদ আলম, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সুহেল মিয়া, সুরমা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. মমিন মিয়া, জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এসআই আতাউর রহমান সজীব, উপ-পরিদর্শক মনিতা সিনহা, সুরমা ইউপি বিএনপির সভাপতি সাজুল মিয়া, বিএনপি নেতা আনোয়ার হোসেন, মাওলানা নুরুল ইসলাম, মো. তাহের মিয়া, মো. জাকির হোসেন, খুরশেদ আলম, আবু তাহের, বাহা উদ্দিন, ইসমাইল, ওসমান গণি প্রমুখ।
সভায় বক্তারা বলেন, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার উত্তরাঞ্চলের রঙ্গারচর, সুরমা ও জাহাঙ্গীরনগর এই তিনটি ইউনিয়ন সীমান্ত এলাকা হওয়ায় এখানকার ও শহরের গুটিকয়েক গরু চোরাকারবারি, মাদক ব্যবসায়ী, সেবনকারী, জুয়াখোর ও সুদখোর এই তিন ইউনিয়নের যুবসমাজকে এসব অপকর্মে লিপ্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। এজন্য প্রতিটি পরিবারের অভিভাবক ও পিতা-মাতার খেয়াল রাখা প্রয়োজন আপনার ছেলেমেয়ে কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে যাচ্ছে এবং কী করছে।
বক্তারা আরও বলেন, নিজের ঘর থেকে এসব অপকর্মের বিরুদ্ধে শুদ্ধি অভিযান পরিচালনা করেই মদ, জুয়া, গরু চুরি, সুদের ব্যবসা বন্ধ করতে এই তিন ইউনিয়নের যুবসমাজ মিলে মাদক ও চুরি বিরোধী আহ্বায়ক কমিটি গঠন করে আজ মঙ্গলকাটা বাজারে প্রতিরোধমূলক সভার আয়োজন করা হয়েছে। মঙ্গলকাটা একটি ঐতিহ্যবাহী বাজার, এই বাজারে অনেক মাদক কারবারি, গরুচোর, সুদের কারবারি ও জুয়াখোর রয়েছেন। তাদের প্রতিহত করতে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার কোনো বিকল্প নেই। পাশাপাশি এই বাজারে একটি অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন এবং পুরো বাজারকে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনার দাবি জানান তারা।
সভায় অভিযোগ করা হয়, এই তিনটি ইউনিয়নে শিক্ষার হার ভালো থাকায় সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে এই অঞ্চলের ছেলেমেয়েরা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। অথচ এসব চোরাকারবারিরা সীমান্তের ওপার থেকে প্রকাশ্যে দিবালোকে মরণনাশক ভারতীয় অবৈধ মদ, ইয়াবা, ফেনসিডিল নিয়ে আসছেন। এলাকার গরিব পরিবার যারা রয়েছেন তারা পশুপালন করে ছেলেমেয়েদের ভবিষ্যৎ গঠনের স্বপ্ন দেখলেও দিন দিন এলাকায় গরু চুরি, মাদকের রমরমা ব্যবসা চলছে। এক শ্রেণির প্রভাবশালী গরিব দেখে দেখে চড়া সুদে সুদের ব্যবসা করে তাদের নিঃস্ব করে দিচ্ছেন।
কাজেই এবার আর অনৈক্য নয়, সকল ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এসব অপকর্মের বিরুদ্ধে হাতে বাঁশের লাঠি নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন বক্তারা।














