জগন্নাথপুরের ফতেহপুর জামে মসজিদে যথাযোগ্য মর্যাদায় ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপন

স্টাফ রিপোর্টার:-
বিশ্ব মানবতার মুক্তির দিশারী পিয়ারা নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর শুভাগমনের মাস পবিত্র রবিউল আউয়াল। এ মাসে বিশ্বনবীর শুভাগমনকে স্বাগত জানিয়ে ব্যাপক আয়োজনে বিশ্বব্যাপি উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)।সকল ঈদের সেরা ঈদ ‘পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপন’ উপলক্ষে প্রতিবছরের ন‍্যায় সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার ফতেহপুর জামে মসজিদের সামন থেকে অক্টোবর ,

আজ শুক্রবার সকাল ৮ :টায় ফতেহপুর জামে মসজিদের পবিত্র ঈদে মিলাদুলনবী (সাঃ) উদযাপন কমিটির আহবায়ক কারী সাইদুর রহমান এর পরিচালনায় ফতেহ পুর জামে মসজিদ থেকে পীরের গাঁও সুন্নিয়া দাখিল মাদ্রাসা পর্যন্ত এক মুবারক র‍্যালি প্রদক্ষিণ করে । এতে উপস্থিত ছিলেন পীরের গাঁও সুন্নিয়া দাখিল মাদ্রসার সহকারী মৌলভী মাও.লুৎফুর রহমান, ফতেহপুর ফুলকুড়িঁ সমাজ কল্যাণ সংস্থার সভাপতি মাও.হুসাইন আহমদ, সাধারণ সম্পাদক দবির আহমদ মিটাভরাং সরকারি প্রা:বিদ‍্যায়ের সহ.শিক্ষক শায়েক আলমগির,

রসুলগঞ্জ মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক আখতার হোসেন,হাফিজ নাসির উদ্দিন, হাফিজ নজরুল ইসলাম, হাফিজ আমিনুল ইসলাম, দরছ আলী, ইমান উদ্দিন ইমন,জাহিদুল ইসলাম, সজিব আহমেদ, কাওছার আহমদ, জুবায়ের আহমদ, কাওছার আহমদ, সফু মিয়া, রিমন আহমদ, জাহিদুল ইসলাম, আকিকুল ইসলাম, সোহাগ মিয়া সহ প্রমুখএবং বিভিন্ন স্কুল ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীবৃন্দ।

অনলাইন ব্যাবসা ‘ স্টাইল ক্লসেট ’ এর সত্ত্বাধিকারী জগন্নাথপুরের সফল একজন নারী উদ্যোক্তার গল্প!

 

 

মো. আব্দুল হাই:-
মাত্র ২০(বিশ) টাকার পুঁজি দিয়ে শুরু করে ৪ বছরে ১০ লাখ টাকা মূলধন গড়েছেন জগন্নাথপুর উপজেলার মীরপুর ইউনিয়নের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত শ্রীরামসী চাঁদবৌয়ালী গ্রামের মো. আক্কাছ মিয়ার বড় মেয়ে ফেরদৌসী আক্তার লাবণী। লাবণী সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর লাভ করেছেন।

‘ স্টাইল ক্লসেট ’ নামে অনলাইন ব্যাবসার মালিক এই নারী উদ্যোক্তা । তবে এটি যতটাই না সহজ মনে হচ্ছে, শুরুটা ছিল তার জন্য ততটাই কঠিন। উদ্যোক্তা হওয়ার লড়াইয়ে শুরু থেকেই অনেক কঠিন পথ পাড়ি দিতে হয়েছে তাকে। তার মতো এভাবে অনেক নারীই সামান্য পুঁজি নিয়ে ব্যবসা শুরু করে নানান প্রতিকূলতা মোকাবেলা করে সফল উদ্যোক্তা হয়েছেন।

পরিবারের আপত্তির পরও লাবণী নানান চড়াই-উৎড়াই পেরিয়ে স্বাবলম্বী হয়েছেন। পাশাপাশি আরও অনেক নারীকে স্বাবলম্বী করতে কর্মসংস্থান তৈরি করছেন। এতে করে বেকারত্ব লাঘব হয়েছে অনেক কর্মহীন নারীর।মেধা ও দক্ষতার উজ্জল দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী হাস্যজ্জল ধর্মভীরু ফেরদৌসী আক্তার লাবণী ২০১৭ সালে প্রথম এই উদ্যোগ শুরু করেছিলেন।

‘ স্টাইল ক্লসেট’র স্বত্ত্বাধিকারী লাবণী বলেন, আমার এই কর্মযজ্ঞে “অনেকেই সমালোচনা করেছেন, আবার অনেকেই চায়নি আমি উদ্যোক্তা হই। তাদের কথা হল, অনার্স-মাস্টার্স করে এসব করা মানায় না। সরকারি চাকুরী করতে হবে।কিন্তু আমি এসব সমালোচনা-নিন্দার প্রতি ভ্রুক্ষেপ করিনি, গুরুত্ব দিয়েছি ব্যবসার প্রতি।

 

পাশাপশি ব্যবসার পরিধি বাড়ানোর চেষ্টা শুরু করি। নতুন নতুন পণ্য এনে বিক্রি শুরু করি। লাবণী বলেন নারী হিসেবে প্রথমে অনেকেই অনেক কটু কথা বলেছেন, অনেক পাইকারী বিক্রেতা আমার সাথে কথা বলতে চান নি, সাহায্যও করতে চান নি। লাবণী সকল বাঁধা পেরিয়ে নিজ লক্ষ্যে অটুট থেকে আজ তার নিজ উদ্যোগে প্রতিষ্ঠা করেছেন লাভজনক এই ব্যবসাটি।

অনলাইন ব্যবসা যতটা সহজ মনে হয় আসলে ততটা সহজ ছিল না। দিনের পর মাস এভাবে দুটি বছর লাবণী তার নিজের উদ্দ্যোগে ব্যবসা পরিচালনা করেন।লাবণী এক পর্যায়ে হাইট্যাকপার্ক বাংলাদেশ , বাংলাদেশ ইয়থ এন্টারপ্রাইজ এডভাইজ এন্ড হেল্প সেন্টার ( বি ওয়াই ই এ এইচ ) বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ( বাংলাদেশ ইনভেষ্টমেন্ট ডেভেলপম্যান্ট অথরেটি) এর একটি প্রজেক্ট ইন্টারপ্রেনারশীপ এন্ড স্কিল ডেভেলপম্যান্ট প্রজেক্ট ( ই এস ডি পি ), প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রশিক্ষণও নিয়েছেন তিনি।

বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তিনি ই-কমার্স, ডিজিটাল মার্কেটিং সহ বিভিন্ন বিষয়ে নিজেকে এবং নিজের উদ্যোগকে আরও বেশি উন্নত করেছেন।২০১৭ সালে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনার পাশাপাশি এই অনলাইন ব্যবসা শুরু করেছিলেন। লাবণীর একটাই উদ্দেশ্যে ছিল চাকুরি পাওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি নিজেই কিছু একটা করবেন। বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্ত করে নিজেকে স্বাবলম্বী করার ইচ্ছাকে কাজে লাগিয়ে অনলাইনে তিনি বিভিন্ন পন্য নিয়ে ফেইসবুকের মাধ্যমে ব্যবসায়িক কার্যক্রম শুরু করেন।

ধীরে ধীরে তার পরিসর দেশ ছাড়িয়ে প্রবাসে ছড়িয়ে পড়ে। প্রবাস থেকে বিভিন্ন গ্রাহক তার কাছ থেকে দেশীয় পন্য কেনাকেটা করে আসছেন।
লাবনী আরো জানান, এ ব্যাবসায় অল্প পুঁজি নিয়ে শুরু করলেও অনেক ঘাত-প্রতিঘাত পেরিয়ে আজ তার ব্যবসার মূলধন বেড়ে ৮ থেকে ১০ লক্ষ টাকায় পৌঁছে গেছে। প্রবাসে তিনি নিজ দেশীয় পণ্য সরবারহ করে দেশের সুনাম অর্জনের পাশাপাশি অর্থনীতিতে বৈদেশিক মূদ্রা অর্জনে সল্প পরিসরে হলেও অবদান রাখছেন লাবনী।

লাবণীর ‘ স্টাইল ক্লসেট ’এখন জামদানি,কাস্টমাইজ পণ্য, ব্লক, বাটিক, হাতের কাজের শাড়ি, সালোয়ার কামিজ, চাদর, নকশি চাদর, সুতার কাজের ওয়ান পিস সহ নানা ধরনের পণ্য বিক্রি করছেন।সমালোচনা থাকলেও সহযোগিতা পাওয়ার কথা জানিয়ে লাবণী বলেন, “বাব-মা’র অনুপ্রেরণায়ই আমার এগিয়ে যাওয়া। তাদের দোয়া, অজস্রস্নেহ ভালবাসা সহযোগিতা আমাকে প্রেরনা যোগিয়েছে।

লাবণীর তৈরি হস্তপণ্য, বুটিক পণ্য সিলেট, সুনামগঞ্জ সহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিক্রি হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে- জামদানি শাড়ি,ত্রি-পিস,নিজের ডিজাইনের পোশাক,নকশী কাঁথা ইত্যাদি।লাবণী ভবিষ্যতে অনলাইন ভিত্তিক ব্যাবসা থেকে থেকে শো-রুম প্রতিষ্ঠার জন্য আশাবাদী রয়েছেন। তিনি চান তার নিজস্ব শো-রুমে থাকবে নিজস্ব ডিজাইন করা পোশাক সহ দেশীয় ঐতিহ্যবাহী পণ্য।

যাতে গ্রাহকরা শো-রুমে এসে কেনাকাটা করতে পারেন, সেই সাথে অনলাইনে তিনি আরও ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে আরও উন্নত করার কাজ করে যাচ্ছেন। প্রবাসীদের প্রতি অফুরন্ত শ্রদ্ধা রেখে লাবণী বলেছেন, সুজলা-সুফলা শষ্য-শ্যামলা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যরে অপরূপ লীলা ভূমি বাংলাদেশকে আরও সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে যতটুকু সম্ভব দেশীয় পণ্য ব্যবহার করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন। অনলাইন ব্যবসা ‘ স্টাইল ক্লসেট ’ এর পণ্য সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্যের জন্য যোগাযোগ করুন ই-মেইল- styleclosetlaboni01@gmail.com.

জগন্নাথপুরের আছিমপুর গ্রামের শাহনুর মিয়া কর্তৃক বিয়ের প্রলোভনে জর্ডান প্রবাসী নারীর সর্বনাশ ! মামলা দায়ের

স্টাফ রিপোর্টার:-
জগন্নাথপুর উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নের আছিমপুর গ্রামের মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে শাহনুর মিয়া কর্তৃক বিয়ের প্রলোভনে প্রতারণার মাধ্যমে নবীগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা জর্ডান প্রবাসী জুমি বেগমের বিপুল পরিমান অর্থ ও স্বর্নালংকার হাতিয়ে নিয়েছে। এ ঘটনায় জুমি বেগম বাদী হয়ে প্রতারক শাহনুর মিয়াকে (২৯) প্রধান আসামী করে ৫জনের বিরুদ্ধে প্রতারনার মাধ্যমে টাকা , মালামাল আত্মসাৎ, মারধর ও শারীরিক সর্ম্পকের কারনে জোড়পূর্বক গর্ভপাত ঘটানোর অভিযোগ এনে সুনামগঞ্জের আমল গ্রহনকারী জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেছেন।

মামলার অন্যান্য আসামীরা হলেন প্রতারক শাহনুর মিয়ার ভাই ফয়সল আহমদ (৪২), শাহিন মিয়া (৩৪), আব্দুল মতিনের স্ত্রী রঙ্গু বেগম (৪৫), ফয়সল আহমদের স্ত্রী লাকি বেগম (৩৫)। প্রতারনার শিকার গরীব অসহায় পরিবারের মেয়ে জুমি বেগম মামলার অভিযোগে উল্লেখ করেন পারিবারিক অভাব অনটনের কারনে বিগত ২০১৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে গৃহকর্মীর ভিসায় জর্ডানে যান। সেখানে থাকা অবস্থায় মোবাইল ফোনের রং নাম্বারে কল করার মাধ্যমে শাহনুর মিয়ার সাথে পরিচয় হয়।

ওই সময় প্রতারক শাহনুর মিয়া সে একটি ঔষধ কোম্পানির সেলসম্যান পরিচয় দিয়ে মন ভোলানো কথা বলে প্রেমের সর্ম্পক গড়ে তুলে । এক পর্যায়ে বিয়ে করার প্রতিশ্রুতি দেয়। ওই সময়ে শাহনুর মিয়া তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সাথে ফোনলাপের মাধ্যমে গভীর সর্ম্পকের সৃষ্টি হয়। ২০১৬ এবং ২০১৮ সালের মাঝামাঝি সময়ে শাহনুর মিয়াকে চাকুরির পাশাপাশি সুবিদাজনক ব্যবসা করার জন্য ৩ লাখ টাকা প্রদান করা হয়। জুমি বেগম মামলার এজাহারে আরো উল্লেখ করেন ,

প্রতারক শাহনুর মিয়ার দেয়া বিয়ের প্রতিশ্রুতির ফলে ২০১৮ সালের ৬ জুলাই জর্ডান থেকে দেশে ফেরেন। নিজ এলাকায় আসার পর বিয়ের আয়োজন করার জন্য শাহনুরকে জানালে প্রতারক নারীলোভী পারিবারিক সমস্যা দেখিয়ে গোপনে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। সরল বিশ^াস এবং গভীর প্রেমের কারনে গোপনে বিয়ে করার প্রস্তুতি নিলে পূনরায় প্রতারক শাহনুরের কথা অনুযায়ী নগদ আরো ১ লাখ টাকা ৩ ভরি স্বর্নালংকার ও কাপড় ছোপড় দেই।

ওই সময়ে প্রতারক শাহনুর গোপনে বিয়ে করার জন্য সিলেট মহানগরীর একটি আবাসিক হোটেলে নিয়ে স্ত্রী পরিচয়ে ওই হোটেল কক্ষে জোরপূর্বক শারিরীক সর্ম্পকের চেষ্টা করে, পরবর্তীতে পরবর্তীতে মিথ্যা তথ্য দিয়ে ৩লাখ টাকা মোহরানা উল্লেখ করে দুটি স্টাম্পে স্বাক্ষর নেয়। পরবর্তীতে কাবিন রেজিষ্ট্রি করার প্রতিশ্রুতি দেয়। শাহনুরের প্রতারনার বিষয়টি না বুঝে সিলেট শহরে তার এক বন্ধুর বাসায় এবং বিভিন্ন সময়ে আবাসিক হোটেলে অবস্থান করে স্বামী স্ত্রী হিসেবে শারিরীক সর্ম্পকে মিলিত হয়।

এ ঘটনার প্রায় দুই মাস পর প্রতারক শাহনুর কৌশলে আমার গর্ভের সন্তান নষ্ট করে। জুমি বেগম এজাহারে আরো উল্লেখ করেন স্ত্রীর মর্যাদার জন্য শাহনুরকে তার বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলায় প্রতারক শাহনুর এলোপাতাড়ি ভাবে মারধর সহ গলা টিপে হত্যা করার চেষ্টা চালায়। সুবিচার প্রার্থনায় আদালতে মামলা দায়ের করেছেন বলে জানান জুমি বেগম। —–পর্ব-১, বিস্তারিত আসছে।

জগন্নাথপুর ব্রিটিশ বাংলা এডুকেশন ট্রস্টের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান আলহাজ¦ মো: আব্দুল আহাদ ইন্তেকাল করেছেন

স্টাফ রিপোর্টার:-
জগন্নাথপুর ব্রিটিশ -বাংলা এডুকেশন ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান , জগন্নাথপুর উপজেলার আশারকান্দি ইউনিয়নের জহিরপুর-কাঠালখাইড় গ্রামের বাসিন্দা বিশিষ্ট সমাজসেবী শিক্ষানুরাগী আলহাজ¦ মো: আব্দুল আহাদ ইন্তেকাল করেছেন। ইন্নালিল্লাহি ————-রাজিউন। ৮৩ বছর বয়েসী আলহাজ আব্দুল আহাদ মৃত্যুকালে স্ত্রী, তিন ছেলে ও দুই মেয়ে সহ অসংখ্য আত্বীয় স্বজন গুনগ্রাহী রেখে গেছেন।

মরহুম আলহাজ¦ মো: আব্দুল আহাদের ম্যানেজার ইমরুল হোসেন বাবু জানান মঙ্গলবার ( ২৭ অক্টোবর) লন্ডন সময় বিকাল সাড়ে ৫টায় লন্ডনের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নি:শ^াস ত্যাগ করেছেন। প্রবীণ এই দানশীল ব্যক্তি আলহাজ আব্দুল আহাদের মৃত্যুর সংবাদ যুক্তরাজ্যে এবং সিলেট সহ জগন্নাথপুর উপজেলায় ছড়িয়ে পড়লে শোকের ছায়া নেমে আসে।

যুক্তরাজ্যের বেক্সলে,কেন্ট শহরের এবং জগন্নাথপুর উপজেলার জহিরপুর-কাঠালখাইড় ও সিলেট মহানগরীর পাঠানটুলা এলাকার বাসিন্দা আলহাজ¦ মো: আব্দুল আহাদ সিলেট শহরে এতিমখানা প্রতিষ্ঠা সহ তিনি তার নিজ এলাকা এবং সিলেট বিভাগ সহ সারাদেশের বিভিন্ন এলাকার স্কুল ,কলেজ ,মাদরাসা ,ধর্মীয় এবং সামাজিক প্রতিষ্ঠানে ভূমি দান সহ আর্থিকভাবে অবদান রেখে গেছেন।

এছাড়াও তিনি জগন্নাথপুর ব্রিটিশ- বাংলা এডুকেশন ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান , ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন ইউকের প্রেসিডেন্ট এবং সিলেট জালালাবাদ অন্ধ কল্যাণ সমিতি , ডাইবেটিস হাসপাতাল, লায়ন শিশু হাসপাতাল এর আজীবন সদস্য ছাড়াও বিভিন্ন স্কুল কলেজ ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের আজীবন সদস্য হিসেবে জড়িত ছিলেন।

শিক্ষা ও মানবতার কল্যানে নিবেদিত দানশীল ব্যাক্তি হিসেবে দেশে ও প্রবাসে সুনাম অর্জনকারী আলহাজ¦ মো: আব্দুল আহাদের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন জগন্নাথপুর বিটিশ বাংলা এডুকেশন ট্রাস্টের চেয়ারম্যান এম এম নুর, জেনারেল সেক্রেটারি হাসনাত আহমদ চুনু সহ ট্রাস্টের সকল ট্রাস্টিবৃন্দ। শোকবার্তায় মরহুমের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করে শোকাহত পরিবার বর্গের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

 

জগন্নাথপুরে যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় সাদ মাষ্টার:: প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে যুবদল জাতীয়তাবাদী পরিবারের ভেনগার্ড

জগন্নাথপুরে আনন্দ মূখর পরিবেশে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪২ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন করা হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় জগন্নাথপুর পৌর পয়েন্টে দলের অস্থায়ী কার্যালয়ে জগন্নাথপুর উপজেলা ও পৌর যুবদলের যৌথ উদ্দোগ্যে প্রতিষ্ঠিা বার্ষিকীর আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জগন্নাথপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির উপদেষ্টা কমিটির সদস্য আবু হোরায়রা সাদ মাষ্টার বলেছেনযুবকরাই এক একটি দলের মুল চালিকাশক্তি তাইত বহুদলীয় গনতন্ত্রের প্রবক্তা বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান ১৯৭৮ সালের ২৭ অক্টোবর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল নামে একটি যুব সংগঠন গঠন করেছিলেন।

যুবদল জন্ম নেওয়ার পর থেকে আমাদের দেশে স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব, গনতন্ত্র রক্ষার যত আন্দোলন হয়েছে প্রত্যেকটি আন্দোলন সংগ্রামে যুবদল জাতীয়তাবাদী পরিবারের সামনে থেকে ভেনগার্ড হিসাবে কাজ করেছে। তিনি বিএনপির চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা ও দীর্ঘায়ূ কামনা করে যুবদলের

৪২ তম প্রতিষ্টা বার্ষিকীতে রাজপথে নিহত শহীদ হাফিজুর রহমান হাফিজ ও জগন্নাথপুর উপজেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম-আহবায়ক শহিদুল ইসলামের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং যুবদলের সকল স্থরের নেতাকর্মীকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে সুস্বাস্থ্য দীর্ঘায়ু কামনা করেন।

উপজেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম-আহবায়ক ও সুনামগঞ্জ জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি আবুল হাশিম ডালিমের সভাপতিত্বে ও সুনামগঞ্জ জেলা যুবদলের সদস্য ও পৌর যুবদল নেতা শামিম আহমেদের পরিচালনায় কেক কাটা ও আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি বক্তব্য রাখেন জগন্নাথপুর উপজেলা যুবদলের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ও সুনামগঞ্জ জেলা

বিএনপির উপদেষ্টা কমিটির সদস্য সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম খসরু , জগন্নাথপুর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক যুবদলের অন্যতম সাবেক সহ-সভাপতি শহীদ হাফিজুর রহমান হাফিজের বড় ভাই হাজী হারুনুজ্জামান হারুন, জগন্নাথপুর উপজেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম-আহবায়ক আনহার মিয়া।

অন্যান্যাের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সুনামগঞ্জ জেলা যুবদলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হাজী সুহেল আহমদ খান টুনু, সুনামগঞ্জ জেলা যুবদলের সদস্য ও জগন্নাথপুর পৌর যুবদলের সাবেক যুগ্ম-আহবায়ক লিটন মিয়া, সুনামগঞ্জ জেলা যুবদলের সদস্য মিয়া মোহাম্মদ ইউসুফ, সুনামগঞ্জ জেলা যুবদলের সদস্য রওশন মিয়া, জগন্নাথপুর উপজেলা যুবদল নেতা সৈয়দ ইসহাক আহমদ, সুহিনুর রহমান সুহেল, সেলিম আহমদ, জহিরুল ইসলাম লেবু,

রাসেল বক্স, সুয়েব আহমদ, লুৎফুজ্জামান ছালিক, রুহেল আহমদ চৌধূরী, রুবেল আহমদ, সৈয়দ মিজান, সৈয়দ আবু বক্কর, আব্দুল মালিক খান, সাদিক আহমদ, রুহুল আমিন খান, সিরাজুল ইসলাম, আনিসুর রহমান আবু, ডা: বাপ্পু রায়, জগন্নাথপুর পৌর যুবদল নেতা সাদেক আহমদ, বেলাল আহমদ, তারেক আহমদ, শাহিন আহমদ, সুজন আহমদ, সুনামগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল সদস্য নুরুল আমিন, জগন্নাথপুর উপজেলা ছাত্রদল নেতা মামুনুর রশিদ মামুন, রায়হান আহমদ, সৈয়দ সাদিক, জগন্নাথপুর পৌর ছাত্রদল নেতা তুহিন আহমদ, তোফায়েল আহমদ প্রমুখ।

শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন সুনামগঞ্জ জেলা যুবদলের সহ-ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক সৈয়দ শফিকুর রহমান শফিক। অনুষ্ঠানে জগন্নাথপুর উপজেলা এ পৌর যুবদলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।— প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

জগন্নাথপুরে আক্রান্ত দুজন হোম আইসোলেশনে

স্টাফ রিপোর্টার::

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত দুইজন কে হোম আইসোলেশনে রাখা হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার ( ২৭ অক্টোবর) জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্হ্য কমপ্লেক্সের একটি মেডিকেলটিম আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রাথমিক পরীক্ষা শেষে স্বাস্থ্যবার্তা প্রদান করে হোম আইসোলেশনে থাকার নির্দেশ দেন। এবং পরিবারের লোকজনদের হোম কোয়ারেন্টাইনের আইন মানার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়।

আক্রান্তদের মধ্যে একজন হলেন জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদের কমপ্লেক্স এলাকার বাসিন্দা এবং অপরজন উপজেলার সৈয়দপুর নোয়াগাঁও গ্রামের।

গতকাল সোমবার (২৬ অক্টোবর ) রাতে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পিসিআর ল্যাবে নমুনা পরীক্ষার পর তাদের রিপোর্ট পজিটিভ আসে।

জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মধু সুধন ধর এসব তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, জগন্নাথপুরে মোট করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ১৭৩ জন। এরমধ্যে সুস্থ হয়েছেন ১৬৭ জন। অপর আক্রান্ত ৬ জন হোম আইসোলেশনে আছেন।

সৈয়দপুর শাহারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তৈয়ব কামালী মামলা থেকে বেকসুর খালাস:: বাদীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের আদেশ আদালতের

বিশেষ প্রতিনিধি:-
জগন্নাথপুর উপজেলার সৈয়দপুর শাহারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের স্বনামধন্য চেয়ারম্যান সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য তৈয়ব মিয়া কামালী সহ তার স্বজনদের ওপর সৈয়দ জুম্মান আহমদ বাদী হয়ে দায়েরকৃত মামলাটি মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় বিজ্ঞ আদালত বিবাদীদের মামলার দায় হতে অব্যাহতি দিয়ে মামলার বাদী সৈয়দ জুম্মান আহমদের বিরুদ্ধে প্যানাল কোডের ২১১ ধারায় নন এফআইআর প্রসিকিউশন দাখিলের জন্য আদেশ দিয়েছেন।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর ) সুনামগঞ্জের আমল গ্রহনকারী জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শুভদীপ পাল এই আদেশ দেন। আজ সোমবার (২৬ অক্টোবর) জগন্নাথপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. ইখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী জানান , মামলার বাদী সৈয়দ জুম্মান আহমদের বিরুদ্ধে প্যানাল কোডের ২১১ ধারায় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য ইতোমধ্যে বিজ্ঞ আদালতের আদেশ পেয়েছি।

জানা যায়, সৈয়দপুর শাহারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের জননন্দিত চেয়ারম্যান তৈয়ব মিয়া কামালী সহ তার স্বজনদের বিরুদ্ধে ২০১৯ সালের নভেম্বর মাসে হামলার অভিযোগ এনে সৈয়দপুর শাহারপাড়া ইউনিয়নের সৈয়দপুর গোয়াল গাওঁ গ্রামের সৈয়দ বাদশা মিয়ার ছেলে সৈয়দ জুম্মান আহমদ বাদী হয়ে জগন্নাথপুর থানায় মামলা দায়ের করে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কর্তৃক চুড়ান্ত রিপোর্টে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তৈয়ব কামালী সহ তার স্বজনের ওপর দায়ের করা সৈয়দ জুম্মানের মামলাটি মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে।

পাসপোর্ট করার জন্য নাগরিক সনদপত্র আনতে গিয়ে হেনস্তার শিকার পরবর্তীতে সৈয়দপুর বাজার হতে তার বাড়িতে আসার সময় রড,লাঠি,লোহার পাইপ দিয়ে হামলা করা হয়েছে। এমন অভিযোগে জুম্মান বাদী হয়ে জগন্নাথপুর থানায় এই মিথ্যা মামলাটি দায়ের করেন।

বিবাদী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. নুরে আলম সিদ্দিকি(উজ্জ্বল) বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, রড,লাঠি,লোহার পাইপ দিয়ে হামলার ঘটনায় থানায় দায়ের করা মামলাটি তদন্ত শেষে  তদন্তকারী কর্মকর্তা বিজ্ঞ আদালতে দাখিলকৃত চূড়ান্ত রিপোর্টে এজহারনামীয় সকল আসামীদেরকে মামলার দায় হতে অব্যাহতি প্রার্থনা সহ মামলার বাদী কর্তৃক মিথ্যা মামলা দায়ের করায় বাদীর বিরুদ্ধে প্যানাল কোডের ২১১ ধারায় প্রসিকিউশন এর অনুমতি প্রার্থনা করেন।  আদালত দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে প্রতীয়মান হয় যে, মামলাটি মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত।

মিথ্যা মামলা দায়ের করে ওই মামলার আসামিদের যে ভোগান্তি দেয়া হয়েছে তার একটা ন্যায় ও সুবিচার হোক। তিনি বলেন,বিজ্ঞ আদালত রায় ঘোষণার সময় মামলার আসামি তৈয়ব কামালী সহ সকল আসামীদের বেকসুর খালাস দিয়েছেন।

একই সঙ্গে প্যানাল কোডের ২১১ ধারায় মামলার বাদী সৈয়দ জুম্মান আহমেদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আদেশ দিয়েছেন আদালত।
এ ঘটনার মধ্যদিয়ে আইনের শাসন ও ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার স্বার্থে মিথ্যা মামলা দায়েরকারী সৈয়দ জুম্মানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে সৈয়দপুর শাহারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের স্বনামধন্য চেয়ারম্যান তৈয়ব মিয়া কামালী বলেন, মহামান্য আদালতের ন্যায় বিচারে আমি সহ সকলেই খুশি হয়েছেন। কদিন পর পর সৈয়দপুর এলাকায় এই সন্ত্রাসী বাহিনী বিভিন্ন মানুষের ওপর হামলা করে থাকে। এবং স্বনামধন্য এই ইউনিয়নকে অশান্ত করে রাখে এই সন্ত্রাসী বাহিনী। যা এই রায়ের পর তাদের সন্ত্রাসী কর্মকা- ও মিথ্যা মামলা দেয়ার প্রবণতা কমে আসবে।

তিনি আরো বলেন আমি প্রবাসে ছেলে মেয়ে এবং পরিবারের সদস্যদের রেখে বিলাস বহুল জীবনযাপন ত্যাগ করে দেশের নিজ ইউনিয়নের জনসাধারনের সেবা প্রদানে নিররসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। কতিপয় স্বার্থান্বেষী মহল নিজ স্বার্থে অনুসারীদের দিয়ে আমি ও আমার স্বজনদের হেনস্তার চেষ্টা করে আসছে। আমি এসব হীন চক্রান্তের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। বিজ্ঞ আদালতের দেয়া রায় একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

কোনো অপপ্রচারে কান দেবেন না, সকলের সহযোগিতায় আমাদের প্রিয় সুনামগঞ্জ জেলাকে এগিয়ে নিতে চাই:: পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান

ডেস্ক নিউজ:-
সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এর স্থান নির্ধারণ নিয়ে সুনামগঞ্জবাসীকে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এমপি এম এ মান্নান ।

তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টি হাওরবাসীর জন্য প্রধানমন্ত্রীর উপহার উল্লেখ করে বলেছেন, কোনো অপপ্রচারে কান দেবেন না। এখনো চূড়ান্ত কিছু হয়নি। প্রয়োজনে সবার মতামতের ভিত্তিতেই হবে।

পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান আরও বলেন, সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে আমি বিশ্বমানের একটি উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসাবে দেখতে চাই। সেই লক্ষ্যে কাজ করছি।

আমি বেঁচে থাকলে সুনামগঞ্জের অজোপাড়া গাঁ সহ কোনো এলাকাই অবহেলিত থাকবে না। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে সুনামগঞ্জ-জামালগঞ্জ-ধর্শপাশা-নেত্রকোণা যোগাযোগ স্থাপনের জন্য ৮ কিলোমিটার উড়াল সড়কের প্রকল্প একনেকে অনুমোদন হবে আশা করছি।

সুনামগঞ্জের ডলুরায় ইমিগ্রেশন সুবিধাসহ স্থলবন্দরের কাজ শুরু হয়েছে। সেই কাজ এগিয়ে নেব আমরা সকলে মিলে। সুরমা নদীর ধারারগাঁও-হালুয়ারঘাট অংশে সেতু হবে। এই উন্নয়ন কাজগুলো হলে সুনামগঞ্জ হবে ট্রানজিট শহর।

সুনামগঞ্জ পৌর শহরের পূর্ব দিকে একটি বাইপাস সড়ক হবে এমনটা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এই সড়ক হলে শহর দক্ষিণ দিকে যেভাবে বাড়ছে পূর্বদিকেও বাড়বে। শহরকে বড় করতে কিছু দূরবর্তী এবং পুরো জেলাবাসীর সুবিধাজনক স্থানেই বড় বড় স্থাপনা করতে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় বা মেডিকেল কলেজে সারা দেশের শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করবে। তাদের সুবিধার কথা বিবেচনা করেও স্থান নির্ধারণ করতে হবে।

সুনামগঞ্জ শহরে আমি বড় হয়েছি, সুনামগঞ্জকে বাদ দিয়ে বা সুনামগঞ্জ শহর থেকে কিছুই সরানোর কোন ইচ্ছা বা পরিকল্পনা আমার নেই। আমি সুনামগঞ্জ শহরটিকে বড় করতে চাই । আপাতত শহর দক্ষিণ দিকে বাড়লেই নাগরিক সুবিধা হয়। এজন্য নতুন নতুন স্থাপনার জমি ওই দিকেই নির্বাচন করা হচ্ছে।

মন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অবেহেলিত এলাকার উন্নয়ন চান। তাঁর সরকার ক্ষমতায় থাকলে এবং আমি সময় পেলে দোয়ারাবাজারে সুরমা নদীর ওপর এলাকাবাসীর দাবি মুক্তিযোদ্ধা সেতুরও বাস্তবায়ন হবে।

ছাতক-সুনামগঞ্জ রেল লাইন সম্প্রসারণের প্রাথমিক কাজ এগিয়েছে। রেল লাইনও মোহনগঞ্জ পর্যন্ত যাবে। দিরাই-শাল্লা সড়কে প্রাকৃতিক ও অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শুরু হয়েছে। শাল্লা-জলসুখা ও আজমিরিগঞ্জ সড়কে প্রায় ৭০০ কোটি টাকার সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে।

সুনামগঞ্জ-ঢাকার দুরত্ব কমানোর জন্য পাগলা-জগন্নাথপুর-আউশকান্দি মহা সড়কটিতে দুই লেন করা হবে এবং জগন্নাথপুরের রানীগঞ্জে কুশিয়ারার নদীর ওপর সিলেট বিভাগের সবচেয়ে বড় সেতুর কাজ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে।

সুনামগঞ্জে সীমান্ত সড়ক বাস্তবায়নের জন্য এবং টাঙ্গুয়ার হাওর, বারেকের টিলা, বড়ছড়া, চারাগাঁও ও বাগলী শুল্ক স্টেশনে সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে। যাদুকাটা নদীতে সেতু নির্মাণ হচ্ছে এই সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের জন্য। এ সব উন্নয়ন কাজ করা হচ্ছে পুরো জেলাবাসীর জীবনমানের উন্নয়নের জন্য।

পরিকল্পনামন্ত্রী আরও বলেন, সুনামগঞ্জের কোনো এলাকার কেউ আমাকে যেন ভুল না বুঝেন। দায়িত্বশীলরা কোন প্রকল্প নিয়ে আসলে ফিরিয়ে দিচ্ছি না আমি। সাধ্যমত সহযোগিতা করার চেষ্টা করছি।

শান্তিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জকে আলাদাভাবে দেখেন না জানিয়ে তিনি বলেন, আমি চাই শান্তিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ একসঙ্গে যুক্ত হয়ে যাবে এবং এটি হবে ভাটির সবচেয়ে বড় শহর।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হচ্ছে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় এবং ১০ উপজেলার মধ্যবর্তী সুবিধাজনক স্থানে। টেক্সটাইল ডিপ্লোমা ইন্সটিটিউট সিলেটে হবার কথা ছিল। আমাদের চেষ্টায় সুনামগঞ্জে হচ্ছে। এটির স্থান নির্ধারণ হয়েছে চার জেলা এবং সুনামগঞ্জবাসীর সুবিধাজনক স্থান শান্তিগঞ্জে।

তিনি আরও বলেন, আমার নিজের পৈত্রিক বাড়িটি মানুষের উন্নয়নের জন্য নেওয়া প্রকল্পে সরকারকে দান করে দিয়েছি। আমার শান্তিগঞ্জের টিনশেডের বাড়িতে একটি কমিউনিটি সেন্টার করার ঘোষণা দিয়েছি। এলাকার দরিদ্র মানুষেরা এটিতে বিয়ে শাদিসহ সামাজিক অনুষ্ঠান করবেন। এলাকার হিন্দু-মুসলিম সকলকে এই বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, আমি সকলের সহযোগিতায় আমাদের প্রিয় সুনামগঞ্জ জেলাকে এগিয়ে নিতে চাই। দেশের উন্নয়নেও সকলের সহযোগিতা চাই।

জটুডে/এহাই

জগন্নাথপুরে ৪১টি মন্ডপে বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনায় চলছে দূর্গোৎসব

স্টাফ রিপোর্টার:-
সনাতন ধর্মালম্বীদের বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা সারা দেশের ন্যায় জগন্নাথপুর উপজেলার ৪১টি মন্ডপে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্যে দিয়ে উদযাপন হচ্ছে। ৫দিন ব্যাপী এ উৎসবের আজ রবিবার মহানবমী, আগামীকাল সোমবার বিজয়াদশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যে দিয়ে উৎসবটি সম্পন্ন হবে।

উপজেলার পৌর শহরসহ ৮টি ইউনিয়নের ৪১টি মন্ডপে দুর্গোৎসব উদযাপন হচ্ছে। দুর্গাপূজা সুষ্টু ও শান্তিপূর্নভাবে সম্পন্ন করনে উপজেলা ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার রয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে প্রশাসনের বিভিন্ন স্থরের কর্মকর্তারা এবং থানার অফিসার ইনচার্জ মো: ইখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বে আইন শৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা প্রতিটি পূজা মন্ডপ পরিদর্শন করেছেন। দূর্গোৎসবে বিভিন্ন মন্ডপের দায়িত্বশীলরা জানান,

বৈশি^ক মহামারি করোনা ভাইরাস সংক্রমনের কারনে প্রতিটি মন্ডপে স্বাস্থ্য বিধি মেনে অত্যন্ত সু-শৃংখলভাবে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থায় শারদীয় দূর্গোৎসব চলছে। উপজেলার পৌর শহরের বাসুদেব বাড়ি এলাকায় আনন্দময়ী পূজা উদ্যাপন পরিষদের পূজা মন্ডপটি ব্যতিক্রমী আয়োজনে হাজারো পূর্নার্তী সহ ধর্মালম্বী লোকজনদের সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।

একটি পুকুরের পানিতে ভাসমান পূজা মন্ডপে পুকুরের চারপাশে দর্শক গ্যালারী ছাড়াও পুরো পূজা মন্ডপটি আইনশৃংখলা বাহিনীর পাশাপাশি আনন্দময়ী সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবীরা নিয়ন্ত্রন করছেন। আনন্দময়ী পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মিন্টু রঞ্জন ধর, সাধারন সম্পাদক ব্যবসায়ী কাজল বণিক জানান, প্রায় দুই শতাধিক স্বেচ্ছাসেবী ছাড়াও আইন শৃংখলা বাহিনীর পর্যাপ্ত সদস্যরা আইন শৃংখলা নিয়ন্ত্রনে সার্বক্ষনিক পূজা মন্ডপ এলাকায় রয়েছেন। এদিকে রবিবার দুপুরে পৌর শহরের জগন্নাথ বাড়ি, আনন্দময়ী ও বাসুদেব বাড়ি দাস সম্প্রদায় সর্বজনীন পূজা মন্ডপ সহ বিভিন্ন পূজামন্ডপ পরিদর্শন করেছেন

আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান নেতা সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সিদ্দিক আহমদ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রিজু, পৌরসভার নব-নির্বাচিত মেয়র মিজানুর রশীদ ভূইয়া , ভারপ্রাপ্ত মেয়র শফিকুল হক, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক লুৎফুর রহমান, পৌর আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক হাজি ইকবাল হোসেন ভুইয়া, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি কামাল উদ্দিন, পৌরসভার প্যানেল মেয়র সোহেল আহমদ , কাউন্সিলর গিয়াস উদ্দিন , উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সাফরোজ ইসলাম সহ আওয়ামী লীগ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

 

টুডেএহাই-

সাংবাদিকদের মানুষের কল্যাণে কাজ করার আহ্বান:: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

জগন্নাথপুরটুডে ডেস্ক:-

দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে দায়িত্বশীল ও মানবিকতার সঙ্গে কাজ করতে সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সাংবাদিকদের মানুষের কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, নীতিহীন সাংবাদিকতা কখনও দেশ ও জাতির কল্যাণ বয়ে আনতে পারে না; বরং ক্ষতিগ্রস্ত করে।’

রবিবার (২৫ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির রজতজয়ন্তী-২০২০ উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে যুক্ত হন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। দেশের প্রতি সবারই একটি দায়িত্ববোধ থাকতে হবে। এই দায়িত্ববোধের সঙ্গে সবাই কাজ করলে দেশ এগিয়ে যাবে। আমরা চাই, দেশ এগিয়ে যাক। এসময় নিজেকে সাংবাদিক পরিবারের সন্তান উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘জাতির পিতা নিজেই সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। একবার তিনি সাপ্তাহিক মিল্লাত নামে একটি পত্রিকা করেছিলেন। ইত্তেহাদ, ইত্তেফাকের সঙ্গেও তিনি জড়িত ছিলেন। নতুন দ্বীন নামে আওয়ামী লীগ একটি পত্রিকা বের করে। সেদিক থেকে আমি বলবো, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের সন্তান হিসেবে আমিও সাংবাদিক পরিবারের সন্তান।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘সাংবাদিকতা হচ্ছে সমাজের দর্পণ। আর যেটা সমাজের দর্পণ, তাতে যেন মানুষের চিন্তা চেতনাটা ফুটে ওঠে। তার মধ্যে মানবতাবোধ যেন থাকে। তারা যেন মানুষের কল্যাণে কাজ করে।’

সরকার প্রধান বলেন, ‘একটা সময় ছিল, আমাদের দেশে যতই অন্যায় হোক, দুর্নীতি হোক, ধামাচাপা দেওয়া হতো। আমাদের সরকার কিন্তু তা করছে না। আমরা কখনও এটা চিন্তা করি না যে, সে আমার দলের কিনা। এতে দলের ক্ষতি হবে কিনা। যে অন্যায় করেছে, তার বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি। দুর্নীতির বীজ বপন করে গেছে পঁচাত্তরের পনেরই আগস্টের পর অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করা দলগুলো। তারা দুর্নীতিকে শুধু প্রশ্রয় দিতো না, নিজেরাই দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়তো।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আপনারা অনেক ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেন। এজন্য আপনাদের ধন্যবাদ জানাই। কিন্তু আপনারা এমন কোনও রিপোর্ট করবেন না, যেগুলো মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ায়।’

জাতির পিতার বক্তব্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সাংবাদিকতাটাকে আমরা নিরপেক্ষ চাই এবং দেশ ও জাতির জন্য যেন কর্তব্যবোধ থেকে হয়। নীতিহীন সাংবাদিকতা কোনও দেশের কল্যাণ বয়ে আনতে পারে না। জাতির পিতা বলেছিলেন, নীতিহীন রাজনীতি যেমন দেশ ও জাতিকে কিছু দিতে পারে না, তেমনি নীতিহীন সাংবাদিকতা দেশের কোনও কল্যাণ করতে পারে না। অনেক ক্ষেত্রে সমাজকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।’

প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিক ও স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরে বলেন, ‘আমরা সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট, সম্প্রচার নীতিমালা, অনলাইন গণমাধ্যম নীতিমালা করেছি। আমরাও চাই, দেশে যাতে হলুদ সাংবাদিকতা না থাকে।’ অসহায় ও অসচ্ছল সাংবাদিকদের জন্য সরকারের অনুদানের বিষয়টিও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৯৬ সালের আগে দেশে মোবাইল ফোন ছিল না। আমরা সবার হাতে হাতে মোবাইল ফোন দিতে পেরেছি। আগের সরকারের সময়ে আধুনিক চিন্তাচেতনার অভাব ছিল। তাই তারা দেশের কল্যাণে কাজ না করে নিজেদের ভাগ্যের উন্নয়নে কাজ করেছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আগে একটি মামলা হলেই সাংবাদিকদের গ্রেপ্তার করা যেত। এখন আমরা বাংলাদেশ দণ্ডবিধি আইন সংশোধন করেছি। এটিও সাংবাদিকদের কল্যাণে করা হয়েছে। আমি দেশের মানুষের কল্যাণের জন্যই রাজনীতি করি। মানুষের জীবনমান উন্নত করাই হচ্ছে আমার জীবনের লক্ষ্য।’

ইত্তেফাক/এসআই