কিশোরীকে ধর্ষণের পর ভিডিও, ইউপি সদস্য গ্রেপ্তার

জগন্নাথপুর টুডে ডেস্ক::

ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি মামলায় অভিযুক্ত ইউপি সদস্য  শাবাজ আহমদকে (৩৮) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই  লিটন চন্দ্র নাথ এর নেতৃত্বে জালালাবাদ থানা পুলিশ স্থানীয় গোপাল এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তারকৃত ইউপি সদস্য শাবাজ আহমদ  গোপাল গ্রামের হরমুজ আলীর ছেলে। পুলিশ জানায়- শাবাজ আহমদসহ অজ্ঞাতামা দু’জন বুধবার (০২ সেপ্টেম্বর) বিকাল সাড়ে ৫টায় জালালাবাদ থানাধীন টুকেরবাজারস্থ পীরপুর জামে মসজিদের সামন থেকে ষোড়শী  এক কিশোরীকে অপহরণ করে দক্ষিণ সুরমা থানাধীন লালাবাজার গ্রামের এক বাসায় নিয়ে রাত ৯টায় ইউপি সদস্য শাবাজ তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এরপর শাবাজের সাথে থাকা অজ্ঞাতনামা দুজনও ওই কিশোরীকে ধর্ষণের চেষ্টা করে।

এ সময় শাবাজ আহমদ মোবাইল ফোনে কিশোরীর নগ্ন   স্থিরচিত্র ধারণ করে। এ ব্যপারে ভিকটিম কিশোরীর মা বাদি হয়ে বৃহস্পতিবার (০৩ সেপ্টেম্বর) জালালাবাদ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। (মামলা নং-০২, তাং-০৩/০৯/২০২০) নারী ও শিশু নির্যাতন দমন এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রন আইনে মামলাটি রুজু করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে জালালাবাদ থানার অফিসার ইনচার্জ অকিল উদ্দিন জানান- আটক আসামীকে  শুক্রবার বিধি মোতাবেক বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

এছাড়া ভিকটিমকে সিলেট এম.এ.জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ওসিসি বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছে বলে তিনি জানান।

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের নকশা চূড়ান্ত, কাঁচপুর হতে লালাবাজার পর্যন্ত ৬ লেন

জগন্নাথপুর টুডে ডেস্ক::

অনেক জল্পনা-কল্পনার পর আলোর মুখ দেখতে শুরু করেছে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ৬ লেন নির্মাণ প্রকল্প। সম্প্রতি এই মহাসড়কের ৬ লেন রাস্তা নির্মাণের জন্য নকশা চূড়ান্ত করা হয়েছে।

নকশায় দেখা গেছে রাস্তাটি ঢাকা কাঁচপুর হতে সিলেটের লালাবাজার পর্যন্ত ৬ লেন হবে। লালাবাজার থেকে নতুন বাইপাস রাস্তা নির্মাণ করে পারাইরচকস্থ পীর হাবীবুর রহমান চত্বর পর্যন্ত যাবে। আবার এদিকে লালাবাজার থেকে হুমায়ূন রশীদ চত্বর পর্যন্ত রাস্তাকে বর্ধিত না করে নতুনভাবে উন্নত মানের বিটুমিন (যেটি বিমানবন্দরের রানওয়েতে ব্যবহার করা হয়) ও পাথর দিয়ে নির্মাণ করা হবে।

এ ব্যাপারে প্রকল্প পরিচালক ও সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ড. ওয়ালিউর রহমান বলেন, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের নকশা চূড়ান্ত করা হয়েছে। আজ (মঙ্গলবার) পররাষ্ট্রমন্ত্রী কে উক্ত রাস্তার ডিজাইন সম্পর্কে অবহিত করেছি। উনাকে জানিয়েছি, ঢাকা-কাচঁপুর থেকে লালাবাজার পর্যন্ত ৬ লেন করা হবে আর বাকী রাস্তা হুমায়ূন রশীদ চত্ত্বর পর্যন্ত বড় না করেই সুন্দর করে নির্মাণ করা হবে।

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রকিউরমেন্ট সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. সাব্বির হাসান খান বলেন, ইতিমধ্যে ডিপিপি প্রস্তুত করা হয়েছ। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী অক্টোবরেই উক্ত রাস্তার টেন্ডার আহ্বান করা সম্ভব। তিনি আরও বলেন, ঢাকা-সিলেট রাস্তাটি হবে খুবই টেকসই ও দৃষ্টিনন্দন। রাস্তার উভয় পাশে বৃক্ষরোপনও করা হবে। ড্রেনেজ ব্যবস্থাও রয়েছে উক্ত রাস্তায়।

মুঠোফোনে আলাপকালে সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক নির্মাণ সংশ্লিষ্টদের সাথে বৈঠক হয়েছে জানান। তিনি ঢাকা-সিলেট রাস্তাটি দ্রুত নির্মাণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের তাগিদ দেন।

র‌্যাব-৯ এর অভিযানে দেশীয় চোলাই মদ সহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

স্টাফ রিপোর্টার::
র‌্যাব-৯ এর অভিযানে ২শ ৪০ লিটার দেশীয় চোলাই মদ সহ মাদক ব্যবসায়ী মো: নিজাম উদ্দিনকে (৩২) গ্রেফতার করা হয়েছে। মাদক ব্যবসায়ী নিজাম উদ্দিন এসএমপির এয়ারপোর্ট থানার জাহাঙ্গীর নগর এলাকার আজব আলীর ছেলে।

মঙ্গলবার (২৮) জুলাই রাত পৌনে ৮টায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন র‌্যাব-৯ স্পেশাল কোম্পানি( ইসলামপুর ক্যাম্পের) কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: সামিউল আলম ও এএসপি আফসান আল-আলম এর নেতৃত্বে একটি আভিযানিক দল এসএমপির এয়ারপোর্ট থানার আখল কুয়ার মাজার এলাকা থেকে ২শ ৪০ লিটার দেশীয় চোলাই মদ সহ নিজাম উদ্দিনকে গ্রেফতার করেছেন।

র‌্যাব-৯ সিলেটের মিডিয়া অফিসার এএসপি ওবাইন সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান উদ্ধারকৃত মদ সহ মাদক ব্যবসায়ী নিজাম উদ্দিনকে এয়ারপোর্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ব্যাপারে র‌্যাব বাদী হয়ে মাদক আইনে মামলা দায়ের করা হয়।

র‌্যাব-৯ এর অভিযানে ১৪ লক্ষাধিক টাকা মূল্যের বিপুল পরিমান ভারতীয় কসমেটিক্স ও নাসির বিড়ি সহ চোরাকারবারী গ্রেফতার

স্টাফ রিপোর্টার::
র‌্যাব-৯ এর অভিযানে ১৪ লক্ষাধিক টাকা মূল্যের বিপুল পরিমান ভারতীয় কসমেটিক্স ও নাসির বিড়ি সহ চোরাকারবারী আব্দুস ছাত্তারকে (৪৬) গ্রেফতার করেছেন। চোরাকারবারী আব্দুস ছাত্তার সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট উপজেলার নলজুড়ি গ্রামের মৃত আজগর আলীর ছেলে ।

মঙ্গলবার (২৮) জুলাই ভোর পৌনে ৬টায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন র‌্যাব-৯, সিপিসি-১ (সিলেট ক্যাম্পের) সিনিয়র এএসপি সত্যজিৎ কুমার ঘোষ ও এএসপি কামরুজ্জামানের নেতৃত্বে একটি আভিযানিক দল সিলেট জেলার গোয়াইঘাট উপজেলার জাফলং এলাকা থেকে চোদ্দ লাখ বাইশ হাজার পাঁচশত টাকা মূল্যের ভারতীয় নাসির উদ্দিন বিড়ি ও কসমেটিক্স সহ চোরাকারবারী আব্দুস ছাত্তারকে গ্রেফতার করা হয়।

র‌্যাব-৯ সিলেটের মিডিয়া অফিসার এএসপি ওবাইন সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান উদ্ধারকৃত মালামাল সহ চোরাকারবারী আব্দুস ছাত্তারকে গোয়াইঘাট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ব্যাপারে র‌্যাব বাদী হয়ে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়ের করেছেন।

র‌্যাবের অভিযানে দেশীয় অস্ত্র সহ ছিনতাইকারী গ্রেফতার

স্টাফ রিপোর্টার::
র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন র‌্যাব -৯ এর উপ-অধিনায়ক মেজর মো: শওকাতুল মোনায়েম, সিনিয়র এএসপি নাহিদ হাসান ও মিডিয়া অফিসার এএসপি ওবাইন এর সমন্বয়ে গঠিত একটি আভিযানিক দল শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাত পৌনে ১১টায় অভিযান চালিয়ে সিলেট মহানগরীর মধুবন মার্কেট এলাকা থেকে ছিনতাইকারী জাহেদ আহমেদকে (৩৬) গ্রেফতার করা হয়।

এসময় তার কাছ থেকে ছিনতাই কাজে ব্যবহৃত দুটি টিপ চাকু ও একটি চাইনিজ কুড়াল উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত জাহেদ সিলেট মহানগরীর বনখোলাপাড়া এলাকার মৃত নিয়ামত আলীর ছেলে। উদ্ধারকৃত দেশীয় অস্ত্র সহ গ্রেফতারকৃত ছিনতাইকারী জাহেদ আহমেদ কে সিলেট কোতোয়ালী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ব্যাপারে র‌্যাব বাদী হয়ে দ্রুত বিচার আইনে মামলা দায়ের করেছেন।

র‌্যাবের অভিযানে সিলেটের শীর্ষ সন্ত্রাসী মিনহাজ মাদক ও অস্ত্র সহ গ্রেফতার

স্টাফ রিপোর্টার::

র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন র‌্যাব-৯ এর কমান্ডিং অফিসার লে. কর্নেল আবু মুসা মো: শরিফুল ইসলাম পিএসসি, এএসসি এর নেতৃত্বে মেজর মো: শওকাতুল মোনায়েম, সিনিয়র এএসপি নাহিদ হাসান ও মিডিয়া অফিসার এএসপি ওবাইন এর সমন্বয়ে গঠিত একটি আভিযানিক দল সিলেটের শীর্ষ সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ী মিনহাজ ইসলামকে (৩০) মাদক ও অস্ত্র সহ গ্রেফতার করা হয়।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাত সাড়ে ৮টায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসএমপির কোতোয়ালি থানার জিতু মিয়ার পয়েন্ট এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। সে এসএমপির শেখঘাট এলাকার আমিরুল ইসলামের ছেলে।

র‌্যাব জানায়, শীর্ষ সন্ত্রাসী মিনহাজ এর বিরুদ্ধে এসএমপির বিভিন্ন থানায় অস্ত্র ও মাদক আইনে একাধিক মামলা রয়েছে । গ্রেফতারকালে তার হেফাজত থেকে ২ টি বিদেশি রিভলবার, ১৩ রাউড গুলি, ১শ ৭০ পিচ ইয়াবা ,২শ গ্রাম গাঁজা ও ৩ টি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত আলামতসহ গ্রেফতারকৃত মিনহাজ ইসলামকে এসএমপির কোতোয়ালি থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

তার বিরুদ্ধে র‌্যাব বাদী হয়ে অস্ত্র ও মাদক আইনে মামলা দায়ের করেছেন।

সিলেটের দক্ষিণ সুরমা থানার অফিসার ইনচার্জ খায়রুল ফজল বদলী

বিশেষ প্রতিনিধি::
সিলেটের দক্ষিণ সুরমা থানার অফিসার ইনচার্জ খায়রুল ফজলকে বদলী করা হয়েছে। মোগলাবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ আখতার হোসেন দক্ষিণ সুরমা থানায় যোগদান করবেন । ট্যাংকলরী শ্রমিকদের দাবির প্রেক্ষিতে সিলেট এসএমপির পুলিশ কমিশনারের নির্দেশে সোমবার (১৩ জুলাই) তাকে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশে বদলী করে নেওয়া হয়। সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (মিডিয়া) জ্যোতির্ময় সরকার পিপিএম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গত শুক্রবার (১০ জুলাই) রাত সাড়ে ১০টায় দক্ষিণ সুরমার বাবনা পয়েন্টে ইকবাল হোসেন রিপনকে কুপিয়ে খুন করে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনার পর রাত থেকে ট্যাংকলরী শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করে এবং অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট আহ্বান করে সিলেটের সকল প্রবেশদ্বার বন্ধ করে দেন। পরে শনিবার (১১ জুলাই) দুপুরে শ্রমিকদের নিয়ে বৈঠকে বসেন সিলেট মহানগর পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক নেতারা।

ওই দিন প্রশাসনের কাছে দক্ষিণ সুরমা থানার ওসি খায়রুল ফজল, থানার সেক্টেন্ড অফিসার রিপন দাস ও দক্ষিণ সুরমা ফাঁড়ির ইনচার্জকে প্রত্যাহার এবং প্রথম সারির আসামিদের গ্রেফতারসহ ৩ শর্তে অবরোধ তুলে নেন। তবে তারা পুলিশের ৩ কর্মকর্তার প্রত্যাহার দাবি করলেও রিপন আগেই বদলী হয়ে যান। দক্ষিণ সুরমা ফাঁড়ির ইনচার্জ বহাল আছেন।

কেবল ওসি খায়রুল ফজলকে প্রত্যাহার নয় বদলী করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন অতিরিক্ত উপ কমিশনার (মিডিয়া) জ্যোতির্ময় সরকার। এদিকে, শনিবার (১১ জুলাই) সকালে নিহতের স্ত্রী ফারজানা আক্তার তমা বাদি হয়ে সিলেটের দক্ষিণ সুরমা থানায় ১৩ জনের নামোল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো ৫/৭ জনকে আসামি করে এ মামলা দায়ের করেন।

ওই মামলায় এজাহারভূক্ত আসামি নোমান ও জড়িত সন্দেহে সাদ্দাম হোসেন নামে আরেকজনকে গ্রেফতার করে। তাদেরকে আদালতে হাজির করে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। এদিকে, হত্যাকান্ডের ঘটনায় সোমবার দুপুরে শ্রমিকরা বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। বিক্ষোভ মিছিলটি নগরের দক্ষিণ সুরমার বাবনা পয়েন্ট থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পথসভার মাধ্যমে শেষ হয়। পথসভা থেকে শ্রমিকরা ইকবাল হোসেন রিপন হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও ফাঁসি দাবি করেন।

ছাতকে চাঞ্চল্যকর ফখরুল হত্যা কান্ডের কুখ্যাত খুনী নুর আলী সহ গ্রেফতার-৩

মো: আব্দুল হাই  ::
সুনামগঞ্জের ছাতক থানা পুলিশের দু:সাহসীক অভিযানে চাঞ্চল্যকর ফখরুল আলম হত্যাকান্ডের খুনী নুর আলী সহ তার দুই সহযোগিকে গ্রেফতার করা হয়েছে । উদ্ধার করা হয়েছে ছাতক রেলওয়ে গোডাউনের চুরি হওয়ায় মালামাল । মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ছাতক থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) হাবিবুর রহমান পিপিএম এর নেতৃত্বে পুলিশ দল মঙ্গলবার ৭ জুলাই গভীর রাতে ছাতক উপজেলার জয়নগর গ্রামে অভিযান চালিয়ে খুনী নুর আলীকে (৪০) গ্রেফতার করেন। সে ওই গ্রামের মৃত রহমত আলীর ছেলে ।

গ্রেফতারকৃত নুর আলীর তথ্যের ভিত্তিতে সিলেট মহানগরীর চাঁদনীঘাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে মিলাদ হোসেন ও পরান মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়। জানাযায় , ছাতক রেলওয়ের নিরাপত্তা প্রহরী ফখরুল আলম গত মাসের ২৯ জুন সোমবার প্রতিদিনের ন্যায় রাত ১০টায় ছাতক রেলওয়ের বিআর গোডাউনের মুল ফটক তালাবদ্ধ করে গোডাউনের ভেতরে ডিউটিরত ছিলেন।

অজ্ঞাত নামা দুষ্কৃতকারীরা গোডাউনের তালা ভেঙ্গে ভেতরে প্রবেশ করে নৈশ প্রহরী ফখরুল আলমকে নির্মম ভাবে হত্যা করে গোডাউন থেকে রেলওয়ের লৌহ জাতীয় বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যায়। পরদিন সকাল ৬টা পর্যন্ত ডিউটি শেষে নিজ বাসায় ফেরার কথা থাকলেও ফখরুল আলম বাসায় না ফেরায় নিহত ফখরুল আলমের সপ্তম শ্রেনীতে পড়–য়া ছেলে গোডাউনে এসে তার বাবার রক্তাক্ত লাশ দেখতে পায়।

ঘটনাটি থানায় জানানো হলে, দ্রæত পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। খবর পেয়ে সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার মো: মিজানুর রহমান বিপিএম সহ সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ক্রাইম, ছাতক সার্কেল এএসপি, ছাতক থানার অফিসার ইনচার্জ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরে ফখরুল আলম হত্যাকান্ডের ঘটনায় ছাতক থানায় মামলা দায়ের হয়। সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বিপিএম মহোদয়ের দিক নির্দেশনায় চাঞ্চল্যকর ক্লু-লেস হত্যা মামলার দায়িত্ব পান ছাতক থানার উপ-পরিদর্শক এসআই হাবিবুর রহমান পিপিএম।

তিনি ফখরুল হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন সহ ঘটনায় জড়িত আসামীদের গ্রেফতার করার লক্ষে অভিযানে নামেন। সহকারি পুলিশ সুপার ছাতক সার্কেল বিল্লাল হোসেন এর নেতৃত্বে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক এসআই হাবিবুর রহমান পিপিএম ছাতক থানার অফিসার ফোর্সদের সহায়তায় মঙ্গলবার (৭ জুলাই ) গভীর রাতে ছাতক উপজেলার জয়নগর গ্রামে অভিযান চালিয়ে চাঞ্চল্যকর ফখরুল হত্যার ঘটনায় জড়িত খুন , ডাকাতি ,ছিনতাই , চুরি সহ ৯ মামলার কুখ্যাত আসামী নুর আলীকে গ্রেফতার করেন।

গ্রেফতারকৃত নুর আলীর দেয়া তথ্যমতে সিলেট মহানগরীর চাঁদনীঘাট এলাকা থেকে রেলওয়ের মালামাল ক্রয় বিক্রয় সহ হেফাজতে রাখার দায়ে মিল্লাদ হোসেন ও পরান মিয়াকে গ্রেফতার করেন। এসময় তাদের হেফাজত থেকে রেলওয়ের চোরাই মালামাল উদ্ধার করা হয়। উপ পরিদর্শক হাবিবুর রহমান পিপিএম জানান, গ্রেফতারকৃত ৩জন হত্যা মামলার সাথে জড়িত থাকার কথা বিজ্ঞ আদালতে স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

করোনা :: দৈনিক জালালাবাদ কর্তৃপক্ষের অমানবিক আচরণ:: চাকুরী হারালেন আশির দশকের শক্তিমান কবি, সাংবাদিক নিজাম উদ্দিন সালেহ ও পেইস্টার জানু মিয়া

বিশেষ সংবাদদাতাঃ

যৌবনের উন্মাতাল উন্মাদনায় একটি স্বপ্নের পেছনে তাড়া করা শুরু। অমানুষিক পরিশ্রম, মেধা, পরিচর্যায় সেই স্বপ্নের শিশু গাছটি আজ বড় হয়েছে, শাখা- প্রশাখা গজিয়েছে, পত্র পল্লবে সুশভিত হয়ে আজ সেটি পরিপূর্ণ বৃক্ষ। কিন্তু স্বপ্নের পেছনে তাড়া করা সেই তাগড়া জোয়ানগুলো হয়ে গেছে বুড়ো। শরীরে আগের মত শক্তি নেই, কিন্তু প্রাণশক্তি এতটুকু কমেনি, মেধা, কর্মদক্ষতায় শান লেগেছে আরো। ভালোবাসার সেই স্বপ্নটিকে নিয়ে তাদের কত শখ, আল্লাদ, কত কর্মপরিকল্পনা।

স্বপ্নযাত্রা যে তাদের পরিপূর্ণ হয়নি আজও, যেতে হবে বহুদূর। এমন সময় তাদের জানিয়ে দেয়া হলো তারা এ বৃক্ষের কেউ নন, তাদের প্রয়োজন ফুরিয়ে গেছে। বিনা নোটিশে শুধুমাত্র মৌখিক নির্দেশে তাদের বের করে দেয়া হলো। গল্পটি সিলেটের নামকরা কয়েকজন তথ্য মজুরের। করোনা সংকটের অজুহাতে তাদের ২৬ বছরের চাকরি নিমিষেই নাই হয়ে গেছে।

খালি হাতে তাড়িয়ে দেয়া হয়েছে তাদের প্রিয় কর্মস্থল থেকে। ১৯৯৩ সালের ১ আগস্ট দৈনিক জালালাবাদ পত্রিকার জন্মলগ্ন থেকেই এর সাথে সম্পৃক্ত হন আশির দশকের শক্তিমান কবি, সাংবাদিক নিজাম উদ্দিন সালেহ। গত ২৬ টি বছর তিলে তিলে এ পত্রিকাকে যারা গড়ে তুলেছেন সালেহ তাদের অন্যতম। তার প্রাজ্ঞ লেখনির ঝলসানিতে নতুন মাত্রা খুঁজে পেতেন জালালাবাদের পাঠকরা।

আজ করোনাকালে আর্থিক সংকটের অজুহাতে তাকে চাকুরি থেকে বের করে দিয়েছে জালালাবাদ কর্তৃপক্ষ। খবরটি শুনেই মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে পেশাদার এ সাংবাদিকের। তিনি কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করেন। প্রস্তাব দেন বেতন লাগবে না, তারপরও যাতে তাকে তার মায়ার প্রতিষ্ঠান থেকে বিচ্যূত করা না হয়। নিজাম উদ্দিন সালেহ এ প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে জানান, তার বয়স হয়েছে, এই সময়ে কাজ না করলে বাসায় বসে বসে তিনি অসুস্থ হয়ে যাবেন, এমনকি মানষিক অবসাদে মারাও যেতে পারেন।

এই মানবিক দিকটি তুলে ধরে তিনি পত্রিকার সিইও নুরুল ইসলাম বাবুলকে অনুরোধ করেন তাকে বিনা বেতনে কাজের সুযোগ দেয়ার জন্য। কিন্তু তাতেও নূন্যতম মানবিকতায় সাড়া দেয়নি বাবুল। তারপরও তিনি অফিসে যান, স্ব প্রণোদিত হয়ে কাজ করেন, রিপোর্ট লেখেন, সম্পাদকীয় লিখে জমা দেন। সম্পাদক মুকতাবিস উন নূর তা ছাপেন না। নিজাম উদ্দিন সালেহ হতাশ হয়ে ছুটে যান মালিকদের দোয়ারে দোয়ারে। তাদের সহানুভূতি চান। কিন্তু কেউ পাত্তা দেননি।

জালালাবাদ সিন্ডিকেট এর দুজন প্রভাবশালী কর্ণধার জামায়াত নেতা মাওলানা হাবিবুর রহমান ও অধ্যক্ষ এম এ হান্নান তার কথা শুনেন, কিন্তু কোন ফায়সালা দেননি। মহানগর জামায়াতের আমীর এহসানুল মাহবুব জুবায়েরও বিস্তারিত শুনে তাৎক্ষণিক কোন সদুত্তর দেননি।

এদিকে, জালালাবাদ সিন্ডিকেট এর পরিচালকবৃন্দের কাছে ধর্না দেয়ার খবর পেয়ে পত্রিকার সিইও নুরুল ইসলাম বাবুল নিজাম উদ্দিন সালেহকে ফোন করে শাসান, দৌঁড়ঝাপ না করতে বলেন তাকে। এমন নির্দয়, নিষ্ঠুর আচরণে দুচোখ ভিজে যায় প্রবীণ এ সাংবাদিকের। একই পত্রিকার পেইস্টার পদে ২৬ বছর কাজ করা জানু মিয়াও হারিয়েছেন চাকরি। করোনাজনিত আর্থিক সংকটের অজুহাতে তাকেও বের করে দেয়া হয় ।

চাকরি হারিয়ে অমানিশা দেখছেন ৫৪ বছর বয়সী এ বিশ্বস্ত কর্মী। জানালেন, জালালাবাদের প্রতিষ্ঠাকাল থেকে এ পর্যন্ত অসুস্থতা ছাড়া কোন ছুটি নেননি তিনি। জীবনের ধ্যান-জ্ঞান সবকিছুই ছিলো তার প্রিয় পত্রিকাকে ঘিরে। পত্রিকার কাজে নেশার মত জড়িয়ে থাকার কারণে বিয়ে, সংসার ও করা হয়নি সময়মত। গত ৪/৫ বছর আগে সহকর্মীদের চাপে বিয়ের পিড়িতে বসেন জানু মিয়া।

একটি ফুটফুটে কন্যা সন্তান হয়েছে তার। এমন সময় চাকরি হারিয়ে স্ত্রী- সন্তানকে কিভাবে খাওয়াবেন, সেই চিন্তায় সীমাহীন অস্থিরতা ভর করেছে তার মাথায়। সহকর্মীদের কাছে ফোন করে কোন কথাই বলতে পারছেন না, শুধুই ফুপিয়ে ফুপিয়ে কান্না। সদা আমোদে জানু মিয়ার চোখে ইতোপূর্বে কোনদিন কান্না দেখেননি বলে জানালেন তার দীর্ঘদিনের এক সহকর্মী।

শুধু নিজাম উদ্দিন সালেহ কিংবা জানু মিয়া নন, দীর্ঘ দিনের অফিস সহকারী আনোয়ার হোসেন, কম্পিউটার অপারেটর সালমান ও রুহিন এবং বিজ্ঞাপন ব্যবস্থাপক নেছার আহমদেরও চাকরি গেছে একই মৌখিক আদেশে। তাদের সবাই এ দূর্যোগের সময় চাকরি হারিয়ে হাহাকার করছেন।এদিকে, এ ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে পত্রিকার সিইও নুরুল ইসলাম বাবুল বলেন, কাউকে অফিসিয়ালি চাকুরিচ্যুত করা হয়নি। করোনার মধ্যে সীমিত পরিসরে পত্রিকা প্রকাশনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

তাই মাত্র ৪ জন তরুন রিপোর্টারকে রেখে অন্যদের আপাতত ছুটিতে দেয়া হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এবং পত্রিকার আর্থিক সক্ষমতা ফিরে এলে তাদেরকে আবার ফিরিয়ে আনা হবে। উল্লেখ্য, ইতিপূর্বে গত কয়েক মাসে নির্বাহী সম্পাদক আবদুল কাদের তাপাদারসহ প্রতিশ্রুতিশীল আরো ৪ জন রিপোর্টারকে একে একে চাকুরিচ্যুত করা হয়।

বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের মৃত্যুতে জগন্নাথপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আবুল কালাম রাজুর শোক

স্টাফ রিপোর্টার ::

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র, গণমানুষের নেতা বদর উদ্দিন আহমদ কামরান এর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন সিলেট মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক নেতা আবুল কালাম রাজু ।

শোক বার্তায়:

জগন্নাথপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য , সিলেট জেলা ও মদন মোহন কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক নেতা জগন্নাথপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি যুক্তরাজ্য যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক মো: আবুল কালাম রাজু,

বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, তিনি ছিলেন সিলেট বাসীর সুখ দু:খের সারথি। তিনি প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বিশ্বস্থ সৈনিক হিসেবে তাঁর ত্যাগ রাজনীতিতে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

তার শূন্যতা পুরন হবার নয় । তিনি বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের আত্মার শান্তি কামনা করে শোকাহত পরিবারবর্গের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।