সুনামগঞ্জে শিশু পরিবারেরে ইফতার সামগ্রী প্রদান করলো কর্ণিকার মুক্ত স্কাউটস গ্রুপ

 

নিজস্ব প্রতিবেদক::

সুনামগঞ্জে শিশু পরিবারের এতিমদের মধ্যে ইফতার সামগ্রী প্রদান করলো কর্ণিকার মুক্ত স্কাউটস গ্রুপ।

২১ মে (বৃহস্পতিবার) ইফতারের পূর্ব মুহুর্তে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাভূক্ত সুনামগঞ্জ শিশু পরিবারের সকল শিশুদের মাঝে এই ইফতার সামগ্রী প্রদান করা হয়।

আপেল,মালটা,তরমুজ,কলা,লিচু,জিলাপী,খেজুরসহ বিভিন্ন আইডেমের ইফতার সামগ্রী এতিম শিশুদের হাতে উপহার হিসেবে তুলে দেন কর্ণিকার মুক্ত স্কাউটস গ্রুপ’র সাধারণ সম্পাদক  মো.বুরহান উদ্দিন।

সামাজিক দূরত্ব মেনেই সুনামগঞ্জ সরকারি শিশু পরিবারের জন্য ইফতার সামগ্রী নিয়ে গেলো কর্ণিকার মুক্ত স্কাউটস গ্রুপ’র সদস্যরা।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা রোভারের সিনিয়র রোভার মেট প্রতিনিধি দুর্জয় দত্ত পুরকায়স্থ, রোভার মেট অমিত দাস গুপ্ত,মো.লুৎফুর রহমান লাবিব,মো: সানোয়ার আহমেদ,মারুফ আল মারজান প্রমুখ।

এ সময় সরকারি শিশু পরিবারের সহকারী তত্বাবধায়ক আলফাতুন নাহার কর্ণিকার মুক্ত স্কাউটস গ্রুপকে কে ধন্যবাদ দিয়ে বলেন,মরণঘাতী চলমান এই করোনা ভাইরাসের মধ্যে এই উপহার খাদ্য সামগ্রী পেয়ে আমরা আনন্দিত ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

 

এবার অর্থ সহায়তা নিয়ে সুনামগঞ্জের অর্ধশত আলেম-হাফেজদের পাশে “আর-রাহীম ফাউন্ডেশন”

নিজস্ব প্রতিবেদক::

মহামারী করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতি কর্মহীন-অসহায়, ছিন্নমূল মানুষের মাঝে খাদ্যসহায়তা বিতরণের পর এবার অর্থ সহায়তা নিয়ে সুনামগঞ্জের অর্ধশত আলেম-হাফেজদের পাশে দাঁড়াল “আর-রাহীম ফাউন্ডেশন”।

 

পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে যাচনাবিমুখ আলেম-হাফেজ, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের মাঝে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছে সুনামগঞ্জের কৃতি সন্তান, হাদীসের ময়দানে উজ্জ্বল নক্ষত্র শায়খুল হাদীস আব্দুর রাহীম রহ. স্মৃতিতে মানবকল্যাণে প্রতিষ্টিত “আর-রাহীম ফাউন্ডেশন”।

 

 

 

ফাউন্ডেশন’র এই কার্যক্রমের ব্যাপারে শায়খুল হাদীস আব্দুর রাহীম রহ’র বড় ছেলে জগ্ননাথপুর পৌর পয়েন্টে অবস্থিত মোহনা ফ্যাশন ও রহমানিয়া ইলেকট্রিক এর প্রোপাইটর হাফিজ মাহমুদুল হাসান বলেন, আমার পিতা আজীবন ইসলামের তরে বহুবিদ খেদমত করে গেছেন।

তাই তাঁর স্মৃতিকে স্মরণীয় করে রাখতে আমাদের এই ফাউন্ডেশন ধারাবাহিকভাবে মানবতার কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে এবং আগামীতে ফাউন্ডেশনটি তাঁর এই কর্মতৎপরতা অব্যাহত রাখবে।

দেশ-বিদেশে অবস্থানরত ভাই-বোনদের আন্তরিকতপূর্ণ সহযোগিতার মাধ্যমে ফাউন্ডেশনটি এবার উলামা হযরতদের পাশে দাঁড়িয়েছে।

 

 

উল্লেখ্য, প্রয়াত এই আলেমের তিন ছেলে পরিবার নিয়ে ইউকে’তে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন, ফাউন্ডেশনের কাজকে এগিয়ে নিতে তারা দেশ-বিদেশের সকলের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেছেন।

বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি সুনামগঞ্জ ইউনিট পক্ষ থেকে ৫০০ পরিবারের মধ্যে ফুড প্যাকেজ বিতরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক::

বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি, জাতীয় সদর দপ্তর কর্তৃক ২য় দফায়  সুনামগঞ্জ রেডক্রিসেন্ট কার্যালয় থেকে সদর ও জামালগঞ্জ উপজেলার সাচনা বাজার উচ্চ বিদ্যালয়ে বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় করোনা ভাইরাস জনিত প্রার্দুভাবের কারণে ক্ষতিগ্রস্থ,দরিদ্র ও কর্মহীন  ৫০০পরিবারের মধ্যে ফুড প্যাকেজ(চাল-৭.৫কেজি, ডাল-১কেজি, তৈল-১লিটার, চিনি-১কেজি, লবণ-১কেজি, সুজি-০.৫কেজি) বিতরন করা হয়েছে।

 

 

বিতরন কার্যের শুভ উদ্ভোধন করেন ইউনিট কার্যনির্বাহী সদস্য মোঃএমদাদুল হক শাহজাহান, ইউনিট লেভেল অফিসার কনিকা তালুকদার, সিনিয়র যুব সদস্য সেরুজ্জামান সেরু, যুবপ্রধান মাছুম আহমেদ, উপযুবপ্রধান-২সোয়েব আবেদীন, গনসংযোগ ও বিভাগীয় প্রধান শাহজাহান আলম সিদ্দিকী, যুবসদস্য ফারজানা আক্তার ঝর্ণা, সুমন, বন্যা, স্বর্ণা, জাকারিয়া, মামুন, অনিক, তানভীর আহমেদ রাসেল, রিয়াদ আহমদ, প্রিতম শ্যাম, নাহিদ,আপন আহমেদ প্রমুখ।

 

 

 

 

 

বিশ্বম্ভরপুরে পীর মিসবাহ এমপি’র ঐচ্ছিক তহবিল হতে উপকারভোগীর মাঝে চেক বিতরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক::

জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় হুইপ অ্যাড.পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ এমপি’র ২০১৯-২০ অর্থ বছরের বরাদ্ধকৃত এচ্ছিক তহবিল হতে সুনামগঞ্জ বিশ^ম্ভরপুর উপজেলার ৫৬ জন উপকারভোগীর মাঝে ১লক্ষ ৭৮ হাজার টাকার চেক বিতরণ করেছেন।

 

 

বুধবার(২০ মে) বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা পরিষদের ব্যবস্থাপনায় উপজেলা মিনলায়তনে উপকারভোগীর মাঝে চেক বিতরণ করেন জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় হুইপ অ্যাড.পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ এমপি।

 

 

 

 

 

 

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন, বিশ^ম্ভরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সমীর বিশ্বাস,উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা শাহ জামান আহমেদ, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো.শফিকুল ইসলাম,উপজেলা জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক সম্পাদক মো.আব্দুল কাদির,বাদাঘাট (দ:) ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো.এরশাদ মিয়া,জাপা নেতা হিফজুর রহমান,সোহেল আহমদ,মনির হোসেন প্রমুখ।

 

 

 

 

 

 

 

জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় হুইপ অ্যাড.পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ এমপি বলেছেন, আমাদের সকলকে করোনাভাইরাস মোকাবেলায় সচেতন হয়ে সামাজিক দূরত্ব মেনে চলে কাজ করে যেতে হবে। করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন। আমরাও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের দেশে খাদ্যের কোন অভাব নেই।

 

চলতি বোর মৌসুমে বাম্পার ফলন হয়েছে।তিনি বলেন, সরকার করোনা ভাইরাস প্রতিরোধের লক্ষ্যে দেশের এক কোটি পরিবারে প্রায় ৫ কোটি জনগণের মধ্যে নগদ অর্থ ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছে। বিশ্ব ম্ভরপুর উপজেলায় এমপির ঐচ্ছিক তহবিল থেকে নগদ চেকের টাকা বিতরণকালে তিনি এসব কথা বলেছেন।

 

 

 

 

 

 

 

জগন্নাথপুরের মেয়ে দক্ষিণ সুরমার গৃহবধুর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় গৃহবধুর স্বামী অমরেশ গ্রেফতার


স্টাফ রির্পোটার:

জগন্নাথপুর পৌর শহরের মেয়ে দক্ষিণ সুরমা উপজেলার লালা বাজার ইউনিয়নের শাহসিকন্দর গ্রামের গৃহবধু লাকী রানী নাথের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের দেড় মাস পর ওই গৃহবধুর স্বামী মামলার প্রধান আসামী অমরেশ দেব নাথ(অমর)কে পুলিশ গ্রেফতার করেছে।

আজ বৃহস্পতিবার(১৪ মে) সকাল ৯টায় মামলার তদন্তকারী কর্মকতা এস আই লিটন দত্ত শাহসিকন্দর গ্রামে অভিযান চালিয়ে অমরেশ কে তার নিজ বাড়ী থেকে গ্রেফতার করেছে। অমরেশ দেব নাথ(৩০) শাহসিকন্দর গ্রামের ধীরেন্দ্র দেব নাথের ছেলে। সিলেট এসএমপির দক্ষিণ সুরমা থানা পুলিশ জানান গ্রেফতারকৃত অমরেশ দেব নাথকে আজ দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়। আদালত সূত্রে জানা যায়- আসামী অমরেশ জামিনের আবেদন করলে আদালত জামিন না মনজুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার লালাবাজার ইউনিয়নের শাহসিকন্দর গ্রামে গত মাসের পহেলা এপ্রিল সকালে গৃহবধু লাকী রানী নাথ এর স্বামীর বাড়ীর বসত ঘরের দু-তলার শয়নকক্ষের সিঁড়ির পাশের একটি কক্ষ থেকে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে।
পৈষাচিক হৃদয় র্স্পশী চাঞ্চল্যকর রহস্যজনক এ মৃত্যুর ঘটনায় নিহত লাকী রাণী নাথ কেয়ার বড় ভাই সাংবাদিক বিপ্লব দেব নাথ বাদী হয়ে ৯ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার ) এসএমপির দক্ষিণ সুরমা থানায় নিহত গৃহবধুর স্বামী অমরেশ দেবনাথ অমরকে প্রধান আসামী করে ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

মামলার অন্যান্য আসামীরা হচ্ছে: নিহত গৃহবধুর স্বামী প্রধান আসামী অমরেশ দেব নাথের বাবা ধীরেন্দ্র দেব নাথ ধীরু তার মা শেফালী রাণী নাথ, বড়ভাই নিতাই দেব নাথ ও তার স্ত্রী শিল্পী রাণী নাথ, বড় বোন মনষা রাণী নাথ ও তার স্বামী বালাগঞ্জ উপজেলার চানঁপুর গ্রামের মুন্টু দেব নাথ এবং অমরেশ দেবনাথের প্রেমিকা জকিগঞ্জ উপজেলার কালিগঞ্জ গ্রামের মৃত: নিখিল দেব নাথের মেয়ে লিপি রাণী নাথ।

সেদিনের ঘটনা: দক্ষিণ সুরমা উপজেলার শাহ সিকন্দর গ্রামের ধীরেন্দ্র দেবনাথের ছেলে অমরেশ দেবনাথ অমরের স্ত্রী লাকী রাণী নাথ কেয়ার রহস্যজনক মৃত্যুর খবর পেয়ে নিহত লাকীর পিতা সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর পৌর শহরের ৬নং ওয়ার্ডের মন্দির বাড়ির বাসিন্দা নবেশ দেবনাথ তার ছেলে সাংবাদিক বিপ্লব দেবনাথ সহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা এবং জগন্নাথপুর পৌরসভার সংরক্ষিত ওয়ার্ডের মহিলা কাউন্সিলার মীনা রাণী পাল সহ স্বজনরা শাহসিকন্দর গ্রামে নিহত লাকীর স্বামীর বাড়ি শাহসিকন্দর গ্রামে পৌছেন।

ঘাতক অমরেশ দেবনাথের দোতলা বাড়ির আঙ্গিনায় পুলিশ সহ স্থানীয়রা উপস্থিত ছিলেন। দুুপুরের দিকে ঘাতক অমরেশ দেবনাথের ঘরের দোতলার শয়নকক্ষের উত্তর পাশের একটি কক্ষ থেকে সিলিং ফ্যানের একটির পাখার সাথে পুরনো শাড়ি কাপড় দ্বারা গলায় ফাস লাগানো অবস্থায় নিহত গৃহবধু লাকী রাণী নাথ কেয়ার লাশ পুলিশ উদ্ধার করেন। পরে সুরতহাল রিপোর্ট শেষে লাশ ময়না তদন্তের জন্য সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।


এদিকে প্রত্যক্ষদর্শী এবং উপস্থিত তিনজন গনমাধ্যমকর্মী নিহত গৃহবধু লাকীর ঝুলন্ত দেহ এবং কক্ষের পারিপার্শিক অবস্থান মূভি ক্যামেরা এবং মোবাইল ফোনে ধারণ করেন। লাশের পা দুটি হাটু মোড়ানো অবস্থায় বিছানার সাথে লাগানো ছিল। এছাড়াও কক্ষটির উত্তর পাশের দেয়ালে ছোট পর্দা লাগানো অনুমান দুই ফুট পরিমাপের খোলা জানালা রয়েছে।

গৃহবধুর ঝুলন্ত লাশ এবং কক্ষটির পারিপার্শিক অবস্থানে ধারণা করা হয় গৃহবধু লাকী রাণী নাথ কেয়াকে নিষ্টুর ও নির্মম কায়দায় হত্যা করে ঘটনাটিকে আত্মহত্যায় চালিয়ে নিতে ঘাতকরা গৃহবধুর দেহ ঝুলিয়ে রেখেছে। তদন্তে চাঞ্চল্যকর এ হত্যা কান্ডের রহস্য উদঘাটন হওয়ার আশা রাখছেন গৃহবধু লাকীর স্বজনরা।

নিহত গৃহবধু লাকীর স্বজনরা আরো জানান : ২০১৮ সালের ২৩ ফেব্রæয়ারী ধর্মীয় রীতি অনুয়ায়ী দক্ষিণ সুরমা উপজেলার শাহসিকন্দর গ্রামের ধীরেন্দ্র দেব নাথের ছেলে অমরেশ দেবনাথ অমরের সাথে জগন্নাথপুর উপজেলার পৌর শহরের ৬নং ওয়ার্ডের নবেশ দেব নাথের মেয়ে লাকী রাণী নাথ কেয়ার বিয়ে হয়। বিয়ের প্রথম দিকে দাম্পত্য জীবন সুখের হলেও চার মাস পর থেকেই শুরু হয় পারিবারিক কলহ।

এর পেছনে রয়েছে নিহত লাকীর পাষন্ড স্বামী অমরেশের বড় ভাই নিতাই দেব নাথের শ্যালিকা লিপি রাণী নাথের সাথে অমরেশের পূর্বের প্রেমের সম্পর্ক। লিপি রাণী নাথ দোতলা বাড়ির নীচ তলায় বোন জামাই নিতাই দেবনাথের ঘরে বোনের সাথে থাকার সুবাধে আড়ালে- আবডালে প্রেম করে বসে অমরেশের সাথে।

একসময় তা শারীরিক সম্পর্কে পৌছে । ঘটনাটি জানাজানি হলে নিতাই দেব নাথের স্ত্রী শিল্পী রাণী নাথ তার বোন লিপিকে অমরেশের সাথে বিয়ে দিতে নানা কৌশল এবং স্বামী নিতাই দেব নাথের পরিবারকে চাপ প্রয়োগ করে। বিষয়টি এক পর্যায়ে ধামাচাপা দেয়া হয়। পরবর্তীতে অমরেশের বোন জামাই বালাগঞ্জের মন্টু দেব নাথ শ্যালক অমরেশ দেব নাথকে বিয়ে করাতে মেয়ে দেখতে থাকেন।

অবশেষে লাকী রাণী নাথ কেয়ার সাথে অমরেশের বিয়ে হয়। এদিকে অমরেশ একই বাড়িতে প্রেমিকা সহ স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস করছেন। এ ফাঁকে প্রেমিকা লিপির সাথে অমরেশের শুরু হয় পরকিয়া। স্ত্রী লাকীর অগোচরে প্রেমিকা লিপির সাথে অমরেশ প্রায় সময় অনৈতিক কাজে লিপ্ত থাকার কথা ফাঁস হয়ে গেলে শুরু হয় স্বামী স্ত্রীর কলহ।

লাকীর স্বজনরা আরো জানান: অমরেশের পরকিয়ার সম্পর্কের ঘটনাটি বাধাঁ দেয়ার কারণে অমরেশ ও তার মা শেফালী রাণী নাথ এবং বৌদি শিল্পী রাণী নাথ এর সহযোগিতায় অসংখ্যবার নিহত গৃহবধু লাকীর রাণী নাথের ওপর অমানবিক অত্যাচার নির্যাতন চালানো হয়।

এসব অত্যাচার সহ্য করে গৃহবধু লাকী রাণী নাথ স্বামীর সংসারে একটু সুখের আশায় ঘর করতে থাকে। শেষ মেষ লাকীর গর্ভে জন্ম নেয় একটি ফুটফুটে ছেলে সন্তান। সবকিছুর পর সন্তানের মূখের দিকে চেয়ে স্বামী অমরেশের অত্যাচার সহ্য করে সংসার চালিয়ে যাচ্ছিল লাকী । অবশেষে পরকিয়া প্রেম বাধাঁ হয়ে দাড়ায় লাকীর সূখের সংসারে।
দশ মাসের পূত্র অভিজিৎ দেবনাথ অভিমুন্নের মা ডাকার স্বপ্নকে ভেঙ্গে তছনছ করে দিয়েছে পাষন্ড অমরেশ ও তার পরিবারের সহযোগিরা।

গৃহবধু লাকী রাণী নাথ কেয়ার নিহত হওয়ার ঘটনাটি তার বাবা মা ভাই বোন এবং স্বজনরা সহ অনেকেই ধারণা করছেন এটি একটি নির্মম এবং নিষ্ঠুর হত্যাকান্ড।
এদিকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই লিটন দত্ত জানান মামলার প্রধান আসামী অমরেশ দেব নাথকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যান্য আসামীদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সাংবাদিক মাহতাব উদ্দিন গ্রেফতার, বিভিন্ন সংগঠনের দুঃখ প্রকাশ ও মুক্তির দাবী

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি :
সুনামগঞ্জ থেকে প্রকাশিত স্থানীয় ‘দৈনিক হাওরাঞ্চলের কথা পত্রিকার সম্পাদক ও এস.এ টিভির জেলা প্রতিনিধি’ সাংবাদিক মাহতাব উদ্দিন তালুকদারকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গ্রেফতার করা হয়েছে। সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতনকে নিয়ে তার ফেসবুকে দুদক মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে এমন পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে সোমবার গভীর রাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এর আগে সোমবার (৪ মে) রাতে ওই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে জেলার ধর্মপাশা থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করেন উপজেলার সেলবরষ ইউনিয়নের উত্তরবীর গ্রামের বাসিন্দা বেনোয়ার হোসেন খান। তিনি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্যের সমর্থক বলে জানা গেছে।

জানা যায়, রাত ১২ টায় মামলা হওয়ার পর ওই রাতই দুইটার দিকে সুনামগঞ্জ শহরের বকপয়েন্ট এলাকা থেকে সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, মাহতাব উদ্দিন তালুকতদার তার নিজ ফেসবুকে সংসদ সদস্যকে নিয়ে আপত্তিকর পোষ্ট দিয়েছেন। এই মিথ্যাচারের ফলে সংসদ সদস্যের মানহানি হয়েছে।

তবে মাহতাব উদ্দিন দাবী করে জানিয়েছেন, তিনি সংসদ সদস্য কে নিয়ে ফেসবুকে কোনো পোষ্ট দেননি। সোমবার সন্ধ্যায় তার ফেসবুক আইডি হ্যাক করে কে বা কারা এমন পোষ্ট দিয়েছিল। প্রায় ছয় ঘণ্টা পরে আরেক জনের সহায়তায় তিনি তার ফেইসবুক আইডিটি ফিরে পান। আইডি হ্যাকড হওয়ার বিষয়ে তিনি নিজে ফেসবুকে ও সদর থানার ওসিকে বিষয়টি অবহিত করে থানায় একটি জিডি ও করতে চেয়েছিলেন।

কিন্তু থানায় পরবর্তীতে কোন জিডি এন্ট্রি করাও তার পক্ষে করা সম্ভব হয়নি। সুনামগঞ্জ জেলা সাংবাদিক ফোরামের নেতৃবৃন্দ উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, একজন গণমাধ্যমকর্মীকে তাৎক্ষণিক ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলাটি না করে জেলার গণ্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ কিংবা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দদের নিয়ে বিষয়টি সামাজিকভাবে নিস্পত্তির উদ্যোগে নেয়ার সুযোগ ছিল।

সামাজিকভাবে নিস্পত্তি না হলে নিশ্চয়ই এই সাংবাদিকের দোষগুন গুলো তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেত বলে মনে করেন সাংবাদিকবৃন্দ। সুনামগঞ্জ জেলা সাংবাদিক ফোরামের পক্ষ থেকে ফোরামের সাধারন সম্পাদক গ্রেফতারকৃত মাহতাব উদ্দিন তালুকদার কর্তৃক তার ফেইসবুক আইিডকে হ্যাকড করে একজন সংসদ সদস্যকে নিয়ে এমন মন্থব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশের পাশাপাশি তার নিঃশর্ত মুক্তির জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও স্বরাষ্টমন্ত্রীর নিকট জোর দাবী জানাচ্ছি।

বিবৃতিকারীগন হচ্ছেন সুনামগঞ্জ জেলা সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি ও মোহনা টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধ কুলেন্দু শেখর দাস, যুগ্ম সাধারন সম্পাদক-দৈনিক নয়াদিগন্তের জেলা প্রতিনিধি তৌহিদ চৌধুরী প্রদীপ, অর্থ সম্পাদক-একুশে টেলিভিশনের প্রতিনিধি মোঃ আব্দুস সালাম, যুগ্ম সাধারন সম্পাদক- দৈনিক বিশ্বমানচিত্রের জেলা প্রতিনিধি একে মিলন আহমদ, সদস্য ও দৈনিক ঢাকা প্রতিদিনের জেলা প্রতিনিধি শামীম আহমদ তালুকদার, প্রচার সম্পাদক-২৪ ঘন্টার প্রতিনিধি কে এম শহীদুল ইসলাম, মহিলা সম্পাদিকা তানিম আক্তার, সদস্য-দৈনিক যায়যায় কালের প্রতিনিধি মহিবুর রেজা টুনু, সদস্য-দৈনিক স্বাধীন বাংলার প্রতিনিধি মোঃ বাবুল মিয়া, সদস্য- দৈনিক ডেসটিনির প্রতিনিধি বিপলু রঞ্জন প্রমুখ।

সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সহিদুর রহমান জানান, মঙ্গলবার মাহতাব উদ্দিনকে আদালতে হাজির করলে আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এদিকে, সাংবাদিক মাহতাব উদ্দিন তালুকদারের গ্রেফতারে, উদ্বেগ জানিয়েছেন বিবৃতি দিয়েছেন সুনামগঞ্জ প্রেসক্লাব (একাংশ) সভাপতি পঙ্কজ কান্তি দে ও সাধারণ সম্পাদক এ কে এম মহিম। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, মাহতাব উদ্দিনকে যেভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে সেটিতে আমরা উদ্বিগ্ন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগের পর রাত দুইটায় সুনামগঞ্জ সদর থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। কিন্তু মাহতাব উদ্দিন দাবি করেছেন, তিনি সংসদ সদস্যকে নিয়ে কোনো পোষ্ট দেননি।

সোমবার রাতে তার ফেসবুক আইডি হ্যাকড হয়েছিল। প্রায় ছয় ঘন্টা পরা আরেকজনের সহায়তায় সেটি উদ্ধার করেন। তিনি নিজেই তার ফেসবুকে বিষয়টি জানিয়েছেন, যেহেতু মাহতাব উদ্দিন দাবি করছেন তিনি এটি করেননি, তার ফেসবুক আইডি হ্যাকড হয়েছিল তাহলে বিষয়টির তদন্ত হতে পারত।

সামাজিকভাবেও নিষ্পত্তির সুযোগ ছিল। মাহতাব উদ্দিন যাতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপব্যবহারের শিকার না হন তার দাবী জানান, জেলার বিভিন্ন সাংবাদিক ও শুভাকাঙ্খিরা মামলার জন্য নিন্দা জানিয়ে সাংবাদিকের মুক্তি ও মামলা প্রত্যাহারের দাবী জানান।

আর্থিক নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিয়ে শঙ্কায় সিলেটের সাংবাদিকরা

জগন্নাথপুর টুডে ডেস্ক::
করোনাভাইরাসে সারা বিশ্ব আক্রান্ত। এর থেকে বাঁচার একমাত্র উপায় সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। তাই করোনায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি নিয়েও সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন টেলিভিশন, অনলাইন নিউজ পোর্টালের সিলেটে কর্মরত সংবাদকর্মীরা। তাদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে ঘরে বসে করোনাভাইরাসসহ দেশ বিদেশের খবর পাচ্ছেন সাধারণ মানুষ।

কিন্তু তাদের সুরক্ষা দিতে গণমাধ্যম কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় অভিভাবক সংগঠনগুলো উদাসীন। এমনকি অনেক প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে সংবাদকর্মীদের বেতন পর্যন্ত দিচ্ছে না। এ অবস্থায় নিজের সুরক্ষা এবং আর্থিক নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কায় সিলেটের সংবাদকর্মীরা।

সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা মনে করছেন, করোনাভাইরাসের ভয়ঙ্কর থাবা থেকে দেশের সাধারণ মানুষের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন সিলেটে কর্মরত সংবাদকর্মীরা। তাদের লেখনীর মাধ্যমে বেরিয়ে আসে সমাজের অসঙ্গতি।

করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে তারা কার্যকর তথ্য পৌঁছে দিচ্ছেন সাধারণ মানুষের কাছে। জনগণের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধিতে রাখছেন অনন্য ভূমিকা। তাই সংবাদকর্মীদের সুরক্ষা ও আর্থিক সুবিধা, বেতন-ভাতা আদায়ে এগিয়ে আসতে হবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় অভিভাবক সংগঠনগুলোকে। বিশেষ করে স্থানীয় প্রেসক্লাবগুলোর নেতৃবৃন্দ সংবাদকর্মীদের দাবি-দাওয়া আদায়ে সোচ্চার হতে হবে। প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্তৃপক্ষ ও সরকারের নীতিনির্ধারকদের টনক নড়াতে জোরালো ভূমিকা রাখতে হবে ।

টেলিভিশন চ্যানেল নিউজ২৪ এর সিলেটে কর্মরত ক্যামেরাপার্সন শফি আহমেদ বলেন, প্রতিনিয়ত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গণমাধ্যমে কাজ করতে হয়। নির্ঘাত মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়েও করোনাকালে দেশ ও দেশের মানুষকে মরণঘাতী করোনাভাইরাসসহ দেশ বিদেশের খবর সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে কাজ করে যাচ্ছি। কিন্তু দুঃখের বিষয় যে স্থানীয় সকল স্টাফদের বেলায় কর্তৃপক্ষ উদাসীন।

এখন পর্যন্ত কোনো সুরক্ষা সামগ্রী বা কোনো আর্থিক সহযোগিতা পাই নি। নিজের টাকায় ক্রয় করেছি একটি মাস্ক। আর ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন (ইমজা) থেকে পেয়েছি একটি পারসোনাল প্রটেকটিভ ইকুইপমেন্ট (পিপিই)। এই হলো আমাদের সুরক্ষা ব্যবস্থা। যা অত্যন্ত দুঃখজনক।

এ বিষয়ে এটিএন নিউজ সিলেট প্রতিনিধি ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন (ইমজা)’র সাধারণ সম্পাদক সজল ছত্রী বলেন, বর্তমান সময়ে যতটুকু নিরাপদে থেকে কাজ করা যায়, ততটুকুই করা উচিত। প্রতিটি সংবাদকর্মীর নিরাপত্তার বিষয়টি তার প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে খেয়াল রাখা উচিত। এমন কোনো ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে পাঠানো উচিত নয়, যেখানে তাকে নিরাপত্তা দেওয়া যাবে না। আর সংবাদকর্মীদেরও উচিত প্রতিষ্ঠানকে খুশি করতে অতিউৎসাহী হয়ে কাজ না করা।

অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সংবাদকর্মীদের সুরক্ষার জন্য সব সংগঠনই কোনো না কোনা পদক্ষেপ নিয়েছে। স্থানীয় প্রেসক্লাবগুলোর আর্থিক অবস্থাও তেমন ভালো না। ইমজা’র পক্ষ থেকে ঢালাওভাবে কোনো কিছু দেওয়া সম্ভব নয়, তবে গোপনে সদস্যদের সুবিধা-অসুবিধার খোঁজ খবর রাখা হচ্ছে। তাদের জন্য পারসোনাল প্রটেকটিভ ইকুইপমেন্ট (পিপিই) প্রদান করা হয়েছে। মানবিক বিবেচনায় সংগঠন চেষ্টা করছে সদস্যদের পাশে দাঁড়াতে।

করোনাকালে সরকার ও প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতার বিষয়ে জানতে চাইলে এটিএন নিউজ সিলেট প্রতিনিধি সজল ছত্রী বলেন, একজন মফস্বল সাংবাদিক হিসাবে বলতে পারি যে যদিও সরকার প্রণোদনা দেয়, তাহলে আমাদের হাতে এসে এটি পৌঁছাবে না। ঢাকায় কর্মরত সাংবাদিকদের বিশাল বহর এই সুবিধা পাবেন।

মফস্বলে এটি এসে পৌঁছানোটাও দুষ্কর। তারপরও যদি বিধি মোতাবেক যে দুই চারজনের মাঝে এসে পৌঁছাবে, তারা এমনিতেই এতো বেশি সুবিধাভোগ করছে, যা আমরা সাধারণ সংবাদকর্মীরা পাচ্ছি না। সিস্টেমটা এমনই যে যারা সুবিধা পাচ্ছে, তার জন্য আরো সুবিধা আসছে, আর যে পাচ্ছে না, সে কোনোই সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছে না। আর এখন সরকার সংবাদ মাধ্যমকে প্রণোদনা দিলেও মফস্বল সাংবাদিক যারা আছে তাদের ২৫% এর মাঝে এই সুবিধা পৌছাবে না।

তিনি আরো বলেন, গণমাধ্যমে কর্মরত কোনো কর্মীকে কোনোভাবেই চাকরীচ্যুত না করা, বেতন-ভাতা বন্ধ না করা এবং বেতন-ভাতা ঠিকমতো পাচ্ছে কি না এই বিষয়গুলো সরকার যদি ঠিকমতো খোঁজ-খবর রাখে বা তদারকি করে তাহলে কোনো প্রণোদনারই প্রয়োজন পড়বে বলে আমি মনে করি না।

এদিকে করোনা দুর্যোগে মাঠে থেকে যারা কাজ করছেন তাদের মাঝে ফটোসাংবাদিকরা অন্যতম। তাদের ছবির মাঝে ফুটে উঠছে সমাজের চিত্র। করোনা পরিস্থিতির মাঝে কিভাবে কাজ করছেন এমন প্রশ্নে বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন সিলেট বিভাগীয় কমিটির সভাপতি মামুন হাসান বলেন, জীবনের ঝুঁকি নিয়েই কাজ করছি। আমাদের সংগঠনে প্রায় ৩৬ জনের মতো সদস্য আছেন। তাদের মাঝে ২৫ জনের মতো সদস্যকে সংগঠনের পক্ষ থেকে ১৫ দিনের খাদ্য সামগ্রীর ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে।

করোনাভাইরাসের সুরক্ষার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, করোনা কালে সবাই মাঠে কাজ করছেন না। যারা করছেন তাদের মাঝে সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে পারসোনাল প্রটেকটিভ ইকুইপমেন্ট (পিপিই) দেওয়া হয়েছে। আবার অনেকেই নিজ নিজ উদ্যোগে সংগ্রহ করেছেন।

এ বিষয়ে সিলেট প্রেসক্লাব সভাপতি ইকবাল সিদ্দিকি বলেন, ক্লাবের পক্ষ থেকে তেমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয় নাই। তবে কেউ যদি সমস্যায় থাকেন তাহলে খোঁজ নিয়ে তাকে সহযোগিতা করা হবে।

করোনাভাইরাস থেকে সংবাদকর্মীদের সুরক্ষার বিষয়ে দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন’র সিলেটের ব্যুরো প্রধান ও সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শাহ্ দিদার আলম নবেল বলেন, করোনাকালে সবার আগে যে বিষয়টি দরকার তা হলো সংবাদকর্মীদের নিরাপত্তা।

তাই নিরাপত্তার বিষয়টি চিন্তা করে সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে সদস্যদের জন্য পারসোনাল প্রটেকটিভ ইকুইপমেন্ট (পিপিই), মাস্ক, গ্লাভসের ব্যবস্থা করা হয় এবং কিছু খাদ্য সামগ্রীর ব্যবস্থা করা হয়। যাদের প্রয়োজন তারা প্রেসক্লাব থেকে নিয়েছেন। কিন্তু তা সদস্যদের জন্য পর্যাপ্ত নয়।

সামনে আরো দুঃসময় আসছে। আজকে যে সংবাদকর্মী সচ্ছল আছে, সামনের দিনগুলোতে যদি দুর্যোগ আরো প্রকট হয়, তাহলে তার এই সচ্ছলতা থাকবে না। ইতোমধ্যে অনেক গণমাধ্যম বন্ধ হয়ে গেছে। জাতীয় দৈনিক পত্রিকাগুলো তাদের অনলাইন ভার্সন দিয়ে টিকে আছে। এই অবস্থায় অনেক সংবাদকর্মীর বেতন-ভাতা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিবে। সামনের দিনগুলোতে আর্থিক সংকট দেখা দিবে সিলেটে কর্মরত সংবাদকর্মীদের। তাদের এই দুর্দিনে সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে আরো কিছু সহযোগিতা করার পরিকল্পনা আছে।

বিভাগীয় তথ্য উপ-পরিচালক জুলিয়া যেসমিন মিলি বলেন, এ বিষয়ে আমাদের কোনো পরিকল্পনা নাই। তবে ঢাকায় কর্মরত সাংবাদিকদের নিয়ে মন্ত্রী মহোদয় কিছু সুরক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। বিভাগীয় পর্যায়ে চাকরি করে আমাদের পক্ষ থেকে আসলে কোনো কিছু করার নাই।

পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান সুনামগঞ্জে ডাক্তারদের পিপিই দিলেন

স্টাফ রিপোর্টার:
জেলার ১১ উপজেলা ও সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের ডাক্তারদের জন্য ৬৫ টি পিপিই প্রদান করেছেন জগন্নাথপুর -দক্ষিণ সুনামগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য পরিকল্পনা মন্ত্রী এমএ মান্নান। আজ বৃহস্পতিবার সকালে পরিকল্পনা মন্ত্রীর রাজনৈতিক সচিব হাসনাত হোসাইন, সিভিল সার্জন ডা: মো: শামস উদ্দিনের হাতে এই পিপিই তুলে দেন।

এসময় সুনামগঞ্জ ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা: মো: আশরাফুল ইসলাম, সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: সৌমিত্র চক্রবর্তী , জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: মধূ সুধন ধর, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: জসিম উদ্দিন,

দিরাই উপজেলা স্ব্যাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: মাহবুবুর রহমান, সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা: রফিকুল ইসলাম, দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক পঙ্কজ দে প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এর আগে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে জ¦র, সর্দি ও কাশিতে আক্রান্ত রোগীদের চিকিসা প্রদানের জন্য পৃথক চিকিৎসা কর্ণারের উদ্বোধন করা হয়।

বিশেষ বরাদ্দের ৩০বস্তা চালসহ জাতীয় পার্টির সভাপতি এবং ডিলার আটক

জগন্নাথপুর টুডে ডেস্ক::
করোনা ভাইরাসের সংকটকালীন সময়ে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ বরাদ্দের ১০টাকা কেজির ৩০ বস্তা চালসহ সুনামগঞ্জে দুইজনকে আটক করেছে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। আটককৃতরা চাল বিক্রি না করে বস্তা পাল্টিয়ে আত্মসাৎ করার চেষ্টা করছিলো বলে পুলিশ জানিয়েছে। আজ মঙ্গলবার দুপুরে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার গৌরারং এলাকার নিয়ামতপুর এলাকার একটি দোকান থেকে তাদের আটক করা হয়।

আটককৃতরা হলেন- গৌরারং ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির সভাপতি শওকত আলী ও স্থানীয় চালের ডিলার বিপ্লব সরকার। ডিবি পুলিশের ওসি মোক্তাদির আহমদ জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে করোনা ভাইরাসের সংকটকালীন সময়ে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ বরাদ্দের ১০টাকা কেজির চাল বিক্রি না করে বস্তা পাল্টিয়ে আত্মসাৎ করার সময় হাতেনাতে দুই জন কে ৩০বস্তা চালসহ আটক করা হয়েছে। তাদের জেলা পুলিশের কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আটককৃতদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হবে।

কাশি ও শ্বাসকষ্টে নারীর মৃত্যু::করোনা পরীক্ষায় স্বামী সিলেটে :: পরিবারের অন্য সদস্যরা হোম কোয়ারেন্টিনে

স্টাফ রিপোর্টার::
সুনামগঞ্জ শহরের পূর্ব নতুনপাড়ায় ৬০ বছর বয়সী নারী’র কাশি ও শ্বাসকষ্টে মৃত্যু হয়েছে। আজ সোমবার (৩০ মার্চ) ভোরে অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ওই নারীর মৃত্যুর পর এলাকায় উৎকণ্ঠা দেখা দেয়। এরপর তার স্বামীকে করোনা পরীক্ষাকরণের জন্য সিলেটে পাঠানো হয়েছে। হোম কোয়ারেন্টিনের মাধ্যমে তাকেও নজরদারিতে রাখা হয়েছে। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ও রোগীর স্বজনরা জানান, সুনামগঞ্জ শহরের পূর্ব নতুনপাড়ায় ৬০ বছর বয়সি নারী উচ্চ রক্তচাপ ও শ্বাসকষ্টের রোগী ছিলেন।

কয়েকদিন ধরে তিনি সর্দি-কাশিতেও ভুগছিলেন। আজ সোমবার (৩০ মার্চ) ভোরে পরিবারের লোকজন অসুস্থ অবস্থায় তাকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। ওখানে জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক কামরুল ইসলাম তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত নারীর স্বামী জানান, তার স্ত্রী দীর্ঘদিন যাবৎ শ্বাস কষ্ট ও নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। আজ তিনি মারা গেছেন। তাদের পরিবারের কেউ বিদেশ ভ্রমণ করেননি। সিভিল সার্জন ডাক্টার মো: শামস উদ্দিন জানান, ওই নারী হাসপাতালে পৌঁছার আগেই মারা গেছেন। মৃতের স্বামী জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন যাবৎ তার স্ত্রী অতি উচ্চ রক্তচাপের রোগী এবং শ্বাসকষ্টে ভোগছিলেন।

স্ত্রী’র মৃত্যুর পর স্বামীকে করোনায় আক্রান্ত কিনা পরীক্ষকরণের জন্য সিলেটে পাঠানো হয়েছে। পরিবারের অন্য সদস্যদের হোম কোয়ারেন্টিনের মাধ্যমে নজরদারিতে রাখা হয়েছে। মৃত নারীর শেষকৃত্য সম্পন্ন হওয়ায় তার কোনো পরীক্ষা করা যায়নি বলে জানান সিভিল সার্জন।