স্টাফ রিপোর্ট:
জগন্নাথপুর উপজেলার সৈয়দপুর শাহারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তৈয়ব মিয়া কামালী দায়িত্ব গ্রহণের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি আজ শনিবার (২৮ জুলাই)। দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিতে দেশে ও প্রবাসে অবস্থানরত ইউনিয়ন বাসীকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়েছেন চেয়ারম্যান তৈয়ব মিয়া কামালী।
শাহারপাড়া গ্রামের কৃতি সন্তান অত্যন্ত হাস্যজ্জ্বল বিনয়ী নম্র স্বভাবের দানশীল ব্যক্তিত্ব তৈয়ব মিয়া কামালী নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে ইউনিয়ন পরিষদের দ্বায়িত্ব গ্রহনের দুই বছরের বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রমের ফিরিস্তি তুলে ধরেছেন।
চেয়ারম্যান তৈয়ব মিয়া কামালী জনগনের উদ্দেশ্যে তার লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করেছেন ওলীকুল শিরোমনি হযরত শাহজালাল (রহঃ) এর সঙ্গী ৩৬০ আউলিয়ার অন্যতম হযরত শাহকামাল (রহঃ) হযরত শাহ শামসুদ্দীন (রহঃ) ও হযরত শাহ দামরী (রহঃ) এর পূণ্যস্মৃতি বিজড়িত জগন্নাথপুর উপজেলার ৭নং সৈয়দপুর শাহারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ। চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি সম্পন্ন হয়েছে আজ।
গনতান্ত্রিক ধারাবাহিকতায় বিগত ২০১৬ সালের ২৮ মে নির্বাচনে আপনাদের পবিত্র আমানত ভোটের মাধ্যমে আমাকে নির্বাচিত করা হয়। কালের পরিক্রমায় দুটি বছর অতিক্রম করে তৃতীয় বছরে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। আপনাদের সার্বিক সহযোগিতা ও আন্তরিক ভালবাসায় সেবায় নিয়োজিত থাকতে পেরে মহান আল্লাহ তায়ালার দরবারে শুকরিয়া আদায় করছি এবং দেশে ও প্রবাসে অবস্থানরত ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনসাধারনের প্রতি জানাই অকৃত্রিম ভালবাসা, আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অশেষ কৃতজ্ঞতা।
পাহাড়সম প্রত্যাশা নিয়ে আপনারা আমাকে দায়িত্বশীল করেছেন, বাস্তবতায় হয়তো প্রতিদান ততটুকু দিতে পারছিনা। কিন্তু বিভিন্ন প্রতিকুলতা ও সীমাবদ্ধতার মধ্যেও চেষ্টার কোন কার্পণ্য করছিনা। আমিসহ পরিষদের সদস্যবৃন্দ নিয়মিত অফিসে উপস্থিত থেকে সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সাথে ঐক্যবদ্ধভাবে ‘পারিবারিক আমেজে’ আমাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব পালনের চেষ্ঠা করে যাচ্ছি।

অতীতের মতো আমি ‘একচোখা’ উন্নয়ন নীতিতে বিশ্বাসী নয় বরং টেকসই ও সুষম উন্নয়নে বিশ্বাসী। ইউনিয়নের চিতুলিয়া থেকে তেঘরিয়া পর্যন্ত প্রতিটি পাড়া, মহল্লা, গ্রাম আমার কাছে সমান গুরুত্বপূর্ণ। আপনারা অবগত আছেন বিগত বছরে অকাল বন্যায় ফসলহানিসহ বড় ধরনের দূর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে কিন্তু মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সময়পোযোগি পদক্ষেপে মানবিক সহযোগিতা কর্মসূচিতে ক্ষতিগ্রস্ত হতদরিদ্র জনগণের মধ্যে খাদ্যশস্য ও নগদ অর্থ বিতরণের মাধ্যমে এই সংকট মোকাবেলা সম্ভব হয়েছে।
পরিষদের নির্বাচিত সদস্যবৃন্দ অত্যন্ত পরিশ্রম, নিষ্ঠা ও সততার দৃষ্টান্ত স্থাপন করে বিভিন্ন প্রকল্পের বরাদ্দকৃত খাদ্যশস্য ও নগদ অর্থ বিতরণের তালিকা প্রনয়নের মাধ্যমে ইতোমধ্যে বিতরন কার্যক্রম সম্পন্ন করেছেন। এছাড়াও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে মানবিক সহায়তা নিয়ে দাঁড়িয়েছেন প্রবাসে অবস্থানরত বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠন। সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।
আমি আশাবাদী বরাবরের মতো বিভিন্ন উন্নয়ন কাজে প্রবাসীরা আগামীতে আরো বেশী ভূমিকা রাখবেন। আমরা বিশ্বাস করি জবাবদিহিতা গনতন্ত্রের চাবিকাটি এবং টেকসই আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের ভিত্তি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সুদূর প্রসারী পরিকল্পনায় ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপায়নে তথ্য প্রযুক্তির অভূতপূর্ব বিকাশে বর্তমানে অধিকাংশ তথ্য কিংবা তত্ত্ব-উপাত্ত আপনাদের নজর দর্পনে।
বিগত দুই বছরের সংক্ষিপ্ত উন্নয়ন কর্মকান্ড আপনাদের জ্ঞাতার্তে উপস্থাপন করা হলো-২০১৭-১৮ইং অর্থ বছরে বাস্তবায়িত উন্নয়ন প্রকল্পসমূহ: ১নং ওয়ার্ডের ইশানকোনা সুহেল মিয়ার বাড়ির পাশ হতে শাহরাজ মিয়ার দোকানের সামন পর্যন্ত রাস্তা ইট সলিং দ্বারা উন্নয়ন। ২নং ওয়ার্ডের হাড়িকোনা শামীম সাহেবের বাড়ির সামন হতে সুবহান মিয়ার বাড়ির সামন পর্যন্ত ইট সলিং দ্বারা উন্নয়ন।
৪নং ওয়ার্ডের আগুনকোনা লম্বাহাটির পশ্চিমের রাস্তা ইট সলিং দ্বারা উন্নয়ন। ৫নং ওয়ার্ডের বুধরাইল মসজিদের সামনে গার্ড ওয়াল নির্মাণ। ৬নং ওয়ার্ডের সুনাতনপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৯৪জন ছাত্র-ছাত্রীর মধ্যে স্কুলড্রেস, ৮টি সিলিং ফ্যান ও ২ জোড়া বেঞ্চ প্রদান। ৭নং ওয়ার্ডের শাহারপাড়া বাজার হতে আলফু মিয়া চৌধুরী বাড়ির সামন পর্যন্ত রাস্তা ইট সলিং দ্বারা উন্নয়ন। ৮নং ওয়ার্ডের প্রধান শিক্ষক আতাউর রহমান কামালীর বাড়ির দক্ষিন-পশ্চিম রাস্তা ইট সলিং দ্বারা উন্নয়ন।
৯নং ওয়ার্ডের পীরেরগাঁও প্রাথমিক বিদ্যালয় হতে বাজার পর্যন্ত রাস্তা ইট সলিং দ্বারা উন্নয়ন। ২০১৭-১৮ইং অর্থ বছরে টি.আর ও কাবিটা দ্বারা উন্নয়ন: ইউনিয়ন অফিসে মাটি ভরাট (১ম পর্যায়) ৮নং ওয়ার্ডের করিমপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের রাস্তায় মাটি ভরাট (১ম পর্যায়) ৭নং ওয়ার্ডের নারায়ানপুর হতে বলরামপুর মসজিদ পর্যন্ত রাস্তায় মাটি ভরাট (২য় পর্যায়) ২নং ওয়ার্ডের মবশ্বির আলীর বাড়ির পাশ থেকে ওমর আলীর বাড়ির পাশ পর্যন্ত মাটি ভরাট (২য় পর্যায়) ২০১৭-১৮ইং অর্থ বছরে কর্মসৃজন প্রকল্প দ্বারা উন্নয়ন: ৬নং ওয়ার্ডের বুধরাইল স্বাস্থ্যকেন্দ্র হতে সুনাতনপুর বাজার ও মাদ্রাসার সামনের রাস্তায় মাটি ভরাট।
৪নং ওয়ার্ডের রাদিস শপিং কমপ্লেক্সের পাশ হতে ফয়জুল ইসলামের বাড়ির পাশ পর্যন্ত মাটি ভরাট। ৬নং ওয়ার্ডের আহমদাবাদ মসজিদ থেকে মরহুম গোলাম রব্বানী কামালীর (শিক্ষক) বাড়ির পাশ পর্যন্ত মাটি ভরাট (চলমান)। ৪নং ওয়ার্ডের আগুনকোনা আশিক আলীর বাড়ির পাশ থেকে গোয়ালগাঁও মোড় পর্যন্ত মাটি ভরাট (চলমান) ২০১৭-১৮ইং বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের মাঝে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ অর্থ ও ত্রান সহায়তা (বি জি এফ)-১ মাস ১১৯৯ জনকে জনপ্রতি ৩৮কেজি চাল + ৫০০টাকা এবং
১০ মাস ১৩৩৪ জনকে জনপ্রতি ৩০ কেজি চাল + ৫০০টাকা, সর্ব মোট ৪লক্ষ ৪৫হাজার ৭৬২ কেজি চাল ও নগদ ৭২লাখ ৬৯ হাজার ৫০০ টাকা সমগ্র ইউনিয়নব্যাপী ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক পরিবারের মধ্যে বিতরণ করা হয়।২০১৭-১৮ইং টি.আর ও কাবিটা প্রকল্পে সৌর বিদ্যুত বিতরণ: উক্ত প্রকল্পের আওতায় ১ম ও ২য় পর্যায়ে সমগ্র ইউনিয়নে মোট ৩৪টি সৌর বিদ্যুত বিতরণ করা হয়।
অন্যান্য: মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও চেতনাকে সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে ইউনিয়ন কার্যালয়ে ইউনিয়ন মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘর ও লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা করা হয়। ইউনিয়ন পরিষদের নিজস্ব অর্থায়নে আন্ত: ইউনিয়ন ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বিগত বছর সমুহের ন্যায় ২০১৮ সালেও আয়োজন করা হয়। ইউনিয়নব্যাপী অসহায় মহিলাদের বিজিডি চাল জনপ্রতি ৩০কেজি করে ২শ ২৮জনকে ১৯মাস যাবত বিতরণ করা হচ্ছে।
২০১৮ সালে ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে ইউনিয়ন ব্যাপী বিজিএফ’র ১ হাজার ৯শ ৭৩ জন গরীব পরিবারকে ১০কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়। দায়িত্ব গ্রহনের শুরু থেকে অদ্যাবদি পর্যন্ত দেশে এবং প্রবাসে বসবাসরত বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ বিভিন্ন সময়ে নানা সুপরামর্শ ও সহযোগিতার হাত সম্প্রসারিত করেছেন, অবস্থান সাপেক্ষে সবার প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
আমি নিশ্চিয় ভুল-ভ্রান্তির উর্ধ্বে নয়। ভ্রান্তিসমুহ দয়া করে আপনারা ক্ষমা সুন্দরভাবে দেখবেন। গঠনমূলক সমালোচনাকে আমি সবসময় স্বাগত জানাই, ‘উন্নয়ন অগ্রযাত্রা’য় আপনাদের গঠনমুলক পরামর্শ, ধারনা ও চিন্তা চেতনাকে পরম পাওয়া মনে করবো। সবার প্রতি আকুল আহবান আসুন অপপ্রচার, হিংসা-নিন্দামুক্ত পরিবেশ গড়ে তুলি। সমগ্র ইউনিয়নে শান্তির পায়রা উড়াই। এই বর্ষায় সবাই অন্তত একটি বৃক্ষরোপন করে ‘সবুজ ও পরিচ্ছন্ন’ ইউনিয়নের ধারণাকে বাস্তবায়ন করি।
মাদক, বাল্য বিবাহ সহ সবধরনের সামাজিক ব্যাধিকে “না” বলে যুবসমাজকে ক্রীড়াসহ অন্যান্য কল্যান মুখী কর্মকান্ড অংশ গ্রহণে সবাই মিলে উৎসাহ দেই। শিশুদের সময়মত শিক্ষা প্রতিষ্টানমুখী করি। সুখী ও সমৃদ্ধশালী দেশ গঠণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার “ভিশন ২০২১” বাস্তবায়নে এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার চলমান কার্যক্রমে সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ‘উন্নয়ন অগ্রযাত্রায়’ অংশ নেই। অনাগত দিন গুলিতে আপনাদের পাশে সেবক হিসেবে থাকতে পারি সে জন্য দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করছি।
জগন্নাথপুর টুডে/বিপ্লব