ফ্যামিলি কার্ডে আগামী অর্থবছরে লাগবে ১৩ হাজার কোটি টাকা
- Update Time : ০২:১৮:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬
- / 9
ডেস্ক রিপোর্টঃ-
সরকার আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে (জুলাই-জুন) আরও ৪০ লাখ পরিবারের নারীপ্রধানকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেবে। এতে ১৩ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে।
এই টাকা বরাদ্দ চেয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে আধা সরকারি (ডিও) পত্র দিয়েছেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বাস্তবায়নে বিপুল পরিমাণ টাকা কোন খাত থেকে জোগান দেওয়া হবে, সে উপায় খুঁজছে অর্থ মন্ত্রণালয়।
সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির কোনো খাত থেকে এই টাকা দেওয়া হবে, নাকি বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হবে, তা নিয়ে আজ বৃহস্পতিবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের সভা করার কথা রয়েছে।
তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এই টাকা কোত্থেকে আসবে, সে সিদ্ধান্ত সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকেই আসতে হবে।
এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ও বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সানেমের নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান প্রথম আলোকে বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি একটা সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য ফ্যামিলি কার্ড ভালো উদ্যোগ। অন্য যেকোনো খাত থেকে কাটছাঁট করে ফ্যামিলি কার্ডের বিপরীতে টাকা বরাদ্দ দেওয়া যেতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। ফ্যামিলি কার্ডে যাতে কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি অন্তর্ভুক্ত না হন, কোনো ধরনের অনিয়ম না হয়, সেটি নিশ্চিত করতে হবে।
তবে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন সেলিম রায়হান। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অতীতে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের এত বড় বাজেট পরিচালনার অভিজ্ঞতা নেই। তাই ফ্যামিলি কার্ড কীভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে, সেদিকে গুরুত্ব দিতে হবে। ফ্যামিলি কার্ডের উপকারভোগীদের একটি ডাটাবেজ করতে হবে। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি আওতায় ১০০টির বেশি কর্মসূচি রয়েছে। এসব খাতে সংস্কার আনতে হবে।
অর্থ বরাদ্দ চেয়ে পত্র
গত ৩১ মার্চ অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে আধা সরকারি পত্র দেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী। এই পত্রে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার নির্বাচনী ইশতেহারে ফ্যামিলি কার্ডকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় গত ১০ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে ফ্যামিলি কার্ডের পাইলট কার্যক্রম শুরু হয়। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দেশব্যাপী ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের মূল বাস্তবায়ন শুরু হবে। আগামী অর্থবছরে সারা দেশে ৪০ লাখ পরিবারের নারীপ্রধানকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় ভাতা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে ১৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ প্রয়োজন।
নারীর ক্ষমতায়ন, অধিকার, মর্যাদা ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে জাতীয় উন্নয়নসহ সামাজিক ন্যায় অর্জনের বিষয়টি বর্তমান সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার বলে আধা সরকারি পত্রটিতে উল্লেখ করা হয়। এতে বলা হয়, এর অংশ হিসেবে পরিবারের নারীপ্রধানের নামে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার যুগান্তকারী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
সুত্র প্রথম আলো।









