জগন্নাথপুরে যুবককে গুলি করে আহত করার ঘটনায় গ্রেফতারকৃত প্রধান আসামী কমলা মিয়ার রিমান্ড মনজুর করেছে আদালত

স্টাফ রিপোর্ট:
জগন্নাথপুরে যুবককে গুলি করে আহত করার ঘটনায় গ্রেফতারকৃত প্রধান আসামী কমলা মিয়ার রিমান্ড মনজুর করেছেন আদালত। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জগন্নাথপুর থানার এস আই কবির উদ্দিন ঘটনার তথ্য উদঘাটন ও অস্ত্র উদ্ধারের জন্য মামলার

প্রধান আসামী কমলা মিয়াকে ৫দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করলে গতকাল বৃহস্পতিবার সুনামগঞ্জের আমল গ্রহনকারী জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জগন্নাথপুর আদালত রিমান্ড শুনানী শেষে আসামীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদেশ প্রদান করেছেন বলে বাদী পক্ষের আইনজীবি সাবেক পিপি অ্যাডভোকেট শফিকুল আলম তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সকাল ৬টায় জগন্নাথপুর উপজেলার আশারকান্দি ইউনিয়নের চাহারিয়া গ্রামের মৃত আব্দুর রহিমের ছেলে কমলা মিয়ার (৪৫) নেতৃত্বে তার সন্ত্রাসী বাহিনী একই গ্রামের বাসিন্দা আতর আলীর ছেলে যুক্তরাজ্য প্রবাসী মো: বাবুল মিয়ার পুকুরের পূর্ব পাড়ের অধিকাংশ মাটি কেঁটে ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে

এবং পুকুর পাড়ে লাগানো বেশ কয়েকটি বিভিন্ন জাতের গাছের চারা উপড়ে ফেলে দেয়। এসময় যুক্তরাজ্য প্রবাসী মো: বাবুল মিয়ার চাচাতো ভাই কয়েছ মিয়া (২১) বাধা দেয়। এতে কমলা মিয়া ক্ষিপ্ত হয়ে কয়েছ মিয়াকে বন্দুক দিয়ে গুলি করে। এসময় কয়েছ মিয়া মাটিতে লুঠিয়ে পড়লে কমলা মিয়ার অন্যান্য সহযোগিরা কয়েছ মিয়াকে এলাপাতারিভাবে মারধর করে।

গুলি বর্ষনের শব্দ পেয়ে আশ পাশের লোকজন ছুটে এলে কমলা মিয়া ও তার সহযোগিরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। আহত গুলিবিদ্ধ কয়েছ মিয়া প্রথমে জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্্রে এবং পরে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় ঐদিন প্রবাসী মো: বাবুল মিয়ার ভাই সুহেল মিয়া বাদি হয়ে জগন্নাথপুর থানায় চাহারিয়া গ্রামের মৃত আব্দুর রহিমের ছেলে কমলা মিয়াকে প্রধান আসামী করে ৯জনের নাম উল্লেখ পূর্বক অজ্ঞাতনামা ৩/৪জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

ঐদিনই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই কবির উদ্দিন চাহারিয়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে মামলার প্রধান আসামী কমলা মিয়াকে গ্রেফতার করে পরদিন আদালতে প্রেরন করেন। মামলার অন্য ৫জন আসামী আদালতে আত্মসমর্পন করে জামিনে মুক্তি পেলেও মামলার অন্য ৩ আসামী পলাতক রয়েছে।

এদিকে যুক্তরাজ্য প্রবাসী মো: বাবুল মিয়ার ভাই জগন্নাথপুর উপজেলা যুবলীগ নেতা সুহেল মিয়া ও তরুন সমাজকর্মী সুহিন মিয়া মামলার পলাতক আসামী মমিন ও তার সহযোগীদের অব্যাহত হুমকিতে গ্রাম ছেড়ে সিলেট শহরে বসবাস করছেন। মামলার বাদি সুহেল মিয়া জানান, গ্রেফতারকৃত কমলা মিয়ার নেতৃত্বে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রকাশ্যে অস্ত্রবাজিসহ নিরীহ লোকজনদের নানা ভাবে ভয় ভীতি ও সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে জমি জমা দখলসহ বিভিন্ন অপরাধ কর্মকান্ড চালিয়ে আসছিল।

গত সোমবার প্রতিপক্ষরা আমাদের বাড়ির পুকুরে বিষ প্রয়োগ করার ফলে প্রায় লক্ষাধিক টাকার বিভিন্ন প্রজাতির মাছ মরে যায়। এছাড়াও আমাদের পরিবারের নারী শিশুরা প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসী বাহিনীর প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়ায় ভীত সন্তস্থ অবস্থায় রয়েছেন।

জগন্নাথপুর টুডে/১৮

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *