স্টাফ রিপোর্টার:-
জগন্নাথপুর উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নের রৌয়াইল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আসলাম উদ্দিন ফকির কর্তৃক বিদ্যালয়ের অর্থ আত্মসাত করে কোটি টাকা মূল্যের অট্রালিকা নির্মাণ করেছেন। প্রধান শিক্ষক আসলাম ফকির কর্তৃক স্কুলের অর্থ আত্মসাতের পাশাপাশি বিভিন্ন অপকর্মের সহযোগিতার জন্য নিজ বলয়ে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠনের পায়তারা সহ প্রধান শিক্ষকের অপসারনের দাবীতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন এলাকার সচেতন নাগরিকবৃন্দ। বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) দুপুরে জগন্নাথপুর উপজেলা সদরের একটি কনফারেন্স হলে বিভিন্ন প্রিন্টস ও ইলেকট্রনিক্্র মিডিয়ার সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে সংবাদ সম্মেলনে প্রধান শিক্ষক আসলাম উদ্দিন ফকিরের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। রৌয়াইল গ্রামের বাসিন্দা মাহবুব হোসেন জীবন তার স্বাক্ষরিত লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করেন দুর্নিতীবাজ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার একে এম মোখলেছুর রহমানের যোগশাযোসে প্রধান শিক্ষক আসলাম উদ্দিন ফকির অব্যাহতভাবে অনিয়ম দুর্নিতীর স্বর্গরাজ্য সৃষ্টি করার বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে মৌখিকভাবে অবিহিত করা হলেও কোন প্রতিকার পাওয়া যায়নি। গতকাল বৃহস্পতিবার জগন্নাথপুর উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নের সুনামধন্য বিদ্যাপিঠ রৌয়াইল উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও প্রধান শিক্ষক আসলাম উদ্দিন ফকির তার বলয়ের প্রার্থীরা নির্বাচনে অনুপস্থিত থাকায় ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচনের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হলেও প্রধান শিক্ষক আসলাম উদ্দিন ফকির ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন স্থগিত ঘোষনা করায় ক্ষোভে ফুঁসতে থাকেন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অভিভাবকসহ এলাকার সর্বস্তরের নাগরিকবৃন্দ। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আরো উল্লেখ করা হয়, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আসলাম উদ্দিন ফকিরের যোগশাযোসে শিক্ষার্থীর অভিভাবক আহমদ আলী ও ফিরোজ মিয়ার স্বাক্ষর জাল করে ভোটার তালিকা সংশোধন করে নির্বাচন দেয়ার জন্য নির্বাচন কর্মকর্তা বরাবরে অভিযোগ দায়ের করলে নির্বাচন কমিশনার উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোখলেছুর রহমান মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে নির্বাচনটি স্থগিত ঘোষনা করেছেন। প্রধান শিক্ষক আসলাম উদ্দিন ফকির দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ে অনিয়ম দুর্নিতীর মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ টাকা আত্মসাত করেছেন। যা তদন্তে প্রমানিত হবে। এছাড়াও বিদ্যালয়ের পুকুর ও জমি লিজের প্রায় ৪ লক্ষ টাকা প্রধান শিক্ষক আত্মসাত করে রেখেছেন। নতুন ম্যানেজিং কমিটি গঠন হলে দুর্নিতীর তথ্য বেরিয়ে আসবে এমন শংকায় প্রধান শিক্ষক অপকৌশল সৃষ্টি করে নির্বাচনটি স্থগিত করেছেন। প্রধান শিক্ষক আসলাম উদ্দিন ফকির বিদ্যালয়ের বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাত করে ময়মনসিংহে তার নিজ এলাকায় কোটি টাকা মূল্যের বিশাল অট্রালিকা নির্মাণ করেছেন। এলাকাবাসী এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অভিভাবকগন প্রধান শিক্ষকের বেপরোয়া কার্যক্রমের প্রতিবাদ করলে প্রধান শিক্ষক নিজেকে একজন বড় নেতা দাবী করে বলেন আমি আওয়ামী লীগের লোক। দূর্নিতী করলে কেউ কিছু করতে পারবেনা। এছাড়াও প্রধান শিক্ষক আসলাম উদ্দিন ফকির বিদ্যালয়ের কম্পিউটার অপারেটর পদে চাকুরী দেয়ার কথা বলে মাসুদ রানা নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে ৩লাখ ৭০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে ম্যানেজিং কমিটির দ্রুত নির্বাচনের দাবী জানিয়ে দূর্নিতীবাজ প্রধান শিক্ষক আসলাম উদ্দিন ফকিরের অপসারন দাবী করেন। সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রৌয়াইল গ্রামের বাসিন্দা কুরেশ মিয়া, নুর মিয়া, বাচ্চু মিয়া, আলফু মিয়া, আখলাকুরে রহমান, মাহবুব হোসেন মিঠু, মাহতাব হোসেন, আব্দুল ওয়াহাব লকুছ, আব্দুল হান্নান তালুকদার, সৈয়দ মিয়া, তালেব আলী নুনু , নতুন কসবা গ্রামের আব্দুল মালিক।