মো: আব্দুল হাই॥
বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা গত বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়েছে। জগন্নাথপুর পৌর শহরের স্বরূপচন্দ্র সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের রথবাড়ি নামকস্থানের আশ পাশ এলাকায় রথযাত্রা উপলক্ষে মেলা বসে। মেলায় প্লাস্টিক ও মাটির তৈরী খেলনা, ফলমুলসহ নানা জাতের পন্য সামগ্রীর দোকান বসে। মেলায় নারী পুরুষদের পাশাপাশি সকল বয়সী উৎসুক ক্রেতাদের ভীড় দেখা যায়। এছাড়াও রথযাত্রার আনন্দ উপভোগ করতে দিনভর শিশু কিশোররা ছোট ছোট মার্বেল দিয়ে ভারত সাগরের পুকুর পাড়ে খেলায় ব্যস্ত থাকতে দেখা যায়। এছাড়াও রথ টানার জন্য কাঠ এবং লোহা দিয়ে তৈরী করা মুর্তি বসানোর রাজ মন্দিরকে বর্নিল সাজে সাজানো হয়। দুপুরে ঢাক ঢোল ঝাং বাজিয়ে আনা হয় প্রানের ঠাকুর জগন্নাথ, বলরাম, সুভদ্রা ও বাসুদেব এর মূর্তি। তোলা হয় সাজানো পৃথক দুটি রাজ মন্দিরে। এসময় হিন্দু সম্প্রদায়ের নারীদের উলু ধ্বনির পাশাপাশি পুরুষরা হরি বল হরি বল বলে ঢাক ঢোল ঝাং বাজিয়ে প্রানের ঠাকুরকে উঠানো হয় কাঠের ও লোহার তৈরী রাজ মন্দিরে। ঐতিহ্যবাহী রথ বাড়ির ভারত সাগর পুকুরের দক্ষিন পাড়ে জমায়েত হতে থাকেন হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ ভক্তবৃন্দরা। দুপুরে রথযাত্রার উদ্বোধন করেন সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি প্রবীন রাজনীতিবিদ সিদ্দিক আহমদ। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন বাংলাদেশ হচ্ছে ধর্মীয় সম্প্রীতির দেশ। তিনি রথযাত্রা উৎসবের স্মৃতি চারন করে বলেন উৎসবটি হচ্ছে হিন্দু সম্প্রদায়ের আদি ঐতিহ্যবাহি ধর্মীয় উৎসব। এসময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আতাউর রহমান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক রেজাউল করিম রিজু, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও কেন্দ্রীয় জগন্নাথ মন্দিরের সাধারন সম্পাদ বিজন কুমার দেব, জগন্নাথপুর পৌরসভার প্যানেল মেয়র শফিকুল হক শফিক, পৌর কাউন্সিলার গিয়াস উদ্দিন মুন্না, পৌর কাউন্সিলার দিপক গোপ, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি প্রনয় সূত্রধর, সহ-সভাপতি পংকজ রায়, কেন্দ্রীয় জগন্নাথ মন্দিরের সভাপতি ও উপজেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারন সম্পাদক শুধাংশু শেখর রায় বাচ্চু, জগন্নাথপুর উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সতীশ গোস্মামী, সাধারন সম্পাদক ও বাসুদেব মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি প্রনব বণিক, সদস্য প্রজেশ গোপ, জগন্নাথপুর পৌর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি প্রদীপ সূত্রধর, সাধারন সম্পাদক হীরা মোহন দেব, পরমানন্দ বৈঞ্চব কালা রায়, কালী বাড়ি মন্দির কমিটির সাধারন সম্পাদক জয়দ্বীপ সূত্রধর বীরেন্দ্র, রাধা গবিন্দ মন্দিরের সেবায়েত মানিক দেবনাথ, সুনামগঞ্জ জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সদস্য কেন্দ্রীয় জগন্নাথ মন্দিরের সাংগঠনিক সম্পাদক বিভাষ দে, কোষাধ্যক্ষ শশীকান্ত গোপ, সদস্য সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা দেবাশীষ তালুকদার, জগন্নাথপুর কেন্দ্রীয় শশ্মানঘাট পরিচালনা কমিটির সাধারন সম্পাদক কাজল বণিক, সৈয়দপুর শাহারপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক সৈয়দ মনোয়ার আলী, উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি কল্যান কান্তি রায় সানী।

রথযাত্রার রশি টানার আগে আবারোও শুরু হয় নারীদের উলু ধ্বনি ঝাং করতাল ঢোলসহ বাধ্যযন্ত্রের সূর। রথের রাজ মন্দিরের উপরে পূজারীরা প্রানের ঠাকুরকে জড়িয়ে রাখেন এবং রাজ মন্দিরের সামনের দু-পাশে রশি বেঁধে শুরু হয় হরি-বল- হরি-বল বলে সুর তোলে টান। ভারত সাগর পুকুরের চার পাশে রাজ মন্দিরে থাকা ঠাকুর এবং রথ টানা দৃশ্য সত্যিই আনন্দের। এভাবে ৭বার রথ টানা হয়। অতীতে রথযাত্রা উৎসবে বৃষ্টির প্রভাব থাকলেও দিনভর প্রচন্ড তাপদাহের সৃষ্টি হয়। সন্ধ্যায় ঘুরি ঘুরি বৃষ্টির দেখা মিলে।